কবিতার শুরুতেই একটি অসহায় প্রশ্ন—‘বাবা না মা / তুমি কার কাছে থাকবে?’ এই একটি প্রশ্ন সাত-আট বছরের একটি শিশুর কাছে হিমালয়সম ভার। কবি অয়নকে ‘তেজপাতার মতো তিরতির করে’ কাঁপতে দেখছেন, যা তার ভেতরের প্রচণ্ড অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার চিহ্ন। যে বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী বাবা আর মায়ের হাতের আঙুল ধরে চলা, সেই বয়সে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বেছে নিতে হচ্ছে পৃথিবীর দুই মেরুকে।
স্মৃতি আর বর্তমানের যে বৈপরীত্য কবি এখানে এঁকেছেন, তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। অয়নের প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিনে বাবা, মা আর দাদুর সেই মধুর সহাবস্থান আজ কেবলই ধূসর স্মৃতি। দাদুর কাঁধে চড়ে ঘুরে বেড়ানো আর দিদার সেই স্নেহের বকুনি—‘ছেলেটা পড়ে যাবে’—কবিতার শেষে এক ভয়ংকর রূপক হিসেবে ফিরে আসে। দিদার সেই আশঙ্কাটি আজ আর শারীরিক কোনো পতনের নয়, বরং অয়নের অস্তিত্বের এবং তার সাজানো পৃথিবীর ভেঙে পড়ার।
আদালতের পরিবেশ অয়নের কাছে এক বিভীষিকা। প্রধান বিচারপতির গলার স্বর নামিয়ে করা প্রশ্ন—‘হাতিবাগান না গড়িয়াহাট?’—আসলে দুটি ভিন্ন আবাসন নয়, বরং দুটি ভিন্ন জীবনের টানাপোড়েন। রাস্তার এ পাশে বাবা আর ও পাশে মা দাঁড়িয়ে থাকা—এই ভৌগোলিক দূরত্বই অয়নের জীবনের সবচেয়ে বড় বিভাজন। শেষ পর্যন্ত অয়নের সরল উত্তর—‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’—প্রমাণ করে যে, শিশু মন কোনো বিচ্ছেদ বোঝে না; সে তার জগতের উভয় অংশকেই পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে পেতে চায়।
কবিতার শেষ পঙক্তিটি—‘বুড়ো দিদা তাহলে ঠিকই বলেছিলেন, ছেলেটা পড়ে যাবে’—এক বিশাল দীর্ঘশ্বাস বয়ে আনে। যে শিশুটি বাবা আর মায়ের ভালোবাসার নিবিড় বাঁধনে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, আইনের শুষ্ক বিচারে সে আজ ছিটকে পড়েছে এক অনিশ্চিত ও নিঃসঙ্গ গহ্বরে। তার শৈশব আজ আক্ষরিক অর্থেই ‘পড়ে গেছে’।
পরিশেষে বলা যায়, ‘অয়ন’ কবিতাটি আধুনিক জীবনের অস্থিরতা এবং শিশুদের ওপর তার প্রভাবের এক নিপুণ দলিল।
অয়ন – সুবোধ সরকার | সুবোধ সরকারের শিশুমনস্তাত্ত্বিক কবিতা | বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর হেফাজতের প্রশ্ন | ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’ – সরল প্রস্তাবের করুণ কাব্য
অয়ন: সুবোধ সরকারের বিবাহবিচ্ছেদের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিশুর বিষণ্ণ কাহিনি, তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল ও ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’ বলার অসাধারণ কাব্য
সুবোধ সরকারের “অয়ন” বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য, করুণ ও বাস্তবচিত্রময় সৃষ্টি। “বাবা না মা তুমি কার কাছে থাকবে?” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর হেফাজতের প্রশ্ন; যে শিশুর আঙুল তেজপাতার মতো কাঁপছে; যে শিশুর প্রথম স্কুলযাত্রার দিনে এপাশে বাবা ওপাশে মা; যে শিশুকে দাদু ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়াত আর দিদা বকত ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’; প্রধান বিচারপতি তাকে জিজ্ঞাসা করছেন — হাতিবাগান না গড়িয়াহাট? আর সেই শিশুর চূড়ান্ত উত্তর — ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’। সুবোধ সরকার (জন্ম ১৯৪৯) একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় শিশুমনস্তত্ত্ব, নাগরিক বাস্তবতা ও সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর বেদনা ফুটে উঠেছে। “অয়ন” তাঁর সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর মানসিক যন্ত্রণাকে এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে পাঠকের চোখ জলে ভরে ওঠে।
সুবোধ সরকার: শিশুমনস্তত্ত্ব ও নাগরিক বাস্তবতার কবি
সুবোধ সরকার ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট আধুনিক বাঙালি কবি। তিনি শিশুমনস্তত্ত্ব, নাগরিক বাস্তবতা, সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা ও নিঃসঙ্গতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর বেদনা ফুটে উঠেছে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উদ্বৃত্ত’, ‘অন্যজন’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘অয়ন’ ইত্যাদি। তিনি বাংলা আকাদেমি পুরস্কার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
সুবোধ সরকারের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শিশুমনের গভীর উপলব্ধি, বিবাহবিচ্ছেদের মতো সামাজিক সমস্যার সন্তানের ওপর প্রভাব, নাগরিক জীবনের জটিলতা, সহজ-সরল ভাষায় জটিল আবেগ প্রকাশের দক্ষতা, এবং আদালতের কাঠগড়ায় শিশুর অসহায়ত্বের অসাধারণ চিত্রায়ন। ‘অয়ন’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি একটি শিশুর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশু কতটা অসহায়, তার ভাঙা পরিবার তাকে কী যন্ত্রণা দেয়, আর তার সরল মনে কী আশা বাসা বাঁধে।
অয়ন: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘অয়ন’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘অয়ন’ এখানে একটি শিশুর নাম। এই নামটি সূর্যের গতিপথ বা অয়নকালের দিকেও ইঙ্গিত করে। কিন্তু এখানে এটি একটি নির্দিষ্ট শিশু — যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় পিতামাতার মধ্যে ছেঁড়া কাপড়ের টুকরোর মতো টানা হচ্ছে।
কবিতাটি একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলার আদালতের পটভূমিতে রচিত। বাবা-মা উভয়েই সন্তানের হেফাজত চান। বিচারপতি অয়নকে জিজ্ঞাসা করছেন — সে কার কাছে থাকতে চায়।
কবি শুরুতে বলছেন — বাবা না মা, তুমি কার কাছে থাকবে?
কোন বালককে আমি এত বিষণ্ণ দেখিনি। তেজপাতার মতো তিরতির করে কাঁপছে তার আঙুল অয়ন, তুমি কার কাছে থাকবে?
প্রথম যেদিন স্কুলে গিয়েছিল, এ পাশে ডুডাই, মানে বাবা, ওপাশে মাসাই, মানে মা, পেছন পেছন দাদু। দাদু ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়াত, আর বকা খেত দিদার কাছে, ‘ছেলেটা পড়ে যাবে।’
প্রধান বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন — অয়ন, তুমি কোথায় থাকবে, হাতিবাগান না গড়িয়াহাট?
প্রথম যেদিন তাদের বাড়ি, পুলিশ এল। প্রথম যেদিন রাত্রে বাড়ি ফিরল না মা। প্রথম যেদিন বাবা তাকে থাপ্পর মারল, পরক্ষণেই বুকে জড়িয়ে বলল, সরি। প্রথম যেদিন আমি আদালত এলাম।
দাদু কোথায়, দাদু কোথায়, দাদু। আমাকে যখন গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, আমি দেখলাম রাস্তার এ পাশে দাঁড়িয়ে ডুডাই, রাস্তার ও পাশে দাঁড়িয়ে মাসাই।
আজ নিয়ে তৃতীয় দিন এখানে এলাম। ওই তো মা, দূরে দাঁড়িয়ে বাবা। কত লোক, এত লোক কেন? একজন এসে আমার চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল। বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন — তুমি কার কাছে থাকবে, বলো? অয়ন বলল, ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে।’
বলেই তার মনে হল — দাদু তাকে কাঁধে চাপিয়ে দৌড়চ্ছেন, আর দিদা চেঁচাচ্ছেন ‘নামাও, নামাও, ছেলেটা পড়ে যাবে।’ বুড়ো দিদা তাহলে ঠিকই বলেছিলেন, ছেলেটা পড়ে যাবে।
অয়ন: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম স্তবক: বাবা না মা — কার কাছে থাকবে প্রশ্ন
“বাবা না মা / তুমি কার কাছে থাকবে?”
প্রথম স্তবকটি মাত্র দুটি লাইন। এটি পুরো কবিতার মূল প্রশ্ন — বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে — তুমি কার কাছে থাকবে? বাবার কাছে না মায়ের কাছে? এই সরল প্রশ্নের ভেতর লুকিয়ে আছে এক অসহায় শিশুর যন্ত্রণার পুরো ইতিহাস।
দ্বিতীয় স্তবক: তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল ও বিষণ্ণ বালক
“কোন বালককে আমি এত বিষণ্ণ দেখিনি / তেজপাতার মতো তিরতির করে কাঁপছে তার আঙুল অয়ন, / তুমি কার কাছে থাকবে?”
দ্বিতীয় স্তবকে অয়নের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা। ‘তেজপাতার মতো তিরতির করে কাঁপছে তার আঙুল’ — তেজপাতা পাতলা, কোমল, সহজেই কাঁপে। এই উপমার মাধ্যমে অয়নের ভয়, অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। ‘কোন বালককে আমি এত বিষণ্ণ দেখিনি’ — কবি বা বর্ণনাকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন — এত বিষণ্ণ শিশু আর দেখেননি।
তৃতীয় স্তবক: প্রথম স্কুলযাত্রার স্মৃতি — এপাশে বাবা ওপাশে মা
“প্রথম যেদিন স্কুলে গিয়েছিল, এ পাশে ডুডাই, মানে বাবা ওপাশে মাসাই, মানে মা, / পেছন পেছন দাদু। / দादু ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়াত, আর বকা খেত / দিদার কাছে, ‘ছেলেটা পড়ে যাবে।'”
তৃতীয় স্তবকে অয়নের শৈশবের একটি সুখী স্মৃতি। প্রথম স্কুলযাত্রার দিন এপাশে বাবা, ওপাশে মা — দুজনেই ছিল। পেছনে ছিল দাদু। দাদু তাকে ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়াত, আর দিদা বকত ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’। এটি এক সুখী, পূর্ণ পরিবারের ছবি। এই স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের বৈপরীত্য কবিতার করুণ রসকে তীব্রতর করে।
চতুর্থ স্তবক: প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন — হাতিবাগান না গড়িয়াহাট?
“প্রধান বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন / অয়ন, তুমি কোথায় থাকবে, হাতিবাগান না গড়িয়াহাট?”
চতুর্থ স্তবকে আদালতের দৃশ্য। ‘প্রধান বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন’ — বিচারপতি কোমল ও সহানুভূতিশীল সুরে প্রশ্ন করছেন। ‘হাতিবাগান না গড়িয়াহাট’ — এ দুটি কলকাতার এলাকা। বাবার বাড়ি হাতিবাগানে, মায়ের বাড়ি গড়িয়াহাটে। অয়নকে বেছে নিতে হবে — কার বাড়িতে থাকবে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবক: প্রথমবারের স্মৃতি — পুলিশ আসা, মা না ফেরা, বাবার থাপ্পর ও আদালতে আসা
“প্রথম যেদিন তাদের বাড়ি, পুলিশ এল / প্রথম যেদিন রাত্রে বাড়ি ফিরল না মা / প্রথম যেদিন বাবা তাকে থাপ্পর মারল / পরক্ষণেই বুকে জড়িয়ে বলল, সরি / প্রথম যেদিন আমি আদালত এলাম”
পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবকে পারিবারিক ভাঙনের ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। ‘প্রথম যেদিন তাদের বাড়ি, পুলিশ এল’ — কোনো একদিন পুলিশ এসেছিল। ‘প্রথম যেদিন রাত্রে বাড়ি ফিরল না মা’ — মা একদিন রাতে বাড়ি ফেরেনি। ‘প্রথম যেদিন বাবা তাকে থাপ্পর মারল, পরক্ষণেই বুকে জড়িয়ে বলল, সরি’ — বাবা তাকে থাপ্পর মেরে পরক্ষণেই বুকে জড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন। ‘প্রথম যেদিন আমি আদালত এলাম’ — এরপরই আদালতে আসা। এই ‘প্রথম যেদিন’ পুনরাবৃত্তি অয়নের জীবনের টার্নিং পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করছে।
সপ্তম ও অষ্টম স্তবক: গাড়িতে তোলার সময় দাদুর স্মৃতি ও রাস্তার এপাশে বাবা ওপাশে মা
“দাদু কোথায়, দাদু কোথায়, দাদু / আমাকে যখন গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, / আমি দেখলাম রাস্তার এ পাশে দাঁড়িয়ে ডুডাই / রাস্তার ও পাশে দাঁড়িয়ে মাসাই।”
সপ্তম ও অষ্টম স্তবকে অয়ন দাদুকে খুঁজছে। ‘দাদু কোথায়, দাদু কোথায়, দাদু’ — তিনবার ডাক, যেন দাদুকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ডাকছে। গাড়িতে তোলার সময় সে দেখল — রাস্তার এপাশে বাবা, ওপাশে মা। অর্থাৎ দুজনেই সেখানে ছিল, কিন্তু আলাদা — একজন এপাশে, অন্যজন ওপাশে। দাদু ছিল না।
নবম ও দশম স্তবক: তৃতীয় দিন আদালতে, লোকের ভিড় ও চুল আঁচড়ানো
“আজ নিয়ে তৃতীয় দিন এখানে এলাম / ওই তো মা, দূরে দাঁড়িয়ে বাবা / কত লোক, এত লোক কেন? / একজন এসে আমার চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল”
নবম ও দশম স্তবকে আদালতের পরিবেশ। ‘আজ নিয়ে তৃতীয় দিন এখানে এলাম’ — অয়ন তিন দিন ধরে আদালতে আসছে। ‘ওই তো মা, দূরে দাঁড়িয়ে বাবা’ — মা ও বাবা দুজনেই দূরে দাঁড়িয়ে, একসঙ্গে নয়। ‘কত লোক, এত লোক কেন?’ — শিশুর চোখে আদালতের ভিড় বোঝা কঠিন। ‘একজন এসে আমার চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল’ — কোনো অপরিচিত ব্যক্তি স্নেহের ভঙ্গিতে তার চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল — এটি এক অসহায় শিশুর প্রতি এক মুহূর্তের মানবিক স্পর্শ।
একাদশ ও দ্বাদশ স্তবক: বিচারপতির প্রশ্ন ও অয়নের উত্তর — ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’
“বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন / তুমি কার কাছে থাকবে, বলো? / অয়ন বলল, ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে।'”
একাদশ ও দ্বাদশ স্তবকে কবিতার চূড়ান্ত বক্তব্য। বিচারপতি আবার প্রশ্ন করলেন — ‘তুমি কার কাছে থাকবে, বলো?’ অয়ন উত্তর দিল — ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে।’ এই উত্তরটি অত্যন্ত সরল ও শিশুসুলভ। সে বেছে নিতে চায় না — সে দুজনকেই চায়। একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে — এই প্রস্তাবে সে সমাধান খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু আদালত কি এই প্রস্তাব মেনে নেবে?
ত্রয়োদশ ও শেষ স্তবক: দাদুর কাঁধে চড়ার স্মৃতি ও দিদার সতর্কবাণী — ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’
“বলেই তার মনে হল / দাদু তাকে কাঁধে চাপিয়ে দৌড়চ্ছেন, / আর দিদা চেঁচাচ্ছেন ‘নামাও, নামাও, ছেলেটা পড়ে যাবে।’ / বুড়ো দিদা তাহলে ঠিকই বলেছিলেন, ছেলেটা পড়ে যাবে।”
ত্রয়োদশ ও শেষ স্তবকে কবিতার করুণ সমাপ্তি। অয়নের মনে পড়ে গেল — দাদু তাকে কাঁধে চাপিয়ে দৌড়চ্ছেন, আর দিদা চেঁচাচ্ছেন ‘নামাও, নামাও, ছেলেটা পড়ে যাবে’। ‘বুড়ো দিদা তাহলে ঠিকই বলেছিলেন, ছেলেটা পড়ে যাবে।’ — এই শেষ লাইনটি কবিতার চূড়ান্ত বাণী বহন করে। দিদা তখন বলেছিলেন — ছেলেটা কাঁধ থেকে পড়ে যাবে। এখন অয়ন সত্যিই ‘পড়ে গেছে’ — তার পরিবার ভেঙে গেছে, তার শৈশব কাঁদছে, সে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। এটি এক চরম করুণ ব্যঞ্জনা।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত। লাইন ছোট-বড় মিশ্রিত। পুনরাবৃত্তি — ‘প্রথম যেদিন’ চারবার, ‘দাদু কোথায়’ তিনবার — আবেগকে তীব্র করেছে। ‘তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল’ উপমাটি অত্যন্ত চমৎকার।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী। ‘অয়ন’ — শিশুটির নাম, যা সূর্যের গতিপথকেও নির্দেশ করে। ‘তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল’ — ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। ‘বিষণ্ণ বালক’ — সুখহীন শৈশবের প্রতীক। ‘প্রথম স্কুলযাত্রা’ — সুখী অতীতের প্রতীক। ‘ডুডাই ও মাসাই’ — শিশুর ভাষায় বাবা ও মা, যা নির্দোষতার প্রতীক। ‘দাদু ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়ানো’ — নিরাপত্তা ও স্নেহের প্রতীক। ‘দিদার বকা — ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’ — ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতীক। ‘প্রধান বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে’ — সহানুভূতির প্রতীক। ‘হাতিবাগান না গড়িয়াহাট’ — বেছে নেওয়ার জায়গার প্রতীক। ‘প্রথম যেদিন পুলিশ আসা, মা না ফেরা, বাবার থাপ্পর ও সরি’ — পরিবার ভাঙনের প্রতীক। ‘রাস্তার এপাশে বাবা ওপাশে মা’ — বিভক্ত পরিবারের প্রতীক। ‘একজন এসে চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল’ — অপরিচিতের স্নেহের প্রতীক। ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’ — শিশুর সরল সমাধানের প্রতীক। ‘দাদুর কাঁধ ও দিদার সতর্কবাণী’ — হারানো অতীতের প্রতীক। ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’ — অয়নের পতনের প্রতীক।
বৈপরীত্য ব্যবহার অত্যন্ত দক্ষ। প্রথম স্কুলযাত্রার সুখী স্মৃতি ও বর্তমান আদালতের কাঠগড়ার বৈপরীত্য। দাদুর কাঁধের নিরাপত্তা ও বর্তমান পতনের বৈপরীত্য। শিশুর সরল উত্তর ও আদালতের জটিল প্রশ্নের বৈপরীত্য।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“অয়ন” সুবোধ সরকারের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি এখানে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর মানসিক যন্ত্রণার এক গভীর চিত্র এঁকেছেন।
প্রথম স্তবকে — বাবা না মা — কার কাছে থাকবে প্রশ্ন। দ্বিতীয় স্তবকে — তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল ও বিষণ্ণ বালক। তৃতীয় স্তবকে — প্রথম স্কুলযাত্রার স্মৃতি — এপাশে বাবা ওপাশে মা, পেছনে দাদু। চতুর্থ স্তবকে — প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন — হাতিবাগান না গড়িয়াহাট। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবকে — প্রথমবারের স্মৃতি — পুলিশ আসা, মা না ফেরা, বাবার থাপ্পর ও আদালতে আসা। সপ্তম ও অষ্টম স্তবকে — গাড়িতে তোলার সময় দাদুর স্মৃতি ও রাস্তার এপাশে বাবা ওপাশে মা। নবম ও দশম স্তবকে — তৃতীয় দিন আদালতে, লোকের ভিড় ও চুল আঁচড়ানো। একাদশ ও দ্বাদশ স্তবকে — বিচারপতির প্রশ্ন ও অয়নের উত্তর — ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’। ত্রয়োদশ ও শেষ স্তবকে — দাদুর কাঁধে চড়ার স্মৃতি ও দিদার সতর্কবাণী — ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — বিবাহবিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় শিকার হয় শিশুটি; আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিশুর আঙুল তেজপাতার মতো কাঁপে; শিশু বাবা-মা দুজনকেই চায় — সে ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’ থাকতে চায়; দাদু আর নেই, দিদার সতর্কবাণী সত্যি হয়েছে — ছেলেটা পড়ে গেছে; আর এই ‘পড়ে যাওয়া’ মানে তার শৈশবের পতন, তার সুখের পতন, তার পরিবারের পতন।
সুবোধ সরকারের কবিতায় শিশুমনস্তত্ত্ব ও ভাঙা পরিবারের বেদনা
সুবোধ সরকারের কবিতায় শিশুমনস্তত্ত্ব ও ভাঙা পরিবারের বেদনা একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘অয়ন’ কবিতায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর মানসিক যন্ত্রণাকে অসাধারণ কাব্যিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শিশুর আঙুল কাঁপে; কীভাবে সে তার প্রথম স্কুলযাত্রার সুখী স্মৃতি মনে করে; কীভাবে বাবা-মা দুজনকেই সে চায়; কীভাবে তার সরল উত্তর ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’ আদালতকে চুপ করিয়ে দেয়; আর কীভাবে দিদার সতর্কবাণী ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’ শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে সুবোধ সরকারের ‘অয়ন’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের বিবাহবিচ্ছেদের মতো সামাজিক সমস্যার সন্তানের ওপর প্রভাব, শিশুমনস্তত্ত্ব, আদালতের কাঠগড়ায় শিশুর অসহায়ত্ব, এবং সুবোধ সরকারের বাস্তববাদী কাব্যভাষা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ‘বাবা না মা’ প্রশ্ন, ‘তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল’, ‘প্রথম স্কুলযাত্রার স্মৃতি’, ‘দাদু ঘাড়ে চাপিয়ে ঘুরে বেড়ানো’, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন’, ‘প্রথম যেদিন পুলিশ আসা’, ‘রাস্তার এপাশে বাবা ওপাশে মা’, ‘একজন এসে চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল’, ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’, এবং শেষের ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’ — এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের কাব্যবোধ, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: অয়ন কবিতাটির রচয়িতা কে?
এই কবিতাটির রচয়িতা সুবোধ সরকার (জন্ম ১৯৪৯)। তিনি একজন বিশিষ্ট আধুনিক বাঙালি কবি। তিনি শিশুমনস্তত্ত্ব, নাগরিক বাস্তবতা, সামাজিক সম্পর্কের জটিলতা ও নিঃসঙ্গতা নিয়ে লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উদ্বৃত্ত’, ‘অন্যজন’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘অয়ন’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২: ‘বাবা না মা, তুমি কার কাছে থাকবে?’ — এই প্রশ্নটির তাৎপর্য কী?
এটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুকে জিজ্ঞাসা করা সবচেয়ে নির্মম প্রশ্ন। শিশু বাবা-মা উভয়কেই ভালোবাসে। তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বলা মানে তার হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে ফেলা। এই সরল প্রশ্নটির ভেতর লুকিয়ে আছে এক অসহায় শিশুর যন্ত্রণার পুরো ইতিহাস।
প্রশ্ন ৩: ‘তেজপাতার মতো তিরতির করে কাঁপছে তার আঙুল অয়ন’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
তেজপাতা পাতলা, কোমল, সহজেই কাঁপে। অয়নের আঙুল তেজপাতার মতো কাঁপছে — এটি তার ভয়, অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের অসাধারণ শারীরিক প্রতীক। সে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, বিচারপতি ও বহু লোকের সামনে, ভয়ে ও দুশ্চিন্তায় কাঁপছে।
প্রশ্ন ৪: ‘প্রথম যেদিন স্কুলে গিয়েছিল, এ পাশে ডুডাই, ওপাশে মাসাই, পেছন পেছন দাদু’ — এই স্মৃতির তাৎপর্য কী?
এটি অয়নের শৈশবের একটি সুখী স্মৃতি। প্রথম স্কুলযাত্রার দিন বাবা-মা দুজনেই ছিল, পেছনে ছিল দাদু। এটি এক সুখী, পূর্ণ পরিবারের ছবি। এই স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের বৈপরীত্য — আজ সে আদালতে দাঁড়িয়ে, বাবা-মা আলাদা — কবিতার করুণ রসকে তীব্রতর করে।
প্রশ্ন ৫: ‘প্রধান বিচারপতি গলার স্বর নামিয়ে বললেন — অয়ন, তুমি কোথায় থাকবে, হাতিবাগান না গড়িয়াহাট?’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
প্রধান বিচারপতি সহানুভূতিশীল সুরে প্রশ্ন করছেন — ‘গলার স্বর নামিয়ে’। ‘হাতিবাগান না গড়িয়াহাট’ — এ দুটি কলকাতার এলাকা। বাবার বাড়ি হাতিবাগানে, মায়ের বাড়ি গড়িয়াহাটে। অয়নকে বেছে নিতে হবে — কার বাড়িতে থাকবে। এটি একটি শিশুর জন্য অকল্পনীয় বেছে নেওয়ার চাপ।
প্রশ্ন ৬: ‘প্রথম যেদিন বাবা তাকে থাপ্পর মারল, পরক্ষণেই বুকে জড়িয়ে বলল, সরি’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
বাবার এই দ্বৈত আচরণ — এক মুহূর্তে থাপ্পর, পরক্ষণে বুকে জড়িয়ে ক্ষমা — অয়নের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা পরিবারের ভাঙন ও বাবার মানসিক অস্থিরতার প্রতীক। ‘সরি’ শব্দটি বাংলা নয়, ইংরেজি — যা মধ্যবিত্ত পরিবারের আধুনিকতার ব্যঙ্গাত্মক প্রতীকও হতে পারে।
প্রশ্ন ৭: ‘দাদু কোথায়, দাদু কোথায়, দাদু’ — তিনবার ডাকার তাৎপর্য কী?
তিনবার ডাক — অয়নের মরিয়া হয়ে দাদুকে খোঁজার ইঙ্গিত। দাদু তাকে কাঁধে চাপিয়ে ঘুরিয়ে বেড়াত, দিদা বকত ‘ছেলেটা পড়ে যাবে’। দাদু ছিল তার নিরাপত্তা ও স্নেহের প্রতীক। এখন সে দাদুকে খুঁজছে, কিন্তু দাদু নেই। এই শূন্যতা অয়নকে আরও অসহায় করে তুলেছে।
প্রশ্ন ৮: ‘একজন এসে আমার চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
আদালতের ভিড়ের মধ্যে একজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে অয়নের চুল আঁচড়ে দিয়ে গেল। এটি এক মুহূর্তের মানবিক স্পর্শ। এই ছোট্ট স্নেহের ভঙ্গি অয়নকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে, কিন্তু সেই ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর আবার সেই একাকিত্ব।
প্রশ্ন ৯: ‘অয়ন বলল, একদিন বাবার কাছে, একদিন মা-র কাছে’ — এই উত্তরের তাৎপর্য কী?
এটি কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইন। অয়ন বেছে নিতে চায় না — সে দুজনকেই চায়। তার সরল মনে একটি সমাধান এসেছে — ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’। এই উত্তরটি অত্যন্ত শিশুসুলভ ও নির্মল। কিন্তু আদালত কি এই প্রস্তাব মেনে নেবে? আদালত চায় স্থায়ী হেফাজত, অয়ন চায় দুজনকেই। এই বৈপরীত্য কবিতার করুণ রসকে চরমে নিয়ে যায়।
প্রশ্ন ১০: ‘বুড়ো দিদা তাহলে ঠিকই বলেছিলেন, ছেলেটা পড়ে যাবে’ — শেষ লাইনের তাৎপর্য কী?
শেষ লাইনটি কবিতার চূড়ান্ত বাণী বহন করে। দিদা তখন বলেছিলেন — দাদু অয়নকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ালে ছেলেটা পড়ে যাবে। তখন অয়ন পড়েনি। কিন্তু আজ সে সত্যিই ‘পড়ে গেছে’ — তার পরিবার ভেঙে গেছে, তার শৈশব কাঁদছে, সে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। এটি এক চরম করুণ ব্যঞ্জনা। ‘পড়ে যাওয়া’ মানে এখানে শারীরিক পতন নয় — মানসিক ও সামাজিক পতন।
প্রশ্ন ১১: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — বিবাহবিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় শিকার হয় শিশুটি; আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিশুর আঙুল তেজপাতার মতো কাঁপে; শিশু বাবা-মা দুজনকেই চায় — সে ‘একদিন বাবার কাছে, একদিন মায়ের কাছে’ থাকতে চায়; দাদু আর নেই, দিদার সতর্কবাণী সত্যি হয়েছে — ছেলেটা পড়ে গেছে; আর এই ‘পড়ে যাওয়া’ মানে তার শৈশবের পতন, তার সুখের পতন, তার পরিবারের পতন। এই কবিতাটি আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক — বিবাহবিচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান হার, শিশুর হেফাজতের জটিলতা, আদালতের কাঠগড়ায় শিশুর অসহায়ত্ব, এবং ভাঙা পরিবারের সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য — সবকিছুই চিরন্তন ও সময়োপযোগী বিষয়।
ট্যাগস: অয়ন, সুবোধ সরকার, সুবোধ সরকারের শিশুমনস্তাত্ত্বিক কবিতা, বিবাহবিচ্ছেদ ও শিশুর হেফাজত, তেজপাতার মতো কাঁপা আঙুল, একদিন বাবার কাছে একদিন মায়ের কাছে, আধুনিক বাংলা কবিতা
© Kobitarkhata.com – কবি: সুবোধ সরকার | কবিতার প্রথম লাইন: “বাবা না মা, তুমি কার কাছে থাকবে?” | বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শিশুর মানসিক যন্ত্রণার অমর কবিতা বিশ্লেষণ | সুবোধ সরকারের শিশুমনস্তাত্ত্বিক কাব্যধারার অসাধারণ নিদর্শন