করতোয়ার মেয়ে – আদিত্য অনিক।

মেঘ বলে কেউ বৃষ্টি বলে, কেউবা বলে বন্যা,
কবির মনে বাস করে সেই করতোয়ার কন্যা।

সেই মেয়েটির লম্বা চুলে গাজরা খোঁপা বাঁধা,
বলেছিলেম কৃষ্ণ হব, হয় যদি সে রাধা।

সে মেয়েটির কালো চুলে ঢেউ খেলে যায় নদী,
যখন তখন স্বপ্নে এসে ভাসতো নিরবধি।

অসাধারণ সেই মেয়েটির খুব সাধারণ চাওয়া,
বুকের মধ্যে ভালোবাসা করতো আসা-যাওয়া।

শ্যামল কোমল সেই মেয়েটি অরুণা সুন্দরী,
লজ্জা পেতো কাছে এলে স্বর্গ-পুরীর পরি।

কোমল ঠোঁটে এমনি বাজে কৃষ্ণ ডাকা বাঁশি,
ঢেউ এর মতো উছলে পড়ে জোয়ার তোলা হাসি।

আঁচল উড়া হলুদ শাড়ি গাঁদা ফুলের শীতে,
অবাক কবি এফোঁড়-ওফোঁড় নেশার চাহনিতে।

পলকহারা চোখের তারায় কবির ছবি আঁকা,
চোখের সাদায় টলটলে জল নিজের জন্য রাখা।

টিয়া পাখির চোখের মতো চকচকে তার বরণ,
ঝুমুর ঝুমুর মল বাজানো শ্যামল সারস চরণ।

দুপুর বেলা রাজার ঘাটে রূপার জলে নেয়ে,
ছাদের পরে চুল শুকাতো করতোয়ার মেয়ে।

রাজার দিঘির চওড়া পাড়ে ছিল মেয়ের বাড়ি,
কবির জন্য দিয়েছিল অচেনা পথ পাড়ি।

নীল শাড়িতে সেজে মেয়ে আকাশ করে আলো,
মনে মনে খুব গোপনে বাসতো আমায় ভালো।

সকল দায়ে দায়ী কবি মেয়ের মনের কাছে,
কবির বুকের পাঁজরে তার সুনাম লেখা আছে।

হঠাৎ করে বাজল সানাই বিষের বাঁশির সুরে,
আঁচল দিয়ে অশ্রু মুছে হারিয়ে গেলো দূরে।

শূন্য ঘরে একলা এখন একলা জাগি রাতে,
অতীত স্মৃতি চাদর হয়ে জড়ায় বেদনাতে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুর এখানে। আদিত্য অনিক

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x