কবিতার খাতা
- 1
- 26 mins
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন – আহসান হাবীব।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন – আহসান হাবীব | বাংলা কবিতা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতা সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণ
আহসান হাবীবের “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য ও আধুনিক রচনা। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়” – এই প্রথম চরণগুলি কবিতার মূল সুর নির্ধারণ করেছে। আহসান হাবীবের এই কবিতায় নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, প্রতিবেশী সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন এবং আধুনিক সমাজের সংযোগহীনতাকে অত্যন্ত শিল্পসৌকর্যের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবিতা “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” পাঠকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করে এবং আধুনিক বাংলা কবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই কবিতায় কবি আহসান হাবীব শহুরে জীবনযাপন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামাজিক সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আহসান হাবীব রচিত “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটি রচিত হয়েছিল বাংলা কবিতার আধুনিক যুগে যখন শহুরে জীবন ও নাগরিক সংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করছিল। কবি আহসান হাবীব তাঁর সময়ের নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, ফ্ল্যাট সংস্কৃতি এবং প্রতিবেশী সম্পর্কের পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকে এই কবিতার মাধ্যমে চিত্রিত করেছেন। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং পাঠকদের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এটি আহসান হাবীবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয় যা নাগরিক জীবনের অন্তর্নিহিত একাকিত্ব ও সংযোগের আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবিতাটির মাধ্যমে কবি আধুনিক সমাজের সংকট ও সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও শৈলী
“দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত সংলাপধর্মী ও বাস্তববাদী। কবি আহসান হাবীব কথোপকথনের মাধ্যমে একটি গভীর সামাজিক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছেন। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট” – এই বাক্যাংশটি কবিতার মূল কাঠামো নির্ধারণ করেছে। “একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়” – এই প্রথম লাইনে কবি নাগরিক জীবনের শারীরিক নৈকট্য ও মানসিক দূরত্বের দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন। কবি আহসান হাবীবের শব্দচয়ন ও বাক্য গঠন বাংলা কবিতার ধারায় নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবনবোধের সঙ্গে সামাজিক পর্যবেক্ষণের মেলবন্ধন ঘটেছে। কবিতায় “সিঁড়ি”, “দরজা”, “ফ্ল্যাট”, “ল্যান্ডিং”, “রিকসা” প্রভৃতি নাগরিক চিত্রকল্প ব্যবহার করে কবি আধুনিক শহুরে জীবনযাত্রাকে প্রকাশ করেছেন।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার দার্শনিক তাৎপর্য
আহসান হাবীবের “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতায় কবি নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। “বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?” – এই পুনরাবৃত্ত প্রশ্নের মাধ্যমে কবি সময়ের ব্যবধান ও সম্পর্কের ক্ষয়কে প্রকাশ করেছেন। কবিতাটি পাঠককে সামাজিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত স্পেস সম্পর্কে চিন্তা করতে পরিচালিত করে। আহসান হাবীব দেখিয়েছেন কিভাবে আধুনিক নগর জীবনে মানুষ শারীরিকভাবে নিকটবর্তী হলেও মানসিকভাবে দূরবর্তী থাকে, কিভাবে দৈনন্দিন কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন প্রকাশ পায়। কবিতা “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” নাগরিক জীবন, সামাজিক সংযোগ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গভীর দার্শনিক ভাবনা উপস্থাপন করেছে। কবি আধুনিক মানুষের একাকিত্ব ও সংযোগের দ্বন্দ্বকে কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার কাঠামোগত বিশ্লেষণ
আহসান হাবীবের “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটি একটি অনন্য কাঠামোয় রচিত। কবিতাটির গঠন সম্পূর্ণভাবে সংলাপধর্মী – যেখানে দুটি চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন ঘটছে। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীর স্তরে প্রবেশ করে। কবি আহসান হাবীব কবিতার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ গল্প বলেছেন মাত্র কয়েকটি সংলাপের মাধ্যমে। কবিতাটিতে কলন বিন্দুর ব্যবহার কথোপকথনের প্রাকৃতিক প্রবাহ তৈরি করেছে। প্রতিটি সংলাপ সম্পর্কের নতুন নতুন দিক উন্মোচন করে। কবিতাটির শেষাংশে “যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই।” – এই লাইনগুলি মাধ্যমে কবি সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও সামাজিক সীমারেখাকে নির্দেশ করেছেন। কবিতাটি একটি মিনিয়েচার নাটকের মতো গঠিত যেখানে প্রতিটি লাইন চরিত্র ও সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার বিষয়বস্তু ও মূল বার্তা
“দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটির মূল বিষয় হলো নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, প্রতিবেশী সম্পর্কের জটিলতা এবং সামাজিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি আধুনিক ফ্ল্যাট সংস্কৃতির মধ্যে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও নৈকট্যের দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। কবি আহসান হাবীব দেখিয়েছেন কিভাবে শহুরে জীবনে মানুষ একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চায় কিন্তু সামাজিক সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে না। কবিতাটির মাধ্যমে নাগরিক জীবনের একাকিত্ব, প্রতিবেশীর মধ্যে গোপনীয়তা ও উৎসুক্য, এবং সামাজিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে গভীর ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতা আধুনিক শহুরে জীবনের মানসিকতা ও সামাজিক গতিবিদ্যাকে খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কবিতায় “হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন” লাইনটি মাধ্যমে কবি সামাজিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কবি আহসান হাবীব পরিচিতি ও সাহিত্যকর্ম
আহসান হাবীব বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথিতযশা ও আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবন, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক সম্পর্কের গভীর চিত্রণ পাওয়া যায়। তিনি বাংলা কবিতায় নতুন ধারার সূচনা করেন এবং সমসাময়িক কবিতাকে সমৃদ্ধ করেন। আহসান হাবীব বাংলা কাব্যসাহিত্যে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতার মাধ্যমে আহসান হাবীব বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর কবিতায় আধুনিক মানুষের দ্বন্দ্ব, সমাজবীক্ষণ এবং নাগরিক সংস্কৃতি প্রকাশ পায়।
কবি আহসান হাবীবের সাহিত্যকর্ম
আহসান হাবীবের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “রাত্রিশেষ”, “আছেন আমার ময়ূর”, “সব পাখি ঘরে ফেরে”, “মেঘ বলেছে যাব যাব” প্রভৃতি। তাঁর রচনাবলি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং আধুনিক বাংলা কবিতার বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আহসান হাবীবের কবিতা বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যা নাগরিক জীবনের বাস্তবতা ও সম্পর্কের জটিলতাকে প্রকাশ করে।
কবি আহসান হাবীবের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
আহসান হাবীবের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নাগরিক বাস্তবতা, সংলাপধর্মী শৈলী এবং সামাজিক পর্যবেক্ষণ। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতার অদ্ভুত সমন্বয় লক্ষণীয়। আহসান হাবীব দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাকে কবিতার বিষয়বস্তু বানিয়ে তা থেকে গভীর দার্শনিক সত্য উদ্ঘাটন করেন। তাঁর কবিতায় রয়েছে সহজবোধ্য ভাষা ও মর্মস্পর্শীতা। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়” লাইনের মতো সরল কিন্তু গভীর চিত্রকল্প তৈরি করতে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানবিক আবেগ উপস্থাপনের একটি অনন্য শৈলী রয়েছে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার লেখক কে?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার লেখক প্রখ্যাত বাংলা কবি আহসান হাবীব। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি হিসেবে স্বীকৃত।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার প্রথম লাইন কি?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার প্রথম লাইন হলো: “মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়”
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার মূল বিষয় হলো নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, প্রতিবেশী সম্পর্কের জটিলতা এবং আধুনিক সমাজের সংযোগহীনতা।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার বিশেষত্ব হলো এর সংলাপধর্মী গঠন, নাগরিক চিত্রকল্প এবং সামাজিক বাস্তবতার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ।
আহসান হাবীবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা কোনগুলো?
আহসান হাবীবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে “রাত্রিশেষ”, “আছেন আমার ময়ূর”, “সব পাখি ঘরে ফেরে”, “মেঘ বলেছে যাব যাব” প্রভৃতি।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটি কোন সাহিত্যিক ধারার অন্তর্গত?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ধারার অন্তর্গত এবং এটি নাগরিক কবিতার বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটির সামাজিক প্রভাব কী?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটি পাঠকদের মধ্যে নাগরিক জীবনের বাস্তবতা, প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং সামাজিক সংযোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটির ভাষাশৈলীর বিশেষত্ব কী?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতাটিতে ব্যবহৃত সংলাপধর্মী ভাষা, নাগরিক চিত্রকল্প এবং বাস্তববাদী প্রকাশভঙ্গি একে বাংলা কবিতার একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কবিতায় “মুখোমুখি ফ্ল্যাট” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“মুখোমুখি ফ্ল্যাট” বলতে কবি আধুনিক নগর জীবনের ফ্ল্যাট সংস্কৃতি, যেখানে মানুষ শারীরিকভাবে নিকটবর্তী কিন্তু মানসিকভাবে দূরবর্তী, সেই বাস্তবতাকে বোঝাচ্ছেন।
আহসান হাবীবের কবিতার অনন্যতা কী?
আহসান হাবীবের কবিতার অনন্যতা হলো নাগরিক জীবনবোধ, সংলাপধর্মী শৈলী এবং সামাজিক বাস্তবতার সূক্ষ্ম চিত্রণ।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতায় কবি কি বার্তা দিতে চেয়েছেন?
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতায় কবি এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে আধুনিক নগর জীবনে মানুষের মধ্যে শারীরিক নৈকট্য সত্ত্বেও মানসিক দূরত্ব বাড়ছে এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো আনুষ্ঠানিকতা ও গোপনীয়তার মাঝে সীমাবদ্ধ।
কবিতায় সংলাপধর্মী কাঠামোর বিশেষত্ব কী?
সংলাপধর্মী কাঠামো কবিতাকে গতিশীল করে, পাঠককে সরাসরি চরিত্রের কথোপকথনে জড়িত করে এবং সামাজিক সম্পর্কের জটিলতাকে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থাপন করে।
কবিতায় “বছর দুয়েক হল, তাই নয়?” পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য কী?
এই পুনরাবৃত্তি সময়ের ব্যবধান, সম্পর্কের স্থবিরতা এবং কথোপকথনের আনুষ্ঠানিকতাকে নির্দেশ করে যা নাগরিক জীবনের সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার সাহিত্যিক মূল্য
আহসান হাবীবের “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়” – এই লাইনটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কবিতাটির মাধ্যমে কবি নাগরিক জীবনের বাস্তবতা, সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা এবং আধুনিক মানুষের একাকিত্বকে খুব সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটি বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য। “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতা পড়ে পাঠক নাগরিক জীবন, সামাজিক গতিবিদ্যা এবং আধুনিক সম্পর্কের স্বরূপ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারেন।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার শিক্ষণীয় দিক
- নাগরিক জীবনের বাস্তবতা বোঝা
- প্রতিবেশী সম্পর্কের সামাজিক গতিবিদ্যা
- সংলাপধর্মী কবিতা রচনার কৌশল
- আধুনিক সমাজের সংযোগহীনতা বিশ্লেষণ
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিকতার সমন্বয়
- নাগরিক চিত্রকল্পের সাহিত্যিক ব্যবহার
- সময় ও সম্পর্কের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক
কবিতার ভাষাগত ও শৈল্পিক বিশ্লেষণ
“দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতায় আহসান হাবীব যে শৈল্পিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন তা বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত সংলাপধর্মী ও প্রাকৃতিক। কবি কথোপকথনের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। “মুখোমুখি ফ্ল্যাট” এর মতো সরল কিন্তু গভীর চিত্রকল্প পাঠকের মনে শহুরে জীবনের স্পষ্ট ছবি তৈরি করে। কবিতায় ব্যবহৃত চিত্রকল্পগুলি (“সিঁড়ি”, “দরজা”, “ফ্ল্যাট”, “রিকসা”, “হলুদ শার্ট”) আধুনিক নগর জীবনের প্রতীক। কবিতাটির গঠন একটি মিনিয়েচার নাটকের মতো যেখানে প্রতিটি সংলাপ চরিত্র ও সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করে। কবিতাটিতে ব্যবহৃত পুনরাবৃত্তি (“বছর দুয়েক হল, তাই নয়?”) সময় ও সম্পর্কের স্থবিরতাকে জোরালোভাবে প্রকাশ করে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
আহসান হাবীবের এই কবিতাটি আধুনিক বাংলাদেশের নগরায়ন প্রক্রিয়া ও সমাজ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কবিতাটি শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের একটি অতি পরিচিত দৃশ্য ধারণ করে – ফ্ল্যাটে বসবাস, প্রতিবেশীর সাথে সাক্ষাৎ, আনুষ্ঠানিক কথোপকথন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নগরায়ন ও ফ্ল্যাট সংস্কৃতি একটি নতুন বাস্তবতা যা গ্রামীণ সম্প্রদায়িক জীবন থেকে ভিন্ন। কবিতাটি এই পরিবর্তনশীল সামাজিক গতিবিদ্যাকে কাব্যিকভাবে ধারণ করে। কবি দেখিয়েছেন কিভাবে নগর জীবনে সামাজিক সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, কিভাবে মানুষ একে অপরের সাথে সম্পর্ক রাখে। কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে নাগরিক কবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং নতুন প্রজন্মের কবি ও পাঠকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতার আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা
আধুনিক ডিজিটাল যুগেও “দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন” কবিতার প্রাসঙ্গিকতা আগের চেয়েও বেশি। আজকের সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে মানুষ শারীরিকভাবে নিকটবর্তী হলেও মানসিকভাবে আরও দূরবর্তী হয়ে পড়ছে। কবিতায় চিত্রিত সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা ও গোপনীয়তার দ্বন্দ্ব আজকের সমাজে আরও প্রকট। ফ্ল্যাট সংস্কৃতি ও নগরায়ন বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, ফলে কবিতায় বর্ণিত সামাজিক বাস্তবতা আরও বেশি মানুষের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়। কবিতাটি আমাদের শেখায় যে প্রযুক্তি ও নগরায়নের যুগেও মানবিক সংযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। আহসান হাবীবের এই কবিতা সমকালীন পাঠকদের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করে যা তাদের নিজস্ব নাগরিক অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে।
ট্যাগস: দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন, দোতলার ল্যান্ডিং মুখোমুখি দুজন কবিতা, আহসান হাবীব, আহসান হাবীব কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, নাগরিক কবিতা, শহুরে জীবন কবিতা, সংলাপধর্মী কবিতা, প্রতিবেশী সম্পর্ক কবিতা, বাংলা সাহিত্য, কবিতা সংগ্রহ, আহসান হাবীবের কবিতা, আধুনিক বাংলা সাহিত্য, বাংলা কাব্য, কবিতা বিশ্লেষণ, ফ্ল্যাট সংস্কৃতি কবিতা
মুখোমুখি ফ্ল্যাট
একজন সিঁড়িতে, একজন দরজায়
: আপনারা যাচ্ছেন বুঝি ?
: চলে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব ।
: বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?
: তারো বেশী । আপনার ডাক নাম শানু,
ভালো নাম ?
: শাহানা, আপনার ?
: মাবু ।
: জানি ।
: মাহবুব হোসেন । আপনি খুব
ভালো সেলাই জানেন ।
: কে বলেছে । আপনার তো অনার্স
ফাইন্যাল, তাই নয় ?
: এবার ফাইন্যাল ।
: ফিজিক্স-এ অনার্স ।
: কী আশ্চর্য ! আপনি কেন ছাড়লেন
হঠাৎ ?
: মা চান না । মানে ছেলেদের
সঙ্গে বসে…
: সে যাক গে, পা সেরেছে ?
: কী করে জানলেন ?
: এই আর কি ! সেরে গেছে ?
: ও কিছুনা , প্যাসেজটা পিছলে ছিল
মানে…
: সত্যি নয় । উচুঁ থেকে পড়ে গিয়ে…
: ধ্যাৎ । খাবার টেবিলে রোজ
মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো ?
: মা বলেছে ?
: শুনতে পাই । বছর দুয়েক হল, তাই নয় ?
: তারো বেশী । আপনার টবের
গাছে ফুল এসেছে ?
: নেবেন ? না থাক । রিকসা এল,
মা এলেন , যাই ।
: আপনি সন্ধ্যে বেলা ওভাবে কখনও
পড়বেন না,
চোখ যাবে, যাই ।
: হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম
নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই ।
: যান, আপনার মা আসছেন ।
মা ডাকছেন, যাই ।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আহসান হাবীব।





❤️❤️❤️