কবিতার খাতা
- 36 mins
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন – সুবোধ সরকার।
আমার বাবা কফিন বানাতেন
আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন
আমিও কফিন বানাই।
মানুষের অন্তিম শয্যার
আমি সাক্ষী।
আমার কোন নাম নেই আমার কোন পদবী নেই
আমার কোন গোত্র নেই আমার কোন জেলা পরগণা নেই।
আমি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলাম।
পারিনি।
মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী।
আমি শুধু কফিন নির্মাতা নই।
যাদের কেউ নেই তাদের কফিন
বহন করে নিয়ে যাই দূর বহূদূর।
যেখানে সূর্য ওঠে তার নীচে
যেখানে সূর্যাস্ত হয়,তার নীচে।
কফিন নিয়ে যেতে যেতে কথা বলি
তার সঙ্গে যে শুয়ে আছে কফিনের আশ্চর্য ভেতরে।
এত বছর কফিন নিয়ে যেতে যেতে
আমার কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে।
কিন্তু আজ একটা কথা বলি আপনাদের:
কফিনের অনেক রকম সাইজ।
ছোট্ট ছোট্ট কফিন গুলো সবচেয়ে ভারী হয়।
ওগো মানুষ ,আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন
আর বহন করিও না।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুবোধ সরকার।
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন – সুবোধ সরকার | ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতা সুবোধ সরকার | সুবোধ সরকারের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন: সুবোধ সরকারের যুদ্ধ, শিশুমৃত্যু ও মানবতার গভীর ক্রন্দনের অসাধারণ কাব্যভাষা
সুবোধ সরকারের “ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন” একটি অনন্য সৃষ্টি, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, শিশুদের নিষ্পাপ মৃত্যু ও মানবতার গভীর এক ক্রন্দনের অসাধারণ কাব্যিক অন্বেষণ। “আমার বাবা কফিন বানাতেন / আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন / আমিও কফিন বানাই। / মানুষের অন্তিম শয্যার / আমি সাক্ষী।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর চেতনা — কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরা, মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী, আর যুদ্ধের নৃশংসতায় সবচেয়ে ভারী হয়ে ওঠে ছোট ছোট কফিনগুলো। সুবোধ সরকার (জন্ম: ২৮ অক্টোবর ১৯৫৮) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক [citation:1][citation:5]। তিনি কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ভাষানগর পত্রিকার সম্পাদক [citation:1][citation:5]। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একা নরকগামী’ (১৯৮৮), ‘জেরুজালেম থেকে মেদিনীপুর’ (২০০১), ‘মণিপুরের মা’ (২০০৫), ‘দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে’ প্রভৃতি [citation:3][citation:5]। তিনি ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার এবং ২০১৩ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন [citation:3][citation:9]। ‘ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন’ তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা যুদ্ধের নৃশংসতায় নিহত শিশুদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা [citation:8]।
সুবোধ সরকার: মানবতার কবি
সুবোধ সরকার ১৯৫৮ সালের ২৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন [citation:1][citation:5]। তাঁর বাবা সত্যেন্দ্রনাথ সরকার এবং মা রেখা সরকার। তিনি যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখন তাঁর বাবার মৃত্যু হয় [citation:3]। তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন [citation:3]।
তিনি কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত [citation:1][citation:5]। এছাড়াও তিনি ভাষানগর পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে [citation:1][citation:5]। তাঁর কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া, কানাডা, চেক রিপাবলিক, গ্রিস, তাইওয়ান [citation:3]। ফুলব্রাইট ফেলোশিপ পেয়ে আমেরিকার আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন [citation:3]।
সমালোচকরা বলেন তাঁর কবিতায় আছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মানবিকতা, যা কখনো শ্লেষাত্মক, কখনো সরাসরি ও সংবেদনশীল [citation:1][citation:7]। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঋক্ষ মেষ কথা’ (১৯৮৩), ‘চন্দ্রদোষ ওষুধে সারে না’ (১৯৯১), ‘একা নরকগামী’ (১৯৮৮), ‘জেরুজালেম থেকে মেদিনীপুর’ (২০০১), ‘মণিপুরের মা’ (২০০৫), ‘তিন মিনিট বাইশ সেকেন্ডে বিপ্লব আসে না’ (২০১৭) প্রভৃতি [citation:3][citation:5]। ‘দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে’ বইয়ের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (২০১৩) [citation:3][citation:9]। এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার (২০০০), সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় কবিতা পুরস্কার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভূষণ পুরস্কার লাভ করেন [citation:1][citation:3]।
তাঁর স্ত্রী কবি মল্লিকা সেনগুপ্ত (প্রয়াতা) একজন বিশিষ্ট কবি ছিলেন [citation:1][citation:5]। তাঁদের পুত্র রোরোকে নিয়ে তাঁরা টালিগঞ্জ সিরিটি শ্মশানের কাছে বসবাস করতেন [citation:5]।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও শিশু মৃত্যুর প্রেক্ষাপট
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে [citation:8]। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহে অন্তত ৩৭ ইউক্রেনীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫০ জন। অন্তত ১০ লাখ ইউক্রেনীয় শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে [citation:8]। মারিউপোল শহরের একটি শিশু হাসপাতালে হামলা চালানো হয়, যাকে ‘ভয়ংকর’ বলে উল্লেখ করেছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল [citation:8]। এই ভয়াবহ প্রেক্ষাপটেই সুবোধ সরকার তাঁর বিখ্যাত কবিতা “ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন” রচনা করেন।
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘ইউক্রেন’ একটি দেশের নাম, ‘মৃত শিশু’ যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম শিকার, আর ‘কফিন’ মৃত্যুর চিহ্নবাহক। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত শিশুদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা, তাদের কফিনের বেদনার গল্প।
প্রথম স্তবকের বিশ্লেষণ: কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরা
“আমার বাবা কফিন বানাতেন / আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন / আমিও কফিন বানাই। / মানুষের অন্তিম শয্যার / আমি সাক্ষী।” প্রথম স্তবকে কবি কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরা ও তাঁর সাক্ষী হওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমার বাবা কফিন বানাতেন, আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন, আমিও কফিন বানাই। মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী ।
‘আমার বাবা কফিন বানাতেন / আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন / আমিও কফিন বানাই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কফিন নির্মাণের এই বংশপরম্পরা দেখায় যে কবির পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। তারা মানুষের শেষ যাত্রার সাথী। এই পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কবি মৃত্যুর চিরন্তনতা ও অনিবার্যতাকে তুলে ধরেছেন।
‘মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কফিন নির্মাতা হিসেবে তিনি মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী। তিনি দেখেছেন কত মানুষ মারা গেছে, কত কফিন বানিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মৃত্যু সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ: পরিচয়হীনতা ও স্বপ্নভঙ্গ
“আমার কোন নাম নেই আমার কোন পদবী নেই / আমার কোন গোত্র নেই আমার কোন জেলা পরগণা নেই। / আমি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলাম। / পারিনি। / মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি পরিচয়হীনতা ও স্বপ্নভঙ্গের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমার কোনো নাম নেই, কোনো পদবী নেই, কোনো গোত্র নেই, কোনো জেলা-পরগণা নেই। আমি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলাম। পারিনি। মানুষের অন্তিম শয্যার আমি সাক্ষী ।
‘আমার কোন নাম নেই আমার কোন পদবী নেই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কফিন নির্মাতার কোনো পরিচয় নেই সমাজে। তিনি নগণ্য, অখ্যাত, উপেক্ষিত। তাঁর কোনো সামাজিক মর্যাদা নেই।
‘আমি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলাম। / পারিনি।’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বেহালা বাদক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তিনি সুরের জগতে নিজেকে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে কফিন নির্মাণের পথে নিয়ে এসেছে। এই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা কবিতার গভীরে লুকিয়ে আছে।
তৃতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ: দূর বহুদূর যাত্রা
“আমি শুধু কফিন নির্মাতা নই। / যাদের কেউ নেই তাদের কফিন / বহন করে নিয়ে যাই দূর বহূদূর। / যেখানে সূর্য ওঠে তার নীচে / যেখানে সূর্যাস্ত হয়,তার নীচে।” তৃতীয় স্তবকে কবি কফিন বহনের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমি শুধু কফিন নির্মাতা নই। যাদের কেউ নেই, তাদের কফিন বহন করে নিয়ে যাই দূর বহুদূর। যেখানে সূর্য ওঠে তার নীচে, যেখানে সূর্যাস্ত হয় তার নীচে ।
‘যাদের কেউ নেই তাদের কফিন / বহন করে নিয়ে যাই দূর বহূদূর’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
একাকী মৃত, যাদের পরিবার-পরিজন নেই, তাদের শেষকৃত্যের দায়িত্বও কেউ নেয় না। এই কফিন নির্মাতাই তাদের কফিন বহন করে নিয়ে যান দূর বহুদূর — শেষকৃত্যের স্থানে।
‘যেখানে সূর্য ওঠে তার নীচে / যেখানে সূর্যাস্ত হয়,তার নীচে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান — পূর্ব থেকে পশ্চিম, সমগ্র পৃথিবী জুড়ে তিনি ছড়িয়ে আছেন। তিনি শুধু একটি স্থানে সীমাবদ্ধ নন, তিনি সর্বত্র মৃতের সেবায় নিয়োজিত।
চতুর্থ স্তবকের বিশ্লেষণ: মৃতের সাথে কথা
“কফিন নিয়ে যেতে যেতে কথা বলি / তার সঙ্গে যে শুয়ে আছে কফিনের আশ্চর্য ভেতরে। / এত বছর কফিন নিয়ে যেতে যেতে / আমার কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে। / কিন্তু আজ একটা কথা বলি আপনাদের: / কফিনের অনেক রকম সাইজ। / ছোট্ট ছোট্ট কফিন গুলো সবচেয়ে ভারী হয়।” চতুর্থ স্তবকে কবি মৃতের সাথে কথা বলার ও ছোট কফিনের ভারীতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — কফিন নিয়ে যেতে যেতে কথা বলি তার সঙ্গে, যে শুয়ে আছে কফিনের আশ্চর্য ভেতরে। এত বছর কফিন নিয়ে যেতে যেতে আমার কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আজ একটা কথা বলি আপনাদের: কফিনের অনেক রকম সাইজ। ছোট্ট ছোট্ট কফিনগুলো সবচেয়ে ভারী হয় ।
‘কফিন নিয়ে যেতে যেতে কথা বলি / তার সঙ্গে যে শুয়ে আছে কফিনের আশ্চর্য ভেতরে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কফিন নির্মাতা শুধু কফিন বানান না, তিনি মৃতের সাথেও কথা বলেন। এই কথা বলা তাঁর একাকী কাজের সঙ্গী, হয়তো মৃতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা। ‘আশ্চর্য ভেতরে’ — মৃত্যুর রহস্য, যা আমরা কেউ জানি না।
‘এত বছর কফিন নিয়ে যেতে যেতে / আমার কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বহু বছরের অভিজ্ঞতা, বহু মৃতের কফিন বহন করতে করতে তাঁর কাঁধ শক্ত হয়েছে। এটি শুধু শারীরিক শক্ত নয়, মানসিক শক্তও বটে — মৃত্যু দেখতে দেখতে তিনি কঠিন হয়ে গেছেন।
‘কফিনের অনেক রকম সাইজ। / ছোট্ট ছোট্ট কফিন গুলো সবচেয়ে ভারী হয়’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী লাইন। ছোট কফিন মানে শিশুর কফিন। শিশুর মৃত্যু সবচেয়ে বেদনার, সবচেয়ে কষ্টের। এই কফিনগুলো আকারে ছোট হলেও ওজনে সবচেয়ে ভারী — কারণ এতে লাশের চেয়ে বেশি ভার বহন করে সমাজের বিবেক, মানবতার ব্যর্থতা। ইউক্রেনের যুদ্ধে নিহত শিশুদের ছোট ছোট কফিনগুলোই সবচেয়ে ভারী [citation:8]।
পঞ্চম স্তবকের বিশ্লেষণ: শেষ আবেদন
“ওগো মানুষ ,আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন / আর বহন করিও না।” পঞ্চম স্তবকে কবি শেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন — ওগো মানুষ, আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন আর বহন করিও না ।
‘ওগো মানুষ ,আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন / আর বহন করিও না’ — শেষ আবেদনের তাৎপর্য
এটি কবিতার চূড়ান্ত আবেদন। কফিন নির্মাতা, যিনি সারা জীবন কফিন বানিয়েছেন ও বহন করেছেন, তিনি এখন মানবতার কাছে আবেদন জানাচ্ছেন — আর ছোট ছোট কফিন বানাতে দিও না, বহন করতে দিও না। অর্থাৎ আর শিশুদের যুদ্ধে মরতে দিও না। এই আবেদন যুদ্ধবাজদের প্রতি, সমাজের প্রতি, মানবতার প্রতি।
কবিতার গঠনশৈলী ও শিল্পরূপ
কবিতাটি পাঁচটি স্তবকে বিভক্ত। প্রথম স্তবকে কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরা, দ্বিতীয় স্তবকে তাঁর পরিচয়হীনতা ও স্বপ্নভঙ্গ, তৃতীয় স্তবকে কফিন বহনের কথা, চতুর্থ স্তবকে ছোট কফিনের ভারীতার আবিষ্কার, পঞ্চম স্তবকে শেষ আবেদন — এই ক্রমিক কাঠামো কবিতাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আখ্যানের রূপ দিয়েছে। শেষের দুই লাইন কবিতাটিকে এক চূড়ান্ত উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শব্দচয়ন ও শৈলীগত বিশেষত্ব
সুবোধ সরকারের ভাষা সহজ, সাবলীল কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। সমালোচকরা বলেন তাঁর কবিতায় আছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মানবিকতা, যা কখনো শ্লেষাত্মক, কখনো সরাসরি ও সংবেদনশীল [citation:1][citation:7]। এখানে তিনি ব্যবহার করেছেন — ‘কফিন’, ‘বংশপরম্পরা’, ‘অন্তিম শয্যা’, ‘সাক্ষী’, ‘নাম’, ‘পদবী’, ‘গোত্র’, ‘জেলা পরগণা’, ‘বেহালা বাদক’, ‘স্বপ্নভঙ্গ’, ‘দূর বহূদূর’, ‘সূর্যোদয়’, ‘সূর্যাস্ত’, ‘কাঁধ শক্ত’, ‘সাইজ’, ‘ছোট্ট ছোট্ট কফিন’, ‘ভারী’, ‘ওগো মানুষ’, ‘বহন করিও না’।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন” কবিতাটি সুবোধ সরকারের এক অসাধারণ সৃষ্টি। কবি প্রথমে কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরার কথা বলেছেন — তিন পুরুষ ধরে তাঁরা কফিন বানাচ্ছেন, মানুষের অন্তিম শয্যার সাক্ষী। তারপর তিনি তাঁর পরিচয়হীনতা ও স্বপ্নভঙ্গের কথা বলেছেন — তাঁর কোনো নাম নেই, পদবী নেই, তিনি বেহালা বাদক হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। তিনি শুধু কফিন নির্মাতা নন, তিনি কফিন বহনও করেন — যাদের কেউ নেই, তাদের কফিন নিয়ে যান দূর বহুদূর, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের নীচে। কফিন নিয়ে যেতে যেতে তিনি মৃতের সাথে কথা বলেন। এত বছর কফিন বহনে তাঁর কাঁধ শক্ত হয়েছে। কিন্তু তিনি একটি সত্য আবিষ্কার করেছেন — কফিনের অনেক সাইজ, আর ছোট্ট ছোট্ট কফিনগুলো সবচেয়ে ভারী হয়। শেষে তিনি মানবতার কাছে আবেদন জানান — ওগো মানুষ, আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন আর বহন করিও না।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি শিশুদের মৃত্যু। ইউক্রেনের যুদ্ধে হাজার হাজার শিশু মারা গেছে [citation:8]। তাদের ছোট ছোট কফিনগুলো সবচেয়ে ভারী — কারণ এতে লাশের চেয়ে বেশি ভার বহন করে সমাজের বিবেক, মানবতার ব্যর্থতা। কবির শেষ আবেদন — আর নয় শিশুর মৃত্যু, আর নয় যুদ্ধ।
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীক ও চিহ্নের গভীর বিশ্লেষণ
কফিনের প্রতীকী তাৎপর্য
কফিন এখানে মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু এটি শুধু মৃত্যু নয়, এটি মানুষের শেষ যাত্রার বাহন। কফিন নির্মাতা সেই বাহনের স্রষ্টা — তিনি মৃত্যুর সেবক।
বংশপরম্পরার প্রতীকী তাৎপর্য
তিন পুরুষ ধরে কফিন নির্মাণ — এটি মৃত্যুর চিরন্তনতা ও অনিবার্যতার প্রতীক। যুগ যুগ ধরে মানুষ মরছে, যুগ যুগ ধরে কফিন বানানো হচ্ছে।
নাম-পদবীহীনতার প্রতীকী তাৎপর্য
কফিন নির্মাতার কোনো নাম-পদবী নেই — তিনি সমাজের উপেক্ষিত শ্রমিকের প্রতীক। যারা মৃতের সেবা করে, তাদের কেউ চেনে না, কেউ মনে রাখে না।
বেহালা বাদক হওয়ার স্বপ্নের প্রতীকী তাৎপর্য
বেহালা বাদক হওয়ার স্বপ্ন — সৃষ্টিশীল জীবনের, সুরের জগতের প্রতীক। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে মৃত্যুর জগতে নিয়ে এসেছে। স্বপ্নভঙ্গের এই বেদনা কবিতার গভীরে লুকিয়ে আছে।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রতীকী তাৎপর্য
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত — সমগ্র পৃথিবী, পূর্ব থেকে পশ্চিম। কবি সর্বত্র ছড়িয়ে আছেন, সর্বত্র মৃতের সেবায় নিয়োজিত।
মৃতের সাথে কথার প্রতীকী তাৎপর্য
কফিন নিয়ে যেতে যেতে মৃতের সাথে কথা বলা — একাকী কাজের সঙ্গী, মৃতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা, মৃত্যুর রহস্যের সাথে আলাপ।
শক্ত কাঁধের প্রতীকী তাৎপর্য
বহু বছরের অভিজ্ঞতায় কাঁধ শক্ত হয়েছে — এটি শুধু শারীরিক শক্ত নয়, মানসিক শক্তও বটে। মৃত্যু দেখতে দেখতে তিনি কঠিন হয়ে গেছেন।
ছোট ছোট কফিনের প্রতীকী তাৎপর্য
ছোট কফিন — শিশুর কফিন। এগুলি আকারে ছোট কিন্তু ওজনে সবচেয়ে ভারী। কেন? কারণ এতে লাশের চেয়ে বেশি ভার বহন করে সমাজের বিবেক, মানবতার ব্যর্থতা, যুদ্ধের নৃশংসতা। ইউক্রেনের যুদ্ধে নিহত শিশুদের ছোট ছোট কফিনগুলোই সবচেয়ে ভারী [citation:8]।
শেষ আবেদনের প্রতীকী তাৎপর্য
‘আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন আর বহন করিও না’ — এটি মানবতার কাছে কবির শেষ আবেদন। এই আবেদন যুদ্ধবাজদের প্রতি, সমাজের প্রতি, মানবতার প্রতি। আর নয় শিশুর মৃত্যু, আর নয় যুদ্ধ।
সুবোধ সরকারের কবিতায় মানবিকতা ও প্রতিবাদ
সুবোধ সরকারের কবিতায় মানবিকতা ও প্রতিবাদ বারবার ফুটে উঠেছে। ‘মণিপুরের মা’ কবিতায় তিনি মণিপুরের মায়েদের লড়াইয়ের কথা বলেছেন — “মায়েরা কতটা লড়াই করেছিলেন বিচার চেয়ে? বিচার পেয়েছিলেন?” [citation:9]। ‘শাড়ি’ কবিতায় তিনি এক নগ্ন বিধবার কথা বলেছেন — “একটি সদ্য নগ্ন বিধবা মেয়ে দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে; ‘বাঁচাও’ / পেছনে তিনজন, সে কী উল্লাস, নির্বাক পাড়ার লোকেরা” [citation:7]।
‘ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন’ কবিতায় সেই মানবিকতা ও প্রতিবাদ আরও গভীর হয়েছে। তিনি যুদ্ধের নৃশংসতায় নিহত শিশুদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ছোট ছোট কফিনের বেদনার কথা বলেছেন। তাঁর শেষ আবেদন — “ওগো মানুষ, আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন আর বহন করিও না” — মানবতার প্রতি এক চূড়ান্ত আহ্বান।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যক্রমে এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। এটি শিক্ষার্থীদের সুবোধ সরকারের কবিতার বিশেষত্ব, যুদ্ধের ভয়াবহতা, শিশুমৃত্যুর বেদনা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে।
সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা
আজকের পৃথিবীতে এই কবিতাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইউক্রেন যুদ্ধে এখনও শিশু মারা যাচ্ছে [citation:8]। গাজায়, মিয়ানমারে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শিশুরা যুদ্ধের শিকার হচ্ছে। তাদের ছোট ছোট কফিনগুলো আজও সবচেয়ে ভারী। সুবোধ সরকারের এই কবিতা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় — ওগো মানুষ, ছোট ছোট কফিন আর বহন করিও না।
সম্পর্কিত কবিতা ও সাহিত্যকর্ম
সুবোধ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কবিতার মধ্যে রয়েছে ‘মণিপুরের মা’, ‘শাড়ি’, ‘জেরুজালেম থেকে মেদিনীপুর’, ‘একা নরকগামী’, ‘রাজনীতি করবেন না’, ‘ভালো জায়গাটা কোথায়’, ‘কাল্লু’ প্রভৃতি [citation:1][citation:5]।
একই বিষয়ে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে নাজিম হিকমতের ‘I come and stand at every door’, যেখানে একটি সাত বছরের মৃত শিশু যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে [citation:6]। হিকমতের কবিতায় সেই শিশু বলে — “I’m only seven although I died / In Hiroshima long ago / I’m seven now as I was then / When children die they do not grow” [citation:6]। সুবোধ সরকারের কবিতাও সেই একই সুরে ধ্বনিত — ছোট ছোট কফিন সবচেয়ে ভারী।
ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতাটির লেখক কে?
এই কবিতাটির লেখক সুবোধ সরকার। তিনি ১৯৫৮ সালের ২৮ অক্টোবর নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, অধ্যাপক ও সম্পাদক [citation:1][citation:5]।
প্রশ্ন ২: ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু কী?
এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো যুদ্ধের ভয়াবহতায় নিহত শিশুদের বেদনা ও মানবতার প্রতি আবেদন। কবি এক কফিন নির্মাতার বংশপরম্পরা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখিয়েছেন — ছোট ছোট কফিনগুলো সবচেয়ে ভারী হয়। শেষে তিনি মানবতার কাছে আবেদন জানান — আর ছোট ছোট কফিন বহন করতে দিও না [citation:8]।
প্রশ্ন ৩: ‘ছোট্ট ছোট্ট কফিন গুলো সবচেয়ে ভারী হয়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী লাইন। ছোট কফিন মানে শিশুর কফিন। শিশুর মৃত্যু সবচেয়ে বেদনার, সবচেয়ে কষ্টের। এই কফিনগুলো আকারে ছোট হলেও ওজনে সবচেয়ে ভারী — কারণ এতে লাশের চেয়ে বেশি ভার বহন করে সমাজের বিবেক, মানবতার ব্যর্থতা [citation:8]।
প্রশ্ন ৪: ‘ওগো মানুষ ,আমাকে দিয়ে ছোট ছোট কফিন / আর বহন করিও না’ — শেষ আবেদনের তাৎপর্য কী?
এটি কবিতার চূড়ান্ত আবেদন। কফিন নির্মাতা, যিনি সারা জীবন কফিন বানিয়েছেন ও বহন করেছেন, তিনি এখন মানবতার কাছে আবেদন জানাচ্ছেন — আর ছোট ছোট কফিন বানাতে দিও না, বহন করতে দিও না। অর্থাৎ আর শিশুদের যুদ্ধে মরতে দিও না [citation:8]।
প্রশ্ন ৫: সুবোধ সরকারের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম বলুন।
সুবোধ সরকারের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঋক্ষ মেষ কথা’ (১৯৮৩), ‘চন্দ্রদোষ ওষুধে সারে না’ (১৯৯১), ‘একা নরকগামী’ (১৯৮৮), ‘জেরুজালেম থেকে মেদিনীপুর’ (২০০১), ‘মণিপুরের মা’ (২০০৫), ‘তিন মিনিট বাইশ সেকেন্ডে বিপ্লব আসে না’ (২০১৭) প্রভৃতি [citation:3][citation:5]।
প্রশ্ন ৬: সুবোধ সরকার কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?
সুবোধ সরকার ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার, ২০১৩ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (‘দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে’ বইয়ের জন্য), সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় কবিতা পুরস্কার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভূষণ পুরস্কার লাভ করেন [citation:1][citation:3]।
প্রশ্ন ৭: ইউক্রেন যুদ্ধে কত শিশু মারা গেছে?
২০২২ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছিল, দুই সপ্তাহে অন্তত ৩৭ ইউক্রেনীয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫০ জন। অন্তত ১০ লাখ ইউক্রেনীয় শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে [citation:8]।
প্রশ্ন ৮: নাজিম হিকমতের কোন কবিতার সাথে সুবোধ সরকারের এই কবিতার মিল আছে?
নাজিম হিকমতের ‘I come and stand at every door’ কবিতায় একটি সাত বছরের মৃত শিশু যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে। সেই শিশু বলে — “I’m only seven although I died / In Hiroshima long ago / I’m seven now as I was then / When children die they do not grow” [citation:6]। সুবোধ সরকারের কবিতাও সেই একই সুরে ধ্বনিত — ছোট ছোট কফিন সবচেয়ে ভারী।
প্রশ্ন ৯: সুবোধ সরকার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
সুবোধ সরকার (জন্ম: ১৯৫৮) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, অধ্যাপক ও সম্পাদক [citation:1][citation:5]। তিনি কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং ভাষানগর পত্রিকার সম্পাদক [citation:1][citation:5]। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একা নরকগামী’, ‘জেরুজালেম থেকে মেদিনীপুর’, ‘মণিপুরের মা’, ‘দ্বৈপায়ন হ্রদের ধারে’ প্রভৃতি [citation:3][citation:5]। তিনি ২০০০ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার এবং ২০১৩ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন [citation:1][citation:3]।
ট্যাগস: ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন, সুবোধ সরকার, সুবোধ সরকারের কবিতা, ইউক্রেনের মৃত শিশুদের কফিন কবিতা সুবোধ সরকার, আধুনিক বাংলা কবিতা, যুদ্ধের কবিতা, শিশুমৃত্যুর কবিতা, কফিনের কবিতা
© Kobitarkhata.com – কবি: সুবোধ সরকার | কবিতার প্রথম লাইন: “আমার বাবা কফিন বানাতেন / আমার বাবার বাবা কফিন বানাতেন / আমিও কফিন বানাই। / মানুষের অন্তিম শয্যার / আমি সাক্ষী।” | বাংলা যুদ্ধবিরোধী কবিতা বিশ্লেষণ






