কবিতার খাতা
- 24 mins
অমর একুশে – হাসান হাফিজুর রহমান।
আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর?
র্ঘূূণি ঝড়ের মতো সেই নাম উম্মথিত মনের প্রান্তরে
ঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে,
দুটি ঠোঁটের ভেতর থেকে মুক্তোর মতো গড়িয়ে এসে
একবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে না, সারাটি জীবনেও না? তবে হার?
কি করে এই গুরুভার সইবে তুমি, কতোদিন?
আবুল বরকত নেই: সেই অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা
বিশাল শরীর বালক, মধুর স্টলের ছাদ ছুঁয়ে হাঁটতো যে
তাঁকে ডেকো না;
আর একবারও ডাকলে ঘৃণায় তুমি কুঁচকে উঠবে-
সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার-কি বিষণ্ন থোকা থোকা নাম;
এই এক সারি বর্শার তীক্ষ ফলার মতো এখন হৃদয়কে হানে
বিচ্ছেদের জন্য তৈরী হওয়ার আগেই
আমরা ওদেরকে হারিয়েছি-
কেননা, প্রতিক্রিয়ার গ্রাস জীবন ও মনুষ্যত্বকে সমীহ করে না;
ভেবে ওঠার আগেই আমরা ওদেরকে হারিয়েছি
কেননা, প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যুকে ডেকে আনে।
আর এবার আমরা হারিয়েছি এমন কয়েকজনকে
যাঁরা কোনদিন মন থেকে মুছবে না,
কোনদিন কাউকে শান্ত হতে দিবে না;
যাঁদের হারালাম তাঁরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেল
দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়ে গেল
দেশের প্রাণের দীপ্তির ভেতরে মৃত্যুর অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। হাসান হাফিজুর রহমান।
অমর একুশে – হাসান হাফিজুর রহমান | অমর একুশে কবিতা | হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা | একুশে ফেব্রুয়ারির কবিতা
অমর একুশে: হাসান হাফিজুর রহমানের ভাষা আন্দোলন, শহীদ ও চেতনার অসাধারণ কাব্যভাষা
হাসান হাফিজুর রহমানের “অমর একুশে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা ভাষা আন্দোলন, শহীদদের আত্মত্যাগ ও চিরন্তন চেতনার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর? / ঘূর্ণি ঝড়ের মতো সেই নাম উন্মথিত মনের প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধার জগৎ, যেখানে ভাষা শহীদদের নাম চিরন্তন হয়ে আছে। হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “অমর একুশে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
হাসান হাফিজুর রহমান: ভাষা আন্দোলনের কবি
হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৩২ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালীর চাটখিলে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ (১৯৬০) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বিধ্বস্ত ক্রন্দনে আমার’, ‘যে পারে চৌরাস্তার মোড়ে’, ‘প্রতিমা ও প্রতিবিম্ব’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “অমর একুশে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
অমর একুশে কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“অমর একুশে” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘একুশে’ — ২১শে ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের দিন, শহীদ দিবস। ‘অমর’ — চিরন্তন, যার মৃত্যু নেই। একুশে ফেব্রুয়ারি অমর — কারণ এই দিনের চেতনা, এই দিনের শহীদরা চিরন্তন। শিরোনামেই কবি ভাষা আন্দোলনের চিরন্তনতা ও অমরত্ব ঘোষণা করেছেন।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর? / ঘূর্ণি ঝড়ের মতো সেই নাম উন্মথিত মনের প্রান্তরে / ঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে, / দুটি ঠোঁটের ভেতর থেকে মুক্তোর মতো গড়িয়ে এসে / একবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে না, সারাটি জীবনেও না? তবে হার?” প্রথম স্তবকে কবি এক মর্মস্পর্শী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন — আম্মা (মা) কি তাঁর নাম ধরে একবারও ডাকবেন না? সেই নাম ঘূর্ণি ঝড়ের মতো উন্মথিত মনের প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে। দুটি ঠোঁটের ভেতর থেকে মুক্তোর মতো গড়িয়ে এসে একবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে না? সারা জীবনেও না? তবে কি হারিয়ে গেল?
আম্মা ও নাম ডাকার তাৎপর্য
আম্মা — মা। তিনি শহীদ সন্তানের নাম ধরে ডাকবেন না? মা তাঁর সন্তানের নাম ভুলে যাবেন? এই প্রশ্নের মাধ্যমে কবি শহীদদের স্মৃতির চিরন্তনতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। মা ভুলবেন না, আমরা ভুলব না।
ঘূর্ণি ঝড়ের মতো নামের তাৎপর্য
শহীদের নাম ঘূর্ণি ঝড়ের মতো মনের প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে জাগবে, ডাকবে। অর্থাৎ শহীদদের স্মৃতি কখনো ম্লান হবে না, বারবার ফিরে আসবে, বারবার জাগাবে।
মুক্তোর মতো উজ্জ্বল নামের তাৎপর্য
শহীদের নাম দুটি ঠোঁটের ভেতর থেকে মুক্তোর মতো গড়িয়ে আসে। মুক্তো মূল্যবান, উজ্জ্বল। শহীদের নামও তেমনি মূল্যবান, উজ্জ্বল। তা কি একবারও উচ্চারিত হবে না? অবশ্যই হবে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কি করে এই গুরুভার সইবে তুমি, কতোদিন? / আবুল বরকত নেই: সেই অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা / বিশাল শরীর বালক, মধুর স্টলের ছাদ ছুঁয়ে হাঁটতো যে / তাঁকে ডেকো না; / আর একবারও ডাকলে ঘৃণায় তুমি কুঁচকে উঠবে- / সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার-কি বিষণ্ন থোকা থোকা নাম; / এই এক সারি বর্শার তীক্ষ ফলার মতো এখন হৃদয়কে হানে” দ্বিতীয় স্তবকে কবি শহীদদের নাম উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন — এই গুরুভার (বেদনার ভার) কী করে সইবে তুমি? আবুল বরকত নেই — সেই অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বিশাল শরীর বালক, যে মধুর স্টলের ছাদ ছুঁয়ে হাঁটতো। তাঁকে ডেকো না। আর একবার ডাকলে ঘৃণায় তুমি কুঁচকে উঠবে। সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার — কী বিষণ্ন থোকা থোকা নাম! এই এক সারি বর্শার তীক্ষ্ণ ফলকের মতো এখন হৃদয়কে হানে।
আবুল বরকতের বর্ণনার তাৎপর্য
আবুল বরকত — ভাষা আন্দোলনের শহীদ। কবি তাঁকে ‘অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বিশাল শরীর বালক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি মধুর স্টলের ছাদ ছুঁয়ে হাঁটতেন — একটি সাধারণ, প্রাণবন্ত তরুণের ছবি। এই সাধারণ মানুষটিই শহীদ হয়েছেন।
শহীদদের নামের তালিকার তাৎপর্য
সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার — ভাষা আন্দোলনের প্রধান শহীদদের নাম। কবি বলেছেন — কী বিষণ্ন থোকা থোকা নাম! থোকা থোকা — একসাথে অনেক। নামগুলো একসাথে এসে হৃদয়কে বর্শার ফলকের মতো হানে। এটি শহীদদের স্মৃতির তীব্রতা ও বেদনার প্রকাশ।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“বিচ্ছেদের জন্য তৈরী হওয়ার আগেই / আমরা ওদেরকে হারিয়েছি- / কেননা, প্রতিক্রিয়ার গ্রাস জীবন ও মনুষ্যত্বকে সমীহ করে না; / ভেবে ওঠার আগেই আমরা ওদেরকে হারিয়েছি / কেননা, প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যুকে ডেকে আনে।” তৃতীয় স্তবকে কবি হারানোর বেদনা ও প্রতিক্রিয়ার ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন — বিচ্ছেদের জন্য তৈরি হওয়ার আগেই আমরা ওদের হারিয়েছি। কারণ প্রতিক্রিয়ার গ্রাস জীবন ও মনুষ্যত্বকে সমীহ করে না। ভেবে ওঠার আগেই আমরা ওদের হারিয়েছি। কারণ প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যুকে ডেকে আনে।
বিচ্ছেদের জন্য তৈরি হওয়ার আগেই হারানোর তাৎপর্য
শহীদরা অকালে, অসময়ে চলে গেছেন। আমরা তাদের বিচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এটি আকস্মিক মৃত্যুর বেদনা।
প্রতিক্রিয়ার গ্রাসের তাৎপর্য
প্রতিক্রিয়া — রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, প্রতিরোধ। এই প্রতিক্রিয়া জীবন ও মনুষ্যত্বকে গ্রাস করে। অর্থাৎ আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষ প্রাণ হারায়।
এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যু ডেকে আনার তাৎপর্য
একটি মৃত্যু (শহীদের) আরও হাজার মৃত্যু ডেকে আনে — অর্থাৎ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, আরও মানুষ প্রাণ দিতে প্রস্তুত হয়। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রভাব।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আর এবার আমরা হারিয়েছি এমন কয়েকজনকে / যাঁরা কোনদিন মন থেকে মুছবে না, / কোনদিন কাউকে শান্ত হতে দিবে না; / যাঁদের হারালাম তাঁরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেল / দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়ে গেল / দেশের প্রাণের দীপ্তির ভেতরে মৃত্যুর অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে।” চতুর্থ স্তবকে কবি শহীদদের চিরন্তন প্রভাবের কথা বলেছেন। তিনি বলেন — এবার আমরা হারিয়েছি এমন কয়েকজনকে যারা কখনও মন থেকে মুছবে না, কখনও কাউকে শান্ত হতে দেবে না। যাদের হারালাম তারা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেল দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়ে গেল দেশের প্রাণের দীপ্তির ভেতরে মৃত্যুর অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে।
মন থেকে না মুছবার তাৎপর্য
শহীদরা চিরকাল আমাদের মনে থাকবেন। তাদের স্মৃতি কখনও ম্লান হবে না।
কাউকে শান্ত হতে না দেওয়ার তাৎপর্য
শহীদদের স্মৃতি আমাদের কখনও শান্ত হতে দেবে না — অর্থাৎ তাদের আত্মত্যাগ আমাদের বারবার জাগিয়ে তুলবে, আন্দোলিত করবে, আমাদের কাজ করতে বাধ্য করবে।
বিস্তৃত করে দেওয়া ও কথা কণা করে ছড়িয়ে দেওয়ার তাৎপর্য
শহীদরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেছেন — তাদের আত্মত্যাগ আমাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়েছেন — তাদের স্মৃতি আমাদের মুখে মুখে, কথায় কথায় ছড়িয়ে আছে।
মৃত্যুর অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে দীপ্তির ভেতরে থাকার তাৎপর্য
শহীদরা মৃত্যুর অন্ধকারে ডুবে গেছেন, কিন্তু সেই অন্ধকারেই দেশের প্রাণের দীপ্তি রেখে গেছেন। এটি এক অসাধারণ চিত্র — মৃত্যু নিজেই জীবনের দীপ্তি হয়ে উঠেছে।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“অমর একুশে” কবিতাটি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবি প্রশ্ন করেছেন — মা কি শহীদ সন্তানের নাম ডাকবেন না? নাম কি উচ্চারিত হবে না? তিনি শহীদদের নাম উচ্চারণ করেছেন — আবুল বরকত, সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার। তিনি বলেছেন — আমরা তাদের বিচ্ছেদের জন্য তৈরি হওয়ার আগেই হারিয়েছি। কিন্তু প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যু ডেকে আনে। শেষে তিনি বলেছেন — আমরা যাদের হারিয়েছি, তারা কখনও মন থেকে মুছবে না, কখনও কাউকে শান্ত হতে দেবে না। তারা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেছে, কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে দেশের প্রাণের দীপ্তির ভেতরে।
অমর একুশে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: অমর একুশে কবিতার লেখক কে?
অমর একুশে কবিতার লেখক হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ (১৯৬০) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বিধ্বস্ত ক্রন্দনে আমার’, ‘যে পারে চৌরাস্তার মোড়ে’, ‘প্রতিমা ও প্রতিবিম্ব’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রভৃতি।
প্রশ্ন ২: অমর একুশে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
অমর একুশে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মত্যাগের চিরন্তন প্রভাব। কবি শহীদদের নাম উচ্চারণ করেছেন — আবুল বরকত, সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার। তিনি বলেছেন — আমরা তাদের বিচ্ছেদের জন্য তৈরি হওয়ার আগেই হারিয়েছি। কিন্তু তারা কখনও মন থেকে মুছবে না, কখনও কাউকে শান্ত হতে দেবে না। তারা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেছে, কথা কণা করে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে দেশের প্রাণের দীপ্তির ভেতরে।
প্রশ্ন ৩: ‘আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আম্মা তাঁর নামটি ধরে একবারও ডাকবে না তবে আর?’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি এক মর্মস্পর্শী প্রশ্ন তুলেছেন। আম্মা — মা। তিনি শহীদ সন্তানের নাম ধরে ডাকবেন না? মা কি তাঁর সন্তানের নাম ভুলে যাবেন? এই প্রশ্নের মাধ্যমে কবি শহীদদের স্মৃতির চিরন্তনতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। মা ভুলবেন না, আমরা ভুলব না।
প্রশ্ন ৪: ‘সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার-কি বিষণ্ন থোকা থোকা নাম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সালাম, রফিক উদ্দিন, জব্বার-কি বিষণ্ন থোকা থোকা নাম’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি ভাষা আন্দোলনের প্রধান শহীদদের নাম উচ্চারণ করেছেন। ‘থোকা থোকা’ মানে একসাথে অনেক। নামগুলো একসাথে এসে হৃদয়কে বর্শার ফলকের মতো হানে। এটি শহীদদের স্মৃতির তীব্রতা ও বেদনার প্রকাশ।
প্রশ্ন ৫: ‘প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যুকে ডেকে আনে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘প্রতিক্রিয়ার কৌশল এক মৃত্যু দিয়ে হাজার মৃত্যুকে ডেকে আনে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রভাব বর্ণনা করেছেন। একটি মৃত্যু (শহীদের) আরও হাজার মৃত্যু ডেকে আনে — অর্থাৎ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, আরও মানুষ প্রাণ দিতে প্রস্তুত হয়। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রভাব।
প্রশ্ন ৬: ‘যাঁদের হারালাম তাঁরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘যাঁদের হারালাম তাঁরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেল’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি শহীদদের আত্মত্যাগের ফলাফল বর্ণনা করেছেন। শহীদরা আমাদেরকে বিস্তৃত করে দিয়ে গেছেন — তাদের আত্মত্যাগ আমাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে, আমাদের চেতনাকে প্রসারিত করেছে।
প্রশ্ন ৭: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৩২ সালের ১৬ জুলাই নোয়াখালীর চাটখিলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ (১৯৬০) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: অমর একুশে, হাসান হাফিজুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা, অমর একুশে কবিতা, একুশে ফেব্রুয়ারির কবিতা, ভাষা আন্দোলনের কবিতা, শহীদ দিবসের কবিতা, বাংলা কবিতা





