কবিতার খাতা
- 20 mins
পিছুটান – সালমান হাবীব।
কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে
হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে,
এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, যাইনি কোথাও
বলতে পারো এই দাঁড়ানো কোন সে মায়ার টানে?
এই যে আকাশ, ক্লান্ত দুপুর
শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক,
তবুও কেনো একলা লাগে
বুকের ভিতর জড়িয়ে থাকে ঝরাপাতার শোক!
ছেড়ে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া মন
অযথাই সেই কথা ভাবে সারাক্ষণ
চলে যেতে যেতে, ভুলে যাওয়া পথে
বুঝে না সে হয়ে গেছে একলা কখন,
তবুও মানুষ চলে যেতে শেখে
অভিমান পুষে রাখে খুব করে বুকে
সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন
হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সালমান হাবীব।
পিছুটান – সালমান হাবীব | পিছুটান কবিতা | সালমান হাবীবের কবিতা | বাংলা কবিতা
পিছুটান: সালমান হাবীবের বিচ্ছেদ, একাকীত্ব ও স্মৃতির অসাধারণ কাব্যভাষা
সালমান হাবীবের “পিছুটান” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা বিচ্ছেদ, একাকীত্ব, স্মৃতি ও ফিরে আসার টানের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে / হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে, / এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, যাইনি কোথাও / বলতে পারো এই দাঁড়ানো কোন সে মায়ার টানে?” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর বেদনার জগৎ, যেখানে মানুষ পিছুটানে আটকে যায়, অতীতের স্মৃতিতে ডুবে থাকে। সালমান হাবীব আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, সম্পর্কের জটিলতা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “পিছুটান” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা বিচ্ছেদের পরেও পিছুটানের টানকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
সালমান হাবীব: আধুনিক বাংলা কবিতার শক্তিমান কণ্ঠ
সালমান হাবীব আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, সম্পর্কের জটিলতা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় গভীর জীবনবোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসি প্রতিদিন’, ‘তোমার অবহেলার পর’, ‘পিছুটান’ প্রভৃতি। সালমান হাবীবের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
পিছুটান কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“পিছুটান” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘পিছুটান’ — পেছনে টানা, অতীতের টান, স্মৃতির টান। কেউ চলে যেতে চায়, কিন্তু পিছুটান তাকে আটকে রাখে। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা বিচ্ছেদের পরেও সম্পর্কের টান, স্মৃতির টান নিয়ে।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে / হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে, / এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, যাইনি কোথাও / বলতে পারো এই দাঁড়ানো কোন সে মায়ার টানে?” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার অর্থ খুঁজেছেন। তিনি বলেছেন — কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে। এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, যাইনি কোথাও — বলতে পারো এই দাঁড়ানো কোন সে মায়ার টানে?
‘ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়া — অর্থাৎ অতীতের দিকে ফিরে যেতে যেতে থেমে যাওয়া। কেউ চলে যেতে চায়, কিন্তু পিছুটান তাকে আটকে রাখে। এই দাঁড়ানোর মানে কেউ জানে না।
‘এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, যাইনি কোথাও’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি বলছেন — তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, আসলে যাননি কোথাও। অর্থাৎ তিনি চলে যেতে পারেননি, পিছুটানে আটকে আছেন। তাঁর অবস্থান স্থির, তিনি এগোতে পারছেন না।
‘বলতে পারো এই দাঁড়ানো কোন সে মায়ার টানে?’ — প্রশ্নের তাৎপর্য
কবি প্রশ্ন করছেন — এই দাঁড়ানো কোন মায়ার টানে? অর্থাৎ কোন স্মৃতি, কোন সম্পর্কের টানে তিনি আটকে আছেন? তিনি নিজেও জানেন না, বুঝতে পারেন না।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এই যে আকাশ, ক্লান্ত দুপুর / শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক, / তবুও কেনো একলা লাগে / বুকের ভিতর জড়িয়ে থাকে ঝরাপাতার শোক!” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর একাকীত্বের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — এই যে আকাশ, ক্লান্ত দুপুর। শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক। তবুও কেন একলা লাগে? বুকের ভিতর জড়িয়ে থাকে ঝরাপাতার শোক!
‘শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শহরে লোক বাড়ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তবুও শহরটা শূন্য লাগে। মানুষের ভিড়েও একাকীত্ব অনুভব করেন কবি। এটি আধুনিক জীবনের এক করুণ চিত্র।
‘তবুও কেনো একলা লাগে’ — প্রশ্নের তাৎপর্য
এত লোকের ভিড়েও কেন একলা লাগে? কারণ ভিড়ের মাঝেও প্রিয়জন নেই, সম্পর্ক নেই। একাকীত্ব মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায় না।
‘বুকের ভিতর জড়িয়ে থাকে ঝরাপাতার শোক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ঝরাপাতা — শুকনো পাতা, যা ঝরে গেছে। ঝরাপাতার শোক — হারানো সম্পর্কের শোক, অতীতের বেদনা। এই শোক বুকের ভিতর জড়িয়ে আছে, ছাড়ছে না।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ছেড়ে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া মন / অযথাই সেই কথা ভাবে সারাক্ষণ / চলে যেতে যেতে, ভুলে যাওয়া পথে / বুঝে না সে হয়ে গেছে একলা কখন,” তৃতীয় স্তবকে কবি ভুলে যাওয়া মানুষ ও পথের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — ছেড়ে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া মন — অযথাই সেই কথা ভাবে সারাক্ষণ। চলে যেতে যেতে, ভুলে যাওয়া পথে, বুঝে না সে হয়ে গেছে একলা কখন।
‘ছেড়ে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া মন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ছেড়ে যাওয়া মুখ — প্রিয়জনের মুখ, যে চলে গেছে। ভুলে যাওয়া মন — যে মন আর নেই, যে সম্পর্ক ভুলে গেছে। এই সব কিছুই কবি মনে করেন।
‘অযথাই সেই কথা ভাবে সারাক্ষণ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অযথাই — অর্থহীনভাবে, কাজ নেই তবুও। তিনি সারাক্ষণ সেই কথা ভাবেন, সেই স্মৃতি মনে করেন। এটা অযথাই, কারণ কিছুই করার নেই।
‘চলে যেতে যেতে, ভুলে যাওয়া পথে / বুঝে না সে হয়ে গেছে একলা কখন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
তিনি চলে যেতে যেতে, ভুলে যাওয়া পথে হাঁটছেন। তিনি বুঝতে পারেন না — কখন তিনি একলা হয়ে গেছেন। একাকীত্ব এত ধীরে ধীরে আসে যে তা বোঝা যায় না।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তবুও মানুষ চলে যেতে শেখে / অভিমান পুষে রাখে খুব করে বুকে / সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন / হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!” চতুর্থ স্তবকে কবি সময়ের পরিণতির কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তবুও মানুষ চলে যেতে শেখে। অভিমান পুষে রাখে খুব করে বুকে। সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন — হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!
‘তবুও মানুষ চলে যেতে শেখে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এত বেদনা, এত স্মৃতি সত্ত্বেও মানুষ শেষ পর্যন্ত চলে যেতে শেখে। সময় সব কিছু শেখায়, সব কিছু সহ্য করার শক্তি দেয়।
‘অভিমান পুষে রাখে খুব করে বুকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
চলে যাওয়ার সময় মানুষ অভিমান বুকে পুষে রাখে। অভিমান — প্রেমেরই অংশ। এই অভিমান বুকে নিয়েই সে চলে যায়।
‘সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন / হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। সময় পেরিয়ে গেলে যখন বুঝতে পারি যে আমরা আসলে কী হারিয়েছি, তখন সেই হারানো মানুষ আর থাকে না। তারা চলে গেছে, ফিরে আসবে না। এটি বিচ্ছেদের চূড়ান্ত বেদনা — দেরিতে হলেও বোঝা, কিন্তু কিছুই করার নেই।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“পিছুটান” কবিতাটি বিচ্ছেদ, একাকীত্ব ও স্মৃতির এক অসাধারণ চিত্র। কবি প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকার অর্থ খুঁজেছেন — কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, যাননি কোথাও — কোন মায়ার টানে? শহরে লোক বাড়ছে, তবুও একলা লাগে, বুকের ভিতর ঝরাপাতার শোক জড়িয়ে আছে। ছেড়ে যাওয়া মুখ, ভুলে যাওয়া মন — অযথাই সেই কথা ভাবেন সারাক্ষণ। চলে যেতে যেতে তিনি বুঝতে পারেন না কখন তিনি একলা হয়ে গেছেন। শেষে তিনি বলেন — তবুও মানুষ চলে যেতে শেখে, অভিমান বুকে পুষে রাখে। সময় পেরিয়ে গেলে যখন বুঝতে পারে, তখন হারানো মানুষ আর থাকে না। এটি জীবনের এক চিরন্তন সত্য — যা হারাই, তার মূল্য বুঝি যখন তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
পিছুটান কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পিছুটান কবিতার লেখক কে?
পিছুটান কবিতার লেখক সালমান হাবীব। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, সম্পর্কের জটিলতা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “পিছুটান” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
প্রশ্ন ২: পিছুটান কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
পিছুটান কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো বিচ্ছেদ, একাকীত্ব ও স্মৃতির টান। কবি দেখিয়েছেন — মানুষ ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়, পিছুটানে আটকে যায়। শহরে লোক বাড়লেও একলা লাগে, বুকের ভিতর ঝরাপাতার শোক জড়িয়ে থাকে। সময় পেরিয়ে গেলে বুঝতে পারে, কিন্তু তখন হারানো মানুষ আর থাকে না।
প্রশ্ন ৩: ‘কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে / হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কেউ জানে না ফিরে যেতে যেতে / হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি পিছুটানের কথা বলেছেন। ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়া — অর্থাৎ অতীতের দিকে যেতে যেতে থেমে যাওয়া। এই দাঁড়ানোর মানে কেউ জানে না — এটি পিছুটানের টান, স্মৃতির টান, যা মানুষকে আটকে রাখে।
প্রশ্ন ৪: ‘শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক, / তবুও কেনো একলা লাগে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শূন্য লাগা শহরটাতে বাড়ছে শুধু লোক, / তবুও কেনো একলা লাগে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি আধুনিক জীবনের একাকীত্বের কথা বলেছেন। শহরে লোক বাড়ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তবুও শহরটা শূন্য লাগে। মানুষের ভিড়েও একাকীত্ব অনুভব করেন কবি। কারণ ভিড়ের মাঝেও প্রিয়জন নেই, সম্পর্ক নেই।
প্রশ্ন ৫: ‘সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন / হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে আসে যখন / হারানো মানুষ আর থাকে না তখন!’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। সময় পেরিয়ে গেলে যখন বুঝতে পারি যে আমরা আসলে কী হারিয়েছি, তখন সেই হারানো মানুষ আর থাকে না। তারা চলে গেছে, ফিরে আসবে না। এটি বিচ্ছেদের চূড়ান্ত বেদনা।
প্রশ্ন ৬: সালমান হাবীব সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
সালমান হাবীব আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, সম্পর্কের জটিলতা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় গভীর জীবনবোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। ‘পিছুটান’, ‘তোমার অবহেলার পর’, ‘ভালোবাসি প্রতিদিন’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
ট্যাগস: পিছুটান, সালমান হাবীব, সালমান হাবীবের কবিতা, পিছুটান কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, বিচ্ছেদের কবিতা, একাকীত্বের কবিতা, স্মৃতির কবিতা




