কবিতার খাতা
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে – হুমায়ুন আজাদ।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ;- চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল-
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের অধিকারে।
চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানখেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-
মেধা; -এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে গাঁ
থা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক-
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। হুমায়ুন আজাদ।
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে – হুমায়ুন আজাদ | সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে কবিতা হুমায়ুন আজাদ | হুমায়ুন আজাদের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | প্রতিরোধের কবিতা | সামাজিক বাস্তবতার কবিতা
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে: হুমায়ুন আজাদের নষ্টতা, প্রতিরোধ ও সামাজিক বাস্তবতার অসাধারণ কাব্যভাষা
হুমায়ুন আজাদের “সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য ও শক্তিশালী প্রতিরোধের কবিতা। “আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। / নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক / সব সংঘ-পরিষদ;- চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে / চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল- / নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র / আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের অধিকারে।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে নষ্টদের (শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী) ক্ষমতায় সমাজের সবকিছু চলে যাওয়ার বেদনাবিদ্ধ চিত্র, প্রতিরোধের অক্ষমতা, এবং শেষ পর্যন্ত হতাশার এক গভীর ও বহুমাত্রিক কাব্যচিত্র। হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ। তিনি তাঁর সাহসী ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিখ্যাত। তাঁর কবিতায় সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। “সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে” তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি সমাজের সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়ার চিত্র এঁকেছেন।
হুমায়ুন আজাদ: সাহসী কণ্ঠস্বর ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ
হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ (১৯৮৩), ‘জ্বলো চিতা’ (১৯৮৬), ‘কবিতা সংগ্রহ’ (১৯৯০), ‘রান্নাঘরে নারীবাদী’ (২০০০), ‘সেই কবে থেকে’ (২০০৫), ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ (২০০৫) সহ আরও অসংখ্য গ্রন্থ। তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।
হুমায়ুন আজাদের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এবং সরল-প্রাঞ্জল ভাষায় গভীর অর্থ সৃষ্টির দক্ষতা। ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি সমাজের সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়ার চিত্র এঁকেছেন।
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘নষ্ট’ — শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী, যারা সব কিছু নষ্ট করে দেয়। কবি বলছেন — তিনি জানেন সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ। চলে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে চলে যাবে এই সমাজ, সভ্যতা-সমস্ত দলিল। নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের অধিকারে।
চলে যাবে শহর, বন্দর, ধানখেত, কালো মেঘ, লাল শাড়ি, শাদা চাঁদ, পাখির পালক, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, সিনেগগ, পবিত্র প্যাগোডা। অস্ত্র আর গণতন্ত্র চলে গেছে, জনতাও যাবে। চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ, নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি, খড়ের গম্বুজ, শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে। রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের সমস্ত আলাপ, হৃদয়স্পন্দন, গাথা, ঠোঁটের আঙুর, ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার, মাঠের রাখাল, কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে। চলে যাবে সেই সব উপকথা: সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা; এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা, নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চলে যাবে, কিশোরীরা চলে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা করে চলে যাবে, নষ্টদের উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ, শ্লোক, মুদ্রাযন্ত্র, শিশির, বেহালা, ধান, রাজনীতি, দোয়েলের স্বর, গদ্য, পদ্য, আমার সমস্ত ছাত্রী, মার্ক্স-লেনিন, আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা — রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক — তিনি জানেন তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সমাজের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়া
“আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। / নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক / সব সংঘ-পরিষদ;- চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে / চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল- / নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র / আর رাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের অধিকারে।”
প্রথম স্তবকে রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সমাজের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — কবির জ্ঞান, পূর্বাভাস। ‘নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ’ — মানবিক সংগঠনগুলি নষ্টদের হাতে ধরা পড়বে। ‘চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল’ — সমাজ, সভ্যতা, সব দলিল চলে যাবে। ‘নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের অধিকারে’ — যেমন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে।
দ্বিতীয় স্তবক: প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ধর্মের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়া
“চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানখেত / কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক / মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা। / অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে; / চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন / সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।”
দ্বিতীয় স্তবকে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ধর্মের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানখেত’ — শহর, বন্দর, ধানখেত চলে যাবে। ‘কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক’ — প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতীকগুলি চলে যাবে। ‘মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা’ — ধর্মীয় স্থানগুলি চলে যাবে। ‘অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে’ — অস্ত্র ও গণতন্ত্র চলে গেছে, জনতাও যাবে। ‘চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — চাষার স্বপ্ন ও সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
তৃতীয় স্তবক: প্রকৃতি, শিল্প ও সৌন্দর্যের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়া
“কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ / নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ / শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে। / রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের / সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর / ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল / কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে। / চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা- / মেধা; -এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা / নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে / অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।”
তৃতীয় স্তবকে প্রকৃতি, শিল্প ও সৌন্দর্যের নষ্টদের হাতে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ’ — প্রকৃতির সৌন্দর্য। ‘নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ’ — বাংলার সংস্কৃতি। ‘শ্রাবণের সব বৃষ্টি’ — ঋতুর সৌন্দর্য। ‘রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের সমস্ত আলাপ’ — রবীন্দ্রনাথের জ্যোৎস্না, রবিশংকর (সঙ্গীতজ্ঞ) এর আলাপ। ‘হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর’ — প্রেমের গাথা। ‘ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল কাশবন’ — গ্রামীণ জীবন। ‘চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা’ — সৌন্দর্য, প্রতিভা, মেধা চলে যাবে। ‘এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা’ — উন্মাদ ও নির্বোধদের অমরতা। ‘নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — কষ্ট দিয়ে, উল্লাসভরে সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চতুর্থ স্তবক: নারী, সাহিত্য, রাজনীতি ও শিক্ষার নষ্টদের হাতে চলে যাওয়া
“আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। / সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত / চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে গাঁ / থা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে, / কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা / ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের / উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র / শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর / গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন, / আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা- / রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক- / আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।”
চতুর্থ স্তবকে নারী, সাহিত্য, রাজনীতি ও শিক্ষার নষ্টদের হাতে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — পুনরাবৃত্তি। ‘সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত চুষবে নষ্টের লিঙ্গ’ — সবচেয়ে সুন্দর মেয়েরা নষ্টদের উপপত্নী হবে। ‘লম্পটের অশ্লীল উরুতে গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী’ — লম্পটের উরুতে সৌন্দর্যের দেবী গাঁথা থাকবে। ‘কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের উপপত্নী হবে’ — কিশোরীরা, প্রেমিকারা নষ্টদের উপপত্নী হবে। ‘এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন’ — সাহিত্য, সঙ্গীত, কৃষি, রাজনীতি, শিক্ষা — সব চলে যাবে। ‘আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা’ — বাংলার কন্যা। ‘রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক’ — রাহুগ্রস্ত (গ্রহণের শিকার) সভ্যতার শেষ আলো। ‘আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — সব শেষ পর্যন্ত নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি চারটি স্তবকে বিভক্ত। প্রথম স্তবকে রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সমাজ, দ্বিতীয় স্তবকে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ধর্ম, তৃতীয় স্তবকে প্রকৃতি, শিল্প ও সৌন্দর্য, চতুর্থ স্তবকে নারী, সাহিত্য, রাজনীতি ও শিক্ষা — সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভাষা সরল, প্রাঞ্জল, কিন্তু তীক্ষ্ণ ও প্রতীকাত্মক। তিনি ব্যবহার করেছেন — ‘নষ্টদের দানবমুঠো’, ‘মানবিক সব সংঘ-পরিষদ’, ‘সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল’, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’, ‘শহর বন্দর ধানখেত’, ‘কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ’, ‘মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ প্যাগোডা’, ‘অস্ত্র আর গণতন্ত্র’, ‘চাষার সমস্ত স্বপ্ন’, ‘সমাজতন্ত্র’, ‘কড়কড়ে রৌদ্র’, ‘গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ’, ‘ভাটিয়ালি’, ‘শ্রাবণের বৃষ্টি’, ‘রবীন্দ্রনাথের জ্যোৎস্না’, ‘রবিশংকরের আলাপ’, ‘হৃদয়স্পন্দন গাথা’, ‘ঠোঁটের আঙুর’, ‘ঘাইহরিণীর চিৎকার’, ‘কাশবন’, ‘সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা’, ‘উন্মাদ ও নির্বোধদের অমরতা’, ‘সবচে সুন্দর মেয়ে’, ‘নষ্টের লিঙ্গ’, ‘লম্পটের অশ্লীল উরু’, ‘কিশোরী’, ‘তীব্র প্রেমিকা’, ‘উপপত্নী’, ‘গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র’, ‘শিশির বেহালা ধান’, ‘রাজনীতি দোয়েলের স্বর’, ‘গদ্য পদ্য’, ‘ছাত্রী’, ‘মার্ক্স-লেনিন’, ‘শ্যামল কন্যা’, ‘রাহুগ্রস্থ সভ্যতা’।
প্রতীক ব্যবহারে তিনি দক্ষ। ‘নষ্ট’ — শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী। ‘দানবমুঠো’ — শোষকের হাত। ‘শহর বন্দর ধানখেত’ — অর্থনৈতিক সম্পদ। ‘কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ’ — প্রকৃতি ও সংস্কৃতি। ‘মন্দির মসজিদ গির্জা’ — ধর্ম। ‘অস্ত্র আর গণতন্ত্র’ — শক্তি ও ব্যবস্থা। ‘চাষার স্বপ্ন’ — সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। ‘সমাজতন্ত্র’ — আদর্শ। ‘রবীন্দ্রনাথের জ্যোৎস্না’ — সাহিত্য ও সংস্কৃতি। ‘রবিশংকরের আলাপ’ — সঙ্গীত। ‘সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা’ — মানবিক গুণাবলি। ‘সবচে সুন্দর মেয়ে’ — নারীর মর্যাদা। ‘গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র’ — সাহিত্য ও প্রকাশনা। ‘ছাত্রী, মার্ক্স-লেনিন’ — শিক্ষা ও আদর্শ। ‘শ্যামল কন্যা’ — বাংলার নারী, প্রকৃতি। ‘রাহুগ্রস্থ সভ্যতা’ — গ্রহণের শিকার সভ্যতা।
পুনরাবৃত্তি শৈলী কবিতার সুর তৈরি করেছে। ‘আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — প্রথম ও চতুর্থ স্তবকের পুনরাবৃত্তি কবির জ্ঞান ও হতাশাকে জোরালো করে। ‘চ’লে যাবে’ — দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তবকের পুনরাবৃত্তি। ‘নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — প্রতিটি স্তবকের শেষে বা ভেতরে পুনরাবৃত্তি।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে” হুমায়ুন আজাদের এক অসাধারণ সৃষ্টি। কবি বলছেন — তিনি জানেন সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ। চলে যাবে এই সমাজ, সভ্যতা-সমস্ত দলিল। যেমন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র চলে গেছে নষ্টদের অধিকারে, তেমনি চলে যাবে শহর, বন্দর, ধানখেত, কালো মেঘ, লাল শাড়ি, শাদা চাঁদ, পাখির পালক, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, সিনেগগ, প্যাগোডা। অস্ত্র আর গণতন্ত্র চলে গেছে, জনতাও যাবে। চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র, গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ, নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি, খড়ের গম্বুজ, শ্রাবণের সব বৃষ্টি — সব নষ্টদের অধিকারে যাবে। রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না, রবিশংকরের সমস্ত আলাপ, হৃদয়স্পন্দন, গাথা, ঠোঁটের আঙুর, ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার, মাঠের রাখাল, কাশবন — একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে। সৌন্দর্য-প্রতিভা-মেধা, এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা — সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত চুষবে নষ্টের লিঙ্গ। লম্পটের অশ্লীল উরুতে গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। কিশোরীরা, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা করে চলে যাবে, নষ্টদের উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ, শ্লোক, মুদ্রাযন্ত্র, শিশির, বেহালা, ধান, রাজনীতি, দোয়েলের স্বর, গদ্য, পদ্য, আমার সমস্ত ছাত্রী, মার্ক্স-লেনিন, আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা — রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক — সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — নষ্টরা (শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী) সবকিছু দখল করে নেয়। রাষ্ট্র, সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, ধর্ম, প্রকৃতি, নারী, সাহিত্য, শিক্ষা, আদর্শ — সব কিছু তাদের অধিকারে চলে যায়। কবি জানেন এটি ঘটবে। এটি হতাশার কবিতা, প্রতিরোধের অক্ষমতার কবিতা, কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবতার স্বীকৃতির কবিতা।
হুমায়ুন আজাদের কবিতায় নষ্টতা, শোষণ ও হতাশা
হুমায়ুন আজাদের কবিতায় নষ্টতা, শোষণ ও হতাশা একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ কবিতায় সমাজের সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়ার চিত্র এঁকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে রাষ্ট্র, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, প্রকৃতি, নারী, সাহিত্য, শিক্ষা — সব কিছু শোষকের হাতে চলে যায়।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ্যক্রমে হুমায়ুন আজাদের ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক বাস্তবতা, শোষণ, দুর্নীতি, এবং আধুনিক বাংলা কবিতার ধারা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে।
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে কবিতাটির লেখক কে?
এই কবিতাটির লেখক হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪)। তিনি একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ (১৯৮৩), ‘জ্বলো চিতা’ (১৯৮৬), ‘কবিতা সংগ্রহ’ (১৯৯০), ‘রান্নাঘরে নারীবাদী’ (২০০০), ‘সেই কবে থেকে’ (২০০৫), ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ (২০০৫)।
প্রশ্ন ২: ‘নষ্ট’ বলতে কবি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন?
‘নষ্ট’ — শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী, যারা সব কিছু নষ্ট করে দেয়। যারা সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, প্রকৃতি — সবকিছু নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেয়।
প্রশ্ন ৩: ‘আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি জানেন — সমাজের সবকিছু শেষ পর্যন্ত শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারীদের অধিকারে চলে যাবে। এটি একটি হতাশাবাদী পূর্বাভাস।
প্রশ্ন ৪: ‘নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক / সব সংঘ-পরিষদ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মানবাধিকার সংগঠন, শান্তি পরিষদ, মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলি নষ্টদের হাতে ধরা পড়বে, তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
প্রশ্ন ৫: ‘চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন / সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
চাষার (কৃষকের) স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। সমাজতন্ত্র (আদর্শ)ও নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে।
প্রশ্ন ৬: ‘রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের / সমস্ত আলাপ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, রবিশংকরের সঙ্গীত — সব সংস্কৃতি নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে।
প্রশ্ন ৭: ‘সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত / চুষবে নষ্টের লিঙ্গ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নারীদের নষ্টরা নিজেদের ভোগের সামগ্রী বানাবে। সবচেয়ে সুন্দর মেয়েরাও তাদের উপপত্নী হবে।
প্রশ্ন ৮: ‘আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শিক্ষা, ছাত্রী, এমনকি মার্ক্স-লেনিনের আদর্শও নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে।
প্রশ্ন ৯: ‘রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
রাহুগ্রস্থ — গ্রহণের শিকার। সভ্যতা গ্রহণের শিকার, তার শেষ সামান্য আলোটুকুও নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — নষ্টরা (শোষক, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী) সবকিছু দখল করে নেয়। রাষ্ট্র, সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, ধর্ম, প্রকৃতি, নারী, সাহিত্য, শিক্ষা, আদর্শ — সব কিছু তাদের অধিকারে চলে যায়। কবি জানেন এটি ঘটবে। এটি হতাশার কবিতা, প্রতিরোধের অক্ষমতার কবিতা, কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবতার স্বীকৃতির কবিতা। আজকের পৃথিবীতে — যেখানে দুর্নীতি, শোষণ, স্বৈরাচার ক্রমশ বাড়ছে — এই কবিতার প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম।
ট্যাগস: সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন আজাদের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, প্রতিরোধের কবিতা, সামাজিক বাস্তবতার কবিতা, শোষণের বিরুদ্ধে কবিতা, বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
© Kobitarkhata.com – কবি: হুমায়ুন আজাদ | কবিতার প্রথম লাইন: “আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। / নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক / সব সংঘ-পরিষদ;- চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে” | শোষণ ও প্রতিরোধের কবিতা বিশ্লেষণ | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন






