সহ্যসীমার মধ্যে – নির্মলেন্দু গুণ।

বাবা আমার কাছে এখন মাঝে মাঝে টাকার জন্য চিঠি লেখেন,
আমি ডাকঘরে যাই।

আমাকে আসতে দেখে রেস্তোঁরার যে-কোনো বেয়ারা এখন
সানন্দে আদাব ঠোকে- সোল্লাসে স্বাগত জানায়
আপাততঃ তরুণ বন্ধুরা, আমি টাকা ধার দিই অনায়াসে।
গাছ-পাখি-ফুল-নারী, আমি কারো কাছে ঋণী নই।

আমার বেকার বন্ধুা আমাকে বিব্রত করে, আমি বিরক্ত হ’য়ে
টেলিফোনে জনৈক মন্ত্রীর সাথে কথা বলি। তারা খুশি হয়।

যে-কোনো পুস্তক প্রকাশক এখন আমার কৃপাপ্রার্থী, যে-কোনো মাস্তান
এখন আমার মন্ত্রমুগ্ধ, একান্ত অনুগত, বাধ্য বশংবদ।
সম্প্রতি দু’একটি ফিল্মী গীত রচনার অফার পেয়েছি, আমি রাজী নই।
‘কত টাকা চাই- আসুন আমার ঘরে”- ব’লে ডাকে হাজার দুয়ার;
আমি চিনতে পারি না, বুঝি লোভ, সেই জন্ম-প্রলোভন
যে আমাকে অন্ধকারে হাত ধ’রে টেনে টেনে তুলছে সিঁড়িতে।

আমার এলাকাবাসীরা চায় আমি আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী হই,
তারা গণভোট দেবে, কেননা আমি এখন সবচেয়ে বিশ্বাসী, প্রতিদিন
সৎ এবং শক্তিশালী হচ্ছি। কুমারী স্তনের মতো বক্ষময় বৃদ্ধি পাচ্ছে,
অলৌকিক আমার ক্ষমতা। তোমার যে-কোনো উপেক্ষাই
এখন আমার সহ্যসীমার মধ্যে, তুমি করতলগত, করতলে গত।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x