কবিতার খাতা
- 28 mins
আর কখনো হয়নি দেখা,হবেও না – সাদাত হোসাইন।
সেই যে হঠাৎ নদীর ধারে নৌকো এলো,
বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া,
হাওয়ায় সওয়ার ঘোড়ার মতন ঝড়ও এলো।
সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে।
যার ভেঙেছে, জানলো কেবল একলা সে-ই, আর কেউ না।
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো গভীর রাতে, দেখলো সবাই।
কিন্তু কারো চোখের কোলে ঝর্ণা নামে রোজ নিশিথে,
দায় পড়েনি, দেখার কারও।
তোমরা কেবল মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিটুকুই দেখতে পারো।
বুকেও যে আকাশ থাকে, সেই আকাশেও মেঘ জমে যায়,
উথাল-পাথাল ঝড় নেমে যায়, বেহিসেবি বৃষ্টি নামে,
কেউ দেখে না।
পাড় ভাঙা ওই নদীর দুঃখ সবাই জানে,
কেবল কারো বুকে জমা ঢেউটুকু আর কেউ দেখে না।
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না।
দখিন হাওয়ায় নাও ভেসে যায় তেপান্তরে, তুমিও যাও,
অমন ঢেউয়ে নামবো ভেবে হঠাৎ দেখি, সাঁতারটুকুও হয়নি জানা।
সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার কোথায়, তোমার ঠিকানা?
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না।
আমি কেবল শিখেছিলাম ভালোবাসতে,
একশ আকাশ, একশ নদী, অযুত স্বপ্ন বুকে পুষতে।
কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস,
সাঁতারটুকুও শিখতে হবে।
নদীর পরে সমুদ্দুরে, নৌকো তোমার জাহাজ হলো,
আমার কেবল সাঁতার শেখার ইচ্ছেটুকুই রয়ে গেলো।
হয়নি শেখা।
সবাই কী আর শিখতে পারে!
এই পৃথিবীর জটিল হিসেব পাশ কাটিয়ে সহজ হয়েও কেউ রয়ে যায়।
না পাওয়াদের দুঃখগুলোও, একলা একা চুপ সয়ে যায়।
হঠাৎ ভীষণ কান্না পেলে, লুকিয়ে ফেলে ঝাপসা দু’চোখ,
বৃষ্টি এলে জলের ভেতর লুকিয়ে ফেলে অশ্রু-অসুখ।
তোমরা কেবল ভালো থেকো, ভালোই থেকো।
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না,
জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে
একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সাদাত হোসাইন।
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না – সাদাত হোসাইন | আর কখনো হয়নি দেখা হবেও না কবিতা | সাদাত হোসাইনের কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না: সাদাত হোসাইনের অপূর্ণ প্রেম, নদী ও অশ্রুর অসাধারণ কাব্যভাষা
সাদাত হোসাইনের “আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা অপূর্ণ প্রেম, বিচ্ছেদ, নদী, ঝড় ও অশ্রুর এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “সেই যে হঠাৎ নদীর ধারে নৌকো এলো, / বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া, / হাওয়ায় সওয়ার ঘোড়ার মতন ঝড়ও এলো। / সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর বেদনার জগৎ, যেখানে প্রেম এসেছিল ঝড়ের মতো, বুকের পাড় ভেঙে দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রেম আর কখনো দেখা হয়নি, হবেও না। সাদাত হোসাইন আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা অপূর্ণ প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র।
সাদাত হোসাইন: আধুনিক বাংলা কবিতার শক্তিমান কণ্ঠ
সাদাত হোসাইন আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর কবিতায় নদী, ঝড়, আকাশ, বৃষ্টি — প্রকৃতির নানা উপাদান প্রেমের রূপক হয়ে উঠেছে। “আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা অপূর্ণ প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র। সাদাত হোসাইনের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি স্বীকারোক্তি, একটি বেদনার বহিঃপ্রকাশ। ‘আর কখনো হয়নি দেখা’ — অতীতের কথা, যা আর ঘটেনি। ‘হবেও না’ — ভবিষ্যতেও ঘটবে না। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা অপূর্ণ প্রেমের, না-পাওয়ার, বিচ্ছেদের কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সেই যে হঠাৎ নদীর ধারে নৌকো এলো, / বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া, / হাওয়ায় সওয়ার ঘোড়ার মতন ঝড়ও এলো। / সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে। / যার ভেঙেছে, জানলো কেবল একলা সে-ই, আর কেউ না। / আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো গভীর রাতে, দেখলো সবাই। / কিন্তু কারো চোখের কোলে ঝর্ণা নামে রোজ নিশিথে, / দায় পড়েনি, দেখার কারও।” প্রথম স্তবকে কবি সেই দিনের কথা বলেছেন যখন প্রেম এসেছিল। তিনি বলেছেন — সেই যে হঠাৎ নদীর ধারে নৌকো এলো, বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া এলো। হাওয়ায় সওয়ার ঘোড়ার মতো ঝড়ও এলো। সেই ঝড়ে ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে। যার ভেঙেছে, জানলো কেবল একলা সে-ই, আর কেউ না। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো গভীর রাতে, দেখলো সবাই। কিন্তু কারো চোখের কোলে ঝর্ণা নামে রোজ নিশিথে, দায় পড়েনি, দেখার কারও।
‘বাদামি রঙ পালের সাথে তুমুল হাওয়া’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বাদামি রঙের পাল — প্রেমের নৌকো। তুমুল হাওয়া — প্রেমের আবেগ। প্রেম এসেছিল ঝড়ের মতো, নৌকো নিয়ে।
‘সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ঝড়ে ঘর ভাঙেনি — বাইরের জগৎ অক্ষত আছে। কিন্তু বুকের পাড় ভেঙেছে — তাঁর হৃদয় ভেঙে গেছে। এই ব্যথা বাইরে থেকে দেখা যায় না।
‘যার ভেঙেছে, জানলো কেবল একলা সে-ই, আর কেউ না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যার হৃদয় ভেঙেছে, সে-ই একা জানে সেই ব্যথা। আর কেউ জানে না, দেখতে পায় না। এটি একাকীত্বের গভীর সত্য।
‘আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলো গভীর রাতে, দেখলো সবাই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বাইরের বৃষ্টি সবাই দেখে। প্রকৃতির ঝড়-বৃষ্টি সবার চোখে পড়ে। কিন্তু ভেতরের বৃষ্টি, মনের ঝড় কেউ দেখে না।
‘কিন্তু কারো চোখের কোলে ঝর্ণা নামে রোজ নিশিথে, / দায় পড়েনি, দেখার কারও’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কারো চোখে প্রতিরাতে ঝর্ণা নামে — অর্থাৎ তিনি প্রতিরাতে কাঁদেন। কিন্তু সেই কান্না কেউ দেখে না, দেখার দায়িত্ব কারও নেই।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমরা কেবল মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিটুকুই দেখতে পারো। / বুকেও যে আকাশ থাকে, সেই আকাশেও মেঘ জমে যায়, / উথাল-পাথাল ঝড় নেমে যায়, বেহিসেবি বৃষ্টি নামে, / কেউ দেখে না।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর অন্তর্জগতের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমরা কেবল মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিটুকুই দেখতে পারো। বুকেও যে আকাশ থাকে, সেই আকাশেও মেঘ জমে যায়, উথাল-পাথাল ঝড় নেমে যায়, বেহিসেবি বৃষ্টি নামে, কেউ দেখে না।
‘বুকেও যে আকাশ থাকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আকাশ শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও আছে — মানুষের মনের আকাশ। সেই আকাশেও মেঘ জমে, ঝড় ওঠে, বৃষ্টি নামে। কিন্তু সেই ঝড় কেউ দেখে না।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“পাড় ভাঙা ওই নদীর দুঃখ সবাই জানে, / কেবল কারো বুকে জমা ঢেউটুকু আর কেউ দেখে না। / আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না। / দখিন হাওয়ায় নাও ভেসে যায় তেপান্তরে, তুমিও যাও, / অমন ঢেউয়ে নামবো ভেবে হঠাৎ দেখি, সাঁতারটুকুও হয়নি জানা। / সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার কোথায়, তোমার ঠিকানা? / আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না।” তৃতীয় স্তবকে কবি অপূর্ণতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — পাড় ভাঙা ওই নদীর দুঃখ সবাই জানে। কেবল কারো বুকে জমা ঢেউটুকু আর কেউ দেখে না। আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না। দখিন হাওয়ায় নাও ভেসে যায় তেপান্তরে, তুমিও যাও। অমন ঢেউয়ে নামবো ভেবে হঠাৎ দেখি, সাঁতারটুকুও হয়নি জানা। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার কোথায়, তোমার ঠিকানা? আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না।
‘পাড় ভাঙা ওই নদীর দুঃখ সবাই জানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নদীর পাড় ভাঙা — বাইরের ঘটনা, সবার চোখে পড়ে। তাই তার দুঃখ সবাই জানে। কিন্তু ভেতরের ঢেউ, ভেতরের ব্যথা কেউ দেখে না।
‘দখিন হাওয়ায় নাও ভেসে যায় তেপান্তরে, তুমিও যাও’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
দখিন হাওয়া — দক্ষিণের বাতাস। সেই হাওয়ায় প্রিয়জনের নৌকো ভেসে যায় দূর তেপান্তরে। তিনি চলে যান।
‘অমন ঢেউয়ে নামবো ভেবে হঠাৎ দেখি, সাঁতারটুকুও হয়নি জানা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি ভেবেছিলেন তিনি সেই ঢেউয়ে নামবেন, প্রিয়জনের সাথে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ দেখলেন, তিনি সাঁতার জানেন না। অর্থাৎ তিনি প্রেমের গভীরে যেতে পারেননি, পারেন না।
‘সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার কোথায়, তোমার ঠিকানা?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জন চলে গেছেন সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে। তাঁর ঠিকানা অজানা। তিনি আর ফিরে আসবেন না।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি কেবল শিখেছিলাম ভালোবাসতে, / একশ আকাশ, একশ নদী, অযুত স্বপ্ন বুকে পুষতে। / কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস, / সাঁতারটুকুও শিখতে হবে।” চতুর্থ স্তবকে কবি তাঁর শিক্ষার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমি কেবল শিখেছিলাম ভালোবাসতে, একশ আকাশ, একশ নদী, অযুত স্বপ্ন বুকে পুষতে। কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস, সাঁতারটুকুও শিখতে হবে।
‘কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কেউ তাঁকে সতর্ক করেনি — ভালোবাসা মানে শুধু সুখ নয়, তাতে জলোচ্ছ্বাসও আসে, বিপদও আসে। আর সেই বিপদ থেকে বাঁচতে সাঁতার জানতে হবে — অর্থাৎ প্রেমের প্রতিকূলতা মোকাবিলার ক্ষমতা থাকতে হবে।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“নদীর পরে সমুদ্দুরে, নৌকো তোমার জাহাজ হলো, / আমার কেবল সাঁতার শেখার ইচ্ছেটুকুই রয়ে গেলো। / হয়নি শেখা। / সবাই কী আর শিখতে পারে! / এই পৃথিবীর জটিল হিসেব পাশ কাটিয়ে সহজ হয়েও কেউ রয়ে যায়। / না পাওয়াদের দুঃখগুলোও, একলা একা চুপ সয়ে যায়। / হঠাৎ ভীষণ কান্না পেলে, লুকিয়ে ফেলে ঝাপসা দু’চোখ, / বৃষ্টি এলে জলের ভেতর লুকিয়ে ফেলে অশ্রু-অসুখ। / তোমরা কেবল ভালো থেকো, ভালোই থেকো। / আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না, / জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে / একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।” পঞ্চম স্তবকে কবি চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন — নদীর পরে সমুদ্দুরে, নৌকো তোমার জাহাজ হলো। আমার কেবল সাঁতার শেখার ইচ্ছেটুকুই রয়ে গেলো। হয়নি শেখা। সবাই কী আর শিখতে পারে! এই পৃথিবীর জটিল হিসেব পাশ কাটিয়ে সহজ হয়েও কেউ রয়ে যায়। না পাওয়াদের দুঃখগুলোও একলা একা চুপ সয়ে যায়। হঠাৎ ভীষণ কান্না পেলে লুকিয়ে ফেলে ঝাপসা দু’চোখ। বৃষ্টি এলে জলের ভেতর লুকিয়ে ফেলে অশ্রু-অসুখ। তোমরা কেবল ভালো থেকো, ভালোই থেকো। আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না। জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।
‘নদীর পরে সমুদ্দুরে, নৌকো তোমার জাহাজ হলো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জনের জীবন এগিয়ে গেছে, সে নদী থেকে সমুদ্রে পৌঁছে গেছে। তাঁর নৌকো এখন জাহাজ। তিনি অনেক দূরে চলে গেছেন।
‘আমার কেবল সাঁতার শেখার ইচ্ছেটুকুই রয়ে গেলো। / হয়নি শেখা।’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবির শুধু ইচ্ছেটুকুই রয়ে গেছে — সাঁতার শেখার ইচ্ছা। কিন্তু শেখা হয়নি। তিনি সেই গভীর জলে নামতে পারেননি, প্রেমের গভীরে যেতে পারেননি।
‘না পাওয়াদের দুঃখগুলোও, একলা একা চুপ সয়ে যায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যারা পায়নি, যাদের প্রেম পূর্ণ হয়নি, তাদের দুঃখও একলা একা সহ্য করতে হয়। কেউ তা দেখে না, বুঝে না।
‘বৃষ্টি এলে জলের ভেতর লুকিয়ে ফেলে অশ্রু-অসুখ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বৃষ্টি এলে তিনি তাঁর অশ্রু লুকিয়ে ফেলেন জলের ভেতর। বৃষ্টির ফোঁটার সাথে মিশিয়ে দেন তাঁর কান্না। কেউ বুঝতে পারে না তিনি কাঁদছেন।
‘তোমরা কেবল ভালো থেকো, ভালোই থেকো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি একটি বিদায়ের অনুরোধ। তিনি চান না প্রিয়জন তাঁর জন্য কষ্ট করুক। তিনি চান তারা ভালো থাকুক।
‘জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে / একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এটি কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অংশ। তিনি জানেন প্রিয়জন তাঁকে ভুলে যাবে। তবুও তিনি অনুরোধ করেন — এই অবাক বোকা মানুষটাকে একটু মনে রেখো। ‘মনে রেখো’ — দুবার বলা এই অনুরোধ তাঁর আকুলতা ও বেদনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” কবিতাটি অপূর্ণ প্রেম, বিচ্ছেদ ও না-পাওয়ার এক অসাধারণ চিত্র। কবি প্রথমে সেই দিনের কথা বলেছেন যখন প্রেম এসেছিল ঝড়ের মতো, বুকের পাড় ভেঙে দিয়েছিল। সেই ব্যথা কেবল তিনি-ই জানেন। বাইরের বৃষ্টি সবাই দেখে, কিন্তু তাঁর চোখের অশ্রু কেউ দেখে না। বুকেও আকাশ আছে, সেখানেও ঝড় ওঠে, কিন্তু কেউ দেখে না। প্রিয়জন চলে গেছে দূর তেপান্তরে, কবি তাঁর সাথে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাঁতার জানেন না। তিনি শুধু ভালোবাসতে শিখেছিলেন, কিন্তু সাঁতার শেখেননি — প্রেমের বিপদ মোকাবিলা করতে শেখেননি। প্রিয়জনের নৌকো জাহাজ হয়েছে, কবির শুধু ইচ্ছে রয়ে গেছে। না পাওয়াদের দুঃখ একলা সইতে হয়। তিনি তাঁর অশ্রু লুকিয়ে ফেলেন বৃষ্টির জলে। শেষে তিনি বলেন — তোমরা ভালো থেকো। এই অবাক বোকা মানুষটাকে একটু মনে রেখো।
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতার লেখক কে?
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতার লেখক সাদাত হোসাইন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
প্রশ্ন ২: আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো অপূর্ণ প্রেম, বিচ্ছেদ ও না-পাওয়ার বেদনা। কবি প্রেমের আগমন ও বিচ্ছেদের কথা বলেছেন, তাঁর অন্তর্জগতের ঝড়-বৃষ্টির কথা বলেছেন যা কেউ দেখে না। শেষে তিনি প্রিয়জনকে অনুরোধ করেছেন তাঁকে মনে রাখতে।
প্রশ্ন ৩: ‘সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সেই ঝড়ে আর ঘর ভাঙেনি, কেবল বুকের পাড় ভেঙেছে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রেমের প্রভাবের কথা বলেছেন। ঝড়ে ঘর ভাঙেনি — বাইরের জগৎ অক্ষত আছে। কিন্তু বুকের পাড় ভেঙেছে — তাঁর হৃদয় ভেঙে গেছে। এই ব্যথা বাইরে থেকে দেখা যায় না।
প্রশ্ন ৪: ‘বুকেও যে আকাশ থাকে, সেই আকাশেও মেঘ জমে যায়, / উথাল-পাথাল ঝড় নেমে যায়, বেহিসেবি বৃষ্টি নামে, / কেউ দেখে না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বুকেও যে আকাশ থাকে, সেই আকাশেও মেঘ জমে যায়, / উথাল-পাথাল ঝড় নেমে যায়, বেহিসেবি বৃষ্টি নামে, / কেউ দেখে না’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর অন্তর্জগতের কথা বলেছেন। মানুষের মনের আকাশেও ঝড় ওঠে, বৃষ্টি নামে। কিন্তু সেই অভ্যন্তরীণ ঝড়-বৃষ্টি কেউ দেখে না।
প্রশ্ন ৫: ‘আমি কেবল শিখেছিলাম ভালোবাসতে, / একশ আকাশ, একশ নদী, অযুত স্বপ্ন বুকে পুষতে। / কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস, / সাঁতারটুকুও শিখতে হবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আমি কেবল শিখেছিলাম ভালোবাসতে, / একশ আকাশ, একশ নদী, অযুত স্বপ্ন বুকে পুষতে। / কেউ বলে নি, আকাশ এবং নদী মানেই তুমুল জলোচ্ছ্বাসের আভাস, / সাঁতারটুকুও শিখতে হবে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর শিক্ষার কথা বলেছেন। তিনি শুধু ভালোবাসতে শিখেছিলেন, স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলেন। কেউ তাঁকে সতর্ক করেনি — ভালোবাসায় জলোচ্ছ্বাসও আসে, আর সেই জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে সাঁতার জানতে হয়।
প্রশ্ন ৬: ‘জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে / একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘জেনেও এই অবাক বোকা মানুষটাকে / একটু কেবল মনে রেখো। মনে রেখো।’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অংশ। তিনি জানেন প্রিয়জন তাঁকে ভুলে যাবে। তবুও তিনি অনুরোধ করেন — এই অবাক বোকা মানুষটাকে একটু মনে রেখো। ‘মনে রেখো’ — দুবার বলা এই অনুরোধ তাঁর আকুলতা ও বেদনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ৭: সাদাত হোসাইন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
সাদাত হোসাইন আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিচ্ছেদ, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলেন। “আর কখনো হয়নি দেখা, হবেও না” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
ট্যাগস: আর কখনো হয়নি দেখা হবেও না, সাদাত হোসাইন, সাদাত হোসাইনের কবিতা, আর কখনো হয়নি দেখা হবেও না কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, বিচ্ছেদের কবিতা, অপূর্ণ প্রেমের কবিতা, নদীর কবিতা






