কবিতার খাতা
- 21 mins
মা – মল্লিকা সেনগুপ্ত।
মা শুনলে ভেসে ওঠে সিঁদুরের টিপ
লাল পেড়ে শাড়ি, কোলে দুধের সন্তান
যামিনী রায়ের ছবি, সে তো তুমি নও !
কোথায় লুকিয়ে আছ অন্তরালে, রক্তমাংসময়ী?
মা হওয়া মুখের কথা নয়
হাসিমুখে টিপ সেজে যিনি ঠিক বেছে নেন
শিশুযোগ্য হরলিক্স, বেবি সফট পণ্য রাশি রাশি
সে তো শুধু বিজ্ঞাপন টিং টং স্বপ্নের বাজার !
শিশুর আঙুল ধরে মা চলেছে ইস্কুলে ইস্কুলে
মুখ ধোয়া, ছুঁচু করা, পেনসিল কেনা – মা চলেছে
বাবা শুধু মাঝে মাঝে নিয়ে যায় চিড়িয়াখানায়
প্রতিটি মায়ের মুখে খুঁজে দেখি জননী তোমাকে
‘হাসিমুখে সব সয় সেই তো জননী’
হাজার বছর ধরে শুনে শুনে কান পচে গেল
কে বলেছে সব সইবার দায় শুধু মায়ের?
মাতৃত্ব মহান যদি কুকুরী মায়ের গায়ে ঢিল কে মেরেছে !
ডাস্টবিনে কার শিশু কুকুরীর স্নেহে বেঁচে ওঠে !
মায়ের গা থেকে যতো অতিকথা কবিতা কল্পনা
পলেস্তারা খুলে ফেলে দেখ, তার রক্তের উত্তাপ
তারও বুকে ধক্ ধক্ করে হৃদরোগ, প্রণয়ের ভাষা
মাতৃহত্যা মনে পড়ে ওরেস্টেস, পরশুরামের !
জঠরে দেবকী তুমি পালনে যশোধা হতে হবে
গার্ডিয়ানশিপ তবু এই রাষ্ট্র তোমাকে দিল না
মায়ের পেটের মধ্যে তিলে তিলে ন’মাস ন’দিন
হোমোসেপিয়েনগুলি বেড়ে উঠে ভুলে যায় তাকে
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা।
মা – মল্লিকা সেনগুপ্ত | মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | মাতৃত্বের বাস্তবতা, সমাজের পৌরাণিক বনাম প্রকৃত জননীর অসাধারণ কাব্যভাষা
মা: মল্লিকা সেনগুপ্তের মাতৃত্বের পৌরাণিক আবরণ খসানো, বাস্তব জননী ও সমাজের দ্বিচারিতার অসাধারণ কাব্যভাষা
মল্লিকা সেনগুপ্তের “মা” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য, তীক্ষ্ণ ও প্রতিবাদী সৃষ্টি। এটি মাতৃত্বের পৌরাণিক আবরণ খসিয়ে ফেলে বাস্তব জননীর মুখোমুখি দাঁড় করায়। “মা শুনলে ভেসে ওঠে সিঁদুরের টিপ / লাল পেড়ে শাড়ি, কোলে দুধের সন্তান / যামিনী রায়ের ছবি, সে তো তুমি নও ! / কোথায় লুকিয়ে আছ অন্তরালে, রক্তমাংসময়ী?” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে মাতৃত্বের পৌরাণিক ও বাণিজ্যিক আবরণের বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ। তিনি প্রশ্ন করেন — ‘মা’ শুনলে যে আদর্শ মায়ের ছবি ভেসে ওঠে, সেটি তো আসল মা নয়। আসল মা কোথায় লুকিয়ে আছে? তিনি বলেন — মা হওয়া মুখের কথা নয়। বিজ্ঞাপনের ‘টিং টং স্বপ্নের বাজার’ আসল মা নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন — ‘হাজার বছর ধরে শুনে শুনে কান পচে গেল / কে বলেছে সব সইবার দায় শুধু মায়ের?’ তিনি কুকুরী মায়ের উদাহরণ টেনে বলেন — মাতৃত্ব মহান, কিন্তু কুকুরীর গায়ে ঢিল মেরেছে কে? ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া শিশু কুকুরীর স্নেহে বেঁচে ওঠে। শেষে তিনি বলেন — ‘মায়ের পেটের মধ্যে তিলে তিলে ন’মাস ন’দিন / হোমোসেপিয়েনগুলি বেড়ে উঠে ভুলে যায় তাকে’। মল্লিকা সেনগুপ্ত একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নারী-মনস্তত্ত্ব, মাতৃত্বের বাস্তবতা, সমাজের পৌরাণিক আবরণ ও নারীর স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জন্য পরিচিত। ‘মা’ তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যা মাতৃত্বের পৌরাণিক আবরণ খসিয়ে দেয় এবং বাস্তব জননীকে দেখায়।
মল্লিকা সেনগুপ্ত: নারী, মাতৃত্ব ও বাস্তবতার কবি
মল্লিকা সেনগুপ্ত একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নারী-মনস্তত্ত্ব, মাতৃত্বের বাস্তবতা, সমাজের পৌরাণিক আবরণ ও নারীর স্বাধীন কণ্ঠস্বরের জন্য পরিচিত। ‘মা’ কবিতাটি তার সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি মাতৃত্বের আদর্শায়নের বিরুদ্ধে সরব হন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মা’ (২০১০), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (২০১৫) ইত্যাদি।
শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব
শিরোনাম ‘মা’ অত্যন্ত সরল, কিন্তু কবিতাটি এই সরল শব্দটির পেছনের জটিলতা উন্মোচন করে। ‘মা’ শুনলে কী ভেসে ওঠে? আদর্শ মায়ের ছবি? কিন্তু আসল মা কোথায়? এই দ্বন্দ্বই কবিতার মূল চালিকাশক্তি।
কবিতার স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: আদর্শ মা বনাম বাস্তব মা
“মা শুনলে ভেসে ওঠে সিঁদুরের টিপ / লাল পেড়ে শাড়ি, কোলে দুধের সন্তান / যামিনী রায়ের ছবি, সে তো তুমি নও ! / কোথায় লুকিয়ে আছ অন্তরালে, রক্তমাংসময়ী?” — প্রথম স্তবকে আদর্শ মায়ের চিত্র ও প্রশ্ন। ‘সিঁদুরের টিপ, লাল পেড়ে শাড়ি, কোলে দুধের সন্তান’ — এটি একটি চিরায়ত মাতৃমূর্তি। ‘যামিনী রায়ের ছবি’ — বিখ্যাত চিত্রশিল্পী যামিনী রায়ের আঁকা মায়ের ছবি, যা আদর্শ মাতৃত্বের প্রতীক। ‘সে তো তুমি নও!’ — এই আদর্শ চিত্রটি আসল মা নয়। ‘রক্তমাংসময়ী’ — বাস্তব, জীবন্ত, রক্ত-মাংসের মা — কোথায় লুকিয়ে আছ?
দ্বিতীয় স্তবক: মা হওয়া মুখের কথা নয়
“মা হওয়া মুখের কথা নয় / হাসিমুখে টিপ সেজে যিনি ঠিক বেছে নেন / শিশুযোগ্য হরলিক্স, বেবি সফট পণ্য রাশি রাশি / সে তো শুধু বিজ্ঞাপন টিং টং স্বপ্নের বাজার !” — দ্বিতীয় স্তবকে মাতৃত্বের বাণিজ্যিকীকরণের প্রতিবাদ। ‘মা হওয়া মুখের কথা নয়’ — সহজ নয়, কঠিন। ‘হাসিমুখে টিপ সেজে শিশুযোগ্য পণ্য বেছে নেওয়া’ — বিজ্ঞাপনের মা, যিনি বাজারের পণ্য নির্বাচন করেন। ‘টিং টং স্বপ্নের বাজার’ — টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের জগৎ, যা মাতৃত্বকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করেছে।
তৃতীয় স্তবক: দৈনন্দিন মা ও বাবার ভূমিকা
“শিশুর আঙুল ধরে মা চলেছে ইস্কুলে ইস্কুলে / মুখ ধোয়া, ছুঁচু করা, পেনসিল কেনা – মা চলেছে / বাবা শুধু মাঝে মাঝে নিয়ে যায় চিড়িয়াখানায় / প্রতিটি মায়ের মুখে খুঁজে দেখি জননী তোমাকে” — তৃতীয় স্তবকে দৈনন্দিন মায়ের চিত্র। ‘শিশুর আঙুল ধরে ইস্কুলে’ — মা প্রতিদিন শিশুকে স্কুলে নিয়ে যায়। ‘মুখ ধোয়া, ছুঁচু করা, পেনসিল কেনা’ — ছোট ছোট দৈনন্দিন কাজ। ‘বাবা মাঝে মাঝে চিড়িয়াখানায় নিয়ে যায়’ — বাবার ভূমিকা সীমিত, শুধু মাঝে মাঝে। ‘প্রতিটি মায়ের মুখে খুঁজে দেখি জননী তোমাকে’ — তিনি প্রতিটি মায়ের মধ্যে আসল ‘জননী’কে খুঁজছেন।
চতুর্থ স্তবক: সব সইবার দায় শুধু মায়ের? — পৌরাণিক আবরণ খসানো
“‘হাসিমুখে সব সয় সেই তো জননী’ / হাজার বছর ধরে শুনে শুনে কান পচে গেল / কে বলেছে সব সইবার দায় শুধু মায়ের? / মাতৃত্ব মহান যদি কুকুরী মায়ের গায়ে ঢিল কে মেরেছে ! / ডাস্টবিনে কার শিশু কুকুরীর স্নেহে বেঁচে ওঠে !” — চতুর্থ স্তবকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ। ‘হাসিমুখে সব সয়’ — মা সব সহ্য করে — এটি হাজার বছর ধরে বলা হচ্ছে, ‘কান পচে গেল’। ‘কে বলেছে সব সইবার দায় শুধু মায়ের?’ — প্রশ্নটি মৌলিক ও তীক্ষ্ণ। ‘মাতৃত্ব মহান যদি কুকুরী মায়ের গায়ে ঢিল কে মেরেছে!’ — পৌরাণিক ‘মাতৃত্ব মহান’ বক্তব্যের প্রতি বিদ্রূপ। কুকুরী মা যদি মহান, তাহলে তার গায়ে ঢিল মারা হয় কেন? ‘ডাস্টবিনে কার শিশু কুকুরীর স্নেহে বেঁচে ওঠে’ — বাস্তবের কঠিন সত্য — পরিত্যক্ত শিশু কুকুরের স্নেহে বাঁচে, কিন্তু সমাজ মাতৃত্বের মহিমা ঘোষণা করে।
পঞ্চম স্তবক: মায়ের শরীরের বাস্তবতা ও পৌরাণিক হত্যাকাণ্ড
“মায়ের গা থেকে যতো অতিকথা কবিতা কল্পনা / পলেস্তারা খুলে ফেলে দেখ, তার রক্তের উত্তাপ / তারও বুকে ধক্ ধক্ করে হৃদরোগ, প্রণয়ের ভাষা / মাতৃহত্যা মনে পড়ে ওরেস্টেস, পরশুরামের ! / জঠরে দেবকী তুমি পালনে যশোধা হতে হবে / গার্ডিয়ানশিপ তবু এই রাষ্ট্র তোমাকে দিল না” — পঞ্চম স্তবকে মায়ের শরীরের বাস্তবতা ও পৌরাণিক প্রসঙ্গ। ‘অতিকথা কবিতা কল্পনা’ — মা নিয়ে অতিরঞ্জিত গল্প। ‘পলেস্তারা খুলে ফেলে দেখ’ — আবরণ খুলে বাস্তব দেখো। ‘রক্তের উত্তাপ, হৃদরোগ, প্রণয়ের ভাষা’ — মাও একজন মানুষ, তারও ব্যথা আছে, ভালোবাসা আছে। ‘মাতৃহত্যা মনে পড়ে ওরেস্টেস, পরশুরামের’ — গ্রিক পুরাণে ওরেস্টেস মাতৃহত্যা করেছিল, ভারতীয় পুরাণে পরশুরামও। ‘জঠরে দেবকী তুমি পালনে যশোধা হতে হবে’ — দেবকী (কৃষ্ণের মা) গর্ভে ধারণ করেছিলেন, যশোধা (পালক মা) লালন-পালন করেছিলেন। ‘গার্ডিয়ানশিপ তবু এই রাষ্ট্র তোমাকে দিল না’ — সমাজ ও রাষ্ট্র মায়ের অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ষষ্ঠ স্তবক: শেষ কথা — ভুলে যাওয়া মা
“মায়ের পেটের মধ্যে তিলে তিলে ন’মাস ন’দিন / হোমোসেপিয়েনগুলি বেড়ে উঠে ভুলে যায় তাকে” — ষষ্ঠ স্তবক — শেষ স্তবক — পুরো কবিতার চূড়ান্ত বক্তব্য। ‘তিলে তিলে ন’মাস ন’দিন’ — ধীরে ধীরে, দীর্ঘ সময়। ‘হোমোসেপিয়েনগুলি বেড়ে উঠে ভুলে যায় তাকে’ — মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠে, কিন্তু বড় হয়ে মাকে ভুলে যায়। এটি একটি নির্মম সত্য।
প্রশ্নোত্তর: গভীর পাঠের জন্য
প্রশ্ন ১: ‘মা’ কবিতাটির লেখিকা কে?
উত্তর: এই কবিতাটির লেখিকা মল্লিকা সেনগুপ্ত। তিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি।
প্রশ্ন ২: ‘যামিনী রায়ের ছবি, সে তো তুমি নও!’ — কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: যামিনী রায়ের আঁকা মায়ের ছবি আদর্শ, পৌরাণিক মাতৃমূর্তি। কবি বলছেন — আসল মা সেই ছবি নয়, বাস্তবের রক্ত-মাংসের মা অন্যরকম।
প্রশ্ন ৩: ‘বিজ্ঞাপন টিং টং স্বপ্নের বাজার’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনগুলো মাতৃত্বকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করেছে। ‘টিং টং’ — বিজ্ঞাপনের শব্দ, ‘স্বপ্নের বাজার’ — ভোক্তাবাদের জগৎ।
প্রশ্ন ৪: ‘হাজার বছর ধরে শুনে শুনে কান পচে গেল’ — কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘হাসিমুখে সব সয়’ — এই কথাটি হাজার বছর ধরে বলা হচ্ছে, শুনতে শুনতে কান পচে গেছে — অর্থাৎ এই কথোপকথনে ক্লান্তি এসেছে।
প্রশ্ন ৫: ‘কে বলেছে সব সইবার দায় শুধু মায়ের?’ — লাইনটির গভীরতা কী?
উত্তর: সমাজ মায়ের ওপর সব সহ্য করার দায় চাপায়। কবি প্রশ্ন করছেন — কে এই দায়িত্ব দিয়েছে? কেন শুধু মাকে সব সহ্য করতে হবে?
প্রশ্ন ৬: ‘মাতৃত্ব মহান যদি কুকুরী মায়ের গায়ে ঢিল কে মেরেছে?’ — কেন এই উদাহরণ?
উত্তর: সমাজ মাতৃত্বকে মহান বলে ঘোষণা করে, কিন্তু বাস্তবে কুকুরী মাকেও ঢিল মারে। এটি একটি তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ — মাতৃত্বের মহিমা কেবল কথায়, বাস্তবে নয়।
প্রশ্ন ৭: ‘ডাস্টবিনে কার শিশু কুকুরীর স্নেহে বেঁচে ওঠে’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সমাজ পরিত্যক্ত শিশুকে ফেলে দেয়, কিন্তু কুকুরী মা স্নেহ দেয়। এটি মানবসমাজের ব্যর্থতার ও পশুজগতের মাতৃত্বের তীব্র প্রতিবাদ।
প্রশ্ন ৮: ‘ওরেস্টেস, পরশুরামের মাতৃহত্যা’ — কেন এই উল্লেখ?
উত্তর: ওরেস্টেস (গ্রিক পুরাণ) ও পরশুরাম (ভারতীয় পুরাণ) — দুজনেই মাতৃহত্যা করেছিলেন। কবি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে মাতৃত্ব সবসময় পূজিত হয়নি, মাতৃহত্যার ইতিহাসও আছে।
প্রশ্ন ৯: ‘জঠরে দেবকী তুমি পালনে যশোধা হতে হবে / গার্ডিয়ানশিপ তবু এই রাষ্ট্র তোমাকে দিল না’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: দেবকী ছিলেন কৃষ্ণের জন্মদাত্রী মা, যশোধা পালক মা। কবি বলছেন — মা উভয় ভূমিকাই পালন করতে বাধ্য, কিন্তু রাষ্ট্র তাকে কোনো অধিকার দেয় না।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর: কবিতাটি শেখায় — মাতৃত্বের পৌরাণিক আবরণ খসিয়ে বাস্তব মাকে দেখতে হবে। মাও একজন মানুষ, তারও ব্যথা আছে, হৃদরোগ আছে, ভালোবাসা আছে। সমাজ তাকে সব সহ্য করার বোঝা দেয়, কিন্তু কোনো অধিকার দেয় না। গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে লালন-পালন — সব করে, তবু সন্তান বড় হয়ে মাকে ভুলে যায়।
ট্যাগস: মা, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, মাতৃত্বের বাস্তবতা, নারীবাদী কবিতা, সমাজের দ্বিচারিতা
© Kobitarkhata.com – কবি: মল্লিকা সেনগুপ্ত | কবিতার প্রথম লাইন: “মা শুনলে ভেসে ওঠে সিঁদুরের টিপ লাল পেড়ে শাড়ি, কোলে দুধের সন্তান” | মাতৃত্বের বাস্তবতা ও পৌরাণিক আবরণের অসাধারণ কাব্যভাষা | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন






