পনেরোই ফেব্রুয়ারির গোলাপ – আর্যতীর্থ।

পনেরোই ফেব্রুয়ারির গোলাপদের মতো ভালোবাসার গল্পগুলো কেউ জানে না ,
কবিরাও নয়।

চোদ্দ তারিখে অতি যত্নে যে রক্তবর্ণা সুঠাম সুন্দরী ধনী ফুলটি হস্তান্তরিত হয়ে
ঠাঁই পেলো কারোর হাতে, খোঁপায় বা বুকপকেটে,
পনেরো তারিখই সেই রহস্যঘেরা নিউমেরোলজি,
যে দিন সে লিখে দেয় সেই সব প্রেমেদের আগামীর ঠিকুজি-কুলজি।

ওই দেখো, ডাস্টবিনে পড়ে আছে সে ফুলের শব।
এখানে প্রেমের ভান আছে,
সরাসরি অস্বীকারে হয়তো বা নামবে বিপদ,
অথচ সে ফুল ছুঁলে হাত জুড়ে কন্টকজ্বালা,
এ সম্পর্ক ভালোবাসাহীন এক নিয়মের বন্দীশালা,
আর কিছু নয়।

ওই বাড়ি সযত্নে রাখা ফুল টেবিলের কোণে,
কোনো বাহারি বিদেশি ভাস-এ নয়, নেহাতই জলের গ্লাসে।
প্রাণপণে চাইছে সে মন,
সে ফুল থাকুক বেঁচে আরো কিছুক্ষণ,
‘ ফুলটা কে দিয়েছে রে? ‘ ওই শোনো, মায়ের কঠোর জেরায় কী বলছে সে
‘ কেউ না মা, নিজেই কিনেছি, পাঁচ টাকা দিয়ে’
প্রেমকে বাঁচাতে গিয়ে একদিনে পঞ্চাশ ডিভ্যালুড পাঁচ টাকাতে,
একটু হলেই ধরা পড়ে যেতো হাতে নাতে।

তারিখ বদলে গেছে, অথচ ফুলটা এখনো ফটোর সামনে ।
যত বাসি হোক ,
রয়ে যাওয়া সাথীটির ভীষণ আলস্য আজ তাকে একটু সরাতে,
মালাঝোলা হাসিমুখ যেখানে গিয়েছে চলে অখণ্ড নীরবতা পৃথিবীতে ফেলে,
এখনো ভীষণ ভালোবাসে তাকে কেউ, সেইখানে যদি সেই সংবাদ মেলে।

বইয়ের ভাঁজের ওই শুকনো গোলাপটাকে দেখো ।
এ চোদ্দো তারিখ নয়, কয়েক চোদ্দ আগে প্রাপকের কাছে এসেছিলো সে,
সেই পনেরো’র থেকে তার স্থান ওইখানে।
প্রেরক ও প্রাপক কি আজও একসাথে?
নাকি ব্লক করা নম্বরে স্মৃতি শুধু আছড়িয়ে পড়ে এই দিনে?
ভালোবাসা থিতু বুঝি ভালো বাসাতে?
নাকি স্রেফ ফিরে আসা ব্যর্থ দীর্ঘশ্বাসে
পনেরো ফেব্রুয়ারি বেকার রুটিনে?
এ কাহিনী কোনদিকে আমরা জানি না,
দৃষ্টি নিবদ্ধ যার শুকনো গোলাপ ফুলে পনেরো তারিখে,
সে-ই শুধু জানে কী পরিণতি শেষে পেয়েছে প্রণয়,
কিছু কিছু কল্পনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে হয়।

পনেরো ফেব্রুয়ারির গোলাপদের মতো প্রেমের কাহিনী আর কেউ জানে না,
কবিরাও নয়।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আর্যতীর্থ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x