কবিতার প্রথমাংশেই কবি প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের সেই চেনা পুরুষালি বয়ানকে তুলে ধরেছেন, যা আমরা যুগ যুগ ধরে পাঠ্যবইয়ে পড়ে আসছি। জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন কিংবা নিয়েনডার্থাল ম্যান—সভ্যতার আদি লগ্নে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা এই সমস্ত আদিম মানুষদের পরিচয় শুধুই ‘ম্যান’ বা পুরুষ হিসেবে। ভোঁতা পাথরের অস্ত্রে ভাল্লুক শিকার করা কিংবা বাঁশের ফুঁটোয় প্রথম আড়বাঁশি বাজাতে শেখা—সভ্যতার এই ‘ম্যান মেড’ বা পুরুষ-বিনির্মিত ইতিহাসে নারীরা যেন কেবলই এক অবহেলা আর অন্ধকারের অনুষঙ্গ। তারা ‘ছায়াপথ’ বা ‘ছায়া ছায়া মানবী’ হয়ে পাশে ছিল ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের মূল পাতায় তাদের কোনো স্থান বা স্বীকৃতি মেলেনি। প্যালিওলিথিক, স্টোন এজ কিংবা আয়রন এজ—সব যুগের নায়কেরা অবধারিতভাবেই লোহা ও পাথর হাতে একেকজন বীর পুরুষ।
কবিতার দ্বিতীয় ও প্রধান অংশে মল্লিকা সেনগুপ্ত তাঁর স্বভাবসুলভ তীব্র শ্লেষ ও উপহাসের চাবুক মেরেছেন এই পুরুষতান্ত্রিক ইতিহাসের মুখে। তিনি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে দেখিয়েছেন, ইতিহাস যেভাবে কেবল ‘পূর্বপুরুষ’ আর ‘উত্তরপুরুষ’ নিয়ে কথা বলে, সেখানে কোনো ‘উত্তরমানুষ’ বা ‘পূর্বনারী’র অস্তিত্বই নেই। ইতিহাস (History) যেন আক্ষরিক অর্থেই কেবল শৌর্যবীর্যে ভরা পুরুষের গল্প বা ‘হিজ স্টোরি’ (His-story)। এই ইতিহাসে যেহেতু নারীর কোনো উল্লেখ নেই, তাই কবি ব্যঙ্গাত্মক সুরে ধরে নিয়েছেন—তবে কি তখন পৃথিবীতে কোনো নারীই ছিল না? বিজ্ঞানের সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তবে কি জাভাপুরুষের গর্ভেই নতুন পুরুষের জন্ম হয়েছিল? নিয়েনডার্থাল পুরুষেরা নিজেই কি শিশুদের স্তন্যদাত্রী মা হয়ে উঠেছিল? পুরুষের এই একচ্ছত্র আধিপত্যকে উপহাস করে কবি বলেন, তবে তো পুরুষ নিজেই ছিল ভগবান ও ভগবতী, নিজেই জনক ও জননী, নিজেই সুর ও বাঁশরি এবং একই সাথে লিঙ্গ ও জরায়ু!
পরিশেষে, কবিতাটি এক অভূতপূর্ব ও চরম বিস্ফোরণাত্মক সত্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়—‘আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ।’ এখানে ‘হিজরে’ বা তৃতীয় লিঙ্গের রূপকটি কবি ব্যবহার করেছেন মূলত সেইসব ইতিহাসবিদদের অন্ধত্ব, অক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্বকে নগ্ন করার জন্য। যে ইতিহাসবিদরা সভ্যতার অর্ধেক আকাশ বা নারীর অবদানকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একপেশে ইতিহাস লিখেছেন, তারা আসলে মানসিকভাবে হিজড়ে বা পুরুষত্ব ও নারীত্বের প্রকৃত ভারসাম্য বুঝতে অক্ষম। তারা ক্ষমতার দালালি করতে গিয়ে মানব ইতিহাসের এক চরম বিকৃত ও অসম্পূর্ণ রূপ আমাদের সামনে পরিবেশন করেছেন।
সৃষ্টির সার্থকতা লৌকিক হাততালিতে নয়, বরং স্রষ্টার নিজের মানসিক মুক্তি এবং অস্তিত্বের তাগিদে—যা এই কবিতায় মল্লিকা সেনগুপ্তের অত্যন্ত ঋজু, সাহসী, মেদহীন এবং শ্লেষাত্মক গদ্যছন্দে, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের চেনা অনুষঙ্গকে ব্যবহার করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মুখে এক তীব্র চপেটাঘাত এবং নারীর আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার এক অবিনশ্বর দলিল হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য ও কালজয়ী কবিতা হিসেবে অমর করে রেখেছে।
ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে – মল্লিকা সেনগুপ্ত | মল্লিকা সেনগুপ্তের নারীবাদী কবিতা | ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের কঠোর সমালোচনা | ‘হিজ স্টোরি’ ব্যঙ্গ ও ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’
ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে: মল্লিকা সেনগুপ্তের ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর অসাধারণ নারীবাদী কাব্য, ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’ বলে মার্কসের উক্তি দিয়ে শুরু, ‘হিজ স্টোরি’ শব্দের ব্যঙ্গাত্মক বিশ্লেষণ, জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান থেকে আয়রন এজ ম্যান পর্যন্ত শুধু পুরুষের উপস্থিতি, ‘পূর্বনারী নেই’, ‘পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী’, ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ বলে চরম ব্যঙ্গ, ও ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ বলে চূড়ান্ত বিদ্রূপের অমর সৃষ্টি
মল্লিকা সেনগুপ্তের “ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে” বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য, নারীবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক সৃষ্টি। “হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি ইন পারসুইং হিজ এইমস’— কার্ল মার্কস, দি হোলি ফ্যামিলি” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের কঠোর নারীবাদী সমালোচনার কাহিনি; ‘আমরা হিসট্রি থেকে জানতে পেরেছি প্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান — ওরা সব বর্বর পুরুষ’ বলে শুরুতে পুরুষের একচেটিয়া উপস্থিতি; ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’ বলে নারীর উপস্থিতির অস্বীকৃতি; ‘পূর্ব পুরুষেরা একা, একা একা উত্তরপুরুষ, উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই আমাদের’ বলে পুনর্ব্যক্ত; ‘হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’’ — ‘হিজ স্টোরি’ ও ‘হিসট্রি’ শব্দের ব্যঙ্গাত্মক মিল; ‘সেই ইতিহাসে কোনও নারীর উল্লেখ নেই বলে আমরা বুঝেছি নারী ছিল না তখন’ বলে চরম উপসংহার; ‘জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম হয়েছিল’ বলে অদ্ভুত কল্পনা; ‘পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী, পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক, পুরুষ স্বয়ং সুর এবং বাঁশরি, পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ বলে চরম ব্যঙ্গ ও অতিরঞ্জন; এবং শেষ পর্যন্ত ‘আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি, আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ বলে চূড়ান্ত বিদ্রূপের অসাধারণ কাব্যচিত্র। মল্লিকা সেনগুপ্ত একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি ও প্রাবন্ধিক। তিনি নারীবাদী চেতনা, ইতিহাসের নারীবিহীন বয়ানের সমালোচনা, এবং নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস পুনর্লিখনের আহ্বান জানিয়েছেন। “ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে” সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি ছেলেকে ইতিহাস পড়াতে গিয়ে ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো আবিষ্কার করেছেন।
মল্লিকা সেনগুপ্ত: নারীবাদী ইতিহাস সমালোচক ও ব্যঙ্গের কবি
মল্লিকা সেনগুপ্ত একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি ও প্রাবন্ধিক। তিনি নারীবাদী চেতনা, ইতিহাসের নারীবিহীন বয়ানের সমালোচনা, নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস পুনর্লিখনের আহ্বান, এবং পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ব্যঙ্গাত্মক বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর ব্যঙ্গ, নারীবাদী দর্শন ও আত্মস্বীকারোক্তি ফুটে উঠেছে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ইয়েস বস্’, ‘তারা রং গাছ’, ‘আমার বাবার মুখ’, ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’, ‘অন্য নামে ডাকো’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ ইত্যাদি।
মল্লিকা সেনগুপ্তের নারীবাদী কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘হিজ স্টোরি’ ও ‘হিসট্রি’ শব্দের ব্যঙ্গাত্মক মিল, ‘পূর্ব পুরুষেরা একা’ বলে ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিকতা তুলে ধরা, ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’ বলে নারীর উপস্থিতির অস্বীকৃতি, ‘জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম’ বলে অদ্ভুত কল্পনার ব্যঙ্গ, ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ বলে চরম অতিরঞ্জন, এবং ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ বলে চূড়ান্ত বিদ্রূপ। ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি ছেলেকে ইতিহাস পড়াতে গিয়ে ইতিহাসের মৌলিক ত্রুটি আবিষ্কার করেছেন।
ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একটি মা ছেলেকে ইতিহাস পড়াচ্ছেন। সেই পড়াতে গিয়েই তিনি আবিষ্কার করেন — ইতিহাসে নারী নেই, শুধু পুরুষের গল্প। ‘হিসট্রি’ আসলে ‘হিজ স্টোরি’ — ‘তার গল্প’ (পুরুষের গল্প)।
কবিতাটি ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের নারীবাদী সমালোচনার পটভূমিতে রচিত। কার্ল মার্কসের ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’ উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু — ইতিহাস মানে পুরুষের কার্যকলাপ।
কবি শুরুতে বলছেন — ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি ইন পারসুইং হিজ এইমস’— কার্ল মার্কস, দি হোলি ফ্যামিলি। আমরা হিসট্রি থেকে জানতে পেরেছি প্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান — ওরা সব বর্বর পুরুষ। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচেছিল, ভোঁতা পাথরের অস্ত্রে ভাল্লুক মেরেছে, বাঁশের ফুঁটোর মুখে বাজাতে শিখেছে আড়বাঁশি। ওরাই বানিয়েছিল ম্যান মেড এই সভ্যতাকে। ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না। প্যালিওলিথিক ম্যান সরে গেলে প্রস্তর সময়, পাথর যুগের সব মানুষেরা স্টোন এজ ম্যান, আয়রন এজ ম্যান লোহা হাতে নিয়ে — এই আদি মানুষেরা সবাই পুরুষ। আমরা হিসট্রি থেকে জানতে পেরেছি।
পূর্ব পুরুষেরা একা, একা একা উত্তরপুরুষ। উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই আমাদের। হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’। সেই ইতিহাসে কোনও নারীর উল্লেখ নেই বলে আমরা বুঝেছি নারী ছিল না তখন।
জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম হয়েছিল। নিয়েনডার্থাল ম্যান শিশুদের স্তন্যদায়িনী। জাভা বা নিয়েনডার্থে মানুষেরা শুধুই পুরুষ। পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী। পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক। পুরুষ স্বয়ং সুর এবং বাঁশরি। পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু।
আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি। আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ।
ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ (সংক্ষিপ্ত আকারে)
প্রথম স্তবক: মার্কসের উক্তি ও আদিম মানুষের পুরুষতান্ত্রিক চিত্র
“হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি / ইন পারসুইং হিজ এইমস’— কার্ল মার্কস, দি হোলি ফ্যামিলি / আমরা হিসট্রি থেকে জানতে পেরেছি / প্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন / نিয়েনডার্থাল ম্যান, ওরা সব بর্বর পুরুষ, / প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে بেঁচেছিল / ভোঁতা পাথরের অস্ত্রে ভাল্লুক مেরেছে / বাঁশের ফুঁটোর মুখে বাজাতে শিখেছে আড়বাঁশি / ওরাই বানিয়েছিল ম্যান মেড এই سভ্যতাকে”
প্রথম স্তবকে মার্কসের উক্তির মাধ্যমে ইতিহাসের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে — ‘পুরুষের কার্যকলাপ’। তারপর আদিম মানুষের তালিকা — জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান — সবাই ‘বর্বর পুরুষ’। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ, ভাল্লুক মারা, বাঁশি বাজানো — সব পুরুষের কাজ। ‘ম্যান মেড সভ্যতা’ — পুরুষনির্মিত সভ্যতা।
দ্বিতীয় স্তবক: ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না
“ছায়া ছায়া মানবীরা پাশে ছিল, تবুও ছিল না / প্যালিওলিথিক ম্যান সরে গেলে প্রস্তর সময় / پাথর যুগের সব মানুষেরা স্টোন এজ ম্যান / আয়রন এজ ম্যান لوه هاته নিয়ে / এই আদি মানুষেরা সবাই পুরুষ / আমরা হিসট্রি থেকে জানতে پেরেছি।”
দ্বিতীয় স্তবকে নারীর উপস্থিতির অস্বীকৃতি। ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’ — অর্থাৎ তারা ছিল, কিন্তু ইতিহাসে নেই। পাথর যুগের সব মানুষ ‘স্টোন এজ ম্যান’, আয়রন এজ ম্যান — সব পুরুষ। স্ত্রীলিঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই।
তৃতীয় স্তবক: পূর্বপুরুষ একা, পূর্বনারী নেই — ‘হিজ স্টোরি’ ব্যঙ্গ
“পূর্ব পুরুষেরا একا, একا একا উত্তরপুরুষ / উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই আমাদের, / হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’ / সেই ইতিহাসে কোনও نارীর উল্লেখ নেই বলে / আমরা বুঝেছি নারী ছিল না তখন;”
তৃতীয় স্তবকে চূড়ান্ত ব্যঙ্গ। ‘পূর্ব পুরুষেরা একা, একা একা উত্তরপুরুষ’ — পূর্বপুরুষরা একাই উত্তরপুরুষ তৈরি করেছেন। ‘উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই’ — নারীর কোনো ভূমিকা নেই। ‘হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’’ — ইতিহাস তার (পুরুষের) গল্প। ‘নারী ছিল না তখন’ — ইতিহাসে নারীর উল্লেখ না থাকায় এই সিদ্ধান্ত।
চতুর্থ ও পঞ্চম স্তবক: পুরুষ একাই ভগবান, ভগবতী, জননী, জনক, লিঙ্গ, জরায়ু
“জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম হয়েছিল / নিয়েনডার্থাল ম্যান শিশুদের স্তন্যদায়িনী / জাভা বা নিয়েনডার্থে মানুষেরা শুধুই পুরুষ / পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী / পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক / পুরুষ স্বয়ং سور এবং বাঁশরি / পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু”
চতুর্থ ও পঞ্চম স্তবকে চরম ব্যঙ্গ ও অতিরঞ্জন। ‘জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম’ — পুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম (নারী ছাড়া সন্তান জন্ম)। ‘নিয়েনডার্থাল ম্যান শিশুদের স্তন্যদায়িনী’ — পুরুষই বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায়। ‘পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী’ — দেবতা ও দেবী উভয়ই পুরুষ। ‘পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক’ — মা ও বাবা উভয়ই পুরুষ। ‘পুরুষ স্বয়ং সুর এবং বাঁশরি’ — শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্র উভয়ই পুরুষ। ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ — পুরুষ ও নারীর যৌন চিহ্ন উভয়ই পুরুষ।
ষষ্ঠ ও শেষ স্তবক: হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ — চূড়ান্ত বিদ্রূপ
“আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি / আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ।”
ষষ্ঠ ও শেষ স্তবকে চূড়ান্ত বিদ্রূপ। ‘আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি’ — উপসংহার। ‘আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ — ‘হিজরে’ মানে যারা তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া), তারা ইতিহাস লিখেছিল — নইলে নারীর অস্তিত্ব এভাবে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। এটি চরম ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপ।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত, দীর্ঘ লাইনে প্রবাহিত। ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’ — ইংরেজি উক্তি দিয়ে শুরু। ‘জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান’ — প্রাগৈতিহাসিক মানুষের তালিকা। ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’ — চমৎকার ব্যঙ্গ। ‘পূর্ব পুরুষেরা একা, একা একা উত্তরপুরুষ’ — পুনরাবৃত্তি। ‘হিজ স্টোরি’ — শব্দের ব্যঙ্গ। ‘জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম’ — অদ্ভুত কল্পনা। ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ — চরম অতিরঞ্জন। ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ — চূড়ান্ত বিদ্রূপ।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী। ‘হিসট্রি’ — ইতিহাসের প্রতীক। ‘ম্যানস অ্যাকটিভিটি’ — পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতীক। ‘জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান’ — আদিম মানুষের প্রতীক। ‘বর্বর পুরুষ’ — আদিমতার প্রতীক। ‘ম্যান মেড সভ্যতা’ — পুরুষনির্মিত সভ্যতার প্রতীক। ‘ছায়া ছায়া মানবী’ — নারীর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির প্রতীক। ‘হিজ স্টোরি’ — পুরুষের গল্পের প্রতীক। ‘পূর্বনারী নেই’ — ইতিহাসে নারীর অনুপস্থিতির প্রতীক। ‘জাভাপুরুষের গর্ভ’ — অসম্ভব কল্পনার প্রতীক। ‘পুরুষ ভগবান আর ভগবতী’ — ধর্মের পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতীক। ‘পুরুষ লিঙ্গ এবং জরায়ু’ — যৌনতার পুরুষতান্ত্রিকতার প্রতীক। ‘হিজরে’ — তৃতীয় লিঙ্গের প্রতীক, যারা ইতিহাস লিখেছে।
বৈপরীত্য ব্যবহার অত্যন্ত দক্ষ। ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল’ ও ‘তবুও ছিল না’ — উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির বৈপরীত্য। ‘পূর্ব পুরুষেরা একা’ ও ‘উত্তরপুরুষ’ — একা হওয়া ও উত্তরপুরুষ তৈরি করার বৈপরীত্য। ‘পুরুষ ভগবান’ ও ‘পুরুষ ভগবতী’ — একই ব্যক্তিতে দেবতা ও দেবীর বৈপরীত্য। ‘পুরুষ লিঙ্গ’ ও ‘পুরুষ জরায়ু’ — পুরুষ ও নারীর যৌন চিহ্নের বৈপরীত্য।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে” মল্লিকা সেনগুপ্তের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি এখানে ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের নারীবাদী সমালোচনার এক গভীর ও ব্যঙ্গাত্মক কাব্যচিত্র এঁকেছেন।
প্রথম স্তবকে — মার্কসের উক্তি ও আদিম মানুষের পুরুষতান্ত্রিক চিত্র। দ্বিতীয় স্তবকে — ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না। তৃতীয় স্তবকে — পূর্বপুরুষ একা, পূর্বনারী নেই — ‘হিজ স্টোরি’ ব্যঙ্গ। চতুর্থ ও পঞ্চম স্তবকে — পুরুষ একাই ভগবান, ভগবতী, জননী, জনক, লিঙ্গ, জরায়ু। ষষ্ঠ ও শেষ স্তবকে — হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ — চূড়ান্ত বিদ্রূপ।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’; প্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান — সব বর্বর পুরুষ; ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না; প্যালিওলিথিক ম্যান থেকে আয়রন এজ ম্যান — সব পুরুষ; পূর্ব পুরুষেরা একা, উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই; হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’; নারীর উল্লেখ নেই বলে আমরা বুঝেছি নারী ছিল না তখন; জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম; নিয়েনডার্থাল ম্যান শিশুদের স্তন্যদায়িনী; পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী; পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক; পুরুষ স্বয়ং সুর এবং বাঁশরি; পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু; আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি; আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ।
মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতায় ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের নারীবাদী সমালোচনা
মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতায় ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের নারীবাদী সমালোচনা একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’ কবিতায় ইতিহাসের নারীবিহীন কাঠামোর অসাধারণ ব্যঙ্গাত্মক চিত্র এঁকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে ‘হিসট্রি’ আসলে ‘হিজ স্টোরি’; কীভাবে আদিম মানুষ সব পুরুষ; কীভাবে ‘ছায়া ছায়া মানবী’ ইতিহাসে নেই; কীভাবে ‘পূর্বনারী নেই’; কীভাবে ‘পুরুষ একাই ভগবান ও ভগবতী’; আর কীভাবে ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাঠ্যক্রমে মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের নারীবাদী চেতনা, ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের সমালোচনা, ‘হিজ স্টোরি’ ব্যঙ্গ, এবং মল্লিকা সেনগুপ্তের ব্যঙ্গাত্মক কাব্যভাষা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’, ‘জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান’, ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’, ‘হিজ স্টোরি’, ‘পূর্বনারী নেই’, ‘পুরুষ একাই ভগবান আর ভগবতী’, ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’, এবং ‘হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ — এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের কাব্যবোধ, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও ইতিহাসচেতনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে কবিতাটির রচয়িতা কে?
এই কবিতাটির রচয়িতা মল্লিকা সেনগুপ্ত। তিনি একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি ও প্রাবন্ধিক। তিনি নারীবাদী চেতনা, ইতিহাসের নারীবিহীন বয়ানের সমালোচনা, নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাস পুনর্লিখনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ইয়েস বস্’, ‘তারা রং গাছ’, ‘আমার বাবার মুখ’, ‘ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে’, ‘অন্য নামে ডাকো’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২: ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি ইন পারসুইং হিজ এইমস’ — এই উক্তির তাৎপর্য কী?
এটি কার্ল মার্কসের ‘দি হোলি ফ্যামিলি’ গ্রন্থের উক্তি। মার্কস বলছেন — ইতিহাস মানে পুরুষের কার্যকলাপ, পুরুষ তার লক্ষ্য অনুসরণ করছে। মল্লিকা সেনগুপ্ত এই উক্তিকে ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিকতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ৩: ‘ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না’ — লাইনটির ব্যঙ্গাত্মকতা কোথায়?
আদিম যুগে নারী ছিল — ‘ছায়া ছায়া মানবী’ বলে স্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু ‘তবুও ছিল না’ — অর্থাৎ ইতিহাসে তাদের অস্তিত্ব নেই। এটি ইতিহাসের নারীবিহীন বয়ানের চরম ব্যঙ্গ।
প্রশ্ন ৪: ‘হিজ স্টোরি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
‘হিসট্রি’ (History) শব্দটিকে ভেঙে ‘হিজ স্টোরি’ (His Story) করা হয়েছে — ‘তার গল্প’ (পুরুষের গল্প)। এটি ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিকতার চমৎকার ব্যঙ্গ।
প্রশ্ন ৫: ‘পূর্ব পুরুষেরা একা, একা একা উত্তরপুরুষ’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
ইতিহাসে পূর্বপুরুষরা একা, নারী ছাড়াই তারা উত্তরপুরুষ তৈরি করেছেন — এটি অসম্ভব। এই অসম্ভব কল্পনার মাধ্যমে ইতিহাসের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন ৬: ‘জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম হয়েছিল’ — লাইনটির ব্যঙ্গাত্মকতা কোথায়?
পুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম — এটি জৈবিকভাবে অসম্ভব। এই অসম্ভব কল্পনা দিয়ে কবি ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক অসঙ্গতি ও অযৌক্তিকতা ব্যঙ্গ করছেন।
প্রশ্ন ৭: ‘পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু’ — লাইনটির চরম ব্যঙ্গ কোথায়?
‘লিঙ্গ’ পুরুষের যৌন চিহ্ন, ‘জরায়ু’ নারীর যৌন চিহ্ন। কবি বলছেন — পুরুষ নিজেই লিঙ্গও, জরায়ুও — অর্থাৎ পুরুষ নিজের ভেতর নারীকে ধারণ করে। এটি চরম অতিরঞ্জন ও ব্যঙ্গ।
প্রশ্ন ৮: ‘পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
দেবতা ও দেবী উভয়ই পুরুষ — ধর্মের পুরুষতান্ত্রিকতার ব্যঙ্গ। দেবী হলেনও পুরুষ — এটি অসম্ভব।
প্রশ্ন ৯: ‘আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ’ — শেষ লাইনের চূড়ান্ত বিদ্রূপ কী?
‘হিজরে’ (হিজড়া) — তৃতীয় লিঙ্গ। কবি বলছেন — আসলে হিজড়ারাই ইতিহাস লিখেছিল। তাই ইতিহাসে নারীর অস্তিত্ব নেই — কারণ হিজড়া ইতিহাসবিদরা নারীকে দেখতে পাননি বা দেখাতে চাননি। এটি চরম বিদ্রূপ ও ব্যঙ্গ।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — ‘হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি’; প্রথম মানুষ ছিল জাভা ম্যান, ক্রোম্যাগনন, নিয়েনডার্থাল ম্যান — সব বর্বর পুরুষ; ছায়া ছায়া মানবীরা পাশে ছিল, তবুও ছিল না; প্যালিওলিথিক ম্যান থেকে আয়রন এজ ম্যান — সব পুরুষ; পূর্ব পুরুষেরা একা, উত্তরমানুষ নেই, পূর্বনারী নেই; হিসট্রি তো শৌর্যবীর্যে ভরা ‘হিজ স্টোরি’; নারীর উল্লেখ নেই বলে আমরা বুঝেছি নারী ছিল না তখন; জাভাপুরুষের গর্ভে পুরুষের জন্ম; নিয়েনডার্থাল ম্যান শিশুদের স্তন্যদায়িনী; পুরুষ একাই ছিল ভগবান আর ভগবতী; পুরুষ জননী ছিল পুরুষ জনক; পুরুষ স্বয়ং সুর এবং বাঁশরি; পুরুষ স্বয়ং লিঙ্গ এবং জরায়ু; আমরা হিসট্রি থেকে এরকমই জানতে পেরেছি; আসলে হিজরে ছিল ইতিহাসবিদ। এই কবিতাটি আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক — ইতিহাসের নারীবিহীন বয়ানের সমালোচনা, নারীবাদী ইতিহাস চেতনা, এবং ‘হিজ স্টোরি’ ব্যঙ্গ — সবকিছুই চিরন্তন ও সময়োপযোগী বিষয়।
ট্যাগস: ছেলেকে হিসট্রি পড়াতে গিয়ে, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মল্লিকা সেনগুপ্তের নারীবাদী কবিতা, হিজ স্টোরি, জাভা ম্যান, পুরুষ একাই ভগবান, হিজরে ইতিহাসবিদ
© Kobitarkhata.com – কবি: মল্লিকা সেনগুপ্ত | কবিতার প্রথম লাইন: “হিসট্রি ইজ নাথিং বাট ম্যানস অ্যাকটিভিটি ইন পারসুইং হিজ এইমস’— কার্ল মার্কস, দি হোলি ফ্যামিলি” | ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক বয়ানের নারীবাদী অমর কবিতা বিশ্লেষণ | মল্লিকা সেনগুপ্তের নারীবাদী কাব্যধারার অসাধারণ নিদর্শন