কবিতার খাতা
- 38 mins
মুখ – বুদ্ধদেব বসু ।
ঘোমটা টেনে দাও
ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর :
তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে।
তোমার মুখ
নগ্ন, উৎসুক, সম্পূর্ণ-উদ্ভাসিত
যেখানে ঝলসাচ্ছে বিদ্যুৎ,
যেখানে ডানা ঝাপটাচ্ছে অদৃশ্য পাখি, আগুনের ঢেউয়ের মতো তার ডানার ওঠা-পড়া-
আমি তা কেমন ক’রে সইবো?
তোমার কি ভয় করে না,
ভয় করে না আমার কাছে এসে বসতে?
ভয় করে না চোখ তুলে তাকাতে আমার দিকে?
তোমার কি ভয় করে না যে আমি ম’রে যাবো?
ঘোমটা টেনে দাও
ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর-
তোমার মুখ আমাকে মারছে।
এত মধুর তুমি, এমন নরম – তোমার হাত
বার-বার আমার হাতের মধ্যে মিশে যেতে চায়,
গ’লে যেতে চায় মোমের মতো আগুনে;
তোমার সমস্ত শরীরের সৌরভ আমাকে জড়িয়ে ধরে,
আমার সমস্ত সত্তাকে জড়িয়ে ধরে তোমার চুল,
আর তুমি – তোমার দুই চোখের উৎস থেকে
বাসনার তারাময় স্রোত আমার উপর ঝরিয়ে দিয়ে বলো-
মৃদুস্বরে, অর্দ্ধস্ফুট স্বরে, তোমার ঐ ভাঙা-ভাঙা নরম গলায়
শুধু বলো – ‘কী’?
তুমি কি জানো সেই মুহূর্তে আমি ম’রে যেতে পারতুম?
তোমার মধুরতা, তোমার কোমলতা-
এর ভয়ঙ্কর ভার আমি সইবো কী ক’রে?
দুঃখ দাও
দুঃখ দাও আমাকে-
এই নববর্ষার ছোটো-ছোটো বৃষ্টির মতো
ধারালো দুঃখ আমার বুকের উপর নামুক :
যে বৃষ্টিতে জাগে প্রাণের অঙ্কুর,
মাটি সবুজে হেসে ওঠে,
যে-বৃষ্টি জ্বালিয়ে দেয় আশ্চর্য রামধনু
আকাশের প্রান্ত থেকে প্রান্তে।
ঘোমটা টেনে দাও।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। বুদ্ধদেব বসু ।
মুখ – বুদ্ধদেব বসু | মুখ কবিতা বুদ্ধদেব বসু | বুদ্ধদেব বসুর কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা
মুখ: বুদ্ধদেব বসুর প্রেমের তীব্রতা, রূপের ভয়ঙ্কর মধুরতা ও আত্মসমর্পণের অসাধারণ কাব্যভাষা
বুদ্ধদেব বসুর “মুখ” একটি অনন্য সৃষ্টি, যা প্রেমের তীব্রতা, রূপের ভয়ঙ্কর মধুরতা ও আত্মসমর্পণের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “ঘোমটা টেনে দাও / ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর : / তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর চেতনা — প্রেমিকার রূপ এতটাই তীব্র যে তা সহ্য করা যায় না, তা যেন বিদ্যুৎ, আগুনের ঢেউ, অদৃশ্য পাখির ডানা। বুদ্ধদেব বসু (৩০ নভেম্বর ১৯০৮ — ১৮ মার্চ ১৯৭৪) বিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন [citation:2][citation:4]। বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে আধুনিক কবিতার যারা পথিকৃৎ তিনি তাদের একজন [citation:2]। তিনি ‘কবিতা’ পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত [citation:2][citation:4]। ১৯৬৭ সালে ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার লাভ করেন [citation:4]। “মুখ” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা প্রেমের চিরন্তন তীব্রতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে ।
বুদ্ধদেব বসু: প্রেমের কবি
বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কুমিল্লায় মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন [citation:2][citation:4][citation:7]। তাঁর পিতা ভূদেব বসু ঢাকা আদালতের উকিল ছিলেন এবং মাতা বিনয়কুমারী। জন্মের চব্বিশ ঘণ্টা পরেই তাঁর মাতা ১৬ বছর বয়সে ধনুষ্টঙ্কার রোগে মৃত্যুবরণ করেন [citation:2][citation:7]। পিতা সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করে গৃহত্যাগ করলে তিনি মাতামহ চিন্তাহরণ সিংহ ও মাতামহী স্বর্ণলতা সিংহের কাছে প্রতিপালিত হন [citation:2][citation:4]। তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কেটেছে কুমিল্লা, নোয়াখালী আর ঢাকায় [citation:2][citation:7]।
তিনি ১৯২৫ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯২৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৩০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ ও ১৯৩১ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন [citation:2][citation:4]। বি. এ. অনার্স পরীক্ষায় তিনি যে নম্বর লাভ করেন তা একটি রেকর্ড এবং অদ্যাবধি (২০২১) তা অক্ষুণ্ণ আছে [citation:2]।
১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কলকাতা রিপন কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত স্টেটসম্যান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন [citation:2][citation:4]। এছাড়াও তিনি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া কলেজ ফর উইমেন্স, ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রুকলিন কলেজ, কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়, হনুলুলুতে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন [citation:2][citation:4]।
ঢাকা থেকে ‘প্রগতি’ (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে ‘কবিতা’ (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম [citation:2][citation:4][citation:7]। পঁচিশ বছরেরও অধিককাল তিনি পত্রিকাটির ১০৪টি সংখ্যা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে আধুনিক কাব্যান্দোলনে নেতৃত্ব দেন [citation:2][citation:7]। তাঁরই অনুপ্রেরণায়, সদিচ্ছায়, অনুশাসনে এবং নিয়ন্ত্রণে আধুনিক বাংলা কবিতা তার দৃঢ়মূল আধুনিক রূপ লাভ করে [citation:2]।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বন্দীর বন্দনা’ (১৯৩০), ‘কঙ্কাবতী’ (১৯৩৭), ‘দ্রৌপদীর শাড়ী’ (১৯৪৮), ‘শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর’ (১৯৫৫), ‘যে অাঁধার আলোর অধিক’ (১৯৫৮); উপন্যাস ‘লাল মেঘ’ (১৯৩৪), ‘রাতভর বৃষ্টি’ (১৯৬৭); নাটক ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ (১৯৬৬) ইত্যাদি [citation:4]।
তিনি ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া ‘স্বাগত বিদায়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন [citation:4][citation:7]। ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয় [citation:2][citation:4][citation:7]।
বুদ্ধদেব বসুর প্রেমের দর্শন
বুদ্ধদেব বসুকে ‘প্রেমের কবি’ হিসেবে অভিহিত করা হয় [citation:6]। তাঁর কবিতায় প্রেমের মর্মবাণীটি প্রতিটি হৃদয়েই আলোড়ন তোলে । রক্তমাংসের শরীরে সেই প্রেমের অন্বেষণই আজও গভীরভাবে আবেদন রাখে [citation:6]। তিনি ‘দ্বিতীয় কাব্য ‘বন্দীর বন্দনা’তেই নিজেকে ‘দেবশিশু’ হিসেবে দেখলেও ‘শাপভ্রষ্ট’ হয়েছেন। দেহের বাসনা সুন্দরের আরাধনাকে সৃষ্টির সতীর্থ সঙ্গমে নামিয়ে এনেছেন [citation:6]।
তাঁর কবিতায় প্রবৃত্তি ও আত্মার দ্বন্দ্ব বারবার ফিরে এসেছে। ‘প্রবৃত্তি মানববোধেরই চিরন্তন রীতি, আত্মা প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে এক পবিত্র প্রাণচেতনা। প্রবৃত্তি চায় ভোগ, আত্মা শুধু ঈশ্বর ও আদর্শের ভেতর গোপন থাকে’ [citation:6]। এই দ্বন্দ্ব থেকেই সৃষ্টি হয়েছে ‘কঙ্কাবতী’র মতো অনন্য সৃষ্টি। ‘কঙ্কাবতী পর্বে বয়ঃসন্ধির চকিত চপল বাসনাকে কবি রূপ দিয়েছেন’ [citation:6]।
তাঁর প্রেমের কবিতায় একইসঙ্গে পাওয়া যায় আর্তি, আকুলতা, বিরহ, অভিসার, সমর্পণ, মিলন, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি । ‘প্রেমের মাঝেও শূন্যতা, হাহাকার আর না পাওয়ার ব্যথাটি বিরাজমান’ [citation:6]। ‘মুখ’ কবিতায় সেই প্রেমের তীব্রতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে — যেখানে প্রেমিকার রূপ এতই তীব্র যে তা সহ্যের বাইরে।
মুখ কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“মুখ” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ是人类 পরিচয়ের প্রধান বাহক — আবেগ, অনুভূতি, সৌন্দর্যের আধার। কিন্তু এখানে এই মুখ এতটাই তীব্র, এতটাই উজ্জ্বল যে তা সহ্য করা যায় না। কবি বারবার প্রেমিকাকে ঘোমটা টানতে বলেছেন — “ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর : / তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে।” শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা সেই তীব্র সৌন্দর্যের, সেই অসহ্য প্রেমের গল্প বলবে।
প্রথম স্তবকের বিশ্লেষণ: ঘোমটা টানার অনুরোধ
“ঘোমটা টেনে দাও / ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর : / তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে। / তোমার মুখ / নগ্ন, উৎসুক, সম্পূর্ণ-উদ্ভাসিত / যেখানে ঝলসাচ্ছে বিদ্যুৎ, / যেখানে ডানা ঝাপটাচ্ছে অদৃশ্য পাখি, আগুনের ঢেউয়ের মতো তার ডানার ওঠা-পড়া- / আমি তা কেমন ক’রে সইবো?” প্রথম স্তবকে কবি প্রেমিকার মুখের তীব্রতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন — ঘোমটা টেনে দাও, ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর। তোমার রূপ আমি সইতে পারি না। তোমার মুখ নগ্ন, উৎসুক, সম্পূর্ণ উদ্ভাসিত — যেখানে ঝলসাচ্ছে বিদ্যুৎ, যেখানে ডানা ঝাপটাচ্ছে অদৃশ্য পাখি, আগুনের ঢেউয়ের মতো তার ডানার ওঠা-পড়া — আমি তা কেমন করে সইব?
‘ঘোমটা টেনে দাও’ — পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য
‘ঘোমটা টেনে দাও’ কথাটির পুনরাবৃত্তি প্রেমিকার রূপের প্রতি কবির অসহায়ত্ব ও অনুরোধের তীব্রতা প্রকাশ করে। তিনি বারবার বলছেন — ঘোমটা টেনে দাও, কারণ এই রূপ তিনি সহ্য করতে পারছেন না।
‘যেখানে ঝলসাচ্ছে বিদ্যুৎ, / যেখানে ডানা ঝাপটাচ্ছে অদৃশ্য পাখি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রেমিকার মুখে যেন বিদ্যুৎ ঝলসাচ্ছে — এত উজ্জ্বল, এত তীব্র। অদৃশ্য পাখি ডানা ঝাপটাচ্ছে — তাঁর মুখের সৌন্দর্যে যেন অলৌকিক কিছু, রহস্যময় কিছু লুকিয়ে আছে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ: ভয়ের প্রশ্ন
“তোমার কি ভয় করে না, / ভয় করে না আমার কাছে এসে বসতে? / ভয় করে না চোখ তুলে তাকাতে আমার দিকে? / তোমার কি ভয় করে না যে আমি ম’রে যাবো?” দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রেমিকার কাছে ভয়ের প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেছেন — তোমার কি ভয় করে না? ভয় করে না আমার কাছে এসে বসতে? ভয় করে না চোখ তুলে তাকাতে আমার দিকে? তোমার কি ভয় করে না যে আমি মরে যাব?
‘তোমার কি ভয় করে না যে আমি ম’রে যাবো?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী লাইন। প্রেমিকার রূপ এতই তীব্র যে তা দেখলে কবির মৃত্যু হতে পারে। এটি প্রেমের তীব্রতার চরম প্রকাশ — ভালোবাসা এত গভীর যে তা মৃত্যুর সমান।
তৃতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ: পুনরাবৃত্তি ও সতর্কবাণী
“ঘোমটা টেনে দাও / ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর- / তোমার মুখ আমাকে মারছে।” তৃতীয় স্তবকে কবি আবার ঘোমটা টানার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন — ঘোমটা টেনে দাও, ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর — তোমার মুখ আমাকে মারছে।
‘তোমার মুখ আমাকে মারছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রথম স্তবকে তিনি বলেছিলেন ‘সইতে পারিনে’, দ্বিতীয় স্তবকে বলেছিলেন ‘মরে যাবো’, তৃতীয় স্তবকে তিনি সরাসরি বলছেন — ‘মারছে’। প্রেমিকার রূপ এখন আর কেবল অসহ্য নয়, তা সক্রিয়ভাবে তাঁকে হত্যা করছে। এটি প্রেমের তীব্রতার চূড়ান্ত প্রকাশ।
চতুর্থ স্তবকের বিশ্লেষণ: মধুরতা ও কোমলতার আক্রমণ
“এত মধুর তুমি, এমন নরম – তোমার হাত / বার-বার আমার হাতের মধ্যে মিশে যেতে চায়, / গ’লে যেতে চায় মোমের মতো আগুনে; / তোমার সমস্ত শরীরের সৌরভ আমাকে জড়িয়ে ধরে, / আমার সমস্ত সত্তাকে জড়িয়ে ধরে তোমার চুল, / আর তুমি – তোমার দুই চোখের উৎস থেকে / বাসনার তারাময় স্রোত আমার উপর ঝরিয়ে দিয়ে বলো- / মৃদুস্বরে, অর্দ্ধস্ফুট স্বরে, তোমার ঐ ভাঙা-ভাঙা নরম গলায় / শুধু বলো – ‘কী’?” চতুর্থ স্তবকে কবি প্রেমিকার মধুরতা ও কোমলতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন — এত মধুর তুমি, এমন নরম — তোমার হাত বারবার আমার হাতের মধ্যে মিশে যেতে চায়, গলে যেতে চায় মোমের মতো আগুনে। তোমার সমস্ত শরীরের সৌরভ আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমার সমস্ত সত্তাকে জড়িয়ে ধরে তোমার চুল। আর তুমি — তোমার দুই চোখের উৎস থেকে বাসনার তারাময় স্রোত আমার উপর ঝরিয়ে দিয়ে বলো — মৃদুস্বরে, অর্ধস্ফুট স্বরে, তোমার ঐ ভাঙা-ভাঙা নরম গলায় শুধু বলো — ‘কী’?
‘মোমের মতো আগুনে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মোম আগুনে গলে যায়। প্রেমিকার হাতও তেমনি কবির হাতের মধ্যে গলে যেতে চায় — সম্পূর্ণরূপে মিশে যেতে চায়। এটি আত্মসমর্পণের চরম প্রকাশ।
‘বাসনার তারাময় স্রোত’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রেমিকার চোখ থেকে বাসনার স্রোত ঝরে পড়ছে, আর তা তারাময় — যেন আকাশের তারা, যেন আলোর ঝলকানি। এটি কামনার তীব্রতার এক অনন্য চিত্র।
‘শুধু বলো – ‘কী’?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই একটি শব্দ — ‘কী’? — প্রেমিকার সমস্ত আবেগ, সমস্ত প্রশ্ন, সমস্ত প্রত্যাশা ধারণ করে আছে। তিনি জানতে চান — তুমি কী বলবে? তুমি কী করবে? তুমি কী ভাবছ?
পঞ্চম স্তবকের বিশ্লেষণ: মৃত্যুর ভয়
“তুমি কি জানো সেই মুহূর্তে আমি ম’রে যেতে পারতুম?” পঞ্চম স্তবকে কবি তাঁর মৃত্যুর ভয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন — তুমি কি জানো সেই মুহূর্তে আমি মরে যেতে পারতাম?
‘সেই মুহূর্তে’ — বলতে কোন মুহূর্ত বোঝানো হয়েছে?
‘সেই মুহূর্তে’ বলতে প্রেমিকার ‘কী’ বলার মুহূর্ত। সেই একটিমাত্র শব্দই তাঁকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। প্রেমের তীব্রতার চূড়ান্ত প্রকাশ।
ষষ্ঠ স্তবকের বিশ্লেষণ: ভয়ের ভার
“তোমার মধুরতা, তোমার কোমলতা- / এর ভয়ঙ্কর ভার আমি সইবো কী ক’রে?” ষষ্ঠ স্তবকে কবি সেই মধুরতা ও কোমলতার ভয়ঙ্কর ভার বহনের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমার মধুরতা, তোমার কোমলতা — এর ভয়ঙ্কর ভার আমি সইবো কী করে?
‘ভয়ঙ্কর ভার’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মধুরতা ও কোমলতা সাধারণত সুখের, আরামের জিনিস। কিন্তু এখানে তা ‘ভয়ঙ্কর ভার’ হয়ে উঠেছে — কারণ এত বেশি মধুরতা, এত বেশি কোমলতা সহ্য করা যায় না।
সপ্তম স্তবকের বিশ্লেষণ: দুঃখের আবেদন
“দুঃখ দাও / দুঃখ দাও আমাকে- / এই নববর্ষার ছোটো-ছোটো বৃষ্টির মতো / ধারালো দুঃখ আমার বুকের উপর নামুক : / যে বৃষ্টিতে জাগে প্রাণের অঙ্কুর, / মাটি সবুজে হেসে ওঠে, / যে-বৃষ্টি জ্বালিয়ে দেয় আশ্চর্য রামধনু / আকাশের প্রান্ত থেকে প্রান্তে। / ঘোমটা টেনে দাও।” সপ্তম স্তবকে কবি দুঃখের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন — দুঃখ দাও, দুঃখ দাও আমাকে — এই নববর্ষার ছোট ছোট বৃষ্টির মতো ধারালো দুঃখ আমার বুকের উপর নামুক। যে বৃষ্টিতে জাগে প্রাণের অঙ্কুর, মাটি সবুজে হেসে ওঠে, যে বৃষ্টি জ্বালিয়ে দেয় আশ্চর্য রামধনু আকাশের প্রান্ত থেকে প্রান্তে। ঘোমটা টেনে দাও।
‘নববর্ষার ছোটো-ছোটো বৃষ্টির মতো ধারালো দুঃখ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নববর্ষার বৃষ্টি সজীবতা আনে, নতুন জীবন দেয়। কবি তেমনই দুঃখ চান — যে দুঃখ ধারালো, কিন্তু তা থেকে নতুন করে জেগে ওঠা যায়, সবুজে হেসে ওঠা যায়।
‘ঘোমটা টেনে দাও’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
কবিতার শুরুতে যেমন ছিল, শেষেও তেমনি ‘ঘোমটা টেনে দাও’। এই বৃত্তাকার কাঠামো কবিতাটিকে সম্পূর্ণতা দিয়েছে। প্রেমিকার মুখ এখনও ততটাই তীব্র, এখনও সহ্যের বাইরে।
কবিতার গঠনশৈলী ও শিল্পরূপ
কবিতাটি সাতটি স্তবকে বিভক্ত। প্রথম স্তবকে ঘোমটা টানার অনুরোধ ও মুখের তীব্রতা, দ্বিতীয় স্তবকে ভয়ের প্রশ্ন, তৃতীয় স্তবকে পুনরাবৃত্তি ও সতর্কবাণী, চতুর্থ স্তবকে মধুরতার বর্ণনা, পঞ্চম স্তবকে মৃত্যুর ভয়, ষষ্ঠ স্তবকে ভয়ের ভার, সপ্তম স্তবকে দুঃখের আবেদন ও শেষ অনুরোধ — এই ক্রমিক কাঠামো কবিতাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেম-দর্শনের রূপ দিয়েছে। ‘ঘোমটা টেনে দাও’ শব্দগুচ্ছের পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে এক মন্ত্রের মতো সুর দিয়েছে।
বুদ্ধদেব বসুর গদ্য ও পদ্যের রচনাশৈলী স্বতন্ত্র ও মনোজ্ঞ । পরিমার্জিত সঙ্গীতময়তা ও পরিশীলিত স্বতঃস্ফূর্ততা তাঁর গদ্যের বৈশিষ্ট্য [citation:2][citation:4][citation:7]। ‘মুখ’ কবিতায় সেই সঙ্গীতময়তার অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে।
শব্দচয়ন ও শৈলীগত বিশেষত্ব
বুদ্ধদেব বসুর ভাষা পরিমার্জিত, সঙ্গীতময় ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে তিনি ব্যবহার করেছেন — ‘ঘোমটা’, ‘নগ্ন’, ‘উৎসুক’, ‘সম্পূর্ণ-উদ্ভাসিত’, ‘বিদ্যুৎ’, ‘অদৃশ্য পাখি’, ‘আগুনের ঢেউ’, ‘মধুরতা’, ‘নরম’, ‘মোমের মতো আগুনে’, ‘সৌরভ’, ‘সত্তা’, ‘চুল’, ‘চোখের উৎস’, ‘বাসনার তারাময় স্রোত’, ‘মৃদুস্বর’, ‘অর্ধস্ফুট’, ‘ভাঙা-ভাঙা নরম গলা’, ‘ভয়ঙ্কর ভার’, ‘নববর্ষার বৃষ্টি’, ‘ধারালো দুঃখ’, ‘প্রাণের অঙ্কুর’, ‘সবুজ’, ‘আশ্চর্য রামধনু’।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“মুখ” কবিতাটি বুদ্ধদেব বসুর এক অসাধারণ সৃষ্টি। কবি প্রথমে প্রেমিকাকে ঘোমটা টানতে বলেছেন — তাঁর রূপ সইতে পারেন না। সেই মুখ নগ্ন, উৎসুক, বিদ্যুৎ-ঝলসানো, অদৃশ্য পাখির ডানার মতো। তিনি প্রশ্ন করেছেন — তুমি ভয় পাও না? আমার কাছে এসে বসতে, চোখ তুলে তাকাতে, যে আমি মরে যাব? তিনি আবার ঘোমটা টানতে বলেছেন — তাঁর মুখ তাঁকে মারছে। তারপর তিনি প্রেমিকার মধুরতা ও কোমলতার বর্ণনা দিয়েছেন — তাঁর হাত মোমের মতো আগুনে গলে যেতে চায়, তাঁর শরীরের সৌরভ জড়িয়ে ধরে, তাঁর চুল জড়িয়ে ধরে, তাঁর চোখ থেকে বাসনার তারাময় স্রোত ঝরে, তিনি মৃদুস্বরে বলেন — ‘কী’? তিনি জানতে চান — তুমি কি জানো সেই মুহূর্তে আমি মরে যেতে পারতাম? তিনি প্রশ্ন করেন — এই মধুরতা, এই কোমলতার ভয়ঙ্কর ভার আমি কী করে সইব? শেষে তিনি দুঃখ চান — নববর্ষার বৃষ্টির মতো ধারালো দুঃখ, যে বৃষ্টিতে প্রাণের অঙ্কুর জাগে, মাটি সবুজে ওঠে, যে বৃষ্টি জ্বালিয়ে দেয় আশ্চর্য রামধনু। শেষেও তিনি বলেন — ঘোমটা টেনে দাও।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — প্রেম সবসময় সুখের নয়, আরামের নয়। প্রেম কখনও এত তীব্র হয় যে তা সহ্যের বাইরে চলে যায়। তখন তা মৃত্যুর সমান, তখন তা ‘ভয়ঙ্কর ভার’। কিন্তু তবুও আমরা সেই প্রেমকে চাই, তবুও আমরা সেই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি।
মুখ কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীক ও চিহ্নের গভীর বিশ্লেষণ
ঘোমটার প্রতীকী তাৎপর্য
ঘোমটা এখানে আড়ালের প্রতীক। কবি প্রেমিকাকে মুখ ঢাকতে বলছেন, কারণ তাঁর রূপ এত তীব্র যে তা সহ্যের বাইরে। ঘোমটা তাই এক ধরনের রক্ষাকবচ।
বিদ্যুৎ ও আগুনের ঢেউয়ের প্রতীকী তাৎপর্য
বিদ্যুৎ ও আগুন — দুটোই ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতীক। প্রেমিকার মুখে এই উপাদানগুলোর উপস্থিতি প্রেমের ধ্বংসাত্মক দিককে নির্দেশ করে।
অদৃশ্য পাখির প্রতীকী তাৎপর্য
অদৃশ্য পাখি — রহস্য, অলৌকিকতার প্রতীক। প্রেমিকার মুখের সৌন্দর্যে এমন কিছু আছে যা দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
মোমের মতো আগুনের প্রতীকী তাৎপর্য
মোম আগুনে গলে যায় — সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে। প্রেমিকার হাতও তেমনি কবির হাতে গলে যেতে চায় — আত্মসমর্পণের চরম প্রকাশ।
চোখের উৎস থেকে বাসনার তারাময় স্রোতের প্রতীকী তাৎপর্য
চোখ প্রেমিকার আবেগের উৎস। সেই উৎস থেকে বাসনার স্রোত ঝরে পড়ছে, আর তা তারাময় — অসীম, অনন্ত, আলোকিত।
‘কী’ শব্দের প্রতীকী তাৎপর্য
এই একটি শব্দ প্রেমিকার সমস্ত আবেগ, সমস্ত প্রশ্ন, সমস্ত প্রত্যাশা ধারণ করে আছে। এটি তাঁর ভালোবাসার সারসংক্ষেপ।
নববর্ষার বৃষ্টির প্রতীকী তাৎপর্য
নববর্ষার বৃষ্টি সজীবতা আনে, নতুন জীবন দেয়। কবি এমন দুঃখ চান যা তাঁকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে, সবুজ করে দেবে।
আশ্চর্য রামধনুর প্রতীকী তাৎপর্য
রামধনু সাত রঙের সমাহার — সম্পূর্ণতা, পূর্ণতার প্রতীক। কবি চান তাঁর দুঃখ এমন হোক যা তাঁকে পূর্ণতা দেবে।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ্যক্রমে এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। এটি শিক্ষার্থীদের বুদ্ধদেব বসুর কবিতার বিশেষত্ব, তাঁর প্রেম-দর্শনের গভীরতা এবং আধুনিক বাংলা কবিতার রূপক শক্তি সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে।
সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা
আজকের পৃথিবীতেও এই কবিতাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা সবাই কোনও না কোনও সময় প্রেমের এত তীব্রতা অনুভব করি যে তা সহ্যের বাইরে চলে যায়। তখন আমরা চাই আড়াল, চাই দূরত্ব, চাই ঘোমটা। কিন্তু একইসঙ্গে আমরা চাই সেই তীব্রতা, সেই আগুন, সেই বাসনা। বুদ্ধদেব বসুর এই কবিতা সেই চিরন্তন মানবিক অনুভূতির এক অনন্য দলিল।
সম্পর্কিত কবিতা ও সাহিত্যকর্ম
বুদ্ধদেব বসুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেমের কবিতার মধ্যে রয়েছে ‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি [citation:6], ‘বন্দীর বন্দনা’, ‘প্রেমিকের গান’, ‘পরস্পর’, ‘আমাকে তোমায় দেখতে হবে’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘সেই মুখ’, ‘অন্য প্রেমিকের জন্য’ প্রভৃতি ।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি পঙ্ক্তি — “যেথা যত বিপুল বেদনা, / যেথা যত আনন্দের মহানমহিমা— / আমার হৃদয়ে তার নব-নব হয়েছে প্রকাশ। / বকুলবীথির ছায়ে গোধূলির অস্পষ্ট মায়ায় অমাবস্যা-পূর্ণিমার পরিণয়ে আমি পুরোহিত— / শাপভ্রষ্ট দেবশিশু আমি” [citation:6] — এই পঙ্ক্তিতে তাঁর প্রেম-দর্শনের মূল সুর ধরা আছে।
মুখ কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: মুখ কবিতাটির লেখক কে?
এই কবিতাটির লেখক বুদ্ধদেব বসু। তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী একজন প্রভাবশালী বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সম্পাদক ছিলেন [citation:2][citation:4][citation:8]।
প্রশ্ন ২: মুখ কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু কী?
এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রেমের তীব্রতা, রূপের ভয়ঙ্কর মধুরতা ও আত্মসমর্পণের দ্বন্দ্ব। কবি দেখিয়েছেন — প্রেমিকার মুখ এতই তীব্র, এতই উজ্জ্বল যে তা সহ্যের বাইরে। তিনি বারবার ঘোমটা টানতে বলেন, কারণ এই রূপ তাঁকে মারছে। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি তাঁর মধুরতা ও কোমলতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শেষে তিনি এমন দুঃখ চান যা তাঁকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে ।
প্রশ্ন ৩: ‘ঘোমটা টেনে দাও’ — পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য কী?
‘ঘোমটা টেনে দাও’ কথাটির পুনরাবৃত্তি প্রেমিকার রূপের প্রতি কবির অসহায়ত্ব ও অনুরোধের তীব্রতা প্রকাশ করে। তিনি বারবার বলছেন — ঘোমটা টেনে দাও, কারণ এই রূপ তিনি সহ্য করতে পারছেন না। শুরু ও শেষে এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে একটি বৃত্তাকার কাঠামো দিয়েছে ।
প্রশ্ন ৪: ‘তোমার কি ভয় করে না যে আমি ম’রে যাবো?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী লাইন। প্রেমিকার রূপ এতই তীব্র যে তা দেখলে কবির মৃত্যু হতে পারে। এটি প্রেমের তীব্রতার চরম প্রকাশ — ভালোবাসা এত গভীর যে তা মৃত্যুর সমান ।
প্রশ্ন ৫: ‘তোমার মুখ আমাকে মারছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রথম স্তবকে তিনি বলেছিলেন ‘সইতে পারিনে’, দ্বিতীয় স্তবকে বলেছিলেন ‘মরে যাবো’, তৃতীয় স্তবকে তিনি সরাসরি বলছেন — ‘মারছে’। প্রেমিকার রূপ এখন আর কেবল অসহ্য নয়, তা সক্রিয়ভাবে তাঁকে হত্যা করছে। এটি প্রেমের তীব্রতার চূড়ান্ত প্রকাশ ।
প্রশ্ন ৬: ‘শুধু বলো – ‘কী’?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই একটি শব্দ — ‘কী’? — প্রেমিকার সমস্ত আবেগ, সমস্ত প্রশ্ন, সমস্ত প্রত্যাশা ধারণ করে আছে। তিনি জানতে চান — তুমি কী বলবে? তুমি কী করবে? তুমি কী ভাবছ?
প্রশ্ন ৭: ‘দুঃখ দাও / দুঃখ দাও আমাকে- / এই নববর্ষার ছোটো-ছোটো বৃষ্টির মতো / ধারালো দুঃখ আমার বুকের উপর নামুক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নববর্ষার বৃষ্টি সজীবতা আনে, নতুন জীবন দেয়। কবি তেমনই দুঃখ চান — যে দুঃখ ধারালো, কিন্তু তা থেকে নতুন করে জেগে ওঠা যায়, সবুজে হেসে ওঠা যায়।
প্রশ্ন ৮: বুদ্ধদেব বসুর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
বুদ্ধদেব বসুর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বন্দীর বন্দনা’ ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয় [citation:4][citation:6][citation:7]।
প্রশ্ন ৯: বুদ্ধদেব বসু কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?
বুদ্ধদেব বসু ১৯৬৭ সালে ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটকের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ‘স্বাগত বিদায়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন [citation:4][citation:7][citation:8]।
প্রশ্ন ১০: বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) বিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে আধুনিক বাংলা কবিতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বন্দীর বন্দনা’, ‘কঙ্কাবতী’, ‘দ্রৌপদীর শাড়ী’, ‘শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর’, ‘যে অাঁধার আলোর অধিক’। তিনি ১৯৬৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৭০ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন [citation:2][citation:4][citation:7]।
ট্যাগস: মুখ, বুদ্ধদেব বসু, বুদ্ধদেব বসুর কবিতা, মুখ কবিতা বুদ্ধদেব বসু, আধুনিক বাংলা কবিতা, প্রেমের কবিতা, বুদ্ধদেব বসুর প্রেমের কবিতা, ঘোমটা
© Kobitarkhata.com – কবি: বুদ্ধদেব বসু | কবিতার প্রথম লাইন: “ঘোমটা টেনে দাও / ঘোমটা টেনে দাও তোমার মুখের উপর : / তোমার রূপ আমি সইতে পারিনে।” | বাংলা প্রেমের কবিতা বিশ্লেষণ






