কবির জন্ম – আর্যতীর্থ।

লোকটা ভাবলো কবিতা লিখতে হবে।
বিষয় ভেবে ফেললো।
তাজা, টগবগে, লোকের খাওয়ার মতো।
ছোটোবেলার প্রবন্ধের মতো লেখা হলো ভূমিকা,
বিস্তার, উপসংহার,
তবে সবই কবিতার আঙ্গিকে।
ছন্দ মেনে, মাত্রা গুনে,
মিল বা অমিলে কোথাও কোনো ভুল নেই।
স্তবক হলো ,শিরোনাম হলো,
যতি চিহ্ন, ডট ডট ডট, সব হলো।
খুশিতে ডগমগ হয়ে প্রকাশ করতে গিয়ে লোকটা দেখলো,
সর্বাঙ্গে কাটা দাগ আর সেলাইয়ের চিহ্ন নিয়ে
একটা আত্মাহীন অবয়ব তার দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে।
শিউরে উঠে লোকটা প্রায় চিৎকার করে বললো,
‘ ফ্রাংকেনস্টাইন!’

লোকটা ভাবে। লেখে।
ছন্দ গাঁথে, মাত্রা গোনে, স্তবক ভাগ করে।
কিন্তু যখনই কবিতা খোঁজে , তখনই সে দেখে,
সারি দিয়ে শুয়ে আছে কথার কাঠামো শুধু,
মৃতদেহের মতো নিথর,
অন্ধকারের মতো একা ,
বাজে পুড়ে যাওয়া গাছের মতো নিরস।
সেসব বৈয়াকরণ আর ছান্দসিকেরা পড়ে বাহ বাহ করে ওঠে।
লোকটা নিয়মিত আগামীকালের কবরে
আজকের সৃষ্টিকে সময়ের পলি চাপা দেয়।

একদিন হঠাৎই,
লোকটা ঠিক করলো কিচ্ছু নিয়ম মানবে না।
কলমকে সে শিকল খুলে কথাদের মধ্যে ছেড়ে দিলো,
অথচ কি আশ্চর্য ,
সে স্বেচ্ছাচারী হলো না মোটেই।
শিল্পী যেমন প্রাণহীন রঙের থেকে
জন্ম দেন অনন্তযৌবনা ছবির,
স্থপতি যেমন নিরেট পাথর কেটে
বানিয়ে দেন অসেচনক ভাস্কর্য,
তেমনি কলম ভাবনা আর কথা দিয়ে
বানালো অদ্ভুত একটা আয়না,
যে দেখে , তারই নিজস্ব প্রতিবিম্ব সেখানে ঝলমল করে ওঠে ।

লোকটা দেখলো,
চারদিক থেকে কথারা ভিড় করে আসছে তার কাছে,
কিন্তু নিয়মের তালে কুচকাওয়াজ করতে নয়,
ইচ্ছে মতো ভাবনার রঙে সাজতে।
লোকটা শুনলো,
কারা যেন বলছে,
বন্ধ ঘরের সমস্ত দরজা খুলে
উৎসবের আয়োজন করি চলো,
আজ যে এক নতুন কবির জন্ম হলো!

শুধু ছান্দসিক আর বৈয়াকরণরা
এইসব অনাচার দেখে ভীষণ মুখ বেঁকালো।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আর্যতীর্থ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x