কবিতার খাতা
- 23 mins
অনাহারী আমি – রুমানা শাওন।
সবাই বলে, “চোখের নিচে কালি!
অসুস্থ নাকি শরীর?”
কেউ বোঝে না—মনেরও হয় প্রচন্ড জ্বর।
হাত বাড়িয়ে ওষুধ দিতে চায়
কিন্তু রাত জেগে ভাঙা গান শোনা
আর নিঃশব্দে কাঁদার গল্প…
অজানা কৌশলে এড়িয়ে যায়।
জিজ্ঞেস করে, “কিরে ঘুম হয়নি? চোখ লাল কেন?”
হাসি চাপিয়ে বলি, “ধুলো পড়েছে, ও কিছু না!”
কেউ জানেও না—বালিশ ভেজে প্রতিরাতের নোনা,
মনের কোনে জমে থাকা ব্যথার হিসাব
শরীরের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি।
“এত চুপ কেন? গম্ভির ভাবে আছিস যে?
উত্তর খোঁজে বাহ্যিক আচরণে
কিন্তু কেউ দেখে না—অনেক কথা আটকে আছে গলায়,
যেমন বৃষ্টির দিনে আটকে থাকে মেঘ।
শরীরের ব্যাথা সারবে বটে,
তবে মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না কোনো দিন…
যদিও বা লাগে, দাগ থেকে যায় চিরকাল।
সবাই চায় শুধু শরীরের সুস্থতা
তবু কেন বোঝে না—
মনের গহিনে জমে থাকা ক্ষত
শরীরের চামড়ায় ফুটায় সহস্র হুল
যত্ন করা হয় হাড়-মাংসের,
কিন্তু ভিতরের “আমি”
থাকি অনাহারে, কাঁদি চুপিচুপি…
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুমানা শাওন।
অনাহারী আমি – রুমানা শাওন | অনাহারী আমি কবিতা | রুমানা শাওনের কবিতা | বাংলা কবিতা
অনাহারী আমি: রুমানা শাওনের মানসিক স্বাস্থ্য, নিঃসঙ্গতা ও আত্মঅন্বেষণের অসাধারণ কাব্যভাষা
রুমানা শাওনের “অনাহারী আমি” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা মানসিক স্বাস্থ্য, নিঃসঙ্গতা, আত্মঅন্বেষণ ও সমাজের উদাসীনতার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “সবাই বলে, ‘চোখের নিচে কালি! অসুস্থ নাকি শরীর?’ / কেউ বোঝে না—মনেরও হয় প্রচন্ড জ্বর।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর বেদনার জগৎ, যেখানে শরীরের প্রতি যত্ন থাকলেও মনের প্রতি উদাসীনতা চরমে। রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তাঁর কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “অনাহারী আমি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের উদাসীনতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে।
রুমানা শাওন: আধুনিক নারীর অনুভূতির কবি
রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তাঁর কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “অনাহারী আমি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের উদাসীনতার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে। রুমানা শাওনের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছেন।
অনাহারী আমি কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“অনাহারী আমি” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘অনাহারী’ — যে না খেয়ে থাকে, যে ক্ষুধার্ত। কিন্তু এখানে অনাহার শরীরের নয়, মনের। কবি বলতে চান — আমার মন অনাহারী, আমার ভেতরের ‘আমি’ অনাহারী। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা শারীরিক ক্ষুধার নয়, মানসিক ক্ষুধার কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সবাই বলে, ‘চোখের নিচে কালি! / অসুস্থ নাকি শরীর?’ / কেউ বোঝে না—মনেরও হয় প্রচন্ড জ্বর। / হাত বাড়িয়ে ওষুধ দিতে চায় / কিন্তু রাত জেগে ভাঙা গান শোনা / আর নিঃশব্দে কাঁদার গল্প… / অজানা কৌশলে এড়িয়ে যায়।” প্রথম স্তবকে কবি সমাজের উদাসীনতার চিত্র এঁকেছেন। তিনি বলেন — সবাই বলে, চোখের নিচে কালি পড়েছে, শরীর কি অসুস্থ? কিন্তু কেউ বোঝে না — মনেরও প্রচণ্ড জ্বর হয়। সবাই হাত বাড়িয়ে ওষুধ দিতে চায়, কিন্তু রাত জেগে ভাঙা গান শোনা আর নিঃশব্দে কাঁদার গল্প অজানা কৌশলে এড়িয়ে যায়।
চোখের নিচে কালির তাৎপর্য
চোখের নিচে কালি — অনিদ্রার চিহ্ন, ক্লান্তির চিহ্ন। সবাই এই বাহ্যিক লক্ষণ দেখে শরীরের কথা ভাবে, কিন্তু কেউ মনের কথা ভাবে না।
মনের জ্বরের তাৎপর্য
মনেরও জ্বর হয় — মানসিক যন্ত্রণা, মানসিক অসুস্থতা। কিন্তু এই অসুস্থতা চোখে দেখা যায় না, তাই সবাই তা উপেক্ষা করে।
ওষুধ দিতে চাওয়া ও গল্প এড়িয়ে যাওয়ার তাৎপর্য
সবাই ওষুধ দিতে চায় — মানে সাহায্য করতে চায়, কিন্তু সেই সাহায্য শারীরিক। মানসিক যন্ত্রণার গল্প কেউ শুনতে চায় না। ভাঙা গান শোনা, নিঃশব্দে কাঁদা — এই গল্পগুলো সবাই এড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“জিজ্ঞেস করে, ‘কিরে ঘুম হয়নি? চোখ লাল কেন?’ / হাসি চাপিয়ে বলি, ‘ধুলো পড়েছে, ও কিছু না!’ / কেউ জানেও না—বালিশ ভেজে প্রতিরাতের নোনা, / মনের কোনে জমে থাকা ব্যথার হিসাব / শরীরের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর গোপন বেদনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন — সবাই জিজ্ঞেস করে, ঘুম হয়নি? চোখ লাল কেন? তিনি হাসি চেপে বলেন, ধুলো পড়েছে, কিছু না। কিন্তু কেউ জানে না — প্রতিরাতে বালিশ ভেজে নোনা জলে। মনের কোণে জমে থাকা ব্যথার হিসাব শরীরের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি।
হাসি চেপিয়ে বলা ও ধুলো পড়ার তাৎপর্য
কবি তাঁর ব্যথা লুকিয়ে রাখেন। চোখ লাল — কান্নার চিহ্ন, কিন্তু তিনি বলেন ধুলো পড়েছে। এই মিথ্যা সমাজের কাছে নিজেকে সুস্থ, স্বাভাবিক দেখানোর এক চেষ্টা।
বালিশ ভেজা প্রতিরাতের নোনার তাৎপর্য
প্রতিরাতে বালিশ ভেজে — প্রতিদিন তিনি কাঁদেন। নোনা জল — অশ্রু। এই অশ্রু কেউ দেখে না, কেউ জানে না।
মনের ব্যথার হিসাবের তাৎপর্য
মনের কোণে জমে থাকা ব্যথার হিসাব শরীরের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি। অর্থাৎ মানসিক যন্ত্রণা শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বেশি, কিন্তু তা অদৃশ্য।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“‘এত চুপ কেন? গম্ভির ভাবে আছিস যে? / উত্তর খোঁজে বাহ্যিক আচরণে / কিন্তু কেউ দেখে না—অনেক কথা আটকে আছে গলায়, / যেমন বৃষ্টির দিনে আটকে থাকে মেঘ।” তৃতীয় স্তবকে কবি তাঁর চুপ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন — সবাই জিজ্ঞেস করে, এত চুপ কেন? গম্ভীর ভাবে আছিস কেন? তারা উত্তর খোঁজে বাহ্যিক আচরণে। কিন্তু কেউ দেখে না — অনেক কথা আটকে আছে গলায়, যেমন বৃষ্টির দিনে আটকে থাকে মেঘ।
চুপ থাকা ও গম্ভীর ভাবের তাৎপর্য
কবি চুপ করে থাকেন, গম্ভীর থাকেন — কারণ তাঁর ভেতরে অনেক কথা, অনেক ব্যথা। বাইরের আচরণ দেখে কেউ তা বুঝতে পারে না।
গলায় আটকে থাকা কথার তাৎপর্য
অনেক কথা আটকে আছে গলায় — তিনি বলতে চান, কিন্তু পারেন না। এই কথাগুলো মেঘের মতো জমে আছে, বৃষ্টির দিনে যেমন মেঘ জমে।
বৃষ্টির দিনে মেঘ আটকে থাকার তাৎপর্য
বৃষ্টির দিনে মেঘ আটকে থাকে — ঠিক তেমনি তাঁর কথাগুলো আটকে আছে। কখনো বৃষ্টি হয়ে ঝরবে? কখনো তিনি সব কথা বলতে পারবেন?
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“শরীরের ব্যাথা সারবে বটে, / তবে মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না কোনো দিন… / যদিও বা লাগে, দাগ থেকে যায় চিরকাল।” চতুর্থ স্তবকে কবি শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার পার্থক্য বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন — শরীরের ব্যথা সারবে বটে, কিন্তু মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না কোনোদিন। যদিও বা লাগে, দাগ থেকে যায় চিরকাল।
শরীরের ব্যথা সারা ও মনের ব্যথা না সারা
শারীরিক ব্যথা ওষুধে সারে, সময়ে সারে। কিন্তু মানসিক ব্যথা তত সহজে সারে না। মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না।
ভাঙা কাচের দাগের তাৎপর্য
ভাঙা কাচ জোড়া লাগলেও দাগ থেকে যায়। মানসিক আঘাতের ক্ষতও তেমনি — সারলেও দাগ থেকে যায় চিরকাল।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সবাই চায় শুধু শরীরের সুস্থতা / তবু কেন বোঝে না— / মনের গহিনে জমে থাকা ক্ষত / শরীরের চামড়ায় ফুটায় সহস্র হুল / যত্ন করা হয় হাড়-মাংসের, / কিন্তু ভিতরের ‘আমি’ / থাকি অনাহারে, কাঁদি চুপিচুপি…” পঞ্চম স্তবকে কবি চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেন — সবাই চায় শুধু শরীরের সুস্থতা। তবু কেন বোঝে না — মনের গহিনে জমে থাকা ক্ষত শরীরের চামড়ায় ফুটায় সহস্র হুল। যত্ন করা হয় হাড়-মাংসের, কিন্তু ভিতরের ‘আমি’ থাকি অনাহারে, কাঁদি চুপিচুপি।
শরীরের সুস্থতা চাওয়ার তাৎপর্য
সমাজ শুধু শরীরের সুস্থতা চায়, শারীরিক রোগের চিকিৎসা চায়। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি তাদের উদাসীনতা চরম।
মনের ক্ষত শরীরে হুল ফোটানোর তাৎপর্য
মনের গহিনে জমে থাকা ক্ষত শরীরের চামড়ায় হুল ফোটায় — মানসিক যন্ত্রণা শারীরিক রোগের কারণ হয়। কিন্তু সমাজ তা বুঝতে চায় না।
ভিতরের ‘আমি’ অনাহারে থাকার তাৎপর্য
হাড়-মাংসের যত্ন করা হয়, কিন্তু ভিতরের ‘আমি’ অনাহারে থাকে। এই ‘আমি’ — সত্তা, আত্মা, মন — ক্ষুধার্ত, অনাহারী। তিনি চুপিচুপি কাঁদেন, কিন্তু কেউ শোনে না।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“অনাহারী আমি” কবিতাটি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের উদাসীনতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র। কবি দেখিয়েছেন — সবাই শারীরিক রোগ দেখে, কিন্তু মানসিক যন্ত্রণা কেউ দেখে না। চোখের নিচে কালি পড়লে বলে শরীর খারাপ, কিন্তু মনের জ্বর কেউ বোঝে না। তিনি হাসি চেপে বলেন — ধুলো পড়েছে, কিন্তু প্রতিরাতে বালিশ ভেজে অশ্রুতে। তিনি চুপ করে থাকেন, গম্ভীর থাকেন — কিন্তু গলায় আটকে আছে অনেক কথা। শরীরের ব্যথা সারে, কিন্তু মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না। সবাই শরীরের সুস্থতা চায়, কিন্তু ভিতরের ‘আমি’ অনাহারে থাকে, চুপিচুপি কাঁদে। এটি আধুনিক সমাজের এক করুণ সত্য — আমরা শরীর নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু মনকে ভুলে যাই।
অনাহারী আমি কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: অনাহারী আমি কবিতার লেখক কে?
অনাহারী আমি কবিতার লেখক রুমানা শাওন। তিনি বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তাঁর কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “অনাহারী আমি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের উদাসীনতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে।
প্রশ্ন ২: অনাহারী আমি কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
অনাহারী আমি কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের উদাসীনতা ও মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা। কবি দেখিয়েছেন — সবাই শারীরিক রোগ দেখে, কিন্তু মানসিক যন্ত্রণা কেউ দেখে না। শরীরের ব্যথা সারে, কিন্তু মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না। সবাই শরীরের সুস্থতা চায়, কিন্তু ভিতরের ‘আমি’ অনাহারে থাকে, চুপিচুপি কাঁদে।
প্রশ্ন ৩: ‘কেউ বোঝে না—মনেরও হয় প্রচন্ড জ্বর’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কেউ বোঝে না—মনেরও হয় প্রচন্ড জ্বর’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি মানসিক অসুস্থতার কথা বলেছেন। শারীরিক জ্বর যেমন শরীরের অসুস্থতার লক্ষণ, তেমনি মানসিক জ্বরও মনের অসুস্থতার লক্ষণ। কিন্তু এই জ্বর চোখে দেখা যায় না, তাই কেউ তা বুঝতে চায় না।
প্রশ্ন ৪: ‘বালিশ ভেজে প্রতিরাতের নোনা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বালিশ ভেজে প্রতিরাতের নোনা’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর প্রতিদিনের কান্নার কথা বলেছেন। নোনা — অশ্রু। প্রতিরাতে তিনি কাঁদেন, বালিশ ভিজে যায় অশ্রুতে। কিন্তু এই অশ্রু কেউ দেখে না, কেউ জানে না।
প্রশ্ন ৫: ‘মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না কোনো দিন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘মনের ভাঙা কাচ জোড়া লাগে না কোনো দিন’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি মানসিক আঘাতের চিরস্থায়ীত্ব বুঝিয়েছেন। শারীরিক আঘাত সারলেও মানসিক আঘাত তেমন সহজে সারে না। ভাঙা কাচ যেমন জোড়া লাগে না, মনের ভাঙাও তেমনি। যদিও বা লাগে, দাগ থেকে যায় চিরকাল।
প্রশ্ন ৬: ‘ভিতরের ‘আমি’ থাকি অনাহারে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘ভিতরের ‘আমি’ থাকি অনাহারে’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা। হাড়-মাংসের যত্ন করা হয়, কিন্তু ভিতরের সত্তা, আত্মা, মন — অনাহারে থাকে। কেউ তার খোঁজ রাখে না, কেউ তার ক্ষুধা মেটায় না। তিনি চুপিচুপি কাঁদেন, কিন্তু কেউ শোনে না।
প্রশ্ন ৭: রুমানা শাওন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন۔
রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তাঁর কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “অনাহারী আমি”, “নদীটি ভালো নেই”, “অভিমানের ই-মেইল” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
ট্যাগস: অনাহারী আমি, রুমানা শাওন, রুমানা শাওনের কবিতা, অনাহারী আমি কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, মানসিক স্বাস্থ্যের কবিতা, নিঃসঙ্গতার কবিতা





