পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন
এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।
অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।
মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান
লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন
পাগলী, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে বই দেখব প্যারামাউন্ট হলে
মাঝে মাঝে মুখ বদলে একাডেমি রবীন্দ্রসদন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে কলাকেন্দ্র কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে বাবুঘাট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দেশপ্রিয় কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে সদা সত্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘কী মিথ্যুক’ কাটাব জীবন।
এক হাতে উপায় করব, দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি
রেস খেলব জুয়া ধরব ধারে কাটাব সহস্র রকম
লটারি, তোমার সঙ্গে ধনলক্ষ্মী জীবন কাটাব
লটারি, তোমার সঙ্গে মেঘধন কাটাব জীবন।
দেখতে দেখতে পুজো আসবে, দুনিয়া চিত্কার করবে সেল
দোকানে দোকানে খুঁজব রূপসাগরে অরূপরতন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে রিডাকশনে কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে কাঁচা প্রুফ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ফুলপেজ কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে আউট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে হালুয়া কাটাব জীবন।
কবিত্ব ফুড়ুত্ করবে, পিছু পিছু ছুটব না হা করে
বাড়ি ফিরে লিখে ফেলব বড়ো গল্প উপন্যাসোপম
পাগলী, তোমার সঙ্গে কথাশিল্প জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে বকবকম কাটাব জীবন।
নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে
ধরা পড়ব তোমার হাতে, বাড়ি ফিরে হেনস্তা চরম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচ্যাকা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে হেস্তনেস্ত কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে পাপবিদ্ধ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধর্মমতে কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজা বেদি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মধুমালা কাটাব জীবন।
দোঁহে মিলে টিভি দেখব, হাত দেখাতে যাব জ্যোতিষীকে
একুশটা উপোস থাকবে, ছাব্বিশটা ব্রত উদযাপন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভাড়া বাড়ি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিজ ফ্ল্যাট কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যাওড়াফুলি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যামনগর কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে রেল রোকো জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লেট স্লিপ কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে আশাপূর্ণা জীবন কাটাব
আমি কিনব ফুল, তুমি ঘর সাজাবে যাবজ্জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় জওয়ান জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় কিষান কাটাব জীবন।
সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে, হবে দুই বিছানা আলাদা
হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ মধ্যরাতে আচমকা মিলন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ব্রক্ষ্মচারী জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে আদম ইভ কাটাব জীবন।
পাগলী, তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রী কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ছাল চামড়া জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটাব জীবন।
এর গায়ে কনুই মারব রাস্তা করব ওকে ধাক্কা দিয়ে
এটা ভাঙলে ওটা গড়ব, ঢেউ খেলব দু দশ কদম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোঝড় জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘ভোর ভয়োঁ’ কাটাব জীবন।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। জয় গোস্বামী।
পাগলী তোমার সঙ্গে – জয় গোস্বামী | পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতা | জয় গোস্বামীর কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা
পাগলী তোমার সঙ্গে: জয় গোস্বামীর প্রেম, জীবন ও নানা রঙের অসাধারণ কাব্যভাষা
জয় গোস্বামীর “পাগলী তোমার সঙ্গে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা প্রেম, জীবন, সম্পর্কের নানা রঙ ও দৈনন্দিন জীবনের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব / পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন / এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা / পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক অদ্ভুত প্রেমের গল্প, যেখানে কবি তাঁর প্রিয়তমাকে ‘পাগলী’ বলে সম্বোধন করে এক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন — ভয়াবহ, ধুলোবালি, ঝগড়া, মিলন, সব কিছু মিলিয়ে। জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “পাগলী তোমার সঙ্গে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা প্রেমের নানা রূপ, নানা মাত্রা ও জীবনের নানা বাস্তবতাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
জয় গোস্বামী: আধ্যাত্মিক চেতনার কবি
জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমিয়েছিল ঘড়ি’ (১৯৭৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’, ‘জলের মধ্যে লেখাজোখা’, ‘মাঝখানে’, ‘সারা দুপুরের গান’, ‘দক্ষিণা’, ‘মাসিপিসি’, ‘দোল শান্তিনিকেতন’, ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস ও শ্রীরামকৃষ্ণ আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত। “পাগলী তোমার সঙ্গে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা প্রেমের নানা রূপ, নানা মাত্রা ও জীবনের নানা বাস্তবতাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“পাগলী তোমার সঙ্গে” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘পাগলী’ — প্রিয়তমাকে উদ্দেশ্য করে একটি স্নেহের, আদরের, অন্তরঙ্গ সম্বোধন। ‘তোমার সঙ্গে’ — সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা প্রেমের, সম্পর্কের, একসঙ্গে জীবনের নানা রঙ ভাগ করে নেওয়ার কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব / পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন / এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা / পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর প্রিয়তমার সঙ্গে জীবনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন — পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব। পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন। এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা। পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।
‘ভয়াবহ জীবন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ভয়াবহ মানে খারাপ নয়, এখানে রোমাঞ্চকর, উত্তেজনাপূর্ণ বোঝাচ্ছে। কবি তাঁর প্রিয়তমার সঙ্গে একটি উত্তেজনাপূর্ণ জীবন কাটাতে চান।
‘ধুলোবালি জীবন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ধুলোবালি মানে সাধারণ, মাটির কাছাকাছি, জাঁকজমকহীন জীবন। তিনি বিলাসিতা নয়, সহজ জীবন চান।
‘ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জীবনের উত্তাল সময়েও তিনি প্রিয়তমার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যেতে চান।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে / তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন / погание, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব / погание, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি ঝগড়া-ঝাটির কথাও বলেছেন। তিনি বলেছেন — অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে। তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন। পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব। পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।
‘বঙ্গভঙ্গ জীবন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসের একটি ঘটনা। এখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিভেদ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘৪২ কাটাব জীবন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৪২ — সম্ভবত ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ইঙ্গিত। এখানে সংগ্রামী জীবন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান / লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন / погание, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব / погание, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।” তৃতীয় স্তবকে কবি লোকসানের পরেও প্রিয়তমার কাছে পাওয়া মায়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান। লোকসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন। পাগলী, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব। পাগলী, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।
‘মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মায়া ও প্রপঞ্চের ব্যঞ্জন — অর্থাৎ ভালোবাসা ও জগতের মিশেলে তৈরি এক বিশেষ খাবার। প্রিয়তমার রান্না সব লোকসান পুষিয়ে দেয়।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“погание, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব / погание, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন / погание, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব / погание, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।” চতুর্থ স্তবকে কবি খাবার ও অক্ষরের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — পাগলী, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব। পাগলী, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন। পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব। পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।
‘নিরক্ষর জীবন’ ও ‘চার অক্ষর’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নিরক্ষর জীবন — সরল, অকৃত্রিম জীবন। চার অক্ষর — সম্ভবত বাংলা ভাষার প্রতি ইঙ্গিত, অথবা ‘ভালোবাসি’ — এই চার অক্ষরের কথা।
পরবর্তী স্তবকগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
পরবর্তী স্তবকগুলোতে কবি নানা বিষয়ে প্রিয়তমার সঙ্গে জীবন কাটানোর কথা বলেছেন — সিনেমা দেখা (প্যারামাউন্ট হলে), সংস্কৃতি চর্চা (একাডেমি, রবীন্দ্রসদন), নাইট্যশালা, কলাকেন্দ্র, বাবুঘাট, দেশপ্রিয়, সদা সত্য, কী মিথ্যুক — সব মিলিয়ে এক বিচিত্র জীবন। তিনি জুয়া খেলা, লটারি, ধনলক্ষ্মী, মেঘধন — সব কিছুর মধ্যেও প্রিয়তমাকে সঙ্গে রাখতে চান। পুজোয় রূপসাগরে অরূপরতন খোঁজা, কাঁচা প্রুফ, ফুলপেজ, লে আউট, লে হালুয়া — এগুলো সাংবাদিকতা বা প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শব্দ, যা কবির পেশার ইঙ্গিত দেয়। তিনি কবিত্ব ছেড়ে বড় গল্প, উপন্যাস লেখার কথাও বলেছেন। নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা, ধরা পড়া, হেনস্তা — এসবেও প্রিয়তমা সঙ্গে আছেন। পাপবিদ্ধ, ধর্মমতে, পুজা বেদি, মধুমালা — নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। টিভি দেখা, জ্যোতিষী দেখা, উপোস, ব্রত — দৈনন্দিন জীবনের চিত্র। ভাড়া বাড়ি থেকে নিজ ফ্ল্যাট, শ্যাওড়াফুলি, শ্যামনগর — বিভিন্ন স্থানের নাম। রেল রোকো, লেট স্লিপ — সামাজিক আন্দোলন ও অফিসের কাজ। আশাপূর্ণা, ফুল কেনা, ঘর সাজানো — সংসারের কাজ। জয় জওয়ান, জয় কিষান — দেশপ্রেম। সন্ধেবেলা ঝগড়া, দুই বিছানা আলাদা, হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ, মধ্যরাতে মিলন — সম্পর্কের ওঠানামা। ব্রক্ষ্মচারী, আদম ইভ — জীবনদর্শন। রামরাজ্য, প্রজাতন্ত্রী — রাজনৈতিক চেতনা। ছাল চামড়া, দাঁতে দাঁত — লড়াই, দ্বন্দ্ব। এর গায়ে কনুই মারব, ওটা ভাঙলে ওটা গড়ব — সমাজের সাথে সম্পর্ক। সব শেষে ‘ভোর ভয়োঁ’ — হিন্দি শব্দ, ভোর হওয়ার আগে?
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“পাগলী তোমার সঙ্গে” কবিতাটি প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র। কবি তাঁর প্রিয়তমাকে ‘পাগলী’ বলে সম্বোধন করে এক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন — ভয়াবহ জীবন, ধুলোবালি জীবন, ঝগড়া-ঝাটি, মিলন, লোকসান, লাভ, পেশা, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনীতি — সব কিছুই একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি স্তবকের শুরুতে ‘পাগলী, তোমার সঙ্গে’ বারবার এসেছে, যা এই প্রতিশ্রুতির তীব্রতা ও গভীরতা নির্দেশ করে।
পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতার লেখক কে?
পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতার লেখক জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ২: পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রেমের নানা রূপ, নানা মাত্রা ও জীবনের নানা বাস্তবতাকে একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। কবি তাঁর প্রিয়তমার সঙ্গে ভয়াবহ থেকে ধুলোবালি, ঝগড়া থেকে মিলন, পেশা থেকে সংস্কৃতি, ধর্ম থেকে রাজনীতি — সব কিছু ভাগ করে নিতে চান।
প্রশ্ন ৩: ‘পাগলী, তোমার সঙ্গে’ বারবার আসার তাৎপর্য কী?
‘পাগলী, তোমার সঙ্গে’ বারবার আসার মাধ্যমে কবি তাঁর প্রিয়তমার প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাকে একটি বিশেষ ছন্দ দিয়েছে এবং প্রেমের গভীরতা নির্দেশ করেছে।
প্রশ্ন ৪: ‘বঙ্গভঙ্গ জীবন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বঙ্গভঙ্গ জীবন’ — বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসের একটি ঘটনা। এখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিভেদ, ভাঙন বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কবি তাঁর প্রিয়তমার সঙ্গেও এই ভাঙন-গড়নের মধ্য দিয়ে যেতে চান।
প্রশ্ন ৫: জয় গোস্বামী সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমিয়েছিল ঘড়ি’ (১৯৭৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: পাগলী তোমার সঙ্গে, জয় গোস্বামী, জয় গোস্বামীর কবিতা, পাগলী তোমার সঙ্গে কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা