কবিতার খাতা
- 25 mins
কালো বস্তির পাঁচালি – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
কালো রাত কাটে না, কাটে না
এতো ডাকি, রোদ্দুর এই পথে হাঁটে না
ঘরে না মাঠে না
সূয্যিঠাকুর শোনো, সূয্যিঠাকুর গো
আমাদের খোকা খুকু তোমারই পর গো?
মাগো এতো ডাকি খিদের দেবতাটাকে
বেশি নয় যেন দুবেলা দুমুঠো নুনমাখা ভাত রাখে
তুই আর আমি দুঃখ ভুলব
ভুলবো পেটের জ্বালা
মাগো খিদের দেবতা, সে কি একেবারে কালা!
বাছারে, আমরা অচ্ছুৎ, তাই যেভাবে যতই ডাক
কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!
আয় রোদ্দুর আয়!
আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়।
আয় রোদ্দুর বস্তিতে
আধমরা ঐ খুকুর ঠোঁটে
একটু চুমুর স্বস্তি দে।
আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা
এইটুকুতেই জাত যাবে না।
আয় রোদ্দুর আয়।
দারুণ শীতে খুকু মোদের
ঠান্ডা হয়ে যায়।
আয়রে শীত মাড়িয়ে
ভয়ের জুজু ডাইনি বুড়ির
চুল ধরে দে তাড়িয়ে।
আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা
রাত গেলে কি ভোর হবে না?
শূন্য উঠান শূন্য মাচা
শূন্য ভাঁড়ার ঘর
এমন দিনে বাছারে তোর
এ কোন কঠিন জ্বর?
এর ঝাঁটা ওর লাথি খেয়ে
বেড়েছিস তুই ছেলে
বাঁচবি কি তুই এই জ্বরেও
উপোষে দিন গেলে?
ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ
কান্না-ভেজা ঘরে,
মায়ের কোলে দুধের শিশু
দুধ ছাড়া আজ মরে।
বাইরে বাতাস আছড়ে পড়ে
আমি কি তোর মা?
ঝাঁটা সইলাম, লাথি সইলাম
কী-জন্যে সোনা!
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
কালো বস্তির পাঁচালি – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | কালো বস্তির পাঁচালি কবিতা | বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা | বাংলা কবিতা
কালো বস্তির পাঁচালি: বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দারিদ্র্য, বস্তি ও মানবিক সংগ্রামের অসাধারণ কাব্যভাষা
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “কালো বস্তির পাঁচালি” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা দারিদ্র্য, বস্তি জীবন, ক্ষুধা ও মানবিক সংগ্রামের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “কালো রাত কাটে না, কাটে না / এতো ডাকি, রোদ্দুর এই পথে হাঁটে না / ঘরে না মাঠে না / সূয্যিঠাকুর শোনো, সূয্যিঠাকুর গো / আমাদের খোকা খুকু তোমারই পর গো?” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক অবহেলিত বস্তির মানুষের জীবন, তাদের ক্ষুধা, তাদের আকুতি, তাদের দেবতার প্রতি অভিযোগ। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৫) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা, দারিদ্র্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “কালো বস্তির পাঁচালি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা বস্তির জীবনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র।
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: প্রান্তিক মানুষের কবি
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৫) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি দারিদ্র্য ও অবহেলার সঙ্গে পরিচিত হন। কলকাতায় এসে তিনি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মাটির ঘর’ (১৯৪৭) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কালো বস্তির পাঁচালি’, ‘রাত্রির রৌদ্র’, ‘দুঃখের দেশে’, ‘শ্মশানের ফুল’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বস্তি জীবন ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “কালো বস্তির পাঁচালি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা বস্তির জীবনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র।
কালো বস্তির পাঁচালি কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“কালো বস্তির পাঁচালি” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘কালো বস্তি’ — যেখানে আলো নেই, আশা নেই, সুখ নেই। ‘পাঁচালি’ — এক ধরনের লোকগান, যা সাধারণত পুজো-পার্বণে গাওয়া হয়। কিন্তু এখানে পাঁচালি গাওয়া হচ্ছে বস্তির কালো জীবনের। এটি এক ব্যঙ্গ, এক অভিযোগ, এক আকুতি।
প্রথম অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কালো রাত কাটে না, কাটে না / এতো ডাকি, রোদ্দুর এই পথে হাঁটে না / ঘরে না মাঠে না / সূয্যিঠাকুর শোনো, সূয্যিঠাকুর গো / আমাদের খোকা খুকু তোমারই পর গো? / মাগো এতো ডাকি খিদের দেবতাটাকে / বেশি নয় যেন দুবেলা দুমুঠো নুনমাখা ভাত রাখে / তুই আর আমি দুঃখ ভুলব / ভুলবো পেটের জ্বালা / মাগো খিদের দেবতা, সে কি একেবারে কালা! / বাছারে, আমরা অচ্ছুৎ, তাই যেভাবে যতই ডাক / কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!” প্রথম অংশে কবি বস্তির মানুষের আকুতি ও অভিযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — কালো রাত কাটে না, কাটে না। এত ডাকি, রোদ্দুর এই পথে হাঁটে না। ঘরে না মাঠে না। সূয্যিঠাকুর শোনো, সূয্যিঠাকুর গো — আমাদের খোকা খুকু তোমারই পর গো? মাগো এত ডাকি খিদের দেবতাকে — বেশি নয় যেন দুবেলা দুমুঠো নুনমাখা ভাত রাখে। তুই আর আমি দুঃখ ভুলব, ভুলবো পেটের জ্বালা। মাগো খিদের দেবতা, সে কি একেবারে কালা! বাছারে, আমরা অচ্ছুৎ, তাই যেভাবে যতই ডাক — কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!
‘কালো রাত কাটে না, কাটে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বস্তির জীবনে রাত কাটে না। অর্থাৎ দুঃখের দিন শেষ হয় না। ‘কালো রাত’ দারিদ্র্য ও অবহেলার প্রতীক।
‘সূয্যিঠাকুর শোনো, সূয্যিঠাকুর গো / আমাদের খোকা খুকু তোমারই পর গো?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সূয্যিঠাকুর — সূর্য দেবতা। কবি দেবতাকে ডাকছেন — আমাদের খোকা-খুকু কি তোমার সন্তান নয়? তাহলে কেন তাদের প্রতি তুমি উদাসীন?
‘মাগো খিদের দেবতা, সে কি একেবারে কালা!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
খিদের দেবতা কালা — অর্থাৎ ক্ষুধার দেবতা বধির। তিনি তাদের ডাক শোনেন না, তাদের ক্ষুধা মেটান না।
‘আমরা অচ্ছুৎ, তাই যেভাবে যতই ডাক / কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘অচ্ছুৎ’ — অস্পৃশ্য, নিম্নবর্ণ। বস্তির মানুষ সমাজে অচ্ছুৎ বলে বিবেচিত। তাই দেবতারাও তাদের বস্তিতে আসেন না। এটি এক তীব্র সামাজিক সমালোচনা।
দ্বিতীয় অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আয় রোদ্দুর আয়! / আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়। / আয় রোদ্দুর বস্তিতে / আধমরা ঐ খুকুর ঠোঁটে / একটু চুমুর স্বস্তি দে। / আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা / এইটুকুতেই জাত যাবে না।” দ্বিতীয় অংশে কবি রোদ্দুরকে ডাকছেন। তিনি বলেছেন — আয় রোদ্দুর আয়! আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়। আয় রোদ্দুর বস্তিতে। আধমরা ঐ খুকুর ঠোঁটে একটু চুমুর স্বস্তি দে। আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা — এইটুকুতেই জাত যাবে না।
‘আয় রোদ্দুর আয়!’ — বারবার ডাকার তাৎপর্য
কবি বারবার রোদ্দুরকে ডাকছেন। রোদ্দুর আলোর প্রতীক, আশার প্রতীক। তিনি চান আলো আসুক বস্তিতে, তাদের জীবনে আলো ফুটুক।
‘আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বস্তির শিশু ন্যাংটো, তার বিছানা নোংরা। কবি চান রোদ্দুর এসে সেই নোংরা বিছানায়ও আলো দিক, আশা দিক।
‘আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা / এইটুকুতেই জাত যাবে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
লক্ষ্মী — ধন-সম্পদের দেবী। কবি লক্ষ্মীকেও ডাকছেন। বলছেন — এইটুকুতে জাত যাবে না। অর্থাৎ সামান্য সাহায্য পেলে তাদের জাত যাবে না — সমাজ তাদের ঘৃণা করবে না।
তৃতীয় অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আয় রোদ্দুর আয়। / দারুণ শীতে খুকু মোদের / ঠান্ডা হয়ে যায়। / আয়রে শীত মাড়িয়ে / ভয়ের জুজু ডাইনি বুড়ির / চুল ধরে দে তাড়িয়ে। / আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা / রাত গেলে কি ভোর হবে না?” তৃতীয় অংশে কবি শীতের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আয় রোদ্দুর আয়। দারুণ শীতে খুকু মোদের ঠান্ডা হয়ে যায়। আয়রে শীত মাড়িয়ে, ভয়ের জুজু ডাইনি বুড়ির চুল ধরে দে তাড়িয়ে। আয় লক্ষ্মী আয়রে সোনা — রাত গেলে কি ভোর হবে না?
‘ভয়ের জুজু ডাইনি বুড়ির / চুল ধরে দে তাড়িয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ভয়ের জুজু, ডাইনি বুড়ি — এরা দুঃখ-কষ্টের প্রতীক। কবি চান রোদ্দুর এসে এদের তাড়িয়ে দিক।
‘রাত গেলে কি ভোর হবে না?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই প্রশ্নে আশা ও হতাশা মিশে আছে। রাত গেলে ভোর হয় — এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু তাদের জীবনের রাত কি শেষ হবে? ভোর কি আসবে?
চতুর্থ অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“শূন্য উঠান শূন্য মাচা / শূন্য ভাঁড়ার ঘর / এমন দিনে বাছারে তোর / এ কোন কঠিন জ্বর?” চতুর্থ অংশে কবি শূন্যতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — শূন্য উঠান, শূন্য মাচা, শূন্য ভাঁড়ার ঘর। এমন দিনে বাছারে তোর এ কোন কঠিন জ্বর?
‘শূন্য উঠান শূন্য মাচা / শূন্য ভাঁড়ার ঘর’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সব কিছু শূন্য — খাবার নেই, ফসল নেই, আশা নেই। এই শূন্যতার মধ্যেই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
পঞ্চম অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এর ঝাঁটা ওর লাথি খেয়ে / বেড়েছিস তুই ছেলে / বাঁচবি কি তুই এই জ্বরেও / উপোষে দিন গেলে?” পঞ্চম অংশে কবি শিশুর জীবনের সংগ্রামের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — এর ঝাঁটা ওর লাথি খেয়ে বেড়েছিস তুই ছেলে। বাঁচবি কি তুই এই জ্বরেও, উপোষে দিন গেলে?
‘এর ঝাঁটা ওর লাথি খেয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বস্তির শিশু সমাজের নানা মানুষের কাছ থেকে শুধু অবহেলা ও লাঞ্ছনা পেয়েছে। ঝাঁটা ও লাথি — এই নিয়েই তার বেড়ে ওঠা।
‘বাঁচবি কি তুই এই জ্বরেও / উপোষে দিন গেলে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উপোসে দিন গেলে অর্থাৎ না খেয়ে থাকলে, জ্বর নিয়ে সে কীভাবে বাঁচবে? এই প্রশ্নে মায়ের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।
ষষ্ঠ অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ / কান্না-ভেজা ঘরে, / মায়ের কোলে দুধের শিশু / দুধ ছাড়া আজ মরে।” ষষ্ঠ অংশে কবি ক্ষুধার ভয়াবহতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ জ্বলছে কান্না-ভেজা ঘরে। মায়ের কোলে দুধের শিশু দুধ ছাড়া আজ মরে।
‘ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক্ষুধা এত তীব্র যে তা আগুনের মতো জ্বলছে। দাউ দাউ — জ্বলার শব্দ।
‘মায়ের কোলে দুধের শিশু / দুধ ছাড়া আজ মরে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
দুধের শিশু অর্থাৎ যে শিশুর শুধু দুধ খাওয়ার কথা, সেই শিশুও আজ দুধ পাচ্ছে না। মায়ের বুকেও দুধ নেই। তাই শিশু মারা যাচ্ছে।
সপ্তম অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“বাইরে বাতাস আছড়ে পড়ে / আমি কি তোর মা? / ঝাঁটা সইলাম, লাথি সইলাম / কী-জন্যে সোনা!” সপ্তম অংশে কবি মায়ের শেষ প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন — বাইরে বাতাস আছড়ে পড়ে, আমি কি তোর মা? ঝাঁটা সইলাম, লাথি সইলাম — কী-জন্যে সোনা!
‘আমি কি তোর মা?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মা প্রশ্ন করছেন — আমি কি তোমার মা? অর্থাৎ মা যদি সন্তানের দুঃখ দূর করতে না পারেন, তবে তিনি মা নন? এই প্রশ্নে মায়ের অসহায়ত্ব ও আত্মগ্লানি ফুটে উঠেছে।
‘কী-জন্যে সোনা!’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
সে এত ঝাঁটা সইল, লাথি সইল — কেন? কীসের জন্য? সন্তানের কি জন্য এত কষ্ট? এই প্রশ্নের উত্তর নেই।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“কালো বস্তির পাঁচালি” কবিতাটি বস্তির জীবনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র। কবি প্রথমে বস্তির মানুষের আকুতি ও অভিযোগের কথা বলেছেন — কালো রাত কাটে না, রোদ্দুর আসে না, দেবতারা বস্তিতে আসে না। তিনি রোদ্দুরকে ডাকছেন — আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়, আয় রোদ্দুর বস্তিতে। শীতে খুকু ঠান্ডা হয়ে যায়, তিনি চান রোদ্দুর এসে শীত মাড়িয়ে দিক। তিনি প্রশ্ন করেন — রাত গেলে কি ভোর হবে না? তারপর তিনি শূন্যতার কথা বলেছেন — শূন্য উঠান, শূন্য মাচা, শূন্য ভাঁড়ার ঘর। সেই শূন্যতার মধ্যেই শিশু অসুস্থ। সে ঝাঁটা-লাথি খেয়ে বড় হয়েছে, এখন জ্বরে ভুগছে, উপোসে দিন কাটছে। ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ জ্বলছে, মায়ের কোলে দুধের শিশু দুধ ছাড়া মরছে। শেষে মা প্রশ্ন করেন — আমি কি তোর মা? এত কষ্টের জন্য কী?
কালো বস্তির পাঁচালি কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: কালো বস্তির পাঁচালি কবিতার লেখক কে?
কালো বস্তির পাঁচালি কবিতার লেখক বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৫)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা, দারিদ্র্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ২: কালো বস্তির পাঁচালি কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
কালো বস্তির পাঁচালি কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো বস্তির জীবনের দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও মানবিক সংগ্রামের চিত্র। কবি বস্তির মানুষের আকুতি, রোদ্দুরের ডাক, শিশুর অসুস্থতা, মায়ের অসহায়ত্ব — সব কিছু মিলিয়ে এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছেন।
প্রশ্ন ৩: ‘কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বস্তির মানুষ ‘অচ্ছুৎ’ বলে বিবেচিত, তাই দেবতারাও তাদের বস্তিতে আসেন না। তাদের ডাকে সাড়া দেন না।
প্রশ্ন ৪: ‘আয় রোদ্দুর আয়!’ — বারবার ডাকার তাৎপর্য কী?
‘আয় রোদ্দুর আয়!’ বারবার ডাকার মাধ্যমে কবি আলো ও আশার আহ্বান জানিয়েছেন। রোদ্দুর আলোর প্রতীক। তিনি চান বস্তির জীবনে আলো আসুক, তাদের দুঃখ দূর হোক।
প্রশ্ন ৫: ‘রাত গেলে কি ভোর হবে না?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘রাত গেলে কি ভোর হবে না?’ — এই প্রশ্নে আশা ও হতাশা মিশে আছে। রাত গেলে ভোর হয় — এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু তাদের জীবনের রাত কি শেষ হবে? ভোর কি আসবে? এই অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৬: ‘আমি কি তোর মা?’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য কী?
‘আমি কি তোর মা?’ — এই পঙ্ক্তিতে মায়ের অসহায়ত্ব ও আত্মগ্লানি ফুটে উঠেছে। মা সন্তানের দুঃখ দূর করতে পারেন না। তাই তিনি প্রশ্ন করছেন — আমি যদি তোমার দুঃখ দূর করতে না পারি, তবে আমি কি সত্যিই তোমার মা?
প্রশ্ন ৭: বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৫) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কবিতায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা, দারিদ্র্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। ‘কালো বস্তির পাঁচালি’ তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
ট্যাগস: কালো বস্তির পাঁচালি, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা, কালো বস্তির পাঁচালি কবিতা, বাংলা কবিতা, দারিদ্র্যের কবিতা, বস্তির কবিতা, প্রান্তিক মানুষের কবিতা






