বসন্ত-উৎসব – জয়দেব বসু।

(আয়ান ঘোষ শাক্ত ছিলেন জানা যায়। তাই যদি, অ-‘কারণ’ ছিলেন না আশা করি …)

আমার চাকা চলছে চাঁদের দিকে সোজা
আমার মাথা টলছে তমালতরুমূলে,
কার বাজাবার কথা চন্দ্রাবলী,
তাকে কোথাও দেখছি না এই কূলে?

নানান-রঙা আবির দিয়ে গড়া
এক পাশে ঐ গিরি-গোবর্ধন,
ঝুলন আছে, পঞ্চপিদিম জ্বালা…
বীণাবাজিনী কোথায় এতক্ষণ!

আমার আসতে দেরি একটু হল বলে
সে কি গোষ্ঠে গেল অভিমানের বশে?
ঐ দিকে তো কালীনাগের থানা
ঐ দিকে তো সন্ধ্যাতারা খসে,

ওইদিকে তো ঘন বেতস-বন
ঐ দিকে তো কুঞ্জ সর্বনাশা
পুঞ্জ অমা গুঞ্জরে ঐখানে…
ঐ দিকে তো শ্যাম-লালার বাসা!

সে কি পলাশ-হারে সাজিয়েছিল গলা
সে কি ফুলের দুলে সাজিয়েছিল কাল,
সে কি যাওয়ার আগে শুনতে পেয়েছিল
মারাত্মক কোনো বাঁশির তান?

আমার সারাক্ষণই বিলম্বিত লয়,
আমার সারাক্ষণই হীনন্মন্যতা,
গোপাল বড় সুবোধ ছেলে জানি –
রাখাল-রূপে কাজ কী জন্য তার!

আমি বলব ভাবি এসব কথা তাকে,
বলব ভাবি – থাক আসলে আর
বলার যে নেই, তোমরা তো সব জানো,
গজদাঁতের নানান অভিসার।

সে-সব যারা পারে এখন তারা
রং খেলছে নাগরজনোচিত
আমি ভাবছি, রাত্রে ফিরে তার
বসন-ভূষণ থাকবে তো সংযত!

আমি নই, মা আছেন সে-জন্যই
চিন্তা এত, না-হলে আজ রাতে
মাধ্বীরঙা চাঁদ উঠেছে ঐ,
কে আর পোঁছে আউলে যাওয়া ভাতে?

কে আর থাকে দিনের পর দিন
নিপাট আর ছিনাল শয্যায়,
আছে যখন গ্রামরেখার ধারে
শৌন্ডিকা-র বেপথু দরজা।

আমার চাকা কাঁপছে সেই দুয়ারের দিকে
আমার মাথা টলছে হৃৎস্পন্দনসীমায়,
অনার্য ঐ শ্যামা আমার কেন
চেনাল এই কোহলচন্দ্রিমা –

থাক সে কথায়, এমন পৌর্ণমাসী
আঁজলা ভরে ধরেছি দুই হাতে,
ওরা চুঁয়েছে কাঠকয়লা দিয়ে
আফিম নাকি মিলিয়েছে তার সাথে।

এক কলসে দুই কলসে তিন
তিন কলসে চার কলসে পাঁচ

দূরে এখন বেতের বনচ্ছায়ে
শুরু হয়েছে পৌর্ণমাসী নাচ

তিন কলসে চার কলসে পাঁচ
পাঁচ কলসে ছয় কলসে সাত

শুরু হয়েছে কুচযুগের ঘাম
শুরু হয়েছে গভীর ধারাপাত

তার গা কাঁপছে কানু-র চোখে চেয়ে,
কটিবিদ্ধ অক্লেশকেশবে –
চিয়ার্স, প্রিয় মাতাল বন্ধুগণ,
এমনই হয় …… বসন্ত-উৎসবে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। জয়দেব বসু।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x