কবিতার খাতা
চোখের জল – সুবোধ সরকার।
মানুষের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
ভালো লাগে না আমার
সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল
অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব না
খেতে দিতে না পেরে বাবা চলে গেলেন, মেঘলা আকাশ
মায়ের চোখ ফেটে সারাদিন শুধু জল নয়
যেন একজন নারী গলে গলে বেরিয়ে আসত ।
পাঁচ বছর বাদে ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ
মা, আমার অসহ্য লাগে চোখের জল । চুপ করো ।
চোখের জলে লাগল জোয়ার, কথাটা দারুণ
কিন্তু মানে কি ?
একটা মানুষ চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়ায়
দেয়াল থেকে হাতে তুলে নেয় টাঙ্গি
তারপর তুলে ধরে আকাশের দিকে
আকাশে কে থাকে ? ভগবান ?
পরিষ্কার একটা কথা বলি শোনো : তুমি গরিব
তোমার জন্য কোন ভগবান নেই
শনি পুজো না করে সেই টাকায়
কনডোম্ কেনো রাসকেল । রাতারাতি ভারতবর্ষ পাল্টে যাবে ।
বিজ্ঞাপন
চোখের জলে কিছু হয় না
একটা জাতি উঠে দাঁড়ায় তিনটি কারণে :
মাথার জোরে, গায়ের জোরে, মনের জোরে ।
তোমরা যারা ভালো করে খেতে পাও না
তাঁদের চোখে এতো জল আসে কি করে ?
মাকেও দেখতাম যেটুকু খাবার জুটতো
ভাইবোনদের খাইয়ে নিজে চাঁচি মুখে দিয়ে
বাসন মাজতে মাজতে কাঁদতেন
গরিবের কি চোখের জল বেশি হয় ?
চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
সহ্য করতে পারি না আমি
বাইপাসের ধারে একটা নগ্ন মেয়ের চোখ থেকে
জল গড়িয়ে পড়ল গালে
গাল থেকে একটা বিন্দু গিয়ে পড়ল স্তনের বোঁটায়
আমি অবচেতনের ঐশ্বর্য লিখতে আসিনি
আমার জামাটা খুলে তাঁকে দিই, বলি ওঠো
একটা কুলাঙ্গার তোমাকে ভালবেসে ফেলে চলে গেছে
তার জন্য তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে না ।
একটা জাতি উঠে দাঁড়ায়
একটা মানুষ উঠে দাঁড়ায় পরিষ্কার তিনটি কারণে
দরকার যেকোনো একটা জোর
হয় গায়ের নয় মাথার নয় মনের ।
তাজ বেঙ্গলের উল্টোদিকে, মাঝরাত্রে, একটি বালক
হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছে
এই শালা কাঁদছিস কেন রে ?
ছুটে গিয়ে ভেতরে ঢুকে কামড়ে দিতে পারছিস না ?
মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
ভালো লাগে না আমার
সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল
অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব না
খেতে দিতে না পেরে বাবা চলে গেলেন, মেঘলা আকাশ
মায়ের চোখ ফেটে সারাদিন শুধু জল নয়
যেন একজন নারী গলে গলে বেরিয়ে আসত ।
পাঁচ বছর বাদে ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ
মা, আমার অসহ্য লাগে চোখের জল । চুপ করো ।
চোখের জলে লাগল জোয়ার, কথাটা দারুণ
কিন্তু মানে কি ?
একটা মানুষ চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়ায়
দেয়াল থেকে হাতে তুলে নেয় টাঙ্গি
তারপর তুলে ধরে আকাশের দিকে
আকাশে কে থাকে ? ভগবান ?
পরিষ্কার একটা কথা বলি শোনো : তুমি গরিব
তোমার জন্য কোন ভগবান নেই
শনি পুজো না করে সেই টাকায়
কনডোম্ কেনো রাসকেল । রাতারাতি ভারতবর্ষ পাল্টে যাবে ।
বিজ্ঞাপন
চোখের জলে কিছু হয় না
একটা জাতি উঠে দাঁড়ায় তিনটি কারণে :
মাথার জোরে, গায়ের জোরে, মনের জোরে ।
তোমরা যারা ভালো করে খেতে পাও না
তাঁদের চোখে এতো জল আসে কি করে ?
মাকেও দেখতাম যেটুকু খাবার জুটতো
ভাইবোনদের খাইয়ে নিজে চাঁচি মুখে দিয়ে
বাসন মাজতে মাজতে কাঁদতেন
গরিবের কি চোখের জল বেশি হয় ?
চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
সহ্য করতে পারি না আমি
বাইপাসের ধারে একটা নগ্ন মেয়ের চোখ থেকে
জল গড়িয়ে পড়ল গালে
গাল থেকে একটা বিন্দু গিয়ে পড়ল স্তনের বোঁটায়
আমি অবচেতনের ঐশ্বর্য লিখতে আসিনি
আমার জামাটা খুলে তাঁকে দিই, বলি ওঠো
একটা কুলাঙ্গার তোমাকে ভালবেসে ফেলে চলে গেছে
তার জন্য তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে না ।
একটা জাতি উঠে দাঁড়ায়
একটা মানুষ উঠে দাঁড়ায় পরিষ্কার তিনটি কারণে
দরকার যেকোনো একটা জোর
হয় গায়ের নয় মাথার নয় মনের ।
তাজ বেঙ্গলের উল্টোদিকে, মাঝরাত্রে, একটি বালক
হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছে
এই শালা কাঁদছিস কেন রে ?
ছুটে গিয়ে ভেতরে ঢুকে কামড়ে দিতে পারছিস না ?
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুবোধ সরকার।
চোখের জল – সুবোধ সরকার
কবিতার প্রথম লাইন: “মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল ভালো লাগে না আমার”
কবিতা
মানুষের চোখ থেহে গড়িয়ে পড়া চোখের জল
ভালো লাগে না আমার
সবচেয়ে বড় অপচয়ের নাম চোখের জল
অসহ্য, সরিয়ে নাও তোমার চোখ, আমি তাকাব না
কবিতা বিশ্লেষণ
সুবোধ সরকারের “চোখের জল” কবিতাটি সমাজের নিপীড়িত, গরিব মানুষের বাস্তব জীবনচিত্র ও তাদের প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করে। কবিতাটি চোখের জলের মাধ্যমে মানবিক দুর্বলতা ও সামাজিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে তুলেছে।
কবিতার সারাংশ
এই কবিতায় কবি চোখের জলকে “সবচেয়ে বড় অপচয়” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দরিদ্র মানুষের কান্নার পেছনের সামাজিক অবিচার, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং ব্যর্থ প্রেমের গল্প বলেছেন। কবি জোর দিয়েছেন যে শুধু কান্না নয়, বরং মাথা, গা বা মনের জোর দিয়ে উঠে দাঁড়ানোই প্রকৃত সমাধান।
রূপক বিশ্লেষণ
কবিতায় “চোখের জল” দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব ও সামাজিক নিপীড়নের রূপক। “টাঙ্গি” প্রতিবাদের প্রতীক, আর “ভগবান” ধর্মের নামে শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রূপ। “কনডোম” ব্যবহৃত হয়েছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের বার্তা দিতে।
সামাজিক প্রেক্ষাপট
এই কবিতায় ১৯৭০-৮০ দশকের বাংলার সমাজব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও শ্রেণী বৈষম্য প্রকট ছিল। কবি সমাজের এই রূঢ় বাস্তবতাকে শিল্পিতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
কবি পরিচিতি
সুবোধ সরকার বাংলা সাহিত্যের একজন প্রগতিশীল কবি ও লেখক। তাঁর রচনায় সমাজের নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্র বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। “চোখের জল” তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা।
প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
দারিদ্র্য, সামাজিক অবিচার এবং শোষিত মানুষের সংগ্রাম এই কবিতার মূল বিষয়। কবি দেখিয়েছেন কীভাবে অর্থনৈতিক দুরবস্থা মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
কবির মতে, শুধু কান্নায় কোনো লাভ নেই, বরং সংগ্রাম করে উঠে দাঁড়ানোই আসল সমাধান। তিনি মনে করেন চোখের জল অপচয় কারণ এটি কোনো সমস্যার সমাধান করে না।
এটি বাংলা সাহিত্যের বাস্তববাদী ও প্রগতিশীল ধারার কবিতা। এই ধারার কবিতায় সমাজের বাস্তব চিত্র ও শ্রেণীসংগ্রামের বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়।
চোখের জল, টাঙ্গি, ভগবান, কনডোম – এগুলি বিভিন্ন সামাজিক বার্তার রূপক। প্রতিটি রূপকের মাধ্যমে কবি সমাজের বিভিন্ন সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
কবিতা “চোখের জল” – সুবোধ সরকার – বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
সুবোধ সরকারের “চোখের জল” কবিতার সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ, সামাজিক প্রেক্ষাপট, রূপক অর্থ ও সাহিত্যিক মূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। বাংলা কবিতা প্রেমীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড।
কবিতার সারাংশ
এই কবিতায় কবি চোখের জলকে “সবচেয়ে বড় অপচয়” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দরিদ্র মানুষের কান্নার পেছনের সামাজিক অবিচার, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং ব্যর্থ প্রেমের গল্প বলেছেন।
রূপক বিশ্লেষণ
কবিতায় “চোখের জল” দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব ও সামাজিক নিপীড়নের রূপক। “টাঙ্গি” প্রতিবাদের প্রতীক, আর “ভগবান” ধর্মের নামে শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রূপ।
কবির উদ্দেশ্য ও সাহিত্যধারা
সুবোধ সরকার এই কবিতার মাধ্যমে সমাজের নিম্নবর্গীয় মানুষের বাস্তব জীবনযন্ত্রণা চিত্রিত করেছেন। এটি বাংলা সাহিত্যের বাস্তববাদী ও প্রগতিশীল ধারার অন্তর্গত।
আবেগ বিশ্লেষণ
কবিতায় ক্রোধ, বেদনা, হতাশা এবং সংগ্রামের দৃঢ় সংকল্প একসাথে মিশেছে। কবির ভাষায় রূক্ষতা থাকলেও তা গরিব মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে উৎসারিত।
কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু কী?
দারিদ্র্য, সামাজিক অবিচার এবং শোষিত মানুষের সংগ্রাম এই কবিতার মূল বিষয়।
কবি চোখের জলকে কেন অপচয় বলেছেন?
কবির মতে, শুধু কান্নায় কোনো লাভ নেই, বরং সংগ্রাম করে উঠে দাঁড়ানোই আসল সমাধান।
কবিতাটি কোন সাহিত্যিক ধারার অন্তর্গত?
এটি বাংলা সাহিত্যের বাস্তববাদী ও প্রগতিশীল ধারার কবিতা।
কবিতায় ব্যবহৃত প্রধান রূপকগুলি কী?
চোখের জল, টাঙ্গি, ভগবান, কনডোম – এগুলি বিভিন্ন সামাজিক বার্তার রূপক।
© Kobitarkhata.com – কবি: সুবোধ সরকার






