একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মসমর্পণ – রফিক আজাদ।

বলেছিলাম
স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবো তোমার কাছে একদিন।
কেবল কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলাম
তোমার কাছে নতজানু হয়ে, ভিক্ষুকের দীনতায়।
সময় দিয়েছিলে:
তোমারও স্বার্থ ছিলো,
আমার স্বার্থ তোমাকে উদ্ধার করা;
তোমার দারুণ বন্দীদশা আমার সহ্য হয়নি

আমার লোভ ছিলো:
মুক্ত বাংলায় আবার তোমার নুপুর নিক্কন শুনবো,
তোমার সঙ্গে জড়াবো নিজের ভাগ্যকে;
আমার পেছনে ঘুরবে লেজ নেড়ে অর্থ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি

যেমন ঘুরতো প্রাক্তন প্রভুর পায়ে পায়ে, দালাল কুকুর।
তোমার মুখে হাসি ফোটাতে,
দামী অলংকারে সাজাতে ভীরু-কাপুরুষ তোমার প্রেমিক এই আমাকে
ধরতে হলো শক্ত হাতে মর্টার, মেশিনগান-
শত্রুর ঝংকারে, ছাউনিতে ছুঁড়তে হলো গ্রেনেড।
আমার লোভ আমাকে কাপুরুষ হতে দেয়নি।
তুমি জানতে
নিদারুণভাবে কাপুরুষ আমি
কোনোদিন পুরোপুরি তোমাকে দেখার সাহস হয়নি,
তোমার সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারিনি-
উরুদ্বয় দুর্বল ছিলো;
স্পষ্ট করে কোন কথা বলতে পারিনি-
ঠোঁট জোড়া কাঁপতো সর্বদা।
কেবল তোমার দুরবস্থা দেখে
উরুদ্বয় শক্তিমান হলো
হাতিয়ার হাতে দুশমনের মোকাবিলা করলাম,

বারুদের গন্ধ মাখলাম শরীরে
ক্রলিং করে শত্রুর বাংকারে গ্রেনেড ছুঁড়ে
টুকরো টুকরো করে দিলাম শত্রুর সোনালী স্বপ্নকে।

সব জানি আমি
শত্রু কবলিত ভক্তেরা তোমার
প্রকাশ্যে স্তব-স্কৃতি করতে পারেনি-
সম্ভব ছিলো না তাদের পক্ষে।
তবু অগ্রজ ও অনুজের মধ্যে অনেকের
হৃদয়ের রাণী হয়েছিলে।

ন’মাসে অনেক কৃশ হয়ে গেছো,-
নীরক্ত হয়েছো,
চাপল্য কমেছে- উজ্জ্বলতা,
তোমার চোখের দীপ্তি নিষ্প্রভ হয়ে গেছে,
অনেক অনেক বদলে গেছো তুমি।

তবুও তোমার কাছে আত্মসমর্পণে সুখ আছে।
কিন্তু সাবধান, কোথাও কখনো যদি তোমার সঙ্গে
বঙ্গবীর সিদ্দিকীর দেখা হয়ে যায়,
প্লিজ পায়ে পড়ি একথাটি ভুলেও বলবে না-
কেননা, ন’মাসে আমরা তাঁর কাছে
“হ্যান্ডস আপ” করা কখনো শিখি নি।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রফিক আজাদ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x