আত্মজর ছেঁড়াপাতা – আরণ্যক বসু।

তুমি জানো না বাবা দাহপর্ব শেষে,
তোমার ছোট ছেলে শ্মশানবকুল গাছে-কী লিখেছিলো!

দেখে যাওনি, সাজানো কাঠের পোড়া ছাই- ভষ্ম
মাখা ঘণ্টা কয়েক আগে চিরস্থির মুখ,
দেখা সম্ভব ছিলো না।
তখনতো তুমি মাটি মাখা এক টুকরো নাভি অনিঃশেষ শুধু,
মেঘে ঢাকা সন্ধ্যার বিষণ্ণ।
ভাগিরথী বেয়ে গঙ্গাসাগরের দিকে শেষ খেয়া,
নানা, ভেলা ভাসিয়ে দিয়েছো।
আজ এতদিন পরে, কোথায়,
কোন মহানীলিমার দুলছে সে ভেলা!

তোমার পায়ের জাদু ফুটবল, প্রানখোলা হাসি,
দরাজ বুকে সবাই আপন, অস্ত্রহীন এক নীলাকাশ ভালোবাসা।
হাতের লেখায় প্রিয় যশোর জেলার
অসমাপ্ত প্রতিদিনলিপি-পড়ে আছে
আমার বুকের টুকরো উঠোন-সবুজে!

আবার শরৎ যেন বড় কুণ্ঠিত পা রাখছে বন্যার হাহাকারে।
আসুক শরৎ, পরিত্রানহীন, বিষণ্ণতা, বাবা, ভালো লাগছে না আর।
তোমার সন্তান হয়ে বাঁচার বিশ্বাসটুকু ধরে রাখতে পারছি না কেন?
এ ব্যর্থতা, এ দীনতা, ক্ষমা করবে না বাবা!

ও হ্যাঁ, মনে পড়ে গেলো,
শ্মশান বকুল গাছে, পিতৃহারা ব্যথিত আঙুল স্পর্শে,
লিখে দিয়েছিলাম- কবে দেখা হবে গো আবার!

না না বাবা, গাছের ঘুম ভাঙাইনি আমি

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আরণ্যক বসুর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x