কবিতার খাতা
- 24 mins
আমি যদি হতাম – জীবনানন্দ দাশ।
আমি যদি হতাম বনহংস;
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শরের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে;
তাহলে আজ এই ফাল্পুনের রাতে
ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে
আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে
আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-
তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন-
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনার ডিমের মতো
ফাল্গুনের চাঁদ।
হয়তো গুলির শব্দঃ
আমাদের তির্যক গতিস্রোত,
আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস,
আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!
হয়তো গুলির শব্দ আবারঃ
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শান্তি।
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না:
থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার;
আমি যদি বনহংস হতাম,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। জীবনানন্দ দাশ।
আমি যদি হতাম – জীবনানন্দ দাশ | আমি যদি হতাম কবিতা | জীবনানন্দ দাশের কবিতা | বাংলা কবিতা
আমি যদি হতাম: জীবনানন্দ দাশের কল্পনা, প্রকৃতি ও মুক্তির অসাধারণ কাব্যভাষা
জীবনানন্দ দাশের “আমি যদি হতাম” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা কল্পনা, প্রকৃতি, মুক্তি ও অস্তিত্বের এক গভীর দার্শনিক অন্বেষণ। “আমি যদি হতাম বনহংস; / বনহংসী হতে যদি তুমি; / কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে / ধানক্ষেতের কাছে / ছিপছিপে শরের ভিতর / এক নিরালা নীড়ে” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক কল্পনার জগৎ, যেখানে কবি ও তাঁর প্রেমিকা পাখি হয়ে ওঠেন, প্রকৃতির সাথে মিশে যান, মুক্তির স্বাদ পান। জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, যিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, নিসর্গ, জীবন-মৃত্যু, সময় ও ইতিহাসচেতনার গভীর প্রকাশ ঘটে। “আমি যদি হতাম” তাঁর একটি শ্রেষ্ঠ কবিতা যা কল্পনা ও বাস্তবের দ্বন্দ্ব, মুক্তি ও বন্ধনের টানাপোড়েনকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
জীবনানন্দ দাশ: রূপসী বাংলার কবি
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, যিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত ছিলেন একজন শিক্ষক ও সমাজসেবক, মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. করার পর তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি কলকাতার সিটি কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, দিল্লির রামজস কলেজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ (১৯২৭) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘বেলা অবেলা কালবেলা’, ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, নিসর্গ, জীবন-মৃত্যু, সময় ও ইতিহাসচেতনার গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। “আমি যদি হতাম” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা কল্পনা ও বাস্তবের দ্বন্দ্বকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
আমি যদি হতাম কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“আমি যদি হতাম” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি কল্পনা, একটি ইচ্ছা, একটি সম্ভাবনা। ‘যদি’ শব্দটি অনিশ্চয়তা ও আকাঙ্ক্ষা নির্দেশ করে। কবি যদি কিছু হতেন — তা বাস্তব নয়, কল্পনার জগৎ। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা কল্পনার, মুক্তির, অন্য জীবনের আকাঙ্ক্ষার।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি যদি হতাম বনহংস; / বনহংসী হতে যদি তুমি; / কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে / ধানক্ষেতের কাছে / ছিপছিপে শরের ভিতর / এক নিরালা নীড়ে;” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন — আমি যদি হতাম বনহংস, বনহংসী হতে যদি তুমি। কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে, ধানক্ষেতের কাছে, ছিপছিপে শরের ভিতর, এক নিরালা নীড়ে।
বনহংস ও বনহংসীর তাৎপর্য
বনহংস — বুনো হাঁস, যা স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়ায়, প্রকৃতির সাথে মিশে থাকে। কবি নিজেকে বনহংস হতে চান, প্রিয়তমাকে বনহংসী। পাখি হওয়া মানে মুক্তি, স্বাধীনতা, প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়া।
জলসিঁড়ি নদী, ধানক্ষেত, শর ও নিরালা নীড়ের তাৎপর্য
জলসিঁড়ি নদী — সম্ভবত কোনো নদীর নাম। ধানক্ষেত — বাংলার প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শর — এক ধরনের ঘাস। এই সব উপাদান মিলে এক নির্জন, শান্ত, প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করে। সেখানে নিরালা নীড়ে তারা বাস করবে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তাহলে আজ এই ফাল্গুনের রাতে / ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে / আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে / আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম- / তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন- / নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা, / শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে / সোনার ডিমের মতো / ফাল্গুনের চাঁদ।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁদের কল্পিত জীবনের চিত্র এঁকেছেন। তিনি বলেছেন — তাহলে আজ এই ফাল্গুনের রাতে, ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে, আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম। তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন। নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা, শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ।
ফাল্গুনের রাত ও চাঁদের তাৎপর্য
ফাল্গুন — বসন্তের মাস, প্রেমের ঋতু। ফাল্গুনের রাতে চাঁদ উঠেছে — এটি একটি রোমান্টিক, স্বপ্নিল পরিবেশ।
নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে আকাশে ওড়ার তাৎপর্য
নিম্নভূমির জলের গন্ধ — মাটির গন্ধ, পৃথিবীর গন্ধ। তা ছেড়ে তারা আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিত — অর্থাৎ মাটির বন্ধন ছেড়ে আকাশে উড়ে যেত, মুক্তির স্বাদ নিত।
‘তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই পঙ্ক্তিটি প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র। তাদের পালক মিশে গেছে, রক্তের স্পন্দন এক হয়ে গেছে। তারা সম্পূর্ণ একাত্ম, অবিচ্ছেদ্য।
খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো তারার তাৎপর্য
খইক্ষেত — ভুট্টার ক্ষেত। তার সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা নীল আকাশে — এটি এক অপূর্ব চিত্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যের প্রতীক।
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদের তাৎপর্য
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড় — একটি কল্পিত, স্বপ্নিল স্থান। সেখানে সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ — এটি এক অসাধারণ চিত্রকল্প। চাঁদকে সোনার ডিমের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা সৃষ্টি ও জীবনের প্রতীক।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“হয়তো গুলির শব্দঃ / আমাদের তির্যক গতিস্রোত, / আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস, / আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!” তৃতীয় স্তবকে কবি বিপদের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — হয়তো গুলির শব্দ হবে। কিন্তু তা আমাদের তির্যক গতিস্রোত, আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস, আমাদের কণ্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!
গুলির শব্দের তাৎপর্য
গুলির শব্দ — বিপদ, মৃত্যুর হুমকি। হয়তো শিকারিরা তাদের লক্ষ্য করবে। কিন্তু কবি সেই বিপদকে ভয় পান না।
গুলির শব্দকে ‘তির্যক গতিস্রোত’, ‘পিস্টনের উল্লাস’, ‘উত্তর হাওয়ার গান’ বলার তাৎপর্য
গুলির শব্দকে তারা ভয়ঙ্কর কিছু নয়, বরং তাদের উড়ানের গতি, তাদের পাখার উল্লাস, তাদের গানের অংশ মনে করে। এটি বিপদের প্রতি এক অদ্ভুত উদাসীনতা, সাহস ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“হয়তো গুলির শব্দ আবারঃ / আমাদের স্তব্ধতা, / আমাদের শান্তি। / আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না: / থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার; / আমি যদি বনহংস হতাম, / বনহংসী হতে যদি তুমি; / কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে / ধানক্ষেতের কাছে।” চতুর্থ স্তবকে কবি মৃত্যু ও ব্যর্থতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — হয়তো গুলির শব্দ আবার হবে। কিন্তু তা আমাদের স্তব্ধতা, আমাদের শান্তি। আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না। থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার। আমি যদি বনহংস হতাম, বনহংসী হতে যদি তুমি, কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে, ধানক্ষেতের কাছে।
গুলির শব্দকে ‘স্তব্ধতা’ ও ‘শান্তি’ বলার তাৎপর্য
গুলির শব্দ মানেই মৃত্যু। কিন্তু সেই মৃত্যু তাদের কাছে স্তব্ধতা ও শান্তি। পাখি হয়ে মৃত্যুও যেন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ।
‘আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মানুষের জীবনে মৃত্যু ক্ষুদ্র, টুকরো টুকরো — অর্থাৎ অনেক ছোট ছোট মৃত্যু আছে (আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু, স্বপ্নের মৃত্যু, সম্পর্কের মৃত্যু)। এই টুকরো মৃত্যুগুলো না থাকত পাখি হলে।
‘টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মানুষের জীবনে অনেক সাধ, অনেক স্বপ্ন ব্যর্থ হয়, অন্ধকারে হারিয়ে যায়। পাখি হলে এই ব্যর্থতা, এই অন্ধকার থাকত না।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“আমি যদি হতাম” কবিতাটি কল্পনা, মুক্তি ও অস্তিত্বের এক অসাধারণ অন্বেষণ। কবি কল্পনা করেন — তিনি যদি বনহংস হতেন, প্রিয়তমা বনহংসী হতেন, তাহলে তারা কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে, ধানক্ষেতের কাছে, শরের ভিতর নিরালা নীড়ে বাস করতেন। ফাল্গুনের রাতে তারা ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখতেন, নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতেন। তাদের পালক ও রক্তের স্পন্দন এক হয়ে যেত। নীল আকাশে তারা খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা দেখতেন, শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ দেখতেন। হয়তো গুলির শব্দ হতো, কিন্তু তা তাদের তির্যক গতিস্রোত, পাখার উল্লাস, উত্তর হাওয়ার গান হয়ে যেত। হয়তো গুলির শব্দ আবার হতো, কিন্তু তা তাদের স্তব্ধতা, তাদের শান্তি হয়ে যেত। আজকের জীবনের টুকরো টুকরো মৃত্যু, টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার থাকত না। শেষে তিনি আবার সেই কল্পনায় ফিরে যান — আমি যদি বনহংস হতাম, বনহংসী হতে যদি তুমি, কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে, ধানক্ষেতের কাছে।
আমি যদি হতাম কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: আমি যদি হতাম কবিতার লেখক কে?
আমি যদি হতাম কবিতার লেখক জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)। তিনি বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, যিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ (১৯২৭) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, নিসর্গ, জীবন-মৃত্যু, সময় ও ইতিহাসচেতনার গভীর প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ২: আমি যদি হতাম কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
আমি যদি হতাম কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো কল্পনা, মুক্তি ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব। কবি কল্পনা করেন তিনি ও তাঁর প্রেমিকা পাখি হয়ে যান, প্রকৃতির সাথে মিশে যান, মুক্তির স্বাদ পান। সেখানে মৃত্যুও সুন্দর, ব্যর্থতা নেই, অন্ধকার নেই। কিন্তু এটা শুধু কল্পনা, বাস্তবতা অন্য রকম।
প্রশ্ন ৩: ‘তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন’ — এই পঙ্ক্তিটি প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র। তাদের পালক মিশে গেছে, রক্তের স্পন্দন এক হয়ে গেছে। তারা সম্পূর্ণ একাত্ম, অবিচ্ছেদ্য। এটি প্রেমের চরম পর্যায় — যেখানে দুজন এক হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৪: ‘হয়তো গুলির শব্দঃ / আমাদের তির্যক গতিস্রোত, / আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস, / আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘হয়তো গুলির শব্দঃ / আমাদের তির্যক গতিস্রোত, / আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস, / আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি বিপদের প্রতি এক অদ্ভুত উদাসীনতা প্রকাশ করেছেন। গুলির শব্দকে তারা ভয়ঙ্কর কিছু নয়, বরং তাদের উড়ানের গতি, তাদের পাখার উল্লাস, তাদের গানের অংশ মনে করে। এটি সাহস ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
প্রশ্ন ৫: ‘আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না: / থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না: / থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি মানুষের জীবনের ব্যর্থতা ও বেদনার কথা বলেছেন। মানুষের জীবনে অনেক ছোট ছোট মৃত্যু আছে — আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু, স্বপ্নের মৃত্যু, সম্পর্কের মৃত্যু। আর আছে সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার। পাখি হলে এই সব থাকত না।
প্রশ্ন ৬: জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ (১৯২৭) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, নিসর্গ, জীবন-মৃত্যু, সময় ও ইতিহাসচেতনার গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: আমি যদি হতাম, জীবনানন্দ দাশ, জীবনানন্দ দাশের কবিতা, আমি যদি হতাম কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, রূপসী বাংলার কবি, কল্পনার কবিতা, মুক্তির কবিতা






