পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে থাকে
সদর দরোজা ডিঙিয়ে পথ, পথ পেরিয়ে ধুলো, ধুলো মাড়িয়ে খেত।
খেতের ধারে আলপথ,
আর থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া।
সবার অবশ্য থাকে না-
যাদের ঘরে সানকিতে কাঁচা লঙ্কা আর সাদা ভাত দেয়ার কেউ নেই,
হাতপাখা নেই, জানালায় আলো নেই, কেরোসিন নেই,
নুন নেই, তেল নেই, দুখানা কাজল টানা চোখ নেই-তাদের অবশ্য বাড়ি ফেরার তাড়াও নেই।
তাদের আছে আলপথের পরে জলপথ, জলপথের পর কালপথ।
তারা সেসব মাড়িয়ে যায়। তাদের পিছু ফেরার তাড়া নেই।
তারা জানে, কেউ অপেক্ষায় নেই।
সলতে নেই, আলো নেই, চেয়ারের পায়া নেই,
বিছানায় একটা মাত্র বালিশ, সেখানে গল্প নেই।
তারা হেঁটে চলে-তাদের গন্তব্য নেই।
মেঠোপথজুড়ে তীব্র কাঁটা, তাদের অপেক্ষায় কেউ নেই।
তবুও বুকের ভেতর কোথাও হঠাৎ মনে হয়,
কেউ কি সত্যি নেই, নাকি আছে?
হয়তো অপেক্ষায় আঁচলের পাখা নাড়ছে,
সানকিতে ভাত বাড়ছে,
ভাঙা আয়নায় গভীর যত্নে কাজল আঁকছে চোখে।
তারা হঠাৎ সাহস করে পেছন ফেরে-
সেখানে কেউ আছে, কেউ নেই।
আসলে, কেউ থেকেও থাকে না,
কেউ না থেকেও থেকে যায়-সবটাজুড়ে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সাদাত হোসাইনের কবিতা।
কবিতার খাতা-
সাদাত হোসাইনের ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ কবিতাটি মানুষের চরম একাকিত্ব, নিঃসঙ্গ জীবনযাত্রা এবং মনের কোণে পুষে রাখা চিরন্তন আশার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান। কবি এখানে জীবনের পথচলা ও গন্তব্যের সমান্তরালে আশ্রয়হীন মানুষের ভেতরের শূন্যতা আর হাহাকারকে অত্যন্ত দরদি ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
কবিতার শুরুতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার একটি ছবি আঁকা হয়েছে, যেখানে পথ চলার সাথে সাথে ঘরে ফেরার এক টান থাকে। কিন্তু কবি পরক্ষণেই সেই বিষাদময় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করান, যেখানে সবার ঘরে ফেরার তাগিদ থাকে না। যাদের ঘরে ভালোবাসা, মমতা কিংবা ন্যূনতম জীবনধারণের উপকরণ নেই—নাই সানকিতে ভাত, নুন-তেল কিংবা কাজলটানা দুখানি চোখ—তাদের জন্য গৃহ আর আশ্রয় থাকে না। ফলে তাদের পথচলা আলপথ থেকে জলপথ পেরিয়ে কালপথের দিকে ধাবিত হয়, যেখানে কোনো গন্তব্য বা পিছুটানের তাগিদ নেই।
প্রদীপের সলতে কিংবা বালিশের পাশে গল্পহীন একাকী জীবনের এই করুণ ধূলিমলিন বাস্তবতার মাঝেও মানুষের মন এক চিরন্তন বুভুক্ষায় ভোগে। যত তীব্র একাকিত্বই থাক না কেন, বুকের অতল গভীরে কোথাও এক ক্ষীণ আশা উঁকি দেয়—সত্যিই কি কেউ নেই? হয়তো অবচেতনে কেউ আঁচল নাড়িয়ে অপেক্ষা করছে, ভাঙা আয়নায় চোখ সাজাচ্ছে। এই ক্ষণিকের অলৌকিক আশাই মানুষকে আকস্মিকভাবে থমকে দিয়ে পেছনে তাকাতে বাধ্য করে।
কবিতার শেষাংশে কবি জীবনের এক পরম সত্য ও দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছেন। পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় সেখানে সত্যি কেউ আছে, আবার কেউ নেই। জীবনের এই জটিল রসায়নে কিছু মানুষ সমস্ত আয়োজন থাকা সত্ত্বেও আত্মিকভাবে অনুপস্থিত থাকে, আবার কোনো প্রিয় মানুষ বাস্তবে পাশে না থেকেও অস্তিত্বের সবটুকু জুড়ে সারাজীবন থেকে যায়।
কেউ থাকে কেউ থাকে না – সাদাত হোসাইন | সাদাত হোসাইনের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | পথ, ফেরা, অপেক্ষা ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
কেউ থাকে কেউ থাকে না: সাদাত হোসাইনের পথ, ফেরা, অপেক্ষা, ঘর ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা
সাদাত হোসাইনের “কেউ থাকে কেউ থাকে না” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য, গভীর ও দার্শনিক সৃষ্টি। এটি পথ, ফেরা, অপেক্ষা, ঘর ও অস্তিত্বের এক অসাধারণ কাব্যচিত্র। “পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে থাকে / সদর দরোজা ডিঙিয়ে পথ, পথ পেরিয়ে ধুলো, ধুলো মাড়িয়ে খেত। / খেতের ধারে আলপথ, / আর থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক মৌলিক সত্য — সবার বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে না। যাদের ঘরে সানকিতে কাঁচা লঙ্কা আর সাদা ভাত দেয়ার কেউ নেই, তাদের বাড়ি ফেরার তাড়া নেই। তাদের আছে আলপথের পরে জলপথ, জলপথের পর কালপথ। তারা পিছু ফেরে না, কারণ জানে কেউ অপেক্ষায় নেই। তবু বুকের ভেতর হঠাৎ মনে হয় — কেউ কি সত্যি নেই, নাকি আছে? হয়তো অপেক্ষায় আঁচলের পাখা নাড়ছে। তারা সাহস করে পেছন ফেরে — সেখানে কেউ আছে, কেউ নেই। আসলে, কেউ থেকেও থাকে না, কেউ না থেকেও থেকে যায় — সবটাজুড়ে। সাদাত হোসাইন একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর মানসিক যন্ত্রণা, শূন্যতা, অস্তিত্বের প্রশ্ন ও ফেরার আকাঙ্ক্ষার জন্য পরিচিত। ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যা অস্তিত্বের গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে।
সাদাত হোসাইন: পথ, ফেরা ও অস্তিত্বের কবি
সাদাত হোসাইন একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর মানসিক যন্ত্রণা, শূন্যতা, অস্তিত্বের প্রশ্ন ও ফেরার আকাঙ্ক্ষার জন্য পরিচিত। ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ তাঁর সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি পথ, ফেরা, অপেক্ষা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাছে ভুলে যাই পথ’ (২০১৯), ‘আগন্তুক’ (২০২১), ‘জানে যদি কেউ’ (২০২২), ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ (২০২৩), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (২০২৩) ইত্যাদি।
শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব
শিরোনাম ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি অস্তিত্বের একটি মৌলিক প্রশ্ন — কেউ থাকে, কিন্তু সত্যি থাকে? কেউ থাকে না, কিন্তু সত্যি থাকে না? এই দ্বন্দ্বই কবিতার কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি।
কবিতার স্তরে স্তরে বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: পথ ও বাড়ি ফেরার তাড়া
“পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে থাকে / সদর দরোজা ডিঙিয়ে পথ, পথ পেরিয়ে ধুলো, ধুলো মাড়িয়ে খেত। / খেতের ধারে আলপথ, / আর থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া।” — প্রথম স্তবকে পথ ও ফেরার আকাঙ্ক্ষা। ‘পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে’ — পথ পার হওয়ার ইচ্ছা থাকে। ‘সদর দরোজা ডিঙিয়ে, পথ পেরিয়ে ধুলো, ধুলো মাড়িয়ে খেত’ — ধাপে ধাপে এগোনো। ‘খেতের ধারে আলপথ’ — ছোট পথ। ‘বাড়ি ফেরার তাড়া’ — ঘরে ফেরার তাগিদ থাকে।
দ্বিতীয় স্তবক: যাদের ফেরার তাড়া নেই
“সবার অবশ্য থাকে না- / যাদের ঘরে সানকিতে কাঁচা লঙ্কা আর সাদা ভাত দেয়ার কেউ নেই, / হাতপাখা নেই, জানালায় আলো নেই, কেরোসিন নেই, / নুন নেই, তেল নেই, দুখানা কাজল টানা চোখ নেই-তাদের অবশ্য বাড়ি ফেরার তাড়াও নেই।” — দ্বিতীয় স্তবকে ফেরার তাড়াহীনদের চিত্র। ‘সানকিতে কাঁচা লঙ্কা আর সাদা ভাত দেয়ার কেউ নেই’ — ঘরে খাবার দেয়ার কেউ নেই। ‘হাতপাখা নেই, জানালায় আলো নেই, কেরোসিন নেই’ — ঘরের মৌলিক চাহিদা নেই। ‘নুন নেই, তেল নেই, দুখানা কাজল টানা চোখ নেই’ — প্রয়োজনীয় জিনিস ও প্রেমের চোখ নেই। ‘তাদের বাড়ি ফেরার তাড়াও নেই’ — ফেরার কারণ নেই।
তৃতীয় স্তবক: আলপথ, জলপথ, কালপথ
“তাদের আছে আলপথের পরে জলপথ, জলপথের পর কালপথ। / তারা সেসব মাড়িয়ে যায়। তাদের পিছু ফেরার তাড়া নেই। / তারা জানে, কেউ অপেক্ষায় নেই।” — তৃতীয় স্তবকে পথের ধারাবাহিকতা। ‘আলপথ, জলপথ, কালপথ’ — ছোট পথ, জলপথ, সময়ের পথ। ‘মাড়িয়ে যায়’ — পার হয়ে যায়। ‘পিছু ফেরার তাড়া নেই’ — ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। ‘জানে, কেউ অপেক্ষায় নেই’ — কেউ অপেক্ষা করছে না।
চতুর্থ স্তবক: ঘরের শূন্যতা
“সলতে নেই, আলো নেই, চেয়ারের পায়া নেই, / বিছানায় একটা মাত্র বালিশ, সেখানে গল্প নেই।” — চতুর্থ স্তবকে ঘরের বস্তুগত ও মানসিক শূন্যতা। ‘সলতে নেই, আলো নেই’ — প্রদীপ জ্বালানোর সলতে ও আলো নেই। ‘চেয়ারের পায়া নেই’ — চেয়ার ভাঙা। ‘বিছানায় একটা মাত্র বালিশ, সেখানে গল্প নেই’ — একাকীত্বের চূড়ান্ত চিহ্ন।
পঞ্চম স্তবক: গন্তব্য নেই
“তারা হেঁটে চলে-তাদের গন্তব্য নেই। / মেঠোপথজুড়ে তীব্র কাঁটা, তাদের অপেক্ষায় কেউ নেই।” — পঞ্চম স্তবকে গন্তব্যহীন যাত্রা। ‘হেঁটে চলে, গন্তব্য নেই’ — কোথাও যাচ্ছে না, শুধু চলছে। ‘মেঠোপথজুড়ে তীব্র কাঁটা’ — পথ কষ্টকর। ‘অপেক্ষায় কেউ নেই’ — কেউ অপেক্ষা করছে না।
ষষ্ঠ স্তবক: কেউ কি সত্যি নেই?
“তবুও বুকের ভেতর কোথাও হঠাৎ মনে হয়, / কেউ কি সত্যি নেই, নাকি আছে?” — ষষ্ঠ স্তবকে অস্তিত্বের প্রশ্ন। ‘তবুও’ — সব শূন্যতা সত্ত্বেও। ‘হঠাৎ মনে হয়’ — আচমকা প্রশ্ন। ‘কেউ কি সত্যি নেই, নাকি আছে?’ — অস্তিত্বের মৌলিক দ্বন্দ্ব।
সপ্তম স্তবক: অপেক্ষার কল্পনা
“হয়তো অপেক্ষায় আঁচলের পাখা নাড়ছে, / সানকিতে ভাত বাড়ছে, / ভাঙা আয়নায় গভীর যত্নে কাজল আঁকছে চোখে।” — সপ্তম স্তবকে অপেক্ষার কল্পনা। ‘আঁচলের পাখা নাড়ছে’ — অপেক্ষার চিহ্ন। ‘সানকিতে ভাত বাড়ছে’ — খাবার দিচ্ছে। ‘ভাঙা আয়নায় কাজল আঁকছে’ — সাজছে, অপেক্ষা করছে।
অষ্টম স্তবক: শেষ সত্য — কেউ থেকেও থাকে না
“তারা হঠাৎ সাহস করে পেছন ফেরে- / সেখানে কেউ আছে, কেউ নেই। / আসলে, কেউ থেকেও থাকে না, / কেউ না থেকেও থেকে যায়-সবটাজুড়ে।” — অষ্টম স্তবক — শেষ স্তবক — পুরো কবিতার চূড়ান্ত বাণী। ‘সাহস করে পেছন ফেরে’ — ফিরে দেখার সাহস। ‘কেউ আছে, কেউ নেই’ — দ্ব্যর্থতা। ‘আসলে, কেউ থেকেও থাকে না, কেউ না থেকেও থেকে যায়-সবটাজুড়ে’ — চূড়ান্ত দার্শনিক সত্য।
প্রতীক ও রূপকের গভীর পাঠ
‘পথ’ — জীবন, যাত্রা। ‘সদর দরোজা’ — শুরু, বাইরের দুনিয়া। ‘ধুলো, খেত, আলপথ’ — ধাপে ধাপে এগোনো। ‘বাড়ি ফেরার তাড়া’ — ফেরার আকাঙ্ক্ষা। ‘সানকিতে কাঁচা লঙ্কা ও সাদা ভাত’ — সংসারের মৌলিক প্রয়োজন। ‘হাতপাখা, আলো, কেরোসিন, নুন, তেল’ — দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস। ‘কাজল টানা চোখ’ — প্রেমের চোখ, অপেক্ষার চোখ। ‘আলপথ, জলপথ, কালপথ’ — পথের বিভিন্ন স্তর। ‘সলতে, চেয়ারের পায়া, বালিশ’ — ঘরের বস্তুগত চিহ্ন। ‘গল্প নেই’ — সম্পর্ক, স্নেহ নেই। ‘তীব্র কাঁটা’ — পথের কষ্ট। ‘আঁচলের পাখা’ — অপেক্ষার চিহ্ন। ‘ভাঙা আয়নায় কাজল’ — অপেক্ষার সাজ।
প্রশ্নোত্তর: গভীর পাঠের জন্য
প্রশ্ন ১: ‘কেউ থাকে কেউ থাকে না’ কবিতাটির লেখক কে?
উত্তর: এই কবিতাটির লেখক সাদাত হোসাইন। তিনি একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি।
প্রশ্ন ২: ‘পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে থাকে’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পথে নামার অর্থই পথ পার হওয়ার ইচ্ছা থাকে — ভ্রমণের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা।
প্রশ্ন ৩: ‘বাড়ি ফেরার তাড়া’ — কী?
উত্তর: ঘরে ফিরে যাওয়ার তাগিদ, আকাঙ্ক্ষা। যাদের ঘরে কেউ নেই, তাদের এই তাড়া নেই।
প্রশ্ন ৪: ‘যাদের ঘরে সানকিতে কাঁচা লঙ্কা আর সাদা ভাত দেয়ার কেউ নেই’ — কেন?
উত্তর: যাদের ঘরে খাবার দেয়ার কেউ নেই — অর্থাৎ সংসার নেই, সম্পর্ক নেই, ভালোবাসা নেই।
প্রশ্ন ৫: ‘সলতে নেই, আলো নেই’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রদীপ জ্বালানোর সলতে ও আলো নেই — অর্থাৎ ঘরের উষ্ণতা, আলো, প্রাণ নেই।
প্রশ্ন ৬: ‘বিছানায় একটা মাত্র বালিশ, সেখানে গল্প নেই’ — কেন?
উত্তর: একক বিছানা, একক জীবন। গল্প নেই — মানে সম্পর্ক, প্রেম, স্নেহ নেই।
প্রশ্ন ৭: ‘তারা হেঁটে চলে-তাদের গন্তব্য নেই’ — কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: তাদের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই — তারা শুধু চলছে, কারণ থামার জায়গা নেই।
প্রশ্ন ৮: ‘কেউ কি সত্যি নেই, নাকি আছে?’ — এই প্রশ্নের উত্তর কী?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। অস্তিত্বের প্রশ্নটি উন্মুক্ত।
প্রশ্ন ৯: ‘আসলে, কেউ থেকেও থাকে না, কেউ না থেকেও থেকে যায়-সবটাজুড়ে’ — লাইনটির গভীরতা কী?
উত্তর: অস্তিত্বের চূড়ান্ত সত্য — কেউ শারীরিকভাবে থাকলেও মানসিকভাবে থাকে না, আবার কেউ না থাকলেও সব জায়গায় থেকে যায়।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর: কবিতাটি শেখায় — ফেরার জন্য কেউ না থাকলে পথের অর্থ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তবু মনে হয় — কেউ আছে কি না। শেষ পর্যন্ত সত্য হলো — কেউ থেকেও থাকে না, কেউ না থেকেও থেকে যায়।
ট্যাগস: কেউ থাকে কেউ থাকে না, সাদাত হোসাইন, সাদাত হোসাইনের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, পথের কবিতা, অস্তিত্বের কবিতা, ফেরার কবিতা
© Kobitarkhata.com – কবি: সাদাত হোসাইন | কবিতার প্রথম লাইন: “পথ মানেই পথ পেরুবার ইচ্ছে থাকে সদর দরোজা ডিঙিয়ে পথ, পথ পেরিয়ে ধুলো, ধুলো মাড়িয়ে খেত” | পথ, ফেরা, অপেক্ষা ও অস্তিত্বের অসাধারণ কাব্যভাষা | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন