কবিতার খাতা
- 24 mins
এখন আমার ভীষণ খরা – শিমুল মুস্তাফা।
এখন আমার ভীষণ খরা
হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা
একটি তারাও যায়না ধরা
কেউ বলে না, কেউ টলে না
কেমন আছ? কোথায় আছ?
কোন পাতাতে ফুল গুঁজেছ
কেউ বলে না, কেউ বলে না।
কোন বারুদে অগ্নি বেশি,
কোন ফাগুনে ফুল
কোন কথাটা শুদ্ধ বেশি,
কোন কথাটা ভুল
কেউ বলে না, কেউ বলে না।
কোন পাখিটা দুঃখী ভীষণ,
কোন পাখিটা সুখী
কোন আঁখিটা সুখী ভীষণ,
কোন নদীটা দুঃখী
কেউ বলে না, কেউ বলে না।
বুকের কাছে আলতো
এসে লাজুক চোখে ভালোবেসে
একটি বারও কেউ বলে না
যেমন ছিলে তেমন থেকো
তেমন থেকো যেমন ছিলে
তোমার জীবন সুখের হবে
কেউ বলে না,
কেউ চলে না
কেউ বলে না।
এখন আমায় কেউ বলে না!
অষ্ট প্রহর কেমন থাক?
স্বপন মাঝে কোথায় থাক?
কোন তারাটা নিশিত রাতে
আমার জাগার সাক্ষী থাকে?
কেউ জানে না, কেউ জানে না।
কেউ জানে না,
কেউ বোঝে না
কেউ বোঝে না,
কেউ খোঁজে না
কোন পুকুরের পদ্ম গুলো
ভোর না হতে নিখোঁজ হতো
কোন বাগানের বোধ গুলো সব
সারা দুপুর রোদ পোহাত
একটি যুগল আসবে বলে
সারা দুপুর সন্ধ্যা হলো
কেউ এলো না,
কেউ এলো না
কেউ এলো না।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। শিমুল মুস্তাফা।
এখন আমার ভীষণ খরা – শিমুল মুস্তাফা | এখন আমার ভীষণ খরা কবিতা | শিমুল মুস্তাফার কবিতা | বাংলা কবিতা
এখন আমার ভীষণ খরা: শিমুল মুস্তাফার নিঃসঙ্গতা, খরা ও অপেক্ষার অসাধারণ কাব্যভাষা
শিমুল মুস্তাফার “এখন আমার ভীষণ খরা” কবিতাটি বাংলা কবিতার একটি অসাধারণ সৃষ্টি, যা নিঃসঙ্গতা, খরা, অপেক্ষা ও মানবিক সম্পর্কের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “এখন আমার ভীষণ খরা / হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা / একটি তারাও যায়না ধরা” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক বিষাদময় জগৎ, যেখানে কবির চারপাশে রয়েছে নীরবতা, উদাসীনতা, আর কারো সাড়া নেই। শিমুল মুস্তাফা আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তার কবিতায় প্রেম, নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “এখন আমার ভীষণ খরা” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
শিমুল মুস্তাফা: নিঃসঙ্গতার কবি
শিমুল মুস্তাফা আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তার কবিতায় প্রেম, নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নিঃসঙ্গতার গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “এখন আমার ভীষণ খরা” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা নিঃসঙ্গতা, খরা ও অপেক্ষার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে। শিমুল মুস্তাফার কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
এখন আমার ভীষণ খরা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“এখন আমার ভীষণ খরা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘খরা’ শব্দটি সাধারণত বৃষ্টির অভাবে মাটি শুকিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। কিন্তু এখানে কবি তার মানসিক অবস্থার জন্য ‘খরা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ তার ভেতরে ভালোবাসার বৃষ্টি নেই, সম্পর্কের সজীবতা নেই, সব কিছু শুকিয়ে যাচ্ছে। ‘এখন’ শব্দটি নির্দেশ করে যে এটি সাময়িক অবস্থা নয়, বর্তমানের একটি স্থায়ী অবস্থা। কবি বলছেন — এখন তার ভীষণ খরা, তার চারপাশে শুধু শূন্যতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এখন আমার ভীষণ খরা / হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা / একটি তারাও যায়না ধরা / কেউ বলে না, কেউ টলে না / কেমন আছ? কোথায় আছ? / কোন পাতাতে ফুল গুঁজেছ / কেউ বলে না, কেউ বলে না।” প্রথম স্তবকে কবি তার নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্বের কথা বলেছেন। তার হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা — অর্থাৎ তার কাছে অনেক কিছু আছে, অনেক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু একটি তারাও যায়না ধরা — কোনো কিছুই তিনি ধরে রাখতে পারেন না, সব ফসকে যায়। কেউ বলে না, কেউ টলে না — কেউ তার খোঁজ নেয় না, কেউ তার প্রতি আগ্রহ দেখায় না। তিনি প্রশ্ন করেন — কেমন আছ? কোথায় আছ? কোন পাতাতে ফুল গুঁজেছ? — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দেয় না। ‘কেউ বলে না’ শব্দবন্ধটি বারবার এসেছে, যা তার নিঃসঙ্গতার গভীরতা নির্দেশ করে।
হাতের মুঠোয় লক্ষ তারার তাৎপর্য
হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা — কবির কাছে অনেক কিছু আছে, অনেক সম্ভাবনা, অনেক স্বপ্ন। কিন্তু একটি তারাও যায়না ধরা — তিনি কিছুই ধরে রাখতে পারেন না। এটি একটি তীব্র হতাশার চিত্র। যা আছে, তা ধরে রাখতে পারেন না। যা চান, তা পান না।
কেউ বলে না-র পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য
প্রথম স্তবকে ‘কেউ বলে না’ তিনবার এসেছে। এই পুনরাবৃত্তি কবির নিঃসঙ্গতার গভীরতা নির্দেশ করে। তিনি বারবার বলছেন — কেউ বলে না, অর্থাৎ তার চারপাশে শুধু নীরবতা, কেউ তার সাথে কথা বলে না, কেউ তার খোঁজ নেয় না।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কোন বারুদে অগ্নি বেশি, / কোন ফাগুনে ফুল / কোন কথাটা শুদ্ধ বেশি, / কোন কথাটা ভুল / কেউ বলে না, কেউ বলে না।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলো করেছেন। কোন বারুদে অগ্নি বেশি — কোন জিনিসে শক্তি বেশি? কোন ফাগুনে ফুল — কোন সময়ে ফুল ফোটে? কোন কথাটা শুদ্ধ বেশি, কোন কথাটা ভুল — সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও কেউ দেয় না। ‘কেউ বলে না’ আবার এসেছে — দ্বিগুণ জোর দিয়ে।
বারুদ, অগ্নি, ফাগুন, ফুলের প্রতীকী তাৎপর্য
বারুদ ও অগ্নি — শক্তি, ধ্বংসের প্রতীক। ফাগুন ও ফুল — প্রেম, সৃষ্টির প্রতীক। এই বিপরীতগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব। কবি জানতে চান — কী সত্য, কী মিথ্যা, কী শুদ্ধ, কী অশুদ্ধ। কিন্তু কেউ উত্তর দেয় না।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কোন পাখিটা দুঃখী ভীষণ, / কোন পাখিটা সুখী / কোন আঁখিটা সুখী ভীষণ, / কোন নদীটা দুঃখী / কেউ বলে না, কেউ বলে না।” তৃতীয় স্তবকে কবি প্রকৃতির মধ্যে দুঃখ-সুখের সন্ধান করেছেন। কোন পাখিটা দুঃখী, কোন পাখিটা সুখী — পাখিদের মধ্যে দুঃখ-সুখের ভাগ। কোন আঁখিটা সুখী, কোন নদীটা দুঃখী — চোখ ও নদীর মধ্যে দুঃখ-সুখের ভাগ। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও কেউ দেয় না। ‘কেউ বলে না’ আবার এসেছে।
পাখি, আঁখি, নদীর প্রতীকী তাৎপর্য
পাখি আকাশের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক। আঁখি চোখের প্রতীক, অনুভূতির প্রতীক। নদী প্রবহমানতার প্রতীক, জীবনের প্রতীক। এই সবকিছুর মধ্যেই দুঃখ-সুখ আছে। কিন্তু কে জানে কোনটা দুঃখী, কোনটা সুখী? কেউ জানে না, কেউ বলে না।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“বুকের কাছে আলতো / এসে লাজুক চোখে ভালোবেসে / একটি বারও কেউ বলে না / যেমন ছিলে তেমন থেকো / তেমন থেকো যেমন ছিলে / তোমার জীবন সুখের হবে / কেউ বলে না, / কেউ চলে না / কেউ বলে না।” চতুর্থ স্তবকে কবি ভালোবাসার একটি আদর্শ চিত্র এঁকেছেন। কেউ যদি বুকের কাছে আলতো এসে, লাজুক চোখে ভালোবেসে বলত — যেমন ছিলে তেমন থেকো, তোমার জীবন সুখের হবে। কিন্তু একটি বারও কেউ তা বলে না। কেউ চলে না, কেউ বলে না।
‘যেমন ছিলে তেমন থেকো’ — এই পঙ্ক্তির তাৎপর্য
‘যেমন ছিলে তেমন থেকো’ — এটি একটি অসাধারণ ভালোবাসার বার্তা। কেউ যদি কবিকে বলে — তুমি যেমন ছিলে, তেমনই থেকো, তোমার জীবন সুখের হবে। অর্থাৎ কবিকে বদলাতে হবে না, তিনি যেমন আছেন, তেমনই ঠিক আছেন। কিন্তু একটি বারও কেউ তা বলে না।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এখন আমায় কেউ বলে না! / অষ্ট প্রহর কেমন থাক? / স্বপন মাঝে কোথায় থাক? / কোন তারাটা নিশিত রাতে / আমার জাগার সাক্ষী থাকে? / কেউ জানে না, কেউ জানে না।” পঞ্চম স্তবকে কবি আরও গভীর প্রশ্ন করেছেন। অষ্ট প্রহর কেমন থাক — ২৪ ঘণ্টা কীভাবে কাটান তিনি? স্বপন মাঝে কোথায় থাক — স্বপ্নের ভেতর কোথায় থাকেন তিনি? কোন তারাটা নিশিত রাতে তার জাগার সাক্ষী থাকে — রাতে জেগে থাকলে কোন তারা তাকে দেখে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ জানে না।
অষ্ট প্রহর ও স্বপনের তাৎপর্য
অষ্ট প্রহর — ২৪ ঘণ্টা, সারাদিন। স্বপন — স্বপ্ন। কবি জানতে চান — সারাদিন তিনি কীভাবে থাকেন, স্বপ্নের ভেতর কোথায় থাকেন। কিন্তু কেউ জানে না।
তারার সাক্ষী হওয়ার তাৎপর্য
রাতে তিনি জেগে থাকেন, কোন তারা তার সাক্ষী থাকে? তারা আকাশের প্রতীক, দূরের প্রতীক। তারা তাকে দেখে, কিন্তু তার কাছে আসে না। এটি এক গভীর নিঃসঙ্গতার চিত্র।
ষষ্ঠ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কেউ জানে না, / কেউ বোঝে না / কেউ বোঝে না, / কেউ খোঁজে না / কোন পুকুরের পদ্ম গুলো / ভোর না হতে নিখোঁজ হতো / কোন বাগানের বোধ গুলো সব / সারা দুপুর রোদ পোহাত / একটি যুগল আসবে বলে / সারা দুপুর সন্ধ্যা হলো / কেউ এলো না, / কেউ এলো না / কেউ এলো না।” ষষ্ঠ স্তবকে কবি অপেক্ষার চিত্র এঁকেছেন। কেউ জানে না, কেউ বোঝে না, কেউ খোঁজে না। তিনি প্রকৃতির ছবি এঁকেছেন — পুকুরের পদ্ম ভোর না হতে নিখোঁজ হতো, বাগানের বোধগুলো সারা দুপুর রোদ পোহাত। একটি যুগল আসবে বলে সারা দুপুর সন্ধ্যা হলো। কিন্তু কেউ এলো না, কেউ এলো না, কেউ এলো না।
পদ্ম ও বোধের প্রতীকী তাৎপর্য
পদ্ম পুকুরে ফোটে, সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু ভোর না হতে নিখোঁজ হতো — অর্থাৎ তারা টিকতে পারে না, দ্রুত হারিয়ে যায়। বোধ — সম্ভবত বোধি বৃক্ষ? নাকি বোধি মানে জ্ঞান? সারা দুপুর রোদ পোহাত — তারা রোদ পোহাত, অপেক্ষা করত।
‘একটি যুগল আসবে বলে’ — অপেক্ষার তাৎপর্য
একটি যুগল আসবে বলে সারা দুপুর সন্ধ্যা হলো। তিনি অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু কেউ এলো না। ‘কেউ এলো না’ তিনবার এসেছে — এটি তার হতাশা ও নিঃসঙ্গতার চূড়ান্ত প্রকাশ।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“এখন আমার ভীষণ খরা” কবিতাটি নিঃসঙ্গতা, খরা ও অপেক্ষার এক অসাধারণ চিত্র। কবির চারপাশে শুধু নীরবতা, উদাসীনতা। তার হাতে লক্ষ তারা, কিন্তু একটি তারা ধরা যায় না। তিনি প্রশ্ন করেন — কেমন আছ? কোথায় আছ? — কেউ উত্তর দেয় না। তিনি জানতে চান — কোন পাখি দুঃখী, কোন নদী দুখী — কেউ জানে না। তিনি চান কেউ এসে বলুক — যেমন ছিলে তেমন থেকো — কেউ বলে না। তিনি অপেক্ষা করেন একটি যুগল আসবে বলে — কেউ আসে না। ‘কেউ বলে না’, ‘কেউ জানে না’, ‘কেউ এলো না’ — এই শব্দবন্ধগুলোর পুনরাবৃত্তি কবির নিঃসঙ্গতার গভীরতা নির্দেশ করে। এটি আধুনিক মানুষের একাকীত্বের এক মর্মস্পর্শী চিত্র।
এখন আমার ভীষণ খরা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: এখন আমার ভীষণ খরা কবিতার লেখক কে?
এখন আমার ভীষণ খরা কবিতার লেখক শিমুল মুস্তাফা। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তার কবিতায় প্রেম, নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “এখন আমার ভীষণ খরা” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা নিঃসঙ্গতা, খরা ও অপেক্ষার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে।
প্রশ্ন ২: এখন আমার ভীষণ খরা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
এখন আমার ভীষণ খরা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো নিঃসঙ্গতা, খরা ও অপেক্ষার বেদনা। কবির চারপাশে শুধু নীরবতা, উদাসীনতা। তার হাতে লক্ষ তারা, কিন্তু একটি তারা ধরা যায় না। তিনি প্রশ্ন করেন, কিন্তু কেউ উত্তর দেয় না। তিনি অপেক্ষা করেন একটি যুগল আসবে বলে, কিন্তু কেউ আসে না। ‘কেউ বলে না’, ‘কেউ জানে না’, ‘কেউ এলো না’ — এই শব্দবন্ধগুলোর পুনরাবৃত্তি কবির নিঃসঙ্গতার গভীরতা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৩: ‘হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা / একটি তারাও যায়না ধরা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘হাতের মুঠোয় লক্ষ তারা / একটি তারাও যায়না ধরা’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তার হতাশার কথা বলেছেন। তার কাছে অনেক কিছু আছে, অনেক সম্ভাবনা, অনেক স্বপ্ন। কিন্তু তিনি কিছুই ধরে রাখতে পারেন না। যা আছে, তা ফসকে যায়। যা চান, তা পান না। এটি একটি তীব্র হতাশার চিত্র।
প্রশ্ন ৪: ‘যেমন ছিলে তেমন থেকো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘যেমন ছিলে তেমন থেকো’ — এটি একটি অসাধারণ ভালোবাসার বার্তা। কেউ যদি কবিকে বলে — তুমি যেমন ছিলে, তেমনই থেকো, তোমার জীবন সুখের হবে। অর্থাৎ কবিকে বদলাতে হবে না, তিনি যেমন আছেন, তেমনই ঠিক আছেন। কিন্তু একটি বারও কেউ তা বলে না। এটি কবির আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব।
প্রশ্ন ৫: ‘কোন তারাটা নিশিত রাতে / আমার জাগার সাক্ষী থাকে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কোন তারাটা নিশিত রাতে / আমার জাগার সাক্ষী থাকে?’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তার নিঃসঙ্গ রাতের কথা বলেছেন। রাতে তিনি জেগে থাকেন, কিন্তু কে জানে? কোন তারা তার সাক্ষী থাকে? তারা আকাশের প্রতীক, দূরের প্রতীক। তারা তাকে দেখে, কিন্তু তার কাছে আসে না। এটি এক গভীর নিঃসঙ্গতার চিত্র।
প্রশ্ন ৬: ‘কেউ এলো না’ — তিনবার বলার তাৎপর্য কী?
‘কেউ এলো না’ তিনবার বলা হয়েছে — এটি কবির হতাশা ও নিঃসঙ্গতার চূড়ান্ত প্রকাশ। তিনি অপেক্ষা করেছেন একটি যুগল আসবে বলে, সারা দুপুর সন্ধ্যা হয়েছে, কিন্তু কেউ এলো না। এই পুনরাবৃত্তি তার একাকীত্বের গভীরতা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৭: শিমুল মুস্তাফা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
শিমুল মুস্তাফা আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তার কবিতায় প্রেম, নিঃসঙ্গতা, প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নিঃসঙ্গতার গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “এখন আমার ভীষণ খরা” তার একটি বহুপঠিত কবিতা।
ট্যাগস: এখন আমার ভীষণ খরা, শিমুল মুস্তাফা, শিমুল মুস্তাফার কবিতা, এখন আমার ভীষণ খরা কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, নিঃসঙ্গতার কবিতা, খরার কবিতা, অপেক্ষার কবিতা





