আহা-নির্মলেন্দু গুণ।

মানুষের মৃত্যু হলে পর, মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকে, মৃত্যু পালিয়ে যায়।
মৃত্যু কোথায় যায়? আমরা জানি না।

হঠাৎ করোনা এসে আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেলো, করোনায় যারা মারা যায়,
সেই মৃতদের শবের ভিতরেই ওৎ পেতে থাকে মৃত্যু, —যতক্ষণ না আমরা ঐ মৃতদেহগুলি
গভীর মাটির তলে, কবরে লুকাই–;
অথবা শ্মশানে, চিতায় পুড়িয়ে মৃতদের ছাইভস্মে পরিণ(ক্লল করে ফেলি–।

তারপর কিছুটা স্বস্তি আসে আমাদের মনে।
ভাবি, যাক সমাপ্ত হলো একটি অধ্যায়।
কিন্তু সেই স্বস্তি খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়।
যে-কান্না আগে কখনও আসেনি চোখে,
বুকের ভিতর থেকে সেই রকমের
এক অনাস্বাদিত কান্নার ঢেউ উঠে আসে।
প্রশ্ন জাগে মনে– আমি কি বেঁচে আছি?
একে যদি বাঁচা বলি, মৃত্যু বলবো কাকে?

ঘরে ফেরার পর, ঘুমুতে যাবার আগে
হঠাৎ মনে পড়ে, ঐ যে পলিথিনে মোড়া
মরদেহটিকে দূর থেকে চকিতে দেখেছি,
সে ছিলো আমার পিতা, আমার জননী,
সে ছিলো আমার ভাই, আমার বোন–
সে ছিলো আমার স্বামী, পত্নী, প্রিয়তমা।

আর পলিথিনে মোড়া ঐ ছোট্ট শিশুটি,
সে ছিলো আমার সন্তান, আমার ভগবান।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। নির্মলেন্দু গুণ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x