কবিতার খাতা
- 23 mins
কষ্ট হয় – মহাদেব সাহা।
তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাস
কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল
এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না,
তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো,
কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের?
সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের
পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না. তোমার
পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে,
শিল্পকলার বারান্দায়
এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না তুমি,
যখনই দেখি তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো, নদীর স্রোতও কখনো
কখনো থেমে থাকে
তোমার ছোটা থামে না,
আজ পরীক্ষা, কাল নোট করা, পরের দিন লাইব্রেরি,
তার পর দিন বাড়িতে অতিথি
তুমি এতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা
সে কথা বুঝলো না,
বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?
ছয় মাসে যখনই তোমাকে কফি হাউসের দিকে
একবার আসতে বলি
তুমি মাথা দুলিয়ে বলো, কাল পরীক্ষা,
আজ একটু পরেই বাইরে থেকে ফোনে
একটা জরুরি কল আসবে
কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল,
মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?
তুমি বোঝো না, হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে
তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়’।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মহাদেব সাহা।
কষ্ট হয় – মহাদেব সাহা | কষ্ট হয় কবিতা | মহাদেব সাহার কবিতা | বাংলা কবিতা
কষ্ট হয়: মহাদেব সাহার অপেক্ষা, অবহেলা ও ভালোবাসার অসাধারণ কাব্যভাষা
মহাদেব সাহার “কষ্ট হয়” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা অপেক্ষা, অবহেলা, ভালোবাসা ও আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাস / কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল / এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক প্রেমিক হৃদয়ের বেদনা, যিনি প্রিয়জনের ব্যস্ততার কারণে অবহেলিত। মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “কষ্ট হয়” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও প্রেমের অপেক্ষার দ্বন্দ্বকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
মহাদেব সাহা: প্রকৃতি ও প্রেমের কবি
মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৪৪ সালের ২৫ আগস্ট বৃহত্তর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলা, সাপ্তাহিক বিচিত্রা প্রভৃতি পত্রিকায় কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মাছের রান্না’, ‘দুঃখীরা কথা বলে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘শতাব্দীর সূর্য’, ‘বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “কষ্ট হয়” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও প্রেমের অপেক্ষার দ্বন্দ্বকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
কষ্ট হয় কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“কষ্ট হয়” শিরোনামটি অত্যন্ত সরল অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি অনুভূতির নাম — কষ্ট, বেদনা, অবহেলার যন্ত্রণা। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা কষ্টের, অবহেলার, অপেক্ষার কবিতা।
প্রথম অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাস / কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল / এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না, / তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো, / কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের? / সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের / পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না.” প্রথম অংশে কবি তাঁর কষ্টের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন — তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়। আজ তোমার ক্লাস, কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল। এই যে সারাদিন বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না। তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো। কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের? সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না।
‘তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয় বক্তব্য। প্রিয়জন বুঝতে পারেন না কবির কষ্ট। তিনি জানেন না কবি কী অনুভব করছেন। এই অবোধ্যতাই কষ্টকে বাড়িয়ে তোলে।
‘আজ তোমার ক্লাস / কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জনের জীবন এত ব্যস্ত যে তাঁর জন্য সময় নেই। ক্লাস, পরীক্ষা, গানের স্কুল — সব কিছুই আছে, কিন্তু কবির জন্য সময় নেই।
‘এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বৃষ্টি হলে সাধারণত রেনিডে (ছুটি) হয়। কিন্তু প্রিয়জনের জীবনে বৃষ্টির জন্যও ছুটি নেই। সব কিছু চলতে থাকে অটলভাবে।
‘তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ব্যঙ্গ করে বলা — গানের মাস্টারেরও সর্দিজ্বর হয় না, তাই ক্লাস বন্ধ হয় না। সব কিছু চালু থাকে, শুধু কবির জন্য সময় থমকে আছে।
‘সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি কবিতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশ। সব কিছুর জন্য সময় আছে — ক্লাসের জন্য, পরীক্ষার জন্য, গানের স্কুলের জন্য। কিন্তু কবির জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্তও সময় হয় না।
দ্বিতীয় অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমার / পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে, / শিল্পকলার বারান্দায় / এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না তুমি, / যখনই দেখি তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো, নদীর স্রোতও কখনো / কখনো থেমে থাকে / তোমার ছোটা থামে না” দ্বিতীয় অংশে কবি প্রিয়জনের দৌড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমার পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে, শিল্পকলার বারান্দায় এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না তুমি। যখনই দেখি তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো। নদীর স্রোতও কখনো থেমে থাকে, তোমার ছোটা থামে না।
পাবলিক লাইব্রেরি, কনকর্ড, শিল্পকলার বারান্দার তাৎপর্য
এগুলো ঢাকা শহরের পরিচিত স্থান। এই সব জায়গায় প্রিয়জন এক মিনিটও দাঁড়াতে পারেন না। তিনি সব সময় দৌড়াচ্ছেন, ব্যস্ত।
‘নদীর স্রোতও কখনো কখনো থেমে থাকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নদীর স্রোতও কখনো কখনো থেমে থাকে — কিন্তু প্রিয়জনের দৌড়ানো কখনো থামে না। এটি অতিরঞ্জন, কিন্তু ব্যস্ততার গভীরতা বোঝায়।
তৃতীয় অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আজ পরীক্ষা, কাল নোট করা, পরের দিন লাইব্রেরি, / তার পর দিন বাড়িতে অতিথি / তুমি এতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা / সে কথা বুঝলো না, / বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?” তৃতীয় অংশে কবি গোলাপ ফুলের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আজ পরীক্ষা, কাল নোট করা, পরের দিন লাইব্রেরি, তার পর দিন বাড়িতে অতিথি। তুমি এত কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা সে কথা বুঝলো না। বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?
গোলাপ ফুলের তাৎপর্য
গোলাপ ফুল প্রেমের প্রতীক। কবি হয়তো প্রিয়জনকে দেওয়ার জন্য একটি গোলাপ এনেছেন। কিন্তু প্রিয়জন এত ব্যস্ত যে গোলাপ দেওয়ারও সময় নেই।
‘অবুঝ গোলাপ ফুলটা সে কথা বুঝলো না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গোলাপ ফুল অবুঝ — সে বোঝে না প্রিয়জন ব্যস্ত। সে ফুটে আছে, প্রেম নিবেদন করতে চায়, কিন্তু গ্রহীতা নেই।
‘বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?’ — প্রশ্নের তাৎপর্য
কবি প্রশ্ন করছেন — গোলাপ ফুলকে তিনি কী বলবেন? কী বললে ফুল বুঝবে যে প্রিয়জন আসবে না? এটি এক অসহায় প্রশ্ন।
চতুর্থ অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ছয় মাসে যখনই তোমাকে কফি হাউসের দিকে / একবার আসতে বলি / তুমি মাথা দুলিয়ে বলো, কাল পরীক্ষা, / আজ একটু পরেই বাইরে থেকে ফোনে / একটা জরুরি কল আসবে / কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, / মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?” চতুর্থ অংশে কবি প্রিয়জনের অজুহাতের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — ছয় মাসে যখনই তোমাকে কফি হাউসের দিকে একবার আসতে বলি, তুমি মাথা দুলিয়ে বলো, কাল পরীক্ষা। আজ একটু পরেই বাইরে থেকে ফোনে একটা জরুরি কল আসবে। কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?
কফি হাউসের তাৎপর্য
কফি হাউস — প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনস্থল। ছয় মাসেও একবার সেখানে আসতে বলেননি প্রিয়জনকে।
‘কাল পরীক্ষা’, ‘জরুরি কল’ — অজুহাতের তাৎপর্য
প্রিয়জনের সব সময় অজুহাত থাকে — কাল পরীক্ষা, জরুরি কল। এই অজুহাতগুলো কবির কষ্ট বাড়ায়।
‘মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি চান প্রিয়জনের সব ব্যস্ততা, সব কাজ, সব অজুহাত যেন বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি চান প্রিয়জন মুক্ত হোক, তাঁর জন্য সময় দিক।
পঞ্চম অংশের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তুমি বোঝো না, হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে / তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়’।” পঞ্চম অংশে কবি শেষ বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন — তুমি বোঝো না, হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়।
শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শুরুতে ফিরে গেছে। শুরুতে তিনি বলেছিলেন ‘তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়’। শেষে বলেছেন — হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়। গোলাপ ফুল তাঁর হাতে পড়ে আছে, প্রিয়জনকে দেওয়া হয়নি। সেই ফুল দেখে তাঁর কষ্ট হয়।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“কষ্ট হয়” কবিতাটি আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও প্রেমের অপেক্ষার এক মর্মস্পর্শী চিত্র। কবি তাঁর প্রিয়জনকে বলেছেন — তুমি বোঝো না আমার কষ্ট হয়। তোমার সব সময় ক্লাস, পরীক্ষা, গানের স্কুল। বৃষ্টি হলেও তোমার রেনিডে হয় না। গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না। পরীক্ষা বাতিল হয় না। সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না। তুমি পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে, শিল্পকলার বারান্দায় এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না। তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো। নদীর স্রোতও থেমে থাকে, কিন্তু তোমার ছোটা থামে না। আজ পরীক্ষা, কাল নোট, পরশু লাইব্রেরি, তার পর দিন অতিথি। তুমি এত ব্যস্ত যে এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা বুঝলো না। ছয় মাসে একবার কফি হাউসে আসতে বললেও তুমি বলো কাল পরীক্ষা, জরুরি কল আসবে। কবে তুমি এই সব নোট, টিউটোরিয়াল, মোবাইল ঝোপে ফেলে দেবে? তুমি বোঝো না — হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়।
কষ্ট হয় কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: কষ্ট হয় কবিতার লেখক কে?
কষ্ট হয় কবিতার লেখক মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ২: কষ্ট হয় কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
কষ্ট হয় কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও প্রেমের অপেক্ষার দ্বন্দ্ব। কবি তাঁর প্রিয়জনকে বলেছেন — তাঁর সব সময় ক্লাস, পরীক্ষা, গানের স্কুল। সবকিছুর জন্য সময় থাকলেও কবির জন্য এক মুহূর্ত সময় নেই। তিনি শুধু দৌড়াচ্ছেন, থামছেন না। কবির হাতে থাকা গোলাপ ফুলটি প্রিয়জনকে দেওয়া হয় না। এই দেখে তাঁর কষ্ট হয়।
প্রশ্ন ৩: ‘সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক অংশ। সব কিছুর জন্য সময় আছে — ক্লাসের জন্য, পরীক্ষার জন্য, গানের স্কুলের জন্য, নোট করার জন্য, লাইব্রেরির জন্য, অতিথির জন্য। কিন্তু কবির জন্য বছরের পর বছর এক মুহূর্তও সময় হয় না।
প্রশ্ন ৪: ‘নদীর স্রোতও কখনো কখনো থেমে থাকে / তোমার ছোটা থামে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘নদীর স্রোতও কখনো কখনো থেমে থাকে / তোমার ছোটা থামে না’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রিয়জনের অতিরিক্ত ব্যস্ততার কথা বলেছেন। নদীর স্রোতও কখনো থেমে থাকে, কিন্তু প্রিয়জনের দৌড়ানো কখনো থামে না। এটি অতিরঞ্জন, কিন্তু ব্যস্ততার গভীরতা বোঝায়।
প্রশ্ন ৫: ‘কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, / মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, / মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রিয়জনের সব ব্যস্ততা, সব কাজ, সব অজুহাত যেন বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি চান প্রিয়জন মুক্ত হোক, তাঁর জন্য সময় দিক।
প্রশ্ন ৬: মহাদেব সাহা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৪৪ সালের ২৫ আগস্ট বরিশালের গৌরনদীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: কষ্ট হয়, মহাদেব সাহা, মহাদেব সাহার কবিতা, কষ্ট হয় কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, প্রেমের কবিতা, ব্যস্ততার কবিতা, অপেক্ষার কবিতা





