কবিতার খাতা
মায়ের আলো- মাহবুব এ খোদা টুটুল।
রাত যত গভীর হচ্ছিল,
বাড়িটা ততই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছিল।
হঠাৎ মনে হলো—
আজ যেন বাতাসেও মায়ের গন্ধ ভেসে আসে,
আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি,
হাতে পুরনো একটা ডায়েরি।
ডায়েরিটা মা আমাকে দিয়েছিলেন—
মা বলেছিলেন,
“যেদিন মন ভেঙে যাবে, এই ডায়েরিটা খুলে দেখিস।
কাগজ কথা বলতে জানে,
কাগজ মানুষকে বাঁচাতেও জানে।”
সেই ডায়েরিটা আজ খুলতেই
একটি কাগজ আলতো করে পড়ে গেল মাটিতে।
মায়ের হাতের লেখা—
চেনা, সুন্দর, শান্ত।
“বাবু, জীবন কখনো থেমে থাকে না।
যেমন নদী থেমে থাকলে নদী থাকে না—
তেমনি মানুষ থেমে গেলে মানুষ থাকে না।
পথ যত কঠিন হোক, তুই আলো দেখে হাঁটবি।”
কাগজটা তুলে নিতেই
মনে হলো মা যেন আমার পাশে দাঁড়িয়ে।
মুখে সেই পরিচিত হাসি—
যা দেখে ছোটবেলায় আমি সব ভয় ভুলে যেতাম।
আমি ডায়েরিটা পাশে রেখে ঘরে ঢুকলাম।
ঘরটা আধো অন্ধকারে ডুবে,
কিন্তু টেবিলের কোণায় রাখা
মায়ের পুরনো দোপাটায়
এক টুকরো চাঁদের আলো পড়ে আছে।
হঠাৎ মনে হলো মা বলছেন,
“যে আলো হারিয়ে যায়,
তার সন্ধান মানুষই খুঁজে আনে।
তুই ডুববি না বাবু,
তুই জ্বলে উঠবি।”
আমি চুপচাপ বসে রইলাম।
বাইরে হালকা বাতাস বইছে,
মনে হচ্ছে মা আমার মাথায় হাত রেখে বলছেন—
“মনখারাপ হলে কাঁদিস,
কিন্তু কান্নায় ডুবে থাকিস না—
কান্নার পানি থেকেই ফুল ফোটে।”
ধীরে ধীরে ভেতরের ভার হালকা হতে লাগল।
আমি জানালা খুলে দিলাম—
বাতাস ঢুকে ঘর ভরে দিল
মায়ের সেই মাটি-মাখা গন্ধে।
ভোর হল।
আকাশে নরম গোলাপি আলো।
আমি আবার ডায়েরিটা খুললাম।
শেষ পাতায় মায়ের লেখা—
“যেদিন মনে হবে তুই আর পারছিস না,
সেদিন এক পা এগিয়ে যাস।
এক পা-ই যথেষ্ট ভাগ্য পাল্টাতে।”
আমি ডায়েরি বুকে চেপে ধরলাম।
মনে হলো মায়ের হাত
ঠিক আমার হাতের ওপর রেখে আছে।
আর সেই মুহূর্তে বুঝলাম—
মা হারিয়ে যায় না,
মাকে হারানো যায় না।
মা রয়ে যায়—
শব্দে, আলোতে, শ্বাসে,
আমার প্রতিটি ছোট জয়ের ভেতর।
আমি জানালা দিয়ে ভোরের আলোয় তাকালাম—
নিজেকে বললাম,
“আজও হাঁটব—
মায়ের আলো ধরে।”
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মাহবুব এ খোদা টুটুল।






