কবিতার খাতা
- 25 mins
পড়শী মেয়ে – ম. মামুন।
হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো
পা বাড়ালেই বাড়ী
তবু কেন পড়শীমেয়ের
চোখেমুখে আড়ি?
পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা
আরও বাঁকা উঠোন
মনটা যে তার বাঁকা হবে
নাই বা মুখে কথন।
চুপটি করে মিষ্টি
হেসে শ্যামা সর্বনাশী
মনকারিলী বনহরিণী
স্বপ্ন অহর্নিশি।
তুমি আছ তোমার মত
আমার জ্বালা যত
আমার যত ভালোবাসা
তোমার তো নয় তত।
তোমার বাড়ী আমার বাড়ী
মধ্যে খানে গলি
বাঁশ বাগানের মাথার ‘পরে
আলো ছায়ার হোলি।
পড়শীমেয়ের মন হরণ
প্রাণে উথাল-পাথাল
পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা
কেমনে দেবো সামাল।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। ম. মামুনের কবিতা।
পড়শী মেয়ে – ম. মামুন | ম. মামুনের প্রেমের কবিতা | প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণ ও দূরত্বের বেদনা | ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল’ – অসহায় প্রেমের কাব্য
পড়শী মেয়ে: ম. মামুনের প্রতিবেশী প্রেমের অসাধারণ কাব্য, ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী, তবু কেন পড়শীমেয়ের চোখেমুখে আড়ি?’ বলে শুরু, ‘চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন’ বলে খামখেয়ালিপনার চিত্র, ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী’ বলে মায়াবী রূপ, ‘মনকারিলী বনহরিণী’ বলে অধরা সত্তা, ‘তুমি আছ তোমার মত, আমার জ্বালা যত, আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত’ বলে একতরফা প্রেম, ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ বলে দূরত্বের সৌন্দর্য, ও ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল’ বলে অসহায়ত্বের অমর সৃষ্টি
ম. মামুনের “পড়শী মেয়ে” বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য, প্রেমময় ও বেদনাভরা সৃষ্টি। “হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণ ও দূরত্বের বেদনার কাহিনি; ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী, তবু কেন পড়শীমেয়ের চোখেমুখে আড়ি?’ বলে নৈকট্যের মধ্যে দূরত্বের প্রশ্ন; ‘পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন’ বলে খামখেয়ালিপনা ও অপ্রাপ্যতার চিত্র; ‘মনটা যে তার বাঁকা হবে, নাই বা মুখে কথন’ বলে মনের জটিলতার ইঙ্গিত; ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী’ বলে মায়াবী ও বিপজ্জনক রূপের বর্ণনা; ‘মনকারিলী বনহরিণী, স্বপ্ন অহর্নিশি’ বলে অধরা সত্তার উপমা; ‘তুমি আছ তোমার মত, আমার জ্বালা যত, আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত’ বলে একতরফা প্রেমের স্বীকারোক্তি; ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে খানে গলি, বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ বলে দূরত্ব ও নৈকট্যের মিলিত চিত্র; এবং শেষ পর্যন্ত ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল’ বলে অসহায়ত্বের অসাধারণ কাব্যচিত্র। ম. মামুন একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি। তিনি প্রেম, পল্লীজীবন ও সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর আবেগ ও গ্রামীণ চিত্রকল্প ফুটে উঠেছে। “পড়শী মেয়ে” সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণের সরল ও গভীর কাহিনি বলেছেন।
ম. মামুন: পল্লীপ্রেম ও সাধারণ মানুষের কবি
ম. মামুন একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি। তিনি প্রেম, পল্লীজীবন, গ্রামীণ প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে লিখেছেন। তাঁর কবিতায় সহজ-সরল ভাষায় গভীর আবেগ, গ্রামীণ চিত্রকল্প ও বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পড়শী মেয়ে’, ‘অন্য নামে ডাকো’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ ইত্যাদি।
ম. মামুনের প্রেমের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, তবু কেন আড়ি?’ প্রশ্ন, ‘চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন’ বলে খামখেয়ালিপনা, ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী’ বলে মায়াবী রূপ, ‘মনকারিলী বনহরিণী’ বলে অধরা সত্তা, ‘আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত’ বলে একতরফা প্রেম, ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ বলে দূরত্বের সৌন্দর্য, এবং ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল’ বলে অসহায়ত্ব। ‘পড়শী মেয়ে’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণের সরল ও গভীর কাহিনি বলেছেন।
পড়শী মেয়ে: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘পড়শী মেয়ে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘পড়শী মেয়ে’ মানে পাশের বাড়ির মেয়ে — যে কাছে থাকে, কিন্তু অধরা। দূরের নয়, কাছের — তবু পাওয়া যায় না।
কবিতাটি প্রতিবেশী প্রেমের পটভূমিতে রচিত। দুটি বাড়ি পাশাপাশি, একটি গলি দিয়ে বিভক্ত। বাঁশ বাগানের আলো-ছায়ার খেলা। কবি পড়শী মেয়েকে ভালোবাসেন, কিন্তু তিনি দূরে সরে যান।
কবি শুরুতে বলছেন — হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী। তবু কেন পড়শীমেয়ের চোখেমুখে আড়ি?
পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন। মনটা যে তার বাঁকা হবে, নাই বা মুখে কথন।
চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী। মনকারিলী বনহরিণী, স্বপ্ন অহর্নিশি।
তুমি আছ তোমার মত, আমার জ্বালা যত। আমার যত ভালোবাসা, তোমার তো নয় তত।
তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে খানে গলি। বাঁশ বাগানের মাথার ‘পরে আলো ছায়ার হোলি।
পড়শীমেয়ের মন হরণ, প্রাণে উথাল-পাথাল। পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা, কেমনে দেবো সামাল?
পড়শী মেয়ে: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ (সংক্ষিপ্ত আকারে)
প্রথম স্তবক: হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, তবু কেন আড়ি?
“هات বাড়ালেই ছুঁতে পারو / پا বাড়ালেই বাড়ী / تবু কেন পড়শীমেয়ের / চোখেমুখে آڑی؟”
প্রথম স্তবকে নৈকট্য ও দূরত্বের বৈপরীত্য। ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো’ — এত কাছে। ‘পা বাড়ালেই বাড়ী’ — এত কাছে। কিন্তু ‘চোখেমুখে আড়ি’ — অর্থাৎ দৃষ্টিতে ও কথায় বাধা, দূরত্ব।
দ্বিতীয় স্তবক: চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন ও মনের বাঁকা ভাব
“পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা / আরও বাঁকা উঠোন / মনটা যে তার বাঁকা হবে / نাই বা মুখে কথন۔”
দ্বিতীয় স্তবকে প্রতিবেশী মেয়ের চরিত্রের বর্ণনা। ‘চলন বাঁকা’ — খামখেয়ালি, সোজা নয়। ‘আরও বাঁকা উঠোন’ — বাড়ির উঠোনও বাঁকা। ‘মনটা যে তার বাঁকা হবে’ — মনও বাঁকা। ‘নাই বা মুখে কথন’ — হয়তো মুখে বলে না, কিন্তু মন বাঁকা।
তৃতীয় স্তবক: চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী ও মনকারিলী বনহরিণী
“চুپটি করে مিষ্টি / هেসে শ্যামা সর্বনাশী / মনকারيلی বনহরিণী / স্বপ্ন অহর্নিশি۔”
তৃতীয় স্তবকে মেয়েটির মায়াবী রূপের বর্ণনা। ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে’ — নীরব, মিষ্টি হাসি। ‘শ্যামা সর্বনাশী’ — শ্যামলা রঙের, সর্বনাশা (বিপজ্জনক)। ‘মনকারিলী বনহরিণী’ — মন কেড়ে নেওয়া বনহরিণী, অধরা। ‘স্বপ্ন অহর্নিশি’ — দিনরাত স্বপ্ন দেখায়।
চতুর্থ স্তবক: তুমি আছ তোমার মত, আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত
“تومی আছ তোমার মত / আমার জ্বালا যত / আমার যত ভালোবাসা / তোমার তো নয় تত۔”
চতুর্থ স্তবকে একতরফা প্রেমের স্বীকারোক্তি। ‘তুমি আছ তোমার মত’ — তুমি নিজের মতো আছো। ‘আমার জ্বালা যত’ — আমি যত কষ্ট পাচ্ছি। ‘আমার যত ভালোবাসা, তোমার তো নয় তত’ — আমি যত ভালোবাসি, তুমি তত ভালোবাসো না।
পঞ্চম স্তবক: তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে গলি ও বাঁশ বাগানের আলো ছায়ার হোলি
“تومار বাড়ী আমার বাড়ী / মধ্যে খানে گلی / বাঁশ বাগানের মাথার ‘পরে / আলو ছায়ার هولي۔”
পঞ্চম স্তবকে দূরত্ব ও নৈকট্যের চিত্র। ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী’ — পাশাপাশি। ‘মধ্যে খানে গলি’ — শুধু একটি গলি ব্যবধান। ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ — বাঁশ বাগানের ওপর আলো ও ছায়ার খেলা। এটি দূরত্বের সৌন্দর্যের প্রতীক।
ষষ্ঠ ও শেষ স্তবক: পড়শীমেয়ের মন হরণ ও এড়িয়ে চলা সামাল দেওয়ার অসহায়ত্ব
“পড়শীমেয়ের মন هরণ / প্রাণে উথাল-পাথال / পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা / كেমনে دেবو সামال؟”
ষষ্ঠ ও শেষ স্তবকে চূড়ান্ত অসহায়ত্ব। ‘পড়শীমেয়ের মন হরণ’ — সে মন কেড়ে নিয়েছে। ‘প্রাণে উথাল-পাথাল’ — প্রাণে তোলপাড়। ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা’ — সে এড়িয়ে চলে। ‘কেমনে দেবো সামাল?’ — কীভাবে সামাল দেব? প্রশ্ন থেকে যায়।
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি প্রতি স্তবকে চার লাইনের বিন্যাসে রচিত, প্রতি দুই লাইনের শেষে মিল আছে। ‘আড়ি’, ‘বাড়ী’ — মিল। ‘উঠোন’, ‘কথন’ — মিল। ‘সর্বনাশী’, ‘অহর্নিশি’ — মিল। ‘তত’, ‘যত’ — মিল। ‘গলি’, ‘হোলি’ — মিল। ‘পাথাল’, ‘সামাল’ — মিল।
প্রতীক ব্যবহার অত্যন্ত শক্তিশালী। ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারা’ — নৈকট্যের প্রতীক। ‘পা বাড়ালেই বাড়ী’ — আরও নৈকট্যের প্রতীক। ‘চোখেমুখে আড়ি’ — দূরত্বের প্রতীক। ‘চলন বাঁকা’ — খামখেয়ালিপনার প্রতীক। ‘বাঁকা উঠোন’ — পরিবেশের প্রতীক। ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে’ — নীরব মায়ার প্রতীক। ‘শ্যামা সর্বনাশী’ — বিপজ্জনক সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘মনকারিলী বনহরিণী’ — অধরা, লুক্কায়িত সত্তার প্রতীক। ‘স্বপ্ন অহর্নিশি’ — চিরন্তন স্বপ্নের প্রতীক। ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে গলি’ — নৈকট্য ও দূরত্বের প্রতীক। ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ — দূরত্বের সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘মন হরণ’ — আকর্ষণের প্রতীক। ‘প্রাণে উথাল-পাথাল’ — আবেগের তোলপাড়ের প্রতীক। ‘এড়িয়ে চলা’ — পরিহার ও অধরা সত্তার প্রতীক। ‘কেমনে দেবো সামাল?’ — অসহায়ত্বের প্রতীক।
বৈপরীত্য ব্যবহার অত্যন্ত দক্ষ। ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো’ ও ‘চোখেমুখে আড়ি’ — নৈকট্য ও দূরত্বের বৈপরীত্য। ‘চলন বাঁকা’ ও ‘উঠোন বাঁকা’ — ব্যক্তি ও পরিবেশের বৈপরীত্য। ‘মিষ্টি হাসি’ ও ‘সর্বনাশী’ — কোমলতা ও বিপদের বৈপরীত্য। ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী’ ও ‘মধ্যে গলি’ — নৈকট্য ও ব্যবধানের বৈপরীত্য। ‘মন হরণ’ ও ‘এড়িয়ে চলা’ — আকর্ষণ ও পরিহারের বৈপরীত্য।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“পড়শী মেয়ে” ম. মামুনের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি এখানে প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণ ও দূরত্বের বেদনার এক সরল ও গভীর কাব্যচিত্র এঁকেছেন।
প্রথম স্তবকে — হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, তবু কেন আড়ি? দ্বিতীয় স্তবকে — চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন ও মনের বাঁকা ভাব। তৃতীয় স্তবকে — চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী ও মনকারিলী বনহরিণী। চতুর্থ স্তবকে — তুমি আছ তোমার মত, আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত। পঞ্চম স্তবকে — তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে গলি ও বাঁশ বাগানের আলো ছায়ার হোলি। ষষ্ঠ ও শেষ স্তবকে — পড়শীমেয়ের মন হরণ ও এড়িয়ে চলা সামাল দেওয়ার অসহায়ত্ব।
এই কবিতা আমাদের শেখায় — ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী, তবু কেন পড়শীমেয়ের চোখেমুখে আড়ি?’; ‘পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন, মনটা যে তার বাঁকা হবে, নাই বা মুখে কথন’; ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী, মনকারিলী বনহরিণী, স্বপ্ন অহর্নিশি’; ‘তুমি আছ তোমার মত, আমার জ্বালা যত, আমার যত ভালোবাসা, তোমার তো নয় তত’; ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে খানে গলি, বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’; ‘পড়শীমেয়ের মন হরণ, প্রাণে উথাল-পাথাল, পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা, কেমনে দেবো সামাল?’
ম. মামুনের কবিতায় পল্লীপ্রেম, প্রতিবেশী আকর্ষণ ও অসহায়ত্ব
ম. মামুনের কবিতায় পল্লীপ্রেম, প্রতিবেশী আকর্ষণ ও অসহায়ত্ব একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘পড়শী মেয়ে’ কবিতায় প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণের অসাধারণ কাব্যিক চিত্র এঁকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, তবু কেন আড়ি?’ প্রশ্ন আসে; কীভাবে ‘চলন বাঁকা, উঠোন বাঁকা’ হয়; কীভাবে ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী’ হয়; কীভাবে ‘মনকারিলী বনহরিণী’ স্বপ্ন দেখায়; কীভাবে ‘আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত’ — একতরফা প্রেম ব্যথা দেয়; কীভাবে ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ হয়; আর কীভাবে শেষ পর্যন্ত ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল?’ প্রশ্ন থেকে যায়।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে ম. মামুনের ‘পড়শী মেয়ে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের পল্লীপ্রেম, প্রতিবেশী আকর্ষণের মনস্তত্ত্ব, একতরফা প্রেমের বেদনা, এবং ম. মামুনের সরল ও ছন্দময় কাব্যভাষা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, তবু কেন আড়ি?’, ‘চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন’, ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী’, ‘মনকারিলী বনহরিণী’, ‘আমার যত ভালোবাসা তোমার তো নয় তত’, ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’, এবং ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা কেমনে দেবো সামাল?’ — এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের কাব্যবোধ, প্রেমের দর্শন ও মানসিক জটিলতা উপলব্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পড়শী মেয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পড়শী মেয়ে কবিতাটির রচয়িতা কে?
এই কবিতাটির রচয়িতা ম. মামুন। তিনি একজন সমসাময়িক বাঙালি কবি। তিনি প্রেম, পল্লীজীবন, গ্রামীণ প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পড়শী মেয়ে’, ‘অন্য নামে ডাকো’, ‘নির্বাচিত কবিতা’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২: ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
এত কাছের সম্পর্ক — হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়, পা বাড়ালেই বাড়িতে পৌঁছানো যায়। তারপরও কেন আড়ি? এটি নৈকট্য ও দূরত্বের চরম বৈপরীত্য।
প্রশ্ন ৩: ‘চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন’ — লাইনটির সৌন্দর্য কী?
মেয়েটির চলন বাঁকা (খামখেয়ালি)। তার উঠোনও বাঁকা। এটি একটি চমৎকার চিত্রকল্প — ব্যক্তি ও পরিবেশের সাদৃশ্য।
প্রশ্ন 4: ‘শ্যামা সর্বনাশী’ — কেন ‘সর্বনাশী’ বলা হয়েছে?
‘শ্যামা’ মানে শ্যামলা রঙের মেয়ে। ‘সর্বনাশী’ মানে যিনি সর্বনাশ করেন — অর্থাৎ প্রেমে পড়িয়ে সর্বনাশ করেন। এটি প্রেমের বিপদ ও আকর্ষণকে নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ৫: ‘মনকারিলী বনহরিণী’ — লাইনটির সৌন্দর্য কী?
বনহরিণী অতি দ্রুতগামী, লুকিয়ে থাকে, ধরা যায় না। ‘মনকারিলী’ মানে মন কেড়ে নেয়। এই উপমায় মেয়েটির অধরা ও লুক্কায়িত সত্তা ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৬: ‘আমার যত ভালোবাসা, তোমার তো নয় তত’ — লাইনটির বেদনা কোথায়?
একতরফা প্রেমের স্বীকারোক্তি। কবি যত ভালোবাসেন, প্রতিবেশী মেয়েটি তত ভালোবাসেন না। এটি প্রেমের অসমতা ও বেদনার চিত্র।
প্রশ্ন ৭: ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে খানে গলি’ — লাইনটির তাৎপর্য কী?
দুটি বাড়ি পাশাপাশি, শুধু একটি গলির ব্যবধান। এত কাছাকাছি হয়েও তারা আলাদা — এটি নৈকট্য ও দূরত্বের চিত্র।
প্রশ্ন ৮: ‘বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’ — লাইনটির সৌন্দর্য কী?
বাঁশ বাগানের ওপর আলো ও ছায়ার খেলা — এটি একটি সুন্দর গ্রামীণ চিত্রকল্প। হোলি মানে খেলা। এটি দূরত্বের সৌন্দর্যের প্রতীক।
প্রশ্ন ৯: ‘পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা, কেমনে দেবো সামাল?’ — শেষ লাইনের অসহায়ত্ব কোথায়?
প্রতিবেশী মেয়েটি তাকে এড়িয়ে চলে। তিনি কীভাবে সামাল দেবেন — জানেন না। এটি চূড়ান্ত অসহায়ত্ব ও প্রশ্ন।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — ‘হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী, তবু কেন পড়শীমেয়ের চোখেমুখে আড়ি?’; ‘পড়শীমেয়ের চলন বাঁকা, আরও বাঁকা উঠোন, মনটা যে তার বাঁকা হবে, নাই বা মুখে কথন’; ‘চুপটি করে মিষ্টি হেসে শ্যামা সর্বনাশী, মনকারিলী বনহরিণী, স্বপ্ন অহর্নিশি’; ‘তুমি আছ তোমার মত, আমার জ্বালা যত, আমার যত ভালোবাসা, তোমার তো নয় তত’; ‘তোমার বাড়ী আমার বাড়ী, মধ্যে খানে গলি, বাঁশ বাগানের মাথার পরে আলো ছায়ার হোলি’; ‘পড়শীমেয়ের মন হরণ, প্রাণে উথাল-পাথাল, পড়শীমেয়ের এড়িয়ে চলা, কেমনে দেবো সামাল?’ এই কবিতাটি আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক — পাশের বাড়ির মেয়ের প্রতি আকর্ষণ, একতরফা প্রেমের বেদনা, এবং অধরা সত্তার প্রতি অসহায় টান — সবকিছুই চিরন্তন ও সময়োপযোগী বিষয়।
ট্যাগস: পড়শী মেয়ে, ম. মামুন, ম. মামুনের প্রেমের কবিতা, হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, চোখেমুখে আড়ি, শ্যামা সর্বনাশী, বনহরিণী
© Kobitarkhata.com – কবি: ম. মামুন | কবিতার প্রথম লাইন: “হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারো, পা বাড়ালেই বাড়ী” | প্রতিবেশী মেয়ের প্রতি আকর্ষণের অমর কবিতা বিশ্লেষণ | ম. মামুনের প্রেমের কাব্যধারার অসাধারণ নিদর্শন





