কবিতার খাতা
- 25 mins
অগোপনীয় – দাউদ হায়দার।
অগোপনীয় কবিতা – দাউদ হায়দার | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
অগোপনীয় কবিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
অগোপনীয় কবিতা বাংলা আধুনিক কবিতার একটি গভীর আবেগময়, স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশমুখী ও দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন রচনা। দাউদ হায়দার রচিত এই কবিতাটি প্রেমের প্রকাশ্য ঘোষণা, ভালোবাসার সার্বজনীন স্বীকৃতি এবং প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে চিরন্তন পরিচয় ও অচেনাভাবের দ্বন্দ্বকে এক অসাধারণ কাব্যিক রূপ দিয়েছে। “তোমাকে যে ভালোবাসি সে-কথা রাখি না গোপনে বিশ্বচরাচরে তুমিই যে পাশাপাশি এ কথা জেনেছি নিদ্রা-জাগরণে” – এই সরল কিন্তু গভীর স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু হওয়া অগোপনীয় কবিতা পাঠককে প্রেমের মুক্ত, নির্ভীক ও সার্বজনীন প্রকাশের এক মর্মস্পর্শী কাব্যিক অভিজ্ঞতায় নিয়ে যায়। অগোপনীয় কবিতা পড়লে মনে হয় যেন কবি শুধু কবিতা লিখেননি, ভালোবাসার একটি চিরন্তন ও সার্বজনীন ঘোষণাপত্র রচনা করেছেন। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতা বাংলা সাহিত্যে প্রেমের কবিতা, আবেগের কবিতা ও দার্শনিক কবিতার ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে স্বীকৃত।
অগোপনীয় কবিতার কাব্যিক বৈশিষ্ট্য
অগোপনীয় কবিতা একটি স্বতঃস্ফূর্ত, প্রকাশমুখী ও আত্মনিবেদনমূলক কাঠামোতে রচিত গীতিময় কবিতা। দাউদ হায়দার এই কবিতায় প্রেমের গোপনীয়তা বা লজ্জাশীলতার পরিবর্তে মুক্ত, নির্ভীক ও প্রকাশ্য ঘোষণার ধারা তৈরি করেছেন, ভালোবাসাকে ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বচরাচরের পর্যায়ে উন্নীত করেছেন এবং পরিচিতির মধ্যেই অচেনার রহস্যময় দ্বন্দ্ব উপস্থাপন করেছেন। “বিশ্বচরাচরে তুমিই যে পাশাপাশি এ কথা জেনেছি নিদ্রা-জাগরণে” – অগোপনীয় কবিতাতে এই পংক্তির মাধ্যমে কবি প্রিয়জনের সাথে আত্মিক ও অস্তিত্বগত সংযোগের ধারণা প্রকাশ করেছেন যা ঘুম ও জাগরণ উভয় অবস্থায় সমানভাবে উপলব্ধ। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতাতে ভাষা অত্যন্ত সরল, গীতিময়, আবেগময় কিন্তু গভীর দার্শনিক তাৎপর্যপূর্ণ। অগোপনীয় কবিতা পড়ার সময় প্রতিটি স্তবকে প্রেমের প্রকাশ, পরিচয়ের রহস্য এবং ভালোবাসার দ্বন্দ্বময় প্রকৃতির নতুন মাত্রার উন্মোচন দেখা যায়। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতা বাংলা কবিতার গীতিময় প্রকাশ, দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি ও আবেগের স্বতঃস্ফূর্ততার অনন্য উদাহরণ।
দাউদ হায়দারের কবিতার বৈশিষ্ট্য
দাউদ হায়দার বাংলা সাহিত্যের একজন স্বতন্ত্র কবি, লেখক ও চিন্তাবিদ যিনি তাঁর সরল কিন্তু গভীর প্রকাশভঙ্গি, আবেগের স্বতঃস্ফূর্ততা, দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আবেগের অকপট প্রকাশ, ভাষার সরলতা ও গভীরতার সমন্বয়, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সার্বজনীনীকরণ এবং জীবনের জটিল প্রশ্নের কাব্যিক অনুসন্ধান। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতা এই সকল গুণের পূর্ণ ও পরিপূর্ণ প্রকাশ। দাউদ হায়দারের কবিতায় ব্যক্তিগত ভালোবাসা বিশ্বজনীন সত্যে রূপান্তরিত হয়, সরল উক্তি গভীর দার্শনিক ব্যঞ্জনা লাভ করে। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতাতে প্রেমের এই কাব্যিক রূপায়ণ অসাধারণ সরলতা, গভীরতা ও আবেগের স্বতঃস্ফূর্ততায় অঙ্কিত হয়েছে। দাউদ হায়দারের কবিতা বাংলা সাহিত্যকে নতুন আবেগী ও দার্শনিক মাত্রা দান করেছে।
অগোপনীয় কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
অগোপনীয় কবিতার লেখক কে?
অগোপনীয় কবিতার লেখক বাংলা কবি ও লেখক দাউদ হায়দার।
অগোপনীয় কবিতার মূল বিষয় কী?
অগোপনীয় কবিতার মূল বিষয় প্রেমের প্রকাশ্য ঘোষণা ও গোপনীয়তার অস্বীকার, ভালোবাসার সার্বজনীন স্বীকৃতি, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে চিরন্তন সংযোগ এবং পরিচিতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকা অচেনার রহস্যময় দ্বন্দ্ব।
দাউদ হায়দার কে?
দাউদ হায়দার একজন বাংলা কবি, লেখক, সম্পাদক ও চিন্তাবিদ যিনি তাঁর সরল কিন্তু গভীর কবিতা, আবেগের অকপট প্রকাশ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বাংলা সাহিত্যে পরিচিত।
অগোপনীয় কবিতা কেন বিশেষ?
অগোপনীয় কবিতা বিশেষ কারণ এটি প্রেমের প্রচলিত গোপনীয়তা বা লজ্জাশীলতার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে ভালোবাসার মুক্ত, নির্ভীক ও প্রকাশ্য ঘোষণার একটি সাহসী ও সৌন্দর্যময় কাব্যিক রূপ তৈরি করেছে।
দাউদ হায়দারের কবিতার বৈশিষ্ট্য কী?
দাউদ হায়দারের কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত ও অকপট প্রকাশ, ভাষার সরলতা ও গভীরতার সমন্বয়, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সার্বজনীনীকরণ এবং দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টির কাব্যিক রূপায়ণ।
অগোপনীয় কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
অগোপনীয় কবিতা দাউদ হায়দারের সংশ্লিষ্ট কাব্যগ্রন্থের অংশ, যা তাঁর আবেগময় ও দার্শনিক কবিতাগুলি সংকলিত করেছে এবং বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
অগোপনীয় কবিতা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
অগোপনীয় কবিতা থেকে প্রেমের মুক্ত প্রকাশের সাহস, ভালোবাসার সার্বজনীন স্বীকৃতি, পরিচয়ের অন্তহীন রহস্য এবং আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তির মূল্য সম্পর্কে শিক্ষা ও উপলব্ধি পাওয়া যায়।
দাউদ হায়দারের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতা কী কী?
দাউদ হায়দারের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার মধ্যে রয়েছে “এই সেই পৃথিবী”, “আমি যদি হতাম”, “প্রেমের কবিতা”, “সময়ের কবিতা” প্রভৃতি আবেগময় ও দার্শনিক কবিতা।
অগোপনীয় কবিতা পড়ার সেরা সময় কখন?
অগোপনীয় কবিতা পড়ার সেরা সময় হলো যখন প্রেম, আবেগ, সম্পর্ক এবং পরিচয়ের রহস্য নিয়ে গভীর, সরল কিন্তু অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ চিন্তা করার ইচ্ছা থাকে।
অগোপনীয় কবিতা আধুনিক প্রেক্ষাপটে কতটা প্রাসঙ্গিক?
অগোপনীয় কবিতা আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়, কারণ আধুনিক সমাজে সম্পর্কের জটিলতা, আবেগের প্রকাশের সীমাবদ্ধতা এবং পরিচয়ের সংকটের মধ্যে এই কবিতার মুক্ত, নির্ভীক ও সার্বজনীন প্রেমের ঘোষণা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
অগোপনীয় কবিতার গুরুত্বপূর্ণ লাইন বিশ্লেষণ
“তোমাকে যে ভালোবাসি সে-কথা রাখি না গোপনে” – কবিতার শিরোনাম “অগোপনীয়”-এর সার্থক ব্যাখ্যা ও কবির সাহসী ঘোষণা যা সমগ্র কবিতার মূল ভিত্তি তৈরি করে।
“বিশ্বচরাচরে তুমিই যে পাশাপাশি” – প্রিয়জনের সাথে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডব্যাপী সংযোগের ধারণা যা ব্যক্তিগত প্রেমকে মহাজাগতিক মাত্রা দান করে।
“এ কথা জেনেছি নিদ্রা-জাগরণে” – ঘুম ও জাগরণ উভয় অবস্থায় প্রিয়জনের উপস্থিতির নিশ্চয়তা যা প্রেমের গভীরতা ও সর্বব্যাপীতার ইঙ্গিত করে।
“তোমাকে ছাড়া যে কাউকে চিনি না” – প্রিয়জনকেন্দ্রিক বিশ্বদৃষ্টির প্রকাশ যা প্রেমের একনিষ্ঠতা ও পরিপূর্ণতা নির্দেশ করে।
“বিশ্বচরাচরে তুমি যে নবীনা” – প্রিয়জনের চিরনবীনতা, চিরযৌবনা রূপের স্বীকৃতি যা সময়ের সীমা অতিক্রম করে।
“এ কথা লিখেছি শতেক বৎসর” – কালজয়ী প্রেমের ধারণা যা শতাব্দী ব্যাপী লেখনের মাধ্যমে চিরন্তন করে তোলে।
“তোমাকে ভালোবেসে জেনেছি ভালোবাসা কেমন নিষ্ঠুর” – প্রেমের দ্বন্দ্বময় ও বেদনাদায়ক দিকের স্বীকারোক্তি যা ভালোবাসার জটিল প্রকৃতির ইঙ্গিত করে।
“হৃদয় চৌচির” – প্রেমে হৃদয়ের বিদীর্ণ হওয়ার মর্মস্পর্শী চিত্র যা আবেগের তীব্রতা প্রকাশ করে।
“চৈত্রদুপুরের চাতক-পিপাসা জেগেছে ওষ্ঠে, তীব্র, অস্থির” – গ্রীষ্মের তীব্র পিপাসার রূপকে প্রেমের আকাঙ্ক্ষা, উত্তেজনা ও অস্থিরতার চিত্রায়ণ।
“তোমাকে ভালোবেসে রয়েছি অক্ষয়” – প্রেমের মাধ্যমে অমরত্ব বা চিরস্থায়িত্বের ধারণা যা ভালোবাসার শক্তি নির্দেশ করে।
“অযুত যুদ্ধে হই নি পরাজয়” – প্রেমের সংগ্রামে অপরাজেয় থাকার ঘোষণা যা ভালোবাসার স্থায়িত্ব ও সহনশীলতা প্রকাশ করে।
“ভুলেছি ক্লান্তি পথের বিস্ময়” – প্রেমের মাধ্যমে ক্লান্তি ও পথের কষ্ট ভুলে যাওয়ার কথা যা ভালোবাসার পরিবর্তনক্ষম শক্তির ইঙ্গিত।
“তবুও তোমাকে অচেনা মনে হয়” – কবিতার চূড়ান্ত ও গভীরতম পংক্তি যা পরিচিতির মধ্যেই অচেনার রহস্যময় দ্বন্দ্ব উপস্থাপন করে এবং প্রেমের অনন্ত রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
অগোপনীয় কবিতার দার্শনিক, আবেগিক ও অস্তিত্বগত তাৎপর্য
অগোপনীয় কবিতা শুধু একটি প্রেমের কবিতা নয়, এটি একটি গভীর দার্শনিক বিবৃতি, আবেগিক স্বীকারোক্তি ও অস্তিত্বগত অনুসন্ধানের দলিল। দাউদ হায়দার এই কবিতায় পাঁচটি মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করেছেন: ১) প্রেমের গোপনীয়তার বিরুদ্ধে মুক্ত প্রকাশের দর্শন, ২) ব্যক্তিগত প্রেমের সার্বজনীনীকরণ ও মহাজাগতিকীকরণ, ৩) প্রেমের দ্বন্দ্বময় প্রকৃতি – একইসাথে সুখদ ও বেদনাদায়ক, ৪) ভালোবাসার মাধ্যমে অমরত্ব ও অপরাজেয়তার ধারণা, ৫) পরিচিতির অন্তর্নিহিত অচেনার রহস্যময়তা। অগোপনীয় কবিতা পড়লে বোঝা যায় যে দাউদ হায়দারের দৃষ্টিতে ভালোবাসা গোপন রাখার কিছু নয়, এটি বিশ্বচরাচরে প্রকাশ করার, ঘোষণা করার বিষয়। “বিশ্বচরাচরে তুমিই যে পাশাপাশি” এই ধারণা প্রিয়জনকে কেবল ব্যক্তিগত সঙ্গী নয়, মহাবিশ্বের সহযাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে। “নিদ্রা-জাগরণে” জানার কথা বলার মাধ্যমে কবি প্রেমের অবচেতন, আত্মিক ও অস্তিত্বগত উপস্থিতির ধারণা দেন। দ্বিতীয় স্তবকের “বিশ্বচরাচরে তুমি যে নবীনা” এবং “শতেক বৎসর” লেখার কথা প্রেমের চিরনবীনতা ও কালজয়ীতার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু কবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি আসে যখন তিনি বলেন “তোমাকে ভালোবেসে জেনেছি ভালোবাসা কেমন নিষ্ঠুর”। এখানে তিনি প্রেমের বেদনাদায়ক, বিদীর্ণকারী দিক স্বীকার করেন। “চৈত্রদুপুরের চাতক-পিপাসা” রূপক ব্যবহার করে কবি প্রেমের তীব্র, অস্থির, অনিবার্য আকাঙ্ক্ষার চিত্র দেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর দ্বন্দ্ব প্রকাশিত হয় শেষ পংক্তিতে – “তবুও তোমাকে অচেনা মনে হয়”। এটি প্রেমের চূড়ান্ত রহস্য নির্দেশ করে – যাকে সবচেয়ে বেশি চিনি, ভালোবাসি, জানি, সেই ব্যক্তিই চিরকাল রহস্যময়, অজানা, অচেনা থেকে যায়। এই পংক্তি প্রেমকে একটি অনন্ত অনুসন্ধান, চিরকালীন রহস্য হিসেবে উপস্থাপন করে। অগোপনীয় কবিতাতে প্রেমের এই বহুমাত্রিক, গভীর ও দ্বন্দ্বময় চিত্র অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।
অগোপনীয় কবিতায় প্রতীক, রূপক ও প্রকৃতিচিত্রের ব্যবহার
দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতাতে বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতীক, গভীর রূপক ও জীবন্ত প্রকৃতিচিত্র ব্যবহৃত হয়েছে। “অগোপনীয়” শিরোনামই প্রধান প্রতীক যা গোপনীয়তার বিরুদ্ধে মুক্ত প্রকাশের দর্শন নির্দেশ করে। “বিশ্বচরাচর” প্রেমের সার্বজনীনতা, মহাজাগতিকতা ও সর্বব্যাপীতার প্রতীক। “নিদ্রা-জাগরণ” চেতনা-অবচেতনার দ্বৈততা, জীবন-মৃত্যু, জাগ্রত-স্বপ্নাবিষ্ট অবস্থার প্রতীক। “পাশাপাশি” সঙ্গ, সমান্তরাল অস্তিত্ব ও যাত্রার প্রতীক। “নবীনা” চিরনবীনতা, চিরযৌবনা রূপ, সময়ের ঊর্ধ্বে সৌন্দর্যের প্রতীক। “শতেক বৎসর” কালজয়ীত্ব, চিরন্তনতা, ইতিহাসের প্রতীক। “নিষ্ঠুর” প্রেমের কঠোর, বেদনাদায়ক, বিদীর্ণকারী দিকের প্রতীক। “হৃদয় চৌচির” আবেগের তীব্রতা, ভেঙে পড়া, আঘাতপ্রাপ্তির প্রতীক। “চৈত্রদুপুর” তীব্রতা, উত্তাপ, গ্রীষ্মের প্রখরতা, সময়ের বিশেষ মুহূর্তের প্রতীক। “চাতক-পিপাসা” অনিবার্য আকাঙ্ক্ষা, প্রাকৃতিক প্রয়োজন, তৃষ্ণার প্রতীক। “ওষ্ঠ” উৎস, প্রকাশ, মুখের প্রতীক। “অক্ষয়” অমরত্ব, অবিনশ্বরতা, চিরস্থায়িত্বের প্রতীক। “অযুত যুদ্ধ” সংগ্রাম, সংঘাত, জীবনের চ্যালেঞ্জের প্রতীক। “পরাজয়” হার, ব্যর্থতা, আত্মসমর্পণের প্রতীক। “পথের বিস্ময়” যাত্রার ক্লান্তি, অজানার ভয়, পথের রহস্যের প্রতীক। “অচেনা” রহস্য, অজানা, অন্বেষণের বিষয়, পরিচয়ের সীমার প্রতীক। এই সকল প্রতীক, রূপক ও প্রকৃতিচিত্র অগোপনীয় কবিতাকে একটি সরল প্রেমের কবিতার স্তর অতিক্রম করে গভীর দার্শনিক, আবেগিক ও অস্তিত্বগত অর্থময়তা দান করেছে।
অগোপনীয় কবিতা পড়ার সঠিক পদ্ধতি ও গভীর বিশ্লেষণ
- অগোপনীয় কবিতা প্রথমে সম্পূর্ণভাবে, ধীরে ধীরে ও গভীর মনোযোগ সহকারে একবার পড়ুন
- কবিতার শিরোনাম “অগোপনীয়”-এর তাৎপর্য ও সমগ্র কবিতার সাথে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করুন
- কবিতার গীতিময় কাঠামো, আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ও দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টির মধ্যে সমন্বয় বুঝুন
- প্রতিটি স্তবকের কেন্দ্রীয় ধারণা ও তার বিকাশ পর্যবেক্ষণ করুন
- কবিতার প্রতীকী অর্থ, রূপক ব্যবহার ও প্রকৃতিচিত্রের গভীরতা বুঝতে সচেষ্ট হন
- প্রেমের প্রচলিত ধারণার সাথে এই কবিতার “অগোপনীয়” দর্শনের পার্থক্য অনুসন্ধান করুন
- ব্যক্তিগত আবেগের সার্বজনীনীকরণ ও মহাজাগতিকীকরণের কাব্যিক কৌশল বিশ্লেষণ করুন
- কবিতার শেষ পংক্তি “তবুও তোমাকে অচেনা মনে হয়” এর গভীর দার্শনিক, মনস্তাত্ত্বিক ও অস্তিত্বগত তাৎপর্য চিন্তা করুন
- দাউদ হায়দারের অন্যান্য রচনা ও সামগ্রিক কাব্যভাবনার সাথে এই কবিতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করুন
- কবিতাটি নিয়ে অন্যদের সাথে গভীর, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ আলোচনা, বিতর্ক ও চিন্তা বিনিময় করুন
দাউদ হায়দারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা ও রচনা
- এই সেই পৃথিবী
- আমি যদি হতাম
- প্রেমের কবিতা
- সময়ের কবিতা
- জীবনের কবিতা
- সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ক কবিতা
- দার্শনিক কবিতা
- আবেগময় কবিতা
- প্রকৃতি কবিতা
- সমকালীন কবিতা
অগোপনীয় কবিতা নিয়ে শেষ কথা ও সারসংক্ষেপ
অগোপনীয় কবিতা বাংলা সাহিত্যের একটি গভীর আবেগময়, দার্শনিকভাবে সমৃদ্ধ ও শিল্পগুণে উৎকৃষ্ট রচনা। দাউদ হায়দার রচিত এই কবিতাটি প্রেমের কবিতা, আবেগের কবিতা, দার্শনিক কবিতা ও গীতিকবিতার ইতিহাসে একটি বিশেষ, উল্লেখযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অগোপনীয় কবিতা পড়লে পাঠক বুঝতে পারেন কিভাবে কবিতা শুধু শিল্প, সৌন্দর্য বা আবেগ নয়, একটি জীবনদর্শন, সম্পর্কের দর্শন ও অস্তিত্বের দর্শনেরও অভিব্যক্তি হতে পারে। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতা বিশেষভাবে সকল যুগের, সকল সম্পর্কের, সকল প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রেমের মুক্ত প্রকাশ, আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি, পরিচয়ের রহস্য এবং ভালোবাসার দ্বন্দ্বময় প্রকৃতি চিরকালীন, সার্বজনীন ও মৌলিক মানবিক অভিজ্ঞতা। এই কবিতার মাধ্যমে দাউদ হায়দার প্রেমের গোপনীয়তার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, ভালোবাসাকে বিশ্বচরাচরের মঞ্চে উপস্থাপন করেছেন এবং পরিচিতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকা অচেনার অনন্ত রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অগোপনীয় কবিতা সকলের পড়া, বুঝা, চিন্তা করা, অনুভব করা ও আলোচনা করা উচিত যারা কবিতার মাধ্যমে প্রেম, সম্পর্ক, আবেগ এবং অস্তিত্বের গভীর, সরল কিন্তু অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ দিকগুলি অন্বেষণ করতে চান। দাউদ হায়দারের অগোপনীয় কবিতা timeless, চিরন্তন, সর্বজনীন, এর আবেদন, বার্তা ও মূল্য চিরস্থায়ী, চিরন্তন, অনন্ত।
ট্যাগস: অগোপনীয় কবিতা, অগোপনীয় কবিতা বিশ্লেষণ, দাউদ হায়দার, দাউদ হায়দারের কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, আবেগময় কবিতা, দার্শনিক কবিতা, গীতিকবিতা, বাংলা সাহিত্য, মুক্ত প্রেমের কবিতা, সার্বজনীন কবিতা, পরিচয় ও অচেনার কবিতা
তোমাকে যে ভালোবাসি
সে-কথা রাখি না গোপনে
বিশ্বচরাচরে তুমিই যে পাশাপাশি
এ কথা জেনেছি নিদ্রা-জাগরণে।
তোমাকে ছাড়া যে কাউকে চিনি না
সে-কথা জেনেছে বিশ্বচরাচর
বিশ্বচরাচরে তুমি যে নবীনা
এ কথা লিখেছি শতেক বৎসর।
তোমাকে ভালোবেসে জেনেছি ভালোবাসা
কেমন নিষ্ঠুর, হৃদয় চৌচির
চৈত্রদুপুরের চাতক-পিপাসা
জেগেছে ওষ্ঠে, তীব্র, অস্থির।
তোমাকে ভালোবেসে রয়েছি অক্ষয়
অযুত যুদ্ধে হই নি পরাজয়,
ভুলেছি ক্লান্তি পথের বিস্ময় ;
তবুও তোমাকে অচেনা মনে হয়।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। দাউদ হায়দার।




