কবিতার খাতা
- 30 mins
ম’রে যেতে সাধ হয় – আনিসুল হক।
শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো
ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে।
সখী পরিবৃতা হয়ে মোগল-দুহিতার মতো
করিডোরে অমন ক’রে হেঁটো না, আমার খারাপ লাগে।
শাহানা, তুমি চিবুক নাড়িয়ে
রাঙা মাড়িতে
দুধ শাদা হাতে
লালিম জিহ্বায়
গিটারের তারের মতো বেজে উঠো না —
দরদালান কেঁপে উঠে, ঢিল পড়ে বুকের পুকুরে,
কাঁপে পানি থিরিথিরি, আমার খারাপ লাগে।
শাহানা, তুমি টিফিন আওয়ারে ক্লাসরুমে ব’সে
অমন করে রাধার মতো দীর্ঘ চুল মেলে দিও না
অন্ধকার করে আসে সারাটা আকাশ
নিবে যায় সবগুলি নিয়ন
কালো মেঘের উপমা দিতে আমার ভালো লাগে না।
শাহানা, তুমি ক্যাফেটেরিয়ায় নিরেট চায়ের কাপে
ওই দুটি ঠোঁট রেখো না;
নিদাঘ খরার পোড়ে ঠোঁটের বাগান,
মরুভূর মতো জ্বলে তৃষ্ণার্ত সবুজ;
আমার মরে যেতে সাধ হয়।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আনিসুল হক।
ম’রে যেতে সাধ হয় – আনিসুল হক | আনিসুল হকের কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা
ম’রে যেতে সাধ হয়: আনিসুল হকের ভালোবাসার অতল গভীরতার কবিতা
আনিসুল হকের “ম’রে যেতে সাধ হয়” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অসাধারণ প্রেমের কবিতা, যা ভালোবাসার অতল গভীরতা, নিষ্ফলা আকাঙ্ক্ষা এবং প্রিয়ার রূপের অনির্বচনীয় মোহনীয়তাকে এক অনন্য কাব্যিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছে। “শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর ভালোবাসার কাহিনী, যেখানে প্রিয়ার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি, প্রতিটি চলাফেরা কবিকে আন্দোলিত করে, এমনকি মৃত্যুর সাধ পর্যন্ত জাগিয়ে তোলে। আনিসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক। তার কবিতায় প্রেম, বিরহ, নাগরিক জীবন, সমকালীন বাস্তবতা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “ম’রে যেতে সাধ হয়” তার একটি বহুপঠিত প্রেমের কবিতা, যা বাংলা প্রেমের কবিতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
আনিসুল হক: প্রেম ও বাস্তবতার কবি
আনিসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন এবং বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমের কবিতা’, ‘মৃত্যুর আগে’, ‘নষ্ট সময়ের প্রেম’, ‘ভালোবাসার কবিতা’ প্রভৃতি। তার কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সহজ-সরল ভাষায় গভীর প্রেমের অনুভূতি, নাগরিক জীবনের বাস্তবতা ও মানবিক আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ। “ম’রে যেতে সাধ হয়” তার একটি বহুপঠিত প্রেমের কবিতা যা বাংলা প্রেমের কবিতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার মূল সুর ও বিষয়বস্তু
“ম’রে যেতে সাধ হয়” কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রিয়ার রূপের অনির্বচনীয় মোহনীয়তা এবং সেই মোহে কবির নিষ্ফলা আকাঙ্ক্ষা, যা তাকে মৃত্যুর সাধ পর্যন্ত জাগিয়ে তোলে। কবি শাহানা নামের এক তরুণীকে সম্বোধন করে বলেছেন — “শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে।” তিনি শাহানাকে দেখতে চান না, কারণ তাকে দেখলে তার খারাপ লাগে — কিন্তু কেন খারাপ লাগে? কারণ তাকে দেখলে তার মরে যেতে সাধ হয়। তিনি শাহানাকে বলেছেন — সখী পরিবৃতা হয়ে মোগল-দুহিতার মতো করিডোরে হেঁটো না, চিবুক নাড়িয়ে রাঙা মাড়িতে দুধ শাদা হাতে লালিম জিহ্বায় গিটারের তারের মতো বেজে উঠো না, টিফিন আওয়ারে ক্লাসরুমে বসে রাধার মতো দীর্ঘ চুল মেলে দিও না, ক্যাফেটেরিয়ায় নিরেট চায়ের কাপে ওই দুটি ঠোঁট রেখো না। প্রতিটি দৃশ্যে তিনি শাহানার সৌন্দর্যে অভিভূত, কিন্তু সেই অভিভূতি তাকে বেদনা দেয়, তাকে মৃত্যুর সাধ জাগায়। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন — “আমার মরে যেতে সাধ হয়।”
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার শৈলীগত ও কাব্যিক বিশ্লেষণ
“ম’রে যেতে সাধ হয়” কবিতাটির ভাষা সহজ-সরল অথচ গভীর তাৎপর্যময়। আনিসুল হক চমৎকার চিত্রকল্প ও উপমা ব্যবহার করেছেন। কবিতায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকল্প ও উপমাগুলো: ‘গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো’ — শাহানার রূপকে গোলাপের সাথে তুলনা, যা কোমলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক; ‘সখী পরিবৃতা হয়ে মোগল-দুহিতার মতো’ — মোগল আমলের রাজকন্যার মতো সখীদের সঙ্গে শাহানার বিচরণ, যা ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক; ‘চিবুক নাড়িয়ে’ — অঙ্গভঙ্গির কৌশল; ‘রাঙা মাড়ি’ — লাল পাড়ের শাড়ি; ‘দুধ শাদা হাত’ — শুভ্রতা ও কোমলতার প্রতীক; ‘লালিম জিহ্বায়’ — জিহ্বার লালিমা, যা জীবন্ত সত্তার প্রতীক; ‘গিটারের তারের মতো বেজে উঠো না’ — শাহানার কণ্ঠের মধুরতাকে গিটারের সুরের সাথে তুলনা; ‘দরদালান কেঁপে উঠে’ — শাহানার উপস্থিতির প্রভাব; ‘ঢিল পড়ে বুকের পুকুরে’ — হৃদয়ে আঘাত লাগার প্রতীক; ‘কাঁপে পানি থিরিথিরি’ — আবেগের কম্পন; ‘রাধার মতো দীর্ঘ চুল মেলে দিও না’ — রাধা কৃষ্ণের প্রেমিকা, হিন্দু পুরাণের চরিত্র; ‘অন্ধকার করে আসে সারাটা আকাশ’ — শাহানার চুলের ঘনত্ব ও সৌন্দর্য আকাশ অন্ধকার করে দেয়; ‘নিবে যায় সবগুলি নিয়ন’ — কৃত্রিম আলো নিভে যায়; ‘কালো মেঘের উপমা দিতে আমার ভালো লাগে না’ — শাহানাকে কালো মেঘের সাথে তুলনা করতে চান না, কারণ তা নেতিবাচক; ‘নিরেট চায়ের কাপে ওই দুটি ঠোঁট রেখো না’ — চায়ের কাপে ঠোঁট রাখার অঙ্গভঙ্গি; ‘নিদাঘ খরার পোড়ে ঠোঁটের বাগান’ — প্রখর রোদে ঠোঁটের বাগান পুড়ে যায়; ‘মরুভূর মতো জ্বলে তৃষ্ণার্ত সবুজ’ — সবুজও তৃষ্ণায় জ্বলে; ‘আমার মরে যেতে সাধ হয়’ — ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ, প্রিয়াকে পেতে না পেরে মৃত্যুর সাধ।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতায় ‘খারাপ লাগা’ ও ‘মরে যেতে সাধ’ এর দ্বন্দ্ব
কবিতায় বারবার ‘খারাপ লাগে’ এবং শেষে ‘মরে যেতে সাধ হয়’ — এই দুটি অনুভূতির মধ্যে একটি গভীর দ্বন্দ্ব কাজ করছে। কবি শাহানাকে দেখলে খারাপ লাগে, কিন্তু তাকে দেখতেও চান। এই খারাপ লাগা ঘৃণার নয়, ভালোবাসার। তিনি শাহানাকে এত বেশি ভালোবাসেন যে তাকে দেখলে তার অসহ্য লাগে, কারণ তাকে পাওয়া যায় না, তাকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না। এই অসহ্য অনুভূতিই তাকে শেষ পর্যন্ত মরে যেতে সাধ জাগায়। ‘মরে যেতে সাধ হয়’ — এটি ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ। প্রিয়াকে পেতে না পেরে মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি বলে মনে হয়। এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে কবি ভালোবাসার গভীরতা ও তীব্রতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতায় শাহানা চরিত্রের তাৎপর্য
শাহানা এই কবিতার কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। তিনি একজন তরুণী কলেজছাত্রী, যিনি ক্যাম্পাসে গোলাপী জামা পরে আসেন, সখীদের সাথে করিডোরে হাঁটেন, টিফিন আওয়ারে ক্লাসরুমে বসে চুল মেলে দেন, ক্যাফেটেরিয়ায় চা খান। কিন্তু কবির চোখে তিনি সাধারণ কোনো ছাত্রী নন। তিনি জীবন্ত গোলাপ, মোগল-দুহিতা, রাধা — পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নারীদের সাথে তুলনীয়। তার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি, প্রতিটি চলাফেরা কবিকে আন্দোলিত করে। তিনি কবির ভালোবাসার পাত্রী, কিন্তু তিনি কি জানেন কবি তাকে ভালোবাসেন? কবি কি তাকে ভালোবাসার কথা বলেছেন? নাকি এই ভালোবাসা একতরফা? কবিতায় তার কোনো বক্তব্য নেই, শুধু কবির একপাক্ষিক উক্তি। এই শূন্যতা, এই অনিশ্চয়তাই কবিতাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতায় উপমার ব্যবহার
আনিসুল হক এই কবিতায় চমৎকার সব উপমা ব্যবহার করেছেন। শাহানাকে তিনি তুলনা করেছেন ‘জীবন্ত গোলাপ’-এর সাথে — যা সৌন্দর্য ও কোমলতার প্রতীক। তিনি তার চলাফেরাকে তুলনা করেছেন ‘মোগল-দুহিতা’-র সাথে — যা ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তার কণ্ঠকে তুলনা করেছেন ‘গিটারের তার’-এর সাথে — যা মধুরতা ও সংগীতের প্রতীক। তার চুলকে তুলনা করেছেন ‘রাধার চুল’-এর সাথে — যা পৌরাণিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এই উপমাগুলো শাহানার রূপকে একটি চিরন্তন, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক মাত্রা দিয়েছে। তিনি শুধু একজন সাধারণ ছাত্রী নন, তিনি চিরন্তন নারীত্বের প্রতীক।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতায় প্রকৃতির চিত্রকল্প
কবিতায় প্রকৃতির নানা চিত্রকল্প এসেছে। ‘ঢিল পড়ে বুকের পুকুরে, কাঁপে পানি থিরিথিরি’ — এখানে বুককে পুকুরের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা আবেগের গভীরতা বোঝায়। ‘অন্ধকার করে আসে সারাটা আকাশ’ — শাহানার চুলের ঘনত্ব ও সৌন্দর্য আকাশ অন্ধকার করে দেয়। ‘কালো মেঘের উপমা’ — শাহানাকে কালো মেঘের সাথে তুলনা করতে চান না কবি। ‘নিদাঘ খরার পোড়ে ঠোঁটের বাগান’ — ঠোঁটকে বাগানের সাথে তুলনা, যা খরায় পুড়ে যায়। ‘মরুভূর মতো জ্বলে তৃষ্ণার্ত সবুজ’ — সবুজ প্রকৃতি তৃষ্ণায় জ্বলে। এই প্রকৃতি চিত্রকল্পগুলো কবিতাকে এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। প্রকৃতি এখানে কবির আবেগের প্রতিফলক হয়ে উঠেছে।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতায় শেষ লাইনের তাৎপর্য
“আমার মরে যেতে সাধ হয়” — এই শেষ লাইনটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। পুরো কবিতায় কবি শাহানার রূপ ও অঙ্গভঙ্গি বর্ণনা করেছেন এবং প্রতিটি বর্ণনার পর বলেছেন — “আমার খারাপ লাগে”। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি খারাপ লাগার চেয়েও গভীর কিছু বলেন — “মরে যেতে সাধ হয়”। কেন মরে যেতে সাধ হয়? কারণ শাহানার সৌন্দর্য এতই অসহনীয়, তাকে পেতে না পারার যন্ত্রণা এতই তীব্র যে মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি বলে মনে হয়। এটি ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ। এই একটি লাইনে কবি ভালোবাসার অতল গভীরতা, নিষ্ফলা আকাঙ্ক্ষা ও বেদনার তীব্রতা ধারণ করেছেন।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার লেখক কে?
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার লেখক আনিসুল হক। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন এবং বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমের কবিতা’, ‘মৃত্যুর আগে’, ‘নষ্ট সময়ের প্রেম’, ‘ভালোবাসার কবিতা’ প্রভৃতি।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রিয়ার রূপের অনির্বচনীয় মোহনীয়তা এবং সেই মোহে কবির নিষ্ফলা আকাঙ্ক্ষা, যা তাকে মৃত্যুর সাধ পর্যন্ত জাগিয়ে তোলে। কবি শাহানা নামের এক তরুণীকে সম্বোধন করে বলেছেন — গোলাপী জামা পরে ক্যাম্পাসে এসো না, সখীদের সাথে করিডোরে হেঁটো না, অমন করে চুল মেলে দিও না, চায়ের কাপে ঠোঁট রেখো না — কারণ এগুলো দেখলে তার খারাপ লাগে, শেষ পর্যন্ত তার মরে যেতে সাধ হয়। ভালোবাসার অসহ্য যন্ত্রণাই এই কবিতার মূল সুর।
“শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে” — এই পঙ্ক্তিতে কবি শাহানার সৌন্দর্যের প্রতি তার অসহ্য আকর্ষণ ও বেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি শাহানাকে জীবন্ত গোলাপের সাথে তুলনা করেছেন — যা কোমলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু তাকে দেখলে তার খারাপ লাগে, কারণ তাকে দেখলে তার ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা জাগে, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না। এই অসহ্য অনুভূতিই খারাপ লাগা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
“আমার মরে যেতে সাধ হয়” — এই শেষ লাইনের তাৎপর্য কী?
“আমার মরে যেতে সাধ হয়” — এই শেষ লাইনটি কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। পুরো কবিতায় কবি শাহানার রূপ ও অঙ্গভঙ্গি বর্ণনা করেছেন এবং প্রতিটি বর্ণনার পর বলেছেন — ‘আমার খারাপ লাগে’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি খারাপ লাগার চেয়েও গভীর কিছু বলেন — ‘মরে যেতে সাধ হয়’। কেন মরে যেতে সাধ হয়? কারণ শাহানার সৌন্দর্য এতই অসহনীয়, তাকে পেতে না পারার যন্ত্রণা এতই তীব্র যে মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি বলে মনে হয়। এটি ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ।
কবিতায় শাহানা চরিত্রের তাৎপর্য কী?
কবিতায় শাহানা চরিত্রটি কেন্দ্রীয়। তিনি একজন তরুণী কলেজছাত্রী, যিনি ক্যাম্পাসে গোলাপী জামা পরে আসেন, সখীদের সাথে করিডোরে হাঁটেন, টিফিন আওয়ারে ক্লাসরুমে বসে চুল মেলে দেন, ক্যাফেটেরিয়ায় চা খান। কিন্তু কবির চোখে তিনি সাধারণ কোনো ছাত্রী নন। তিনি জীবন্ত গোলাপ, মোগল-দুহিতা, রাধা — পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নারীদের সাথে তুলনীয়। তার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি কবিকে আন্দোলিত করে। তিনি কবির ভালোবাসার পাত্রী, কিন্তু তিনি কি জানেন কবি তাকে ভালোবাসেন? এই অনিশ্চয়তা কবিতাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
কবিতায় কোন কোন উপমা ব্যবহার করা হয়েছে?
কবিতায় চমৎকার সব উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। শাহানাকে তুলনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত গোলাপ’-এর সাথে — সৌন্দর্য ও কোমলতার প্রতীক। তার চলাফেরাকে তুলনা করা হয়েছে ‘মোগল-দুহিতা’-র সাথে — ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তার কণ্ঠকে তুলনা করা হয়েছে ‘গিটারের তার’-এর সাথে — মধুরতা ও সংগীতের প্রতীক। তার চুলকে তুলনা করা হয়েছে ‘রাধার চুল’-এর সাথে — পৌরাণিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এই উপমাগুলো শাহানার রূপকে একটি চিরন্তন, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক মাত্রা দিয়েছে।
আনিসুল হক সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
আনিসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন এবং বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমের কবিতা’, ‘মৃত্যুর আগে’, ‘নষ্ট সময়ের প্রেম’, ‘ভালোবাসার কবিতা’ প্রভৃতি। তার কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সহজ-সরল ভাষায় গভীর প্রেমের অনুভূতি, নাগরিক জীবনের বাস্তবতা ও মানবিক আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ।
ম’রে যেতে সাধ হয় কবিতাটি আধুনিক পাঠকের জন্য কীভাবে প্রাসঙ্গিক?
“ম’রে যেতে সাধ হয়” কবিতাটি আজকের আধুনিক পাঠকের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: প্রথমত, এটি ভালোবাসার গভীরতা ও তীব্রতা প্রকাশ করে যা চিরন্তন। দ্বিতীয়ত, এটি ক্যাম্পাস জীবনের প্রেমের একটি চিত্র তুলে ধরে যা আজও তরুণদের কাছে প্রাসঙ্গিক। তৃতীয়ত, এটি নিষ্ফলা ভালোবাসার বেদনা দেখায় যা অনেকেই অনুভব করে। চতুর্থত, এটি চমৎকার উপমা ও চিত্রকল্পের ব্যবহার শেখায়। পঞ্চমত, এটি আনিসুল হকের কবিতার সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করায়। ষষ্ঠত, এটি আধুনিক বাংলা প্রেমের কবিতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
এই কবিতার অন্যতম সেরা লাইন কোনটি এবং কেন?
এই কবিতার অন্যতম সেরা লাইন: “আমার মরে যেতে সাধ হয়” অথবা “শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতো ক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে” — এই দুই লাইনের মধ্যে যেকোনো একটি সেরা বলা যায়। প্রথম লাইনটি সেরা হওয়ার কারণ: এটি সম্পূর্ণ কবিতার কেন্দ্রীয় বক্তব্য ও চূড়ান্ত পরিণতি ধারণ করে — ভালোবাসার অসহ্য যন্ত্রণায় মৃত্যুর সাধ। দ্বিতীয় লাইনটি সেরা হওয়ার কারণ: এটি একটি অসাধারণ উপমা ও দ্বন্দ্ব ধারণ করে — ‘জীবন্ত গোলাপ’ আর ‘খারাপ লাগে’ — এই দুইয়ের অস্বাভাবিক সম্মিলন। তবে শেষ লাইনটির তীব্রতা ও গভীরতা একে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে — “আমার মরে যেতে সাধ হয়” — এই পাঁচটি শব্দে কবি ভালোবাসার অতল গভীরতা ধারণ করেছেন।
ট্যাগস: মরে যেতে সাধ হয়, আনিসুল হক, আনিসুল হকের কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, শাহানা, ক্যাম্পাসের প্রেম, ভালোবাসার কবিতা, প্রথম আলো, নিষ্ফলা ভালোবাসা




