কবিতার খাতা
- 21 mins
বাংলাদেশ – কাজী নজরুল ইসলাম।
নমঃ নমঃ নমঃ বাংলা দেশ মম
চির-মনোরম চির-মধুর।
বুকে নিরবধি বহে শত নদী
চরণে জলধির বাজে নূপুর॥
শিয়রে গিরি-রাজ হিমালয় প্রহরী
আশিস্-মেঘবারি সদা তার পড়ে ঝরি,
যেন উমার চেয়ে এ আদরিনী মেয়ে.
ওড়ে আকাশ ছেয়ে মেঘ চিকুর ॥
গ্রীষ্মে নাচে বামা কাল-বোশেখী ঝড়ে,
সহসা বরষাতে কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে,
শরতে হেসে চলে শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী গীতি বিধুর॥
হরিত অঞ্চল হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে শিশির-ভেজা পায়ে,
শীতের অলস বেলা পাতা ঝরার খেলা
ফাগুনে পরে সাজ ফুল-বধূর॥
এই দেশের মাটি জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা নাহি ভূমন্ডলে,
এই মায়ের বুকে হেসে খেলে সুখে
ঘুমাব এই বুকে স্বপ্নাতুর॥
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। কাজী নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ – কাজী নজরুল ইসলাম | বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
কবিতা: বাংলাদেশ (সম্পূর্ণ পাঠ)
নমঃ নমঃ নমঃ বাঙলা দেশ মম
চির-মনোরম চির-মধুর।
বুকে নিরবধি বহে শত নদী
চরণে জলধির বাজে নূপুর॥
শিয়রে গিরি-রাজ হিমালয় প্রহরী
আশিস্-মেঘবারি সদা তার পড়ে ঝরি,
যেন উমার চেয়ে এ আদরিনী মেয়ে.
ওড়ে আকাশ ছেয়ে মেঘ চিকুর ॥
গ্রীষ্মে নাচে বামা কাল-বোশেখী ঝড়ে,
সহসা বরষাতে কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে,
শরতে হেসে চলে শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী গীতি বিধুর॥
হরিত অঞ্চল হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে শিশির-ভেজা পায়ে,
শীতের অলস বেলা পাতা ঝরার খেলা
ফাগুনে পরে সাজ ফুল-বধূর॥
এই দেশের মাটি জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা নাহি ভূমন্ডলে,
এই মায়ের বুকে হেসে খেলে সুখে
ঘুমাব এই বুকে স্বপ্নাতুর॥
স্বরূপ ও শিল্পমূল্য
কাজী নজরুল ইসলামের “বাংলাদেশ” কবিতাটি একটি গীতিধর্মী রচনা। এটি ২৪ পঙ্ক্তির একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ কবিতা। কবিতাটির প্রতিটি স্তবকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও ঋতুভিত্তিক রূপ ফুটে উঠেছে। নজরুল এখানে বাংলাদেশকে শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এক জীবন্ত মাতৃমূর্তি হিসেবে দেখেছেন। তিনি এই দেশের মাটি, জল, ফুল, নদী, ঋতু, পাহাড় ও সাগরকে এক অপূর্ব শিল্পীর চোখে দেখেছেন এবং তা কাব্যের ছন্দে ধারণ করেছেন। কবিতাটির মূল সুর দেশপ্রেম ও প্রকৃতি প্রেম। এটি নজরুলের কাব্যপ্রতিভার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই কবিতা রচনা করেন। এটি এমন এক সময় যখন ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন চলছিল। নজরুল সারা জীবন সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবতার পক্ষে কলম ধরেছেন। এই কবিতায় তিনি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন, শস্যশ্যামলা, স্বয়ংসম্পূর্ণ ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখেছেন। পরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই কবিতা জাতীয় জীবনে নতুন মাত্রা পায়। বর্তমানে এটি স্বাধীন বাংলাদেশের রূপ ও রসের এক অনবদ্য কাব্যিক দলিল।
শিরোনামের তাৎপর্য
কবিতার শিরোনাম “বাংলাদেশ” সরাসরি ও স্পষ্ট। নজরুল এখানে ভৌগোলিক সীমারেখার চেয়েও বেশি কিছু নির্দেশ করেছেন – একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, একটি সংস্কৃতি, একটি ভাষাভিত্তিক ভূখণ্ড। শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ নজরুলের সময়ে এই অঞ্চলটি ছিল ব্রিটিশ ভারত ও পরে পাকিস্তানের অংশ। কিন্তু তিনি “বাংলাদেশ” নামকরণের মাধ্যমেই এর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
প্রতিটি স্তবকের বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: নমস্কার ও ভৌগোলিক বর্ণনা
“নমঃ নমঃ নমঃ বাঙলা দেশ মম / চির-মনোরম চির-মধুর।” – তিনবার ‘নমঃ’ উচ্চারণের মাধ্যমে কবি বাংলাদেশকে প্রণাম জানিয়েছেন। এটি সংস্কৃত প্রণাম মন্ত্রের আদলে রচিত, যা দেশের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ করে। ‘চির-মনোরম’ ও ‘চির-মধুর’ – এই দুই বিশেষণে তিনি বাংলাদেশের সৌন্দর্যের চিরন্তনতা ও মাধুর্যের স্থায়িত্ব নির্দেশ করেছেন।
“বুকে নিরবধি বহে শত নদী / চরণে জলধির বাজে নূপুর॥” – এখানে নজরুল বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করেছেন। বুকে (অন্তরে) শত নদী বহমান, পায়ের নিচে সাগরের ধ্বনি নূপুরের মতো বাজছে। এটি এক অসাধারণ মানবীকরণ। নদীগুলোর ‘নিরবধি’ বহমানতা এই ভূখণ্ডের প্রাণশক্তির প্রতীক।
দ্বিতীয় স্তবক: হিমালয় ও প্রকৃতির মমতা
“শিয়রে গিরি-রাজ হিমালয় প্রহরী / আশিস্-মেঘবারি সদা তার পড়ে ঝরি” – বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। সেই হিমালয় থেকে আশীর্বাদের মেঘবৃষ্টি সর্বদা ঝরে পড়ে। নজরুল হিমালয়কে শুধু পাহাড় নয়, অভিভাবক ও আশীর্বাদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
“যেন উমার চেয়ে এ আদরিনী মেয়ে / ওড়ে আকাশ ছেয়ে মেঘ চিকুর॥” – উমা অর্থাৎ দেবী দুর্গা। নজরুল বলেন, বাংলাদেশ যেন উমার চেয়েও আদরিনী কন্যা। তার মেঘের কেশরাশি আকাশ ছেয়ে উড়ে। এখানে নজরুল হিন্দু পুরাণ ও বাংলার প্রকৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন। দুর্গা যেমন আদরের কন্যা, বাংলাদেশও তেমনি আদরের – প্রকৃতির কাছে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কাছে।
তৃতীয় স্তবক: গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরৎ
“গ্রীষ্মে নাচে বামা কাল-বোশেখী ঝড়ে” – গ্রীষ্মে বাংলাদেশ নাচে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে। ‘বামা’ অর্থ নারী – এখানে বাংলাদেশ নারীরূপে কল্পিত। এই নারী গ্রীষ্মের প্রচণ্ড ঝড়েও নৃত্য করে – অর্থাৎ বিপদের মধ্যেও সে তার প্রাণশক্তি হারায় না।
“সহসা বরষাতে কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে” – বর্ষায় হঠাৎ করেই সে কেঁদে ভেঙে পড়ে। বর্ষার অঝোর বৃষ্টি যেন তার কান্না। এখানে বর্ষার রূপকে কবি বাংলাদেশের সংবেদনশীলতা ও আবেগপ্রবণতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
“শরতে হেসে চলে শেফালিকা-তলে / গাহিয়া আগমনী গীতি বিধুর॥” – শরৎকালে বাংলাদেশ হেসে চলে শেফালি ফুলের তলে, আর গান গায় আগমনী গীতি। শেফালি শরতের ফুল, আর আগমনী গান দুর্গাপূজার আগমন উপলক্ষে গাওয়া হয়। শরতে তাই বাংলাদেশ আনন্দে ভেসে যায়।
চতুর্থ স্তবক: হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
“হরিত অঞ্চল হেমন্তে দুলায়ে / ফেরে সে মাঠে মাঠে শিশির-ভেজা পায়ে” – হেমন্তে ধান পেকে সোনালি হয়ে ওঠে। কবি বলেন, সেই সবুজ (হরিত) অঞ্চলকে দুলিয়ে বাংলাদেশ মাঠে মাঠে ঘুরে শিশিরভেজা পায়ে। এটি হেমন্তের স্নিগ্ধতা ও শান্তির প্রতীক।
“শীতের অলস বেলা পাতা ঝরার খেলা” – শীতের অলস সময়ে পাতা ঝরার খেলা চলে। এখানে শীতের নিস্তব্ধতা ও অবসন্নতা ফুটে উঠেছে।
“ফাগুনে পরে সাজ ফুল-বধূর॥” – ফাগুন (বসন্ত) এলে বাংলাদেশ ফুলের বধূর সাজ পরে। বসন্তে গাছে গাছে ফুল ফোটে, প্রকৃতি সেজে ওঠে – যেন নববধূর সাজ।
পঞ্চম স্তবক: মাটির গুণ ও আত্মসমর্পণ
“এই দেশের মাটি জল ও ফুলে ফলে / যে রস যে সুধা নাহি ভূমন্ডলে” – এই দেশের মাটি, জল ও ফুলে যে রস ও সুধা (অমৃত) ফলে, তা সমগ্র পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এটি বাংলাদেশের মাটির প্রতি কবির গভীর বিশ্বাস ও গর্বের বহিঃপ্রকাশ।
“এই মায়ের বুকে হেসে খেলে সুখে / ঘুমাব এই বুকে স্বপ্নাতুর॥” – শেষ লাইনে কবি বলেছেন, তিনি এই মায়ের বুকে হেসে খেলে জীবন কাটাবেন এবং শেষ পর্যন্ত এই বুকে ঘুমাবেন স্বপ্নাতুর হয়ে। এটি দেশের প্রতি তাঁর চরম আত্মসমর্পণ। মৃত্যুর পরেও তিনি এই মাটিতেই শুতে চান।
ছন্দ ও অলংকার
কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। নজরুল এখানে সংস্কৃত ও বাংলা শব্দের অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। ‘নমঃ’, ‘চির-মনোরম’, ‘নিরবধি’, ‘চিকুর’, ‘বিধুর’ – এসব শব্দ কবিতাকে আভিজাত্য দিয়েছে। তিনি এখানে মানবীকরণ, উপমা, রূপক ও শব্দালংকারের চমৎকার ব্যবহার করেছেন। যেমন – ‘বুকে বহে শত নদী’, ‘চরণে বাজে নূপুর’, ‘হিমালয় প্রহরী’, ‘মেঘ চিকুর’, ‘ফুল-বধূর সাজ’ – এসব চিত্রকল্প কবিতাকে দৃশ্যমান করে তুলেছে।
প্রকৃতি ও ঋতুচিত্র
নজরুল এখানে বাংলাদেশের ছয়টি ঋতুর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন – গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। প্রতিটি ঋতুকেই তিনি ব্যক্তিত্ব দিয়েছেন। গ্রীষ্মে নাচে, বর্ষায় কাঁদে, শরতে হাসে, হেমন্তে দুলায়, শীতে অলস, ফাগুনে সাজে ফুল-বধূর সাজে। এটি বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের এক অনবদ্য কাব্যিক চিত্র।
দেশপ্রেমের প্রকাশ
কবিতাটি শুরু থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। তিনবার ‘নমঃ’ উচ্চারণ, ‘মা’ সম্বোধন, ‘এই মায়ের বুকে ঘুমাব’ – এসবই কবির গভীর দেশপ্রেমের পরিচায়ক। নজরুল এখানে বাংলাদেশকে শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, মাতৃমূর্তিতে দেখেছেন। শেষ লাইনে মৃত্যুর পরও এই মাটিতে শুতে চাওয়া দেশপ্রেমের চরম প্রকাশ।
বাংলাদেশ কবিতার প্রশ্নোত্তর
১. ‘বাংলাদেশ’ কবিতায় নজরুল কীভাবে হিমালয়কে চিত্রিত করেছেন?
নজরুল হিমালয়কে বাংলাদেশের ‘শিয়রে’ (মাথার ওপরে) প্রহরীরূপে কল্পনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হিমালয় থেকে আশীর্বাদের মেঘবৃষ্টি সর্বদা বাংলাদেশের ওপর ঝরে পড়ে। এটি হিমালয়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও বাংলাদেশের প্রতি হিমালয়ের আশীর্বাদস্বরূপ।
২. ‘উমার চেয়ে এ আদরিনী মেয়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘উমা’ অর্থ দেবী দুর্গা। নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশ যেন উমার চেয়েও আদরের কন্যা। দুর্গা যেমন পিতৃগৃহে আদর পান, বাংলাদেশও তেমনি প্রকৃতির কাছে আদর পায়। তার মেঘের কেশরাশি আকাশ ছেয়ে উড়ে। এটি একটি চমৎকার পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক মেলবন্ধন।
৩. নজরুল বাংলাদেশের ঋতুগুলো কীভাবে চিত্রিত করেছেন?
নজরুল গ্রীষ্মে বাংলাদেশকে ‘নাচে বামা কাল-বোশেখী ঝড়ে’ রূপে, বর্ষায় ‘কাঁদিয়া ভেঙে পড়ে’ রূপে, শরতে ‘হেসে চলে শেফালিকা-তলে’ রূপে, হেমন্তে ‘মাঠে মাঠে শিশির-ভেজা পায়ে ফেরে’ রূপে, শীতে ‘পাতা ঝরার খেলা’ রূপে এবং ফাগুনে ‘ফুল-বধূর সাজ’ রূপে চিত্রিত করেছেন। প্রতিটি ঋতুতে তিনি ভিন্ন ভিন্ন মানবিক আবেগ ও প্রকৃতির লীলা ফুটিয়ে তুলেছেন।
৪. ‘এই দেশের মাটি জল ও ফুলে ফলে যে রস যে সুধা নাহি ভূমন্ডলে’ – এই লাইনের তাৎপর্য কী?
এই লাইনে নজরুল বাংলাদেশের মাটির গুণগান গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই দেশের মাটি, জল ও ফুলে যে রস, যে সুধা (অমৃত) ফলে, তা সমগ্র পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এটি বাংলাদেশের প্রতি তাঁর চরম ভালোবাসা ও গর্বের প্রকাশ।
৫. ‘ঘুমাব এই বুকে স্বপ্নাতুর’ – শেষ লাইনটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
শেষ লাইনে নজরুল বলেছেন, তিনি এই মায়ের বুকে হেসে খেলে জীবন কাটাবেন এবং শেষে এই বুকে ঘুমাবেন স্বপ্নাতুর হয়ে। অর্থাৎ তিনি মৃত্যুর পরেও এই মাতৃভূমির বুকে শুতে চান। এটি দেশের প্রতি কবির চরম আত্মসমর্পণ ও ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ। ‘স্বপ্নাতুর’ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এই ঘুম চিরন্তন, শান্তিপূর্ণ ও স্বপ্নময়।
৬. নজরুলের ‘বাংলাদেশ’ কবিতা কীভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকে ধারণ করে?
নজরুলের এই কবিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতারও বহু আগে রচিত হলেও এতে তিনি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বতন্ত্র, শস্যশ্যামলা ভূখণ্ডের স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর বর্ণিত নদী, ঋতু, প্রকৃতি ও মাটির গুণ স্বাধীন বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। ১৯৭১ সালের পর এই কবিতা বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নতুন তাৎপর্য পায় এবং আজ এটি বাংলাদেশের রূপ ও রসের এক অনবদ্য কাব্যিক দলিল।
৭. কবিতায় ব্যবহৃত প্রধান অলংকারগুলো কী কী?
কবিতায় ব্যবহৃত প্রধান অলংকারগুলো হলো – মানবীকরণ (বুকে বহে নদী, চরণে বাজে নূপুর), উপমা (যেন উমার চেয়ে এ আদরিনী মেয়ে), রূপক (হিমালয় প্রহরী, মেঘ চিকুর, ফুল-বধূর সাজ), শব্দালংকার (নমঃ নমঃ নমঃ, চির-মনোরম চির-মধুর)।
ট্যাগস
বাংলাদেশ, কাজী নজরুল ইসলাম, নজরুল কবিতা, বাংলা কবিতা, বাংলাদেশের কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, ঋতুর কবিতা, দেশাত্মবোধক কবিতা, নদীর কবিতা, হিমালয়, উমা, শেফালিকা, ফাগুন, আগমনী গীতি, বাংলা সাহিত্য, কবিতা বিশ্লেষণ, নজরুলের শ্রেষ্ঠ কবিতা, বাংলা দেশ মম, স্বাধীনতা পরবর্তী কবিতা






