হেমন্তভাবনা – ভাস্কর চক্রবর্তী।

ঘোলাটে মাথার ভেতর দিয়ে দিনরাতগুলো যায় আর ফিরে আসে
আমি গন্ধ পাই না, ছুরির ওপর এসে আছড়ে পড়ে সূর্যাস্ত,
আমি পড়তে পারি না
খসখসে হাতের ওপর এসে টোকা দেয় হেমন্তদিন,
আমি দরজা খুলি আর দেখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি
আমার চায়ের দোকানের বন্ধু, জঙ্গলের বন্ধু,
আমার সন্ধেগুলোর অধ্যাপক আর ঢেউগুলোর তরুণ ফর্সা প্রতিনিধি।

প্রবীণ কবি আর তাঁর পাণ্ডুলিপির মধ্যিখানে আমি থমকে দাঁড়িয়ে পড়ি
দাঁড়িয়ে পড়ি আর কথা শুনি
কথা শুনি নিকোটিনের, দেবদারুর, কথা শুনি অলিগলির,
গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়তে-পড়তে আমাকে বলছে: বিদায়,
ভালোবাসা মিলিয়ে যেতে-যেতে আমাকে বলছে কাছে এসো,
বিনীত মোমবাতির সামনে ঝুঁকে পড়ি আমি
মৃত্যু এসে কবিতার ভাষা উপহার দিয়ে যায় আমাকে
আর জীবন ঢেলে দেয় রঙ।

হাহাকারের পেছনদিকের আকাশে আজ জেগে উঠছে রঙিন আলো
বুদ্ধ-র ছায়া পড়েছে আধভাঙা সিঁড়িতে—
আমি রাস্তায় বেরোই আর শুনি অবসাদ আর দুশ্চিন্তার চেঁচামেচি
আমি রাস্তায় বেরোই আর দেখি নিঃসঙ্গতার ফাঁস
হাল্কা হাওয়ার পিঠে চেপে এসো এবার নম্র কাঠবিড়ালী,
এসো, এবার গান ধরো চড়ুই,
পাশ ফিরে শুলে, কী আশ্চর্য, চিন্তাগুলোও পাশ ফেরে
জ্যোৎস্নার ভেতর দিয়ে দেখা যায় আততায়ীর পা!
আমার ডানাদুটো কবে আর আমি নিজের মনে রঙ করবো
কবে আমি নিস্তব্ধ বাদামী মেয়েটির কাছে উড়ে গিয়ে বসে থাকবো
বিকেলবেলায়?

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন । ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x