চোখেই রয়েছে ভিত্তি – সিকদার আমিনুল হক।

তোমাকে প্রায়শ আমি রহস্যের মধ্যে পেতে চাই।

আমি জানি এই দাবি অসংগত কিন্তু সাবলীল
যদি তার যোগ্য হই, যদি স্বপ্ন পিপাসার্ত হয়;
অতীতের মতো তুমি মায়াকাননের পাখি হবে
অথবা ঘুমোবে তুমি বিছানায় চুম্বনের পুরুষালি ঘ্রাণে
সেই আশা বাস্তবিক এখন অলীক। বড়োজোর
এখন নিতান্ত তুমি পদ্যে-পদ্যে দিতে পারো মেয়ে
জঙ্ঘার ঝাঁকুনি,
দিতে পারো চিত্রকল্পে উরু, পাছা আর জঘনের
ঈষৎ আদর–
বুঝতেই পারো আমি আজ কামিনীর প্রথাসিদ্ধ
চটুল কটাক্ষ কিংবা সংগম চাই না।

প্রেরণার চেয়ে বড়ো এই চোখ। তার উপস্থিতি
আমাকে দিয়েছে শাদা পাতা জুড়ে ভাবনার ত্বক
যার স্বপ্ন নিত্য জ্বলে তার হাত প্রবাদের মতো
সাজায় অক্ষরমালা, পরি নামে হিম সরোবরে;
ক্রমাগত শোকে শ্লোক, শোকমুদ্রা তাদেরই দখলে;
তখন দেখতে পাই বিশুদ্ধ তোমার নিদ্রা, চুল
খুলে দ্যায় বালিশের তটজুড়ে অমলিন লেসে!
ছিপ ফেলে বুঝি
চোখেই রয়েছে ভিত্তি, অস্তিত্বের যত পরিণাম।
তাই রাত জেগে জেগে যখন তোমার ঘ্রাণ পাই
নীরব শৈশবে কিংবা আজকের নৈশ কলরোলে
তখন করি না আর ঘৃণ্য প্রতিবাদ। যারা বলে
তুমি নারী কিংবা অন্য কোনো অহংকার। সে বিবাদে
আমার কী লাভ? তুমি শহরের কিংবা সরোবরে
কোথায় সুকণ্ঠ পাখি, তার খোঁজে পুরোনো কাসুন্দি
ঘেঁটে কোনো শিহরণ লভ্য বলো? হলে অশরীরী
তাতেও আমার স্বপ্নে দিন কাটে। অস্পষ্ট অসুখে
আমি নই চিন্তাক্লিষ্ট, জানতে চাই না কার দোষে স
ম্ভ্রান্ত মহল ছেড়ে কোন বুদোয়ারে মক্ষিরানি
আমার কবিতা।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সিকদার আমিনুল হকের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x