কবিতার খাতা
- 21 mins
আমার নাম মাতৃভাষা – সুবোধ সরকার।
আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছি
আমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না।
আমি কী খাব?
সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না।
আমি কী পড়ব?
সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না।
আমি কোন ভাষা বলব?
সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না।
আপনি কে?
আমি বাংলা বলব না ককবোরক বলব
আমি কোঙ্কনি বলব না স্প্যানিশ বলব
আপনি কে?
আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন।
আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়েএসেছি
আমাকে সুপ্রিম কোর্ট দেখাবেন না।
আমি সুপ্রিম কোর্টের করিডোরে জন্মেছি
আমি সুপ্রিম কোর্টের ডাস্টবিনে জন্মেছি
আমি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের ওপর জন্মেছি
আমার জামা টেনে ছিঁড়ে দিন
আমার পিঠে দেখতে পাবেন:
আমার বাবার মুখ যা আসলে অশোক স্তম্ভ।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুবোধ সরকার।
আমার নাম মাতৃভাষা – সুবোধ সরকার | আমার নাম মাতৃভাষা কবিতা | সুবোধ সরকারের কবিতা | বাংলা কবিতা
আমার নাম মাতৃভাষা: সুবোধ সরকারের ভাষা, প্রতিবাদ ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
সুবোধ সরকারের “আমার নাম মাতৃভাষা” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা ভাষা, প্রতিবাদ, অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছি / আমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক অগ্নিঝরা উচ্চারণ, যেখানে মাতৃভাষা নিজেই কথা বলে, নিজের অস্তিত্ব ও অধিকারের কথা বলে। সুবোধ সরকার বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “আমার নাম মাতৃভাষা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ভাষার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
সুবোধ সরকার: প্রতিবাদের কবি
সুবোধ সরকার বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলেন। “আমার নাম মাতৃভাষা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ভাষার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। সুবোধ সরকারের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
আমার নাম মাতৃভাষা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“আমার নাম মাতৃভাষা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে কবি নিজে কথা বলেন না, কথা বলেন মাতৃভাষা নিজেই। ‘আমার নাম মাতৃভাষা’ — এই ঘোষণার মাধ্যমে ভাষা নিজেই নিজের অস্তিত্ব ও পরিচয় জানান দিচ্ছে। এটি একটি শক্তিশালী সাবালকত্বের ঘোষণা। ভাষা আর নিঃশব্দ দাস নয়, ভাষা নিজেই প্রতিবাদ করছে।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছি / আমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না।” প্রথম স্তবকে মাতৃভাষা নিজের পরিচয় দিচ্ছে। সে বলছে — আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছি। অর্থাৎ বহু ঝড়, বহু সংকট পেরিয়ে সে টিকে আছে। তিনি বৃষ্টিকে ভয় পান না — বৃষ্টি এখানে সম্ভবত কোনো প্রতিকূলতার প্রতীক? অথবা বৃষ্টি জীবনদায়ী, কিন্তু তিনি তা নিয়েও ভীত নন।
ঝড় থেকে ঝড় হয়ে আসার তাৎপর্য
ঝড় — সংকট, আক্রমণ, বিপর্যয়। মাতৃভাষা বহু ঝড় পেরিয়ে এসেছে — ভাষা আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন — সব কিছু পেরিয়ে সে টিকে আছে। এই টিকে থাকাই তার শক্তি।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি কী খাব? / সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। / আমি কী পড়ব? / সেটা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। / আমি কোন ভাষা বলব? / সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না। / আপনি কে?” দ্বিতীয় স্তবকে মাতৃভাষা একের পর এক প্রশ্ন তুলেছে। সে বলছে — আমি কী খাব, তা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কী পড়ব, তা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন না। আমি কোন ভাষা বলব, তা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না। শেষে সে প্রশ্ন করেছে — আপনি কে? অর্থাৎ কে আপনি, যে আমার ওপর এত বড় কর্তৃত্ব করতে চান?
খাবার ও পড়ার স্বাধীনতার তাৎপর্য
খাবার ও পড়া — মানুষের মৌলিক অধিকার। কী খাব, কী পড়ব — তা মানুষ নিজেই ঠিক করবে। কেউ তা বাইরে থেকে চাপিয়ে দিতে পারে না। এখানে ভাষার ওপর আক্রমণকেই খাবার ও পড়ার ওপর আক্রমণের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখের তাৎপর্য
সুপ্রিম কোর্ট — দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। মাতৃভাষা বলছে — কোন ভাষা বলব, তা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না। অর্থাৎ ভাষার অধিকার এত মৌলিক যে তা বিচারালয়েরও ঊর্ধ্বে। এটি ভাষার আত্মমর্যাদার এক উচ্চকিত ঘোষণা।
‘আপনি কে?’ প্রশ্নের তাৎপর্য
‘আপনি কে?’ — এই প্রশ্নটি অত্যন্ত শক্তিশালী। মাতৃভাষা প্রশ্ন করছে — কে আপনি, যে আমার ওপর কর্তৃত্ব করতে চান? এই প্রশ্নের মাধ্যমে ভাষা নিজের অবস্থান থেকে কর্তৃত্ববাদী শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি বাংলা বলব না ককবোরক বলব / আমি কোঙ্কনি বলব না স্প্যানিশ বলব / আপনি কে?” তৃতীয় স্তবকে মাতৃভাষা ভাষা নির্বাচনের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। সে বলছে — আমি বাংলা বলব না, ককবোরক বলব। কোঙ্কনি বলব না, স্প্যানিশ বলব। অর্থাৎ সে যেকোনো ভাষা বলতে পারে, তার পছন্দের স্বাধীনতা আছে। শেষে আবার প্রশ্ন — আপনি কে?
ভাষার নামের তাৎপর্য
বাংলা, ককবোরক, কোঙ্কনি, স্প্যানিশ — বিভিন্ন ভাষার নাম। ককবোরক ত্রিপুরার একটি ভাষা। কোঙ্কনি গোয়ার ভাষা। স্প্যানিশ একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। মাতৃভাষা বলছে — সে যেকোনো ভাষা বলতে পারে। তার ভাষা নির্বাচনের অধিকার কারো দ্বারা খর্ব করা যাবে না।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন। / আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়েএসেছি / আমাকে সুপ্রিম কোর্ট দেখাবেন না। / আমি সুপ্রিম কোর্টের করিডোরে জন্মেছি / আমি সুপ্রিম কোর্টের ডাস্টবিনে জন্মেছি / আমি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের ওপর জন্মেছি / আমার জামা টেনে ছিঁড়ে দিন / আমার পিঠে দেখতে পাবেন: / আমার বাবার মুখ যা আসলে অশোক স্তম্ভ।” চতুর্থ স্তবকে মাতৃভাষা চূড়ান্ত প্রতিবাদ ঘোষণা করেছে। সে বলছে — আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন। আমি ঝড় থেকে ঝড় হয়ে বেরিয়ে এসেছি। আমাকে সুপ্রিম কোর্ট দেখাবেন না। আমি সুপ্রিম কোর্টের করিডোরে, ডাস্টবিনে, বেঞ্চের ওপর জন্মেছি। আমার জামা টেনে ছিঁড়ে দিন, আমার পিঠে দেখতে পাবেন — আমার বাবার মুখ, যা আসলে অশোক স্তম্ভ।
‘আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন।’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি এক তীব্র প্রতিবাদী উচ্চারণ। মাতৃভাষা বলছে — আপনি যদি আমার মাথা ফাটাতে চান, তবে ফাটান। আমি ভয় পাই না। আমি বহু ঝড় পেরিয়ে এসেছি, আরও একটি ঝড় আমাকে নাড়াতে পারবে না।
সুপ্রিম কোর্টের করিডোরে, ডাস্টবিনে, বেঞ্চের ওপর জন্মের তাৎপর্য
সুপ্রিম কোর্টের করিডোর, ডাস্টবিন, বেঞ্চ — এই সব জায়গায় তার জন্ম। অর্থাৎ বিচারালয়ের সর্বত্রই ভাষার উপস্থিতি। বিচারালয় ভাষা দিয়ে চলে, ভাষা দিয়ে রায় লেখে। তাই ভাষা সুপ্রিম কোর্টের চেয়ে বড়, সুপ্রিম কোর্টের উর্ধ্বে।
‘আমার বাবার মুখ যা আসলে অশোক স্তম্ভ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অশোক স্তম্ভ — ভারতের জাতীয় প্রতীক, যা সিংহ চতুর্মুখ স্তম্ভ। এটি শক্তি, কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মাতৃভাষা বলছে — আমার বাবার মুখ আসলে অশোক স্তম্ভ। অর্থাৎ তাঁর পিতা রাষ্ট্রের প্রতীক, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব। তিনি নিজেও সেই রাষ্ট্রের অংশ, সেই শক্তির অংশ। কিন্তু সেই রাষ্ট্রই যখন ভাষার ওপর আক্রমণ চালায়, তখন ভাষা প্রতিবাদ করে।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“আমার নাম মাতৃভাষা” কবিতাটি ভাষার আত্মমর্যাদা ও প্রতিবাদের এক অসাধারণ উচ্চারণ। মাতৃভাষা নিজেই এখানে বক্তা। সে বলছে — আমি বহু ঝড় পেরিয়ে এসেছি, আমি ভয় পাই না। আমি কী খাব, কী পড়ব, কোন ভাষা বলব — তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও নয়। আমি বাংলা বলব না, ককবোরক বলব — আমার স্বাধীনতা আছে। তুমি আমার মাথা ফাটাতে চাও? ফাটাও। আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বত্র জন্মেছি — আমি সুপ্রিম কোর্টের চেয়েও বড়। আমার পিঠে দেখবে আমার বাবার মুখ — অশোক স্তম্ভ। এটি ভাষার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এক তীব্র, অগ্নিঝরা প্রতিবাদ।
আমার নাম মাতৃভাষা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: আমার নাম মাতৃভাষা কবিতার লেখক কে?
আমার নাম মাতৃভাষা কবিতার লেখক সুবোধ সরকার। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “আমার নাম মাতৃভাষা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ভাষার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
প্রশ্ন ২: আমার নাম মাতৃভাষা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
আমার নাম মাতৃভাষা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো ভাষার আত্মমর্যাদা ও প্রতিবাদ। মাতৃভাষা নিজেই এখানে বক্তা। সে বলছে — আমি কী খাব, কী পড়ব, কোন ভাষা বলব — তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও নয়। আমি বহু ঝড় পেরিয়ে এসেছি, আমি ভয় পাই না। আমার ওপর আক্রমণ করলে আমি প্রতিবাদ করব।
প্রশ্ন ৩: ‘আমি কোন ভাষা বলব? সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমি কোন ভাষা বলব? সেটা সুপ্রিম কোর্টও ঠিক করে দিতে পারে না’ — এই পঙ্ক্তিতে মাতৃভাষা ভাষা নির্বাচনের স্বাধীনতার কথা বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়, কিন্তু ভাষার অধিকার এত মৌলিক যে তা বিচারালয়েরও ঊর্ধ্বে। এটি ভাষার আত্মমর্যাদার এক উচ্চকিত ঘোষণা।
প্রশ্ন ৪: ‘আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন।’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমার মাথা ফাটিয়ে দেবেন? দিন।’ — এটি এক তীব্র প্রতিবাদী উচ্চারণ। মাতৃভাষা বলছে — আপনি যদি আমার মাথা ফাটাতে চান, তবে ফাটান। আমি ভয় পাই না। আমি বহু ঝড় পেরিয়ে এসেছি, আরও একটি ঝড় আমাকে নাড়াতে পারবে না। এটি ভাষার অদম্য সাহসের প্রকাশ।
প্রশ্ন ৫: ‘আমার বাবার মুখ যা আসলে অশোক স্তম্ভ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমার বাবার মুখ যা আসলে অশোক স্তম্ভ’ — অশোক স্তম্ভ ভারতের জাতীয় প্রতীক, যা শক্তি, কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। মাতৃভাষা বলছে — তাঁর পিতা রাষ্ট্রের প্রতীক। তিনি নিজেও সেই রাষ্ট্রের অংশ, সেই শক্তির অংশ। কিন্তু সেই রাষ্ট্রই যখন ভাষার ওপর আক্রমণ চালায়, তখন ভাষা প্রতিবাদ করে।
প্রশ্ন ৬: সুবোধ সরকার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
সুবোধ সরকার বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা, স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলেন। “আমার নাম মাতৃভাষা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা ভাষার ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
ট্যাগস: আমার নাম মাতৃভাষা, সুবোধ সরকার, সুবোধ সরকারের কবিতা, আমার নাম মাতৃভাষা কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, ভাষার কবিতা, প্রতিবাদের কবিতা





