চারটে কাপড়, তিনটে থালা।
সংসারও নয়। সরঞ্জাম।
দোষের মধ্যে পেটের জ্বালা।
রোজ জোটে না দুধের দাম।
রাস্তা তবু নোংরা করি
আগুন জ্বালে নাছোড় স্টোভ —
এ-যুদ্ধ তো বরাবরই
আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ।
তবুও থাকি, তবুও বাঁচি
ব্যর্থ হলেও, মনস্কাম।
সময় দিয়ে জীবন চাঁছি…
দু’এক ফোঁটা দুধের দাম।
শহর হবে ফুটফুটে খুব
ফরসা, নরম, পরিষ্কার।
আমরা যারা বড্ড বেকুব
হারালে পায় হদিশ কার…
ঠিকানা নেই আমার কোথাও,
কেউ জানে না আমার নাম।
সময় বলে, মাদুর গোটাও…
পথ কেড়ে নেয় দুধের দাম।
আমার মতো অসংখ্য মুখ
দুঃসময়ের আপনজন
গরিব মেঘে বৃষ্টি জমুক
ব্যথায় ভারী মায়ের স্তন…
ফুটপাথে মানচিত্র আঁকি
ভারত আমার মায়ের নাম।
এখন অনেক হিসেব বাকি…
কে মেটাবে দুধের দাম?
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। শ্রীজাতের কবিতা।
কবিতার কথা –
শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুধের দাম’ কবিতাটি প্রান্তিক ও গৃহহীন মানুষের বেঁচে থাকার নির্মম লড়াই, নগরায়নের নামে উচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি এক সুগভীর প্রতিবাদের দলিল। দৈনন্দিন জীবনের সরল ও সরাসরি ভাষার বুনোনে কবি এখানে ফুটপাথবাসী মানুষের দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং আত্মপরিচয়হীনতার এক বিষাদময় রূপ এঁকেছেন।
কবিতার শুরুতে এক চরম অভাবী সংসারের ছবি ভেসে ওঠে, যেখানে জীবনধারণের ন্যূনতম উপকরণ বলতে কেবল চারটি কাপড় ও তিনটি থালা। সংসার বলতে যা বোঝায় তা এখানে অনুপস্থিত, আছে কেবল বেঁচে থাকার কিছু সামান্য সরঞ্জাম। এদের একমাত্র অপরাধ বা “দোষ” হলো পেটের ক্ষুধা, যা মেটানোর সাধ্য তাদের নেই; এমনকি শিশুর জন্য দু-এক ফোটা দুধের দাম জোগাড় করাও প্রতিদিন সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই দারিদ্র্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কবি দেখান এক শাশ্বত সংঘাত—একদিকে দরিদ্র মানুষের পেটের ক্ষুধা, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন শহরের দোহাই দেওয়া শাসক ও বিত্তশালীদের ক্ষোভ।
কবিতাটিতে আধুনিক নগরজীবনের নির্মম রূপটি ফুটে উঠেছে খুব স্পষ্টভাবে। শহরকে সুন্দর, ফর্সা ও পরিষ্কার করার প্রশাসনিক উদ্যোগে ফুটপাথের অগণিত বেকুব ও পরিচয়হীন মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সময় বা রাষ্ট্র যখন তাদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় (“মাদুর গোটাও”), তখন তাদের বেঁচে থাকার সামান্য সম্বলটুকুও পথ কেড়ে নেয়। ঠিকানাহীন, নামহীন এই মানুষগুলো দুঃসময়ের আপনজন হয়ে ফুটপাথের মানচিত্র আঁকে। দেশের নাম ‘ভারত’ বা মাতৃভূমি হলেও, সেই দেশ নিজের নিঃস্ব সন্তানদের প্রতি কতটা উদাসীন, তা ‘ব্যথায় ভারী মায়ের স্তন’ এবং শিশুর ‘দুধের দাম’ না মেটাতে পারার করুণ আকুতির মাধ্যমে কবি স্পষ্ট করেছেন।
কবিতার শেষাংশে এসে এই আক্ষেপ এক বিরাট প্রশ্নের মুখে গিয়ে দাঁড়ায়। ফুটপাথে জন্ম নেওয়া, বড় হওয়া এবং নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়া এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার অধিকার এবং তাদের প্রাপ্য পাওনা বা হিসাব কে মেটাবে? ‘দুধের দাম’ কেবল দুধের মূল্য নয়, তা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতীক; যা বঞ্চনাকারী আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে এক চিরন্তন প্রশ্ন হিসেবে রয়ে যায়।
দুধের দাম – শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় | শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | দারিদ্র্য, সংগ্রাম, ফুটপাথ ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
দুধের দাম: শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দারিদ্র্য, ফুটপাথের মানচিত্র, ক্ষুধা ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের “দুধের দাম” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য, বেদনাবিধুর ও বাস্তববাদী সৃষ্টি। এটি দারিদ্র্য, সংগ্রাম, ফুটপাথের জীবন ও অস্তিত্বের এক অসাধারণ কাব্যচিত্র। “চারটে কাপড়, তিনটে থালা। / সংসারও নয়। সরঞ্জাম। / দোষের মধ্যে পেটের জ্বালা। / রোজ জোটে না দুধের দাম।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক দরিদ্র মানুষের জীবন — চারটে কাপড়, তিনটে থালা, যা সংসার নয়, শুধু সরঞ্জাম। পেটের জ্বালা দোষের মধ্যে পড়ে। রোজ দুধের দাম জোটে না। রাস্তা নোংরা করে, আগুন জ্বালে নাছোড় স্টোভ — এই যুদ্ধ বরাবরই ‘আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ’। তবু বাঁচে, ব্যর্থ হলেও। শহর ফুটফুটে হবে, ফরসা, নরম, পরিষ্কার — কিন্তু তাদের ঠিকানা নেই, কেউ জানে না তাদের নাম। ফুটপাথে মানচিত্র আঁকে — ভারত তার মায়ের নাম। কিন্তু হিসেব অনেক বাকি — কে মেটাবে দুধের দাম? শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সম্পাদক। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নগরজীবন, দারিদ্র্য, মধ্যবিত্তের সংকট ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্রায়ণের জন্য পরিচিত। ‘দুধের দাম’ তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যা দারিদ্র্য ও অস্তিত্বের গভীরে ডুব দেয়।
শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়: নগর, দারিদ্র্য ও বাস্তবতার কবি
শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সম্পাদক। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নগরজীবন, দারিদ্র্য, মধ্যবিত্তের সংকট ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্রায়ণের জন্য পরিচিত। ‘দুধের দাম’ তাঁর সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি ফুটপাথের মানুষের জীবন, ক্ষুধা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন তুলেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘দুধের দাম’ (২০১০), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (২০১৫) ইত্যাদি।
শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় প্রতীক
শিরোনাম ‘দুধের দাম’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘দুধ’ — পুষ্টি, শিশুর খাদ্য, জীবনের মৌলিক চাহিদা। ‘দাম’ — মূল্য, যা জোটে না। দারিদ্র্যের চরম প্রকাশ — দুধ কেনার টাকাও জোটে না।
কবিতার স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: সরঞ্জাম ও পেটের জ্বালা
“চারটে কাপড়, তিনটে থালা। / সংসারও নয়। সরঞ্জাম। / দোষের মধ্যে পেটের জ্বালা। / রোজ জোটে না দুধের দাম।” — প্রথম স্তবকে দারিদ্র্যের চিত্র। ‘চারটে কাপড়, তিনটে থালা’ — ন্যূনতম জিনিস। ‘সংসারও নয়, সরঞ্জাম’ — পরিবার বা সংসার নয়, কিছু জিনিসপত্র মাত্র। ‘দোষের মধ্যে পেটের জ্বালা’ — ক্ষুধাকে সমাজ দোষ হিসেবে দেখে। ‘রোজ জোটে না দুধের দাম’ — প্রতিদিনের সংগ্রাম।
দ্বিতীয় স্তবক: আগুন, যুদ্ধ ও ক্ষোভ
“রাস্তা তবু নোংরা করি / আগুন জ্বালে নাছোড় স্টোভ — / এ-যুদ্ধ তো বরাবরই / আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ।” — দ্বিতীয় স্তবকে সংগ্রামের চিত্র। ‘রাস্তা নোংরা করি’ — ফুটপাথের জীবন। ‘আগুন জ্বালে নাছোড় স্টোভ’ — রান্নার চেষ্টা। ‘আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ’ — ক্ষুধার সংগ্রাম আর সমাজের ক্ষোভের লড়াই।
তৃতীয় স্তবক: ব্যর্থতা ও জীবন চাঁছা
“তবুও থাকি, তবুও বাঁচি / ব্যর্থ হলেও, মনস্কাম। / সময় দিয়ে জীবন চাঁছি… / দু’এক ফোঁটা দুধের দাম।” — তৃতীয় স্তবকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ‘তবুও থাকি, তবুও বাঁচি’ — কোনোভাবে টিকে থাকি। ‘ব্যর্থ হলেও, মনস্কাম’ — স্বপ্ন ব্যর্থ হয়েও। ‘সময় দিয়ে জীবন চাঁছি’ — সময়কে কাজে লাগাই। ‘দু’এক ফোঁটা দুধের দাম’ — সামান্য কিছু জোগাড়।
চতুর্থ স্তবক: শহর ও বেকুবেরা
“শহর হবে ফুটফুটে খুব / ফরসা, নরম, পরিষ্কার। / আমরা যারা বড্ড বেকুব / হারালে পায় হদিশ কার…” — চতুর্থ স্তবকে শহর ও বেকুবদের বৈপরীত্য। ‘শহর ফুটফুটে হবে’ — শহর সুন্দর হবে। ‘আমরা যারা বড্ড বেকুব’ — আমরা নির্বোধ। ‘হারালে পায় হদিশ কার’ — হারিয়ে গেলে কে খুঁজবে?
পঞ্চম স্তবক: ঠিকানা ও নামহীনতা
“ঠিকানা নেই আমার কোথাও, / কেউ জানে না আমার নাম। / সময় বলে, মাদুর গোটাও… / পথ কেড়ে নেয় দুধের দাম।” — পঞ্চম স্তবকে পরিচয়হীনতা। ‘ঠিকানা নেই’ — নিবাসহীন। ‘কেউ জানে না নাম’ — অজ্ঞাত, অচেনা। ‘সময় বলে মাদুর গোটাও’ — সময় বলে যেতে, চলে যেতে। ‘পথ কেড়ে নেয় দুধের দাম’ — পথ (জীবন) দুধের দাম কেড়ে নেয়।
ষষ্ঠ স্তবক: অসংখ্য মুখ ও ব্যথায় ভারী স্তন
“আমার মতো অসংখ্য মুখ / দুঃসময়ের আপনজন / গরিব মেঘে বৃষ্টি জমুক / ব্যথায় ভারী মায়ের স্তন…” — ষষ্ঠ স্তবকে সাধারণ মানুষের কথা। ‘আমার মতো অসংখ্য মুখ’ — অনেক দরিদ্র মানুষ। ‘দুঃসময়ের আপনজন’ — দুঃখে এক। ‘গরিব মেঘে বৃষ্টি জমুক’ — দরিদ্রের জীবনে সুখ আসুক। ‘ব্যথায় ভারী মায়ের স্তন’ — মায়ের দুধ ব্যথায় ভারী — অর্থাৎ মায়ের কষ্ট।
সপ্তম স্তবক: ফুটপাথে মানচিত্র ও হিসেব বাকি
“ফুটপাথে মানচিত্র আঁকি / ভারত আমার মায়ের নাম। / এখন অনেক হিসেব বাকি… / কে মেটাবে দুধের দাম?” — সপ্তম স্তবক — শেষ স্তবক — পুরো কবিতার চূড়ান্ত প্রশ্ন। ‘ফুটপাথে মানচিত্র আঁকি’ — ফুটপাতে বসে স্বপ্ন দেখি। ‘ভারত আমার মায়ের নাম’ — দেশকে মা মনে করি। ‘এখন অনেক হিসেব বাকি’ — বাকি অনেক কাজ। ‘কে মেটাবে দুধের দাম?’ — চূড়ান্ত প্রশ্ন — কে এই দারিদ্র্যের অবসান ঘটাবে?
প্রতীক ও রূপকের গভীর পাঠ
‘কাপড়, থালা’ — জীবনযাপনের ন্যূনতম উপকরণ। ‘সংসার নয়, সরঞ্জাম’ — সম্পর্কহীন, আবেগহীন সংসার। ‘পেটের জ্বালা’ — ক্ষুধা। ‘দুধের দাম’ — মৌলিক চাহিদার মূল্য। ‘আগুন জ্বালে নাছোড় স্টোভ’ — রান্নার চেষ্টা, বেঁচে থাকার লড়াই। ‘আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ’ — দরিদ্রের ক্ষুধা ও সমাজের ক্ষোভের লড়াই। ‘সময় দিয়ে জীবন চাঁছি’ — সময়কে কাজে লাগিয়ে বাঁচি। ‘ফুটফুটে শহর’ — সমাজের উন্নতি, কিন্তু দরিদ্রদের জন্য নয়। ‘বড্ড বেকুব’ — দরিদ্ররা নির্বোধ নয়, বাস্তবতা তাদের বেকুব বানিয়েছে। ‘ঠিকানা নেই, নাম নেই’ — পরিচয়হীনতা। ‘মাদুর গোটাও’ — চলে যাওয়ার ডাক। ‘অসংখ্য মুখ’ — দরিদ্র জনতা। ‘গরিব মেঘে বৃষ্টি’ — দরিদ্রের জীবনে আশা। ‘মায়ের স্তন ব্যথায় ভারী’ — মায়ের কষ্ট, যন্ত্রণা। ‘ফুটপাথে মানচিত্র’ — স্বপ্নের দেশ। ‘ভারত আমার মায়ের নাম’ — মাতৃভূমি। ‘হিসেব বাকি’ — কাজ বাকি। ‘কে মেটাবে দুধের দাম?’ — চূড়ান্ত প্রশ্ন।
প্রশ্নোত্তর: গভীর পাঠের জন্য
প্রশ্ন ১: ‘দুধের দাম’ কবিতাটির লেখক কে?
উত্তর: এই কবিতাটির লেখক শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সম্পাদক।
প্রশ্ন ২: ‘চারটে কাপড়, তিনটে থালা’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: দারিদ্র্যের চরম চিত্র — খুব সামান্য জিনিসপত্র, যা সংসার নয়, শুধু সরঞ্জাম।
প্রশ্ন ৩: ‘রোজ জোটে না দুধের দাম’ — কেন?
উত্তর: দুধ মৌলিক চাহিদা, কিন্তু তার দাম জোগানোও কঠিন।
প্রশ্ন ৪: ‘আমার খিদে, তোমার ক্ষোভ’ — লাইনটির গভীরতা কী?
উত্তর: দরিদ্রের ক্ষুধা ও সমাজের ক্ষোভ — এই দুইয়ের লড়াই চলছে।
প্রশ্ন ৫: ‘ব্যর্থ হলেও, মনস্কাম’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: স্বপ্ন ব্যর্থ হলেও, ইচ্ছা থেকে যায়।
প্রশ্ন ৬: ‘ঠিকানা নেই আমার কোথাও, কেউ জানে না আমার নাম’ — কেন?
উত্তর: ফুটপাথের মানুষদের কোনো ঠিকানা নেই, সমাজ তাদের চেনে না।
প্রশ্ন ৭: ‘সময় বলে, মাদুর গোটাও’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সময় বলে — চলে যাও, আর থাকার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন ৮: ‘গরিব মেঘে বৃষ্টি জমুক, ব্যথায় ভারী মায়ের স্তন’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: দরিদ্রের জীবনে সুখ আসুক, কিন্তু মায়ের কষ্টও আছে।
প্রশ্ন ৯: ‘ফুটপাথে মানচিত্র আঁকি’ — কেন?
উত্তর: ফুটপাতে বসে তারা স্বপ্ন দেখে, দেশের মানচিত্র আঁকে — কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর: কবিতাটি শেখায় — দারিদ্র্য মানুষকে পরিচয়হীন করে, কিন্তু স্বপ্ন থেকে যায়। দুধের দাম জোগাতে না পারা, ফুটপাতে মানচিত্র আঁকা, নামহীন হওয়া — এই বাস্তবতা আজও বিদ্যমান। কে মেটাবে দুধের দাম — এই প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত।
ট্যাগস: দুধের দাম, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, দারিদ্র্য, ফুটপাথের জীবন, ক্ষুধা ও সংগ্রাম
© Kobitarkhata.com – কবি: শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় | কবিতার প্রথম লাইন: “চারটে কাপড়, তিনটে থালা। সংসারও নয়। সরঞ্জাম।” | দারিদ্র্য, সংগ্রাম, ফুটপাথ ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন