কবিতার খাতা
- 23 mins
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি – মহাদেব সাহা।
চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে
আর কী রং মাখাবে চৈত্র,
তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল,
মাতাল হাওয়ায় যতই এই বার্ধক্য ঢেকে দিতে চাও
তার মুখমণ্ডলে জমে আছে
উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফ
তার শরীর ২৫ ডিগ্রি মাইনাস শীত রাত্রে;
কেনা জ্যেত্স্না, গোলাপ আর সৌরভের জন্য
হাহাকার করে
আমি কতোকাল শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে
এই শীতকাল পেরুব? গুনগুন করা চৈত্রসন্ধ্যা
মধুর দুপুর
এখনো আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে,
আমি সাড়া দেই না;
কেন দেব? আমার শীত কখন অস্ত যাবে,
কেউ জানে না।
হয়ত তবু সদ্যফোটা স্তনের গন্ধে, ঠোঁটের লাবণ্যে
জেগে উঠবে ঝিমিয়ে-পড়া দিনরাত্রি,
একুশ শতকের এই দীর্ঘ শীত পাড়ি দেওয়ার জন্য
আর কতো হিমযুগ পার হতে হবে আমাকে,
বসন্ত, তোমার হাতবাক্সে কি সেই উত্তর লেখা আছে?
চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে
আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মহাদেব সাহা।
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি – মহাদেব সাহা | বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতা | মহাদেব সাহার কবিতা | বাংলা কবিতা
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি: মহাদেব সাহার শীত, বসন্ত ও সময়ের অসাধারণ কাব্যভাষা
মহাদেব সাহার “বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা শীত, বসন্ত, সময় ও অস্তিত্বের এক গভীর দার্শনিক অন্বেষণ। “চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে / আর কী রং মাখাবে চৈত্র” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক বিষাদময় জগৎ, যেখানে শীত দীর্ঘ, বসন্ত দূর, সময় থমকে আছে। মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা শীতের দীর্ঘতা ও বসন্তের প্রতীক্ষার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে।
মহাদেব সাহা: প্রকৃতি ও সময়ের কবি
মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৪৪ সালের ২৫ আগস্ট বৃহত্তর বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মাছের রান্না’, ‘দুঃখীরা কথা বলে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘শতাব্দীর সূর্য’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা শীতের দীর্ঘতা ও বসন্তের প্রতীক্ষার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে।
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বসন্ত — ঋতুরাজ, প্রেমের ঋতু, ফুল ফোটার ঋতু। কিন্তু এখানে বসন্ত একটি ‘বাংলা উদ্ধৃতি’ মাত্র। অর্থাৎ বসন্ত এখানে বাস্তব নয়, একটি উদ্ধৃতি, একটি স্মৃতি, একটি কল্পনা। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — বসন্ত আর নেই, আছে শুধু তার উদ্ধৃতি, তার স্মৃতি।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে / আর কী রং মাখাবে চৈত্র, / তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল, / মাতাল হাওয়ায় যতই এই বার্ধক্য ঢেকে দিতে চাও / তার মুখমণ্ডলে জমে আছে / উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফ / তার শরীর ২৫ ডিগ্রি মাইনাস শীত রাত্রে;” প্রথম স্তবকে কবি প্রকৃতির অবস্থা বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির গাল চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো খসখসে — অর্থাৎ শুষ্ক, মলিন, জীর্ণ। চৈত্র মাস আর কী রং মাখাবে? চৈত্র বসন্তের মাস, ফুল ফোটার মাস, কিন্তু প্রকৃতি এতই জীর্ণ যে আর রং মাখানোর জায়গা নেই। তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল — অর্থাৎ শীত এত দীর্ঘ যে তা পকেটে ভাঁজ করে রাখা যায়। বার্ধক্য ঢাকতে চাইলেও মুখমণ্ডলে জমে আছে উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফ। শরীর ২৫ ডিগ্রি মাইনাস শীত রাত্রে — অর্থাৎ শীত এত তীব্র যে ২৫ ডিগ্রি মাইনাসে শরীর জমে যায়।
চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির খসখসে গালের তাৎপর্য
চুনা-ওঠা দেয়াল — পুরনো, জীর্ণ, শুষ্ক দেয়াল। প্রকৃতির গাল তেমনি খসখসে — রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন। এটি শীতের দীর্ঘতার প্রভাব।
চৈত্র মাসের রং মাখানোর তাৎপর্য
চৈত্র বসন্তের মাস — ফুল ফোটে, রং ছড়ায়। কিন্তু এত জীর্ণ প্রকৃতিতে আর কী রং মাখানো যায়? অর্থাৎ বসন্তের আগমনও আর প্রকৃতিকে সজীব করতে পারছে না।
পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকালের তাৎপর্য
শীতকাল এত দীর্ঘ যে তা পকেটে ভাঁজ করে রাখা যায়। এটি হাইপারবোল — শীতের অসহ্য দীর্ঘতার চিত্র।
উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফের তাৎপর্য
উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফ — চিরস্থায়ী বরফ। বার্ধক্য ঢাকতে চাইলেও সেই অনন্ত বরফ মুখে জমে আছে। অর্থাৎ সময়ের ছাপ, শীতের ছাপ মুছে ফেলা যায় না।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কেনা জ্যেত্স্না, গোলাপ আর সৌরভের জন্য / হাহাকার করে / আমি কতোকাল শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে / এই শীতকাল পেরুব? গুনগুন করা চৈত্রসন্ধ্যা / মধুর দুপুর / এখনো আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, / আমি সাড়া দেই না; / কেন দেব? আমার শীত কখন অস্ত যাবে, / কেউ জানে না।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলেছেন। তিনি বলেন — কেনা জ্যোৎস্না, গোলাপ আর সৌরভের জন্য হাহাকার করে। অর্থাৎ কৃত্রিম সৌন্দর্যের জন্য আকুল হন। তিনি কতকাল শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে এই শীতকাল পেরোবেন? গুনগুন করা চৈত্রসন্ধ্যা, মধুর দুপুর এখনো তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, কিন্তু তিনি সাড়া দেন না। কারণ তাঁর শীত কখন অস্ত যাবে, কেউ জানে না।
কেনা জ্যোৎস্না, গোলাপ আর সৌরভের জন্য হাহাকারের তাৎপর্য
কেনা জ্যোৎস্না — কৃত্রিম জ্যোৎস্না। গোলাপ ও সৌরভও কেনা — বাস্তব নয়, কৃত্রিম। কবি এই কৃত্রিম সৌন্দর্যের জন্য হাহাকার করেন। কারণ বাস্তব সৌন্দর্য, বাস্তব বসন্ত আর নেই।
শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে শীতকাল পার করার তাৎপর্য
শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে শীতকাল পার করা — অর্থাৎ ধীরে, কষ্টে, অসহায়ভাবে সময় কাটানো। এটি শীতের দীর্ঘতার প্রতি কবির অসহায়ত্ব প্রকাশ করে।
হাতছানি দেওয়া চৈত্রসন্ধ্যা ও মধুর দুপুরের তাৎপর্য
চৈত্রসন্ধ্যা ও মধুর দুপুর — বসন্তের সন্ধ্যা ও দুপুর। তারা এখনো কবিকে ডাকে, কিন্তু তিনি সাড়া দেন না। কারণ তিনি জানেন না তাঁর শীত কখন শেষ হবে। এটি এক গভীর হতাশার চিত্র।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“হয়ত তবু সদ্যফোটা স্তনের গন্ধে, ঠোঁটের লাবণ্যে / জেগে উঠবে ঝিমিয়ে-পড়া দিনরাত্রি, / একুশ শতকের এই দীর্ঘ শীত পাড়ি দেওয়ার জন্য / আর কতো হিমযুগ পার হতে হবে আমাকে, / বসন্ত, তোমার হাতবাক্সে কি সেই উত্তর লেখা আছে? / চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে / আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই।” তৃতীয় স্তবকে কবি আশা ও প্রশ্ন একসাথে করেছেন। তিনি বলেন — হয়তো তবু সদ্যফোটা স্তনের গন্ধে, ঠোঁটের লাবণ্যে জেগে উঠবে ঝিমিয়ে-পড়া দিনরাত্রি। একুশ শতকের এই দীর্ঘ শীত পাড়ি দিতে আর কত হিমযুগ পার হতে হবে তাঁকে? বসন্ত, তোমার হাতবাক্সে কি সেই উত্তর লেখা আছে? চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই।
সদ্যফোটা স্তনের গন্ধ ও ঠোঁটের লাবণ্যের তাৎপর্য
সদ্যফোটা স্তন ও ঠোঁটের লাবণ্য — যৌবন, সৌন্দর্য, প্রাণশক্তির প্রতীক। এই প্রাণশক্তি হয়তো ঝিমিয়ে-পড়া দিনরাত্রি জাগিয়ে তুলতে পারে। এটি আশার আলো।
একুশ শতকের দীর্ঘ শীত পাড়ি দেওয়ার তাৎপর্য
একুশ শতক — বর্তমান সময়। এই শতকের শীত দীর্ঘ — অর্থাৎ সমস্যা, সংকট, হতাশা দীর্ঘ। তা পাড়ি দিতে আর কত হিমযুগ পার হতে হবে — অর্থাৎ কত সময় লাগবে?
বসন্তের হাতবাক্সে উত্তর লেখার তাৎপর্য
হাতবাক্স — ছোট বাক্স, যেখানে জরুরি জিনিস রাখা হয়। বসন্তের হাতবাক্সে কি উত্তর লেখা আছে? অর্থাৎ বসন্ত কি জানেন কবে তিনি আসবেন? কবে শীত শেষ হবে? এটি একটি রহস্যময় প্রশ্ন।
শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
“চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে / আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই।” শেষ পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বসন্তের উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে পৃথিবীর সব নদী পার হওয়া — অর্থাৎ বসন্তের গল্প বলতে বলতে সব বাধা অতিক্রম করা। এটি আশা ও ঐক্যের বার্তা।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি” কবিতাটি শীতের দীর্ঘতা, বসন্তের প্রতীক্ষা ও সময়ের গভীরতা নিয়ে এক অসাধারণ দার্শনিক অন্বেষণ। কবি প্রকৃতিকে চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো খসখসে দেখেছেন। তাঁর পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল। তিনি শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে শীতকাল পার করছেন। চৈত্রসন্ধ্যা ও মধুর দুপুর তাঁকে ডাকে, কিন্তু তিনি সাড়া দেন না — কারণ তিনি জানেন না তাঁর শীত কখন শেষ হবে। তিনি আশা করেন সদ্যফোটা স্তনের গন্ধ, ঠোঁটের লাবণ্য হয়তো ঝিমিয়ে-পড়া দিনরাত্রি জাগিয়ে তুলবে। তিনি প্রশ্ন করেন — একুশ শতকের এই দীর্ঘ শীত পাড়ি দিতে আর কত হিমযুগ পার হতে হবে? বসন্তের হাতবাক্সে কি সেই উত্তর লেখা আছে? শেষে তিনি বলেন — চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই। এটি আশা ও ঐক্যের এক অসাধারণ বার্তা।
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতার লেখক কে?
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতার লেখক মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মাছের রান্না’, ‘দুঃখীরা কথা বলে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘শতাব্দীর সূর্য’ প্রভৃতি।
প্রশ্ন ২: বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো শীতের দীর্ঘতা, বসন্তের প্রতীক্ষা ও সময়ের গভীরতা। কবি প্রকৃতিকে চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো খসখসে দেখেছেন। তিনি শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে শীতকাল পার করছেন। তিনি প্রশ্ন করেন — একুশ শতকের এই দীর্ঘ শীত পাড়ি দিতে আর কত হিমযুগ পার হতে হবে? শেষে তিনি বলেন — চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই।
প্রশ্ন ৩: ‘চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে / আর কী রং মাখাবে চৈত্র’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে / আর কী রং মাখাবে চৈত্র’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রকৃতির জীর্ণ অবস্থা বর্ণনা করেছেন। চুনা-ওঠা দেয়াল পুরনো, জীর্ণ, শুষ্ক। প্রকৃতির গাল তেমনি খসখসে — রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন। চৈত্র বসন্তের মাস, কিন্তু এত জীর্ণ প্রকৃতিতে আর কী রং মাখানো যায়? অর্থাৎ বসন্তের আগমনও আর প্রকৃতিকে সজীব করতে পারছে না।
প্রশ্ন ৪: ‘তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি শীতের অসহ্য দীর্ঘতার কথা বলেছেন। শীতকাল এত দীর্ঘ যে তা পকেটে ভাঁজ করে রাখা যায়। এটি হাইপারবোল — অতিরঞ্জন। শীত এত দীর্ঘ যে মনে হয় শতবর্ষ ধরে চলছে।
প্রশ্ন ৫: ‘চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে / আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘চলো বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে / আমরা পৃথিবীর সব নদী পার হই’ — এই শেষ পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বসন্তের উদ্ধৃতি শোনাতে শোনাতে পৃথিবীর সব নদী পার হওয়া — অর্থাৎ বসন্তের গল্প বলতে বলতে সব বাধা অতিক্রম করা। এটি আশা ও ঐক্যের বার্তা।
প্রশ্ন ৬: মহাদেব সাহা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
মহাদেব সাহা (১৯৪৪-২০১৬) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি ১৯৪৪ সালের ২৫ আগস্ট বৃহত্তর বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এই নদী এই শীত’ (১৯৭৫) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, সময় ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ট্যাগস: বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি, মহাদেব সাহা, মহাদেব সাহার কবিতা, বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, বসন্তের কবিতা, শীতের কবিতা






