কবিতার খাতা
- 25 mins
এমন একটি তোমাকে চাই – রুদ্র গোস্বামী।
আমি এমন একটি তোমাকে চাই
যে তুমি আমার বুকের ভিতরের পাহাড়টিকে পিটিয়ে
বার করে আনবে ঝরনার জল।
আমি এমন একটি তোমাকে চাই
যে তুমি আমার সব মিথ্যে গুলোকে পুড়িয়ে
আমাকে অভিমান শেখাবে, বৃষ্টি শেখাবে।
আমি এমন একটি তোমাকে চাই
যে তুমি শিকল ছাড়াই শুধু হাতের বাঁধনে
বাঁধবে আমাকে।
আমি এমন একটি তোমাকে চাই
যে তুমি জানাবে আমাকে, আমি আদিগন্ত মানুষ
আমাকে ভালোবাসা যায়।
আমি এমন একটি তোমাকে চাই
যে তুমি, আমাকে আকাশ বানিয়ে রাখবে
তোমার বুকের কাছে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুদ্র গোস্বামী।
এমন একটি তোমাকে চাই – রুদ্র গোস্বামী | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
রুদ্র গোস্বামীর “এমন একটি তোমাকে চাই” কবিতাটি আধুনিক বাংলা কবিতার এক অমর সৃষ্টি। পশ্চিমবঙ্গের এই প্রতিভাবান কবির লেখা এই কবিতাটি শুধু প্রেমে পড়ার গল্প নয়; বরং এটি নিজেকে ভেঙে ফেলা, নিজের মিথ্যে গুলোকে পুড়িয়ে ফেলা, এবং সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়ার এক গভীর আকুতি। কবিতাটির প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন এক একটি দরবার, এক একটি প্রার্থনা। এই কবিতাটি ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে রচিত হলেও আজও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ ভালোবাসার এই আত্মশুদ্ধিমূলক রূপটি চিরন্তন।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট
রুদ্র গোস্বামী পশ্চিমবঙ্গের একজন স্বনামধন্য আধুনিক কবি। তার কবিতায় প্রেম, সম্পর্ক, নারীমুক্তি, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক যন্ত্রণা গভীরভাবে ধরা দেয়। “এমন একটি তোমাকে চাই” তার শ্রেষ্ঠ প্রেমের কবিতাগুলোর একটি। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে রচিত এই কবিতাটি তখনকার তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসার ভাষা হয়ে ওঠে। রুদ্র গোস্বামীর কবিতায় সাধারণত সামাজিক সচেতনতা, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পর্কের জটিলতা বারবার ফিরে এলেও এই কবিতাটি তার ব্যতিক্রমী এক সৃষ্টি—যেখানে তিনি সম্পূর্ণরূপে প্রেমিক কবি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রুদ্র গোস্বামী বর্তমানে কলকাতায় বসবাস করছেন এবং নিয়মিত কবিতা চর্চা করে যাচ্ছেন।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার শৈলীগত ও কাব্যিক বিশ্লেষণ
কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত সরল, অথচ গভীর। রুদ্র গোস্বামী এখানে কোনো জটিল শব্দ বা দুর্বোধ্য প্রতীক ব্যবহার করেননি। বরং দৈনন্দিন জীবনের ভাষায় তিনি এক অসাধারণ প্রেমের দরবার রচনা করেছেন। “বুকের ভিতরের পাহাড়টিকে পিটিয়ে বার করে আনবে ঝরনার জল”—এই চিত্রকল্পটি অপূর্ব। পাহাড় যেমন কঠিন, তেমনি কঠিন ছিল কবির অন্তর। তিনি চান এমন একজনকে, যে এই কঠিন পাহাড় ভেঙে ফেলবে, পিটিয়ে বার করবে প্রেমের ঝরনাধারা। “সব মিথ্যে গুলোকে পুড়িয়ে অভিমান শেখাবে, বৃষ্টি শেখাবে”—এখানে অভিমান ও বৃষ্টি শেখার বিষয়টি প্রেমের পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে। অভিমান প্রেমেরই অপর নাম, আর বৃষ্টি হল পবিত্রতা ও নবজীবনের প্রতীক। কবি চান তার সমস্ত মিথ্যে, সমস্ত জড়তা পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে তাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে প্রেমিকা। কবিতাটির গঠনও বেশ স্বতন্ত্র। পাঁচটি স্তবকে বিভক্ত এই কবিতায় প্রতিটি স্তবক শুরু হয়েছে “আমি এমন একটি তোমাকে চাই” দিয়ে। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে এক আচারিক মর্যাদা দিয়েছে। এটি যেন কোনও মন্ত্র, কোনও প্রার্থনা, যা বারবার উচ্চারিত হয় কবির অন্তর থেকে।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতায় প্রেমের ধারণা
এই কবিতায় প্রেম কোনো ভোগের বস্তু নয়, প্রেম হচ্ছে আত্মশুদ্ধির পথ। কবি চান না কোনো শিকলের বাঁধন; তিনি চান “শিকল ছাড়াই শুধু হাতের বাঁধনে” বাঁধা। এটি প্রেমের এক পরিণত, মুক্ত ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, শুধু ভালোবাসার টানেই বাঁধা পড়তে চান কবি। কবি চান তাকে ভালোবাসা যায়—এই জানাটুকুই তার কাছে পরম প্রাপ্তি। তিনি চান তাকে “আকাশ বানিয়ে রাখবে তোমার বুকের কাছে”—প্রেমিকা যেন তার পৃথিবী, তার আকাশ, তার সবকিছু। এই লাইনটিতে প্রেমিক কবির এক পরম আত্মসমর্পণ ধ্বনিত হয়। প্রেমের কাছে, প্রিয়ার কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করাই যেন তার জীবনের চরম সার্থকতা। কবি এখানে প্রেমিকাকে দেবীস্থানীয় করে তোলেননি; বরং তাকে এমন একজন চেয়েছেন, যে তার সমস্ত দুর্বলতা, সমস্ত মিথ্যে, সমস্ত কঠিনতাকে ভেঙে দেবে। এই প্রেম শাসনের নয়, মুক্তির। এই প্রেম আধিপত্যের নয়, আত্মশুদ্ধির।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
কবিতাটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়, এটি একাকী মানুষের মনস্তত্ত্বেরও অসাধারণ দলিল। “আমি আদিগন্ত মানুষ, আমাকে ভালোবাসা যায়”—এই লাইনটিতে কবির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও ভালোবাসার অপরিসীম ক্ষুধা একসঙ্গে ধরা পড়ে। ‘আদিগন্ত’ শব্দটি অসীম ও অনন্তের প্রতীক। কবি জানেন তিনি সীমাহীন, অথচ এই সীমাহীন মানুষটিকে ভালোবাসতে পারে এমন কেউ কি আছে? এই সংশয়, এই দোলাচল তাকে বারবার ফিরিয়ে আনে সেই প্রার্থনায়। কবির মনস্তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানেন তার মধ্যে মিথ্যে আছে, জড়তা আছে, কঠিনতা আছে। তিনি চান না এগুলো নিয়ে তিনি প্রেমিকার সামনে যান। তাই তিনি আগে চান সমস্ত মিথ্যে পুড়িয়ে ফেলতে। এই পুড়িয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে তিনি নতুন করে জন্ম নিতে চান, শিশুর মতো নির্মল ও পবিত্র হয়ে উঠতে চান।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতায় চিত্রকল্পের ব্যবহার
রুদ্র গোস্বামী এই কবিতায় কয়েকটি অসাধারণ চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন যা পাঠকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে। প্রথম চিত্রকল্পটি হলো ‘বুকের ভিতরের পাহাড়’। পাহাড় যেমন বিশাল, কঠিন ও অভেদ্য, কবির মনও তেমনি। এই পাহাড়কে পিটিয়ে ঝরনার জল বার করা—এটি অসম্ভবকেই সম্ভব করার নামান্তর। দ্বিতীয় চিত্রকল্পটি হলো ‘মিথ্যে পোড়ানো’। মিথ্যে সাধারণত আগুনে পোড়ানো হয় না, এটি একটি রূপক চিত্রকল্প। কবি চান তার সমস্ত মিথ্যে, সমস্ত অসত্যকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে। তৃতীয় চিত্রকল্পটি হলো ‘শিকল ও হাতের বাঁধন’। শিকল হলো জোরপূর্বক বন্ধনের প্রতীক, আর হাতের বাঁধন হলো স্বেচ্ছায়, ভালোবাসার টানে বাঁধা পড়ার প্রতীক। চতুর্থ ও সবচেয়ে সুন্দর চিত্রকল্পটি হলো ‘আকাশ বানিয়ে রাখা’। আকাশ অসীম, অনন্ত, নীল—ঠিক যেমন কবির ভালোবাসা অসীম, অনন্ত ও গভীর। এই চারটি চিত্রকল্পের মধ্য দিয়েই কবি তার সমগ্র প্রেমের দর্শন ব্যক্ত করেছেন।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা
প্রায় তিন দশক আগে লেখা হলেও কবিতাটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সম্পর্ক আজ আরও জটিল, আরও খণ্ডিত। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের যুগে ভালোবাসা এখন ইমোজিতে সীমাবদ্ধ। এই সময়ে দাঁড়িয়ে “এমন একটি তোমাকে চাই” কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যিকারের ভালোবাসা মানেই নিজেকে ভেঙে ফেলা, নিজের মিথ্যে গুলো পুড়িয়ে ফেলা, এবং প্রিয় মানুষের কাছে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়া। আজকের যুবসমাজ যান্ত্রিক প্রেমে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। তারা চায় তাৎক্ষণিক ভালোবাসা, ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক। এই কবিতাটি তাদের শেখায় কীভাবে অপেক্ষা করতে হয়, কীভাবে প্রতীক্ষা করতে হয়, কীভাবে একজন মানুষকে পাওয়ার জন্য নিজেকে বদলে ফেলতে হয়। শুধু তাই নয়, কবিতাটি শেখায় কীভাবে ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দিতে হয়—কোনো শর্ত ছাড়াই, কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই। এটি শেখায় ভালোবাসা কোনো দর-কষাকষির বস্তু নয়, এটি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের নামান্তর।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতায় রুদ্র গোস্বামীর নিজস্বতা
রুদ্র গোস্বামীর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার সরলতা ও আবেগের তীব্রতা। তিনি কখনও কৃত্রিমতা বা আড়ম্বরতা পছন্দ করেন না। তার কবিতার শব্দগুলো সাধারণ, দৈনন্দিন জীবনের শব্দ; কিন্তু তিনি সেই সাধারণ শব্দ দিয়েই অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করেন। ‘এমন একটি তোমাকে চাই’ কবিতাটিতেও তার এই নিজস্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে কোনো সংস্কৃত শব্দের বাহুল্য নেই, কোনো জটিল প্রতীক বা চিত্রকল্পের ছড়াছড়ি নেই। আছে শুধু সহজ-সরল ভাষায় বলা এক প্রেমিক হৃদয়ের আকুতি। এই সরলতাই কবিতাটিকে ক্লাসিকে পরিণত করেছে। আরেকটি বিষয় হলো, রুদ্র গোস্বামীর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে ‘আমি’ ও ‘তুমি’র দ্বন্দ্ব। তার অধিকাংশ কবিতায় ‘আমি’ সক্রিয়, আবেগপ্রবণ ও আকুল; আর ‘তুমি’ স্থির, রহস্যময় ও দূরবর্তী। ‘এমন একটি তোমাকে চাই’ কবিতাটিতে অবশ্য ‘তুমি’র ভূমিকা ভিন্ন। এখানে ‘তুমি’ সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষ, যাকে পাওয়ার জন্য কবি নিজেকে বদলে ফেলতে রাজি। এই ‘তুমি’ আর দূরবর্তী নয়, বরং কবির আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত সরল ও সাবলীল। রুদ্র গোস্বামী এখানে প্রমিত বাংলা ব্যবহার করেছেন। বাক্যগুলো ছোট, তীব্র ও লক্ষ্যভেদী। প্রতিটি শব্দ যেন সাজানো মুক্তোর মতো। কবিতাটিতে কোনো অলঙ্কার বা শব্দবাহুল্য নেই, আছে শুধু সত্যি কথার সরল উচ্চারণ। ‘আমি এমন একটি তোমাকে চাই’—এই পঙ্ক্তিটি বারবার ফিরে এসেছে কবিতায়। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে এক মন্ত্রমুগ্ধকর পরিবেশ দিয়েছে। এটি যেন কোনও প্রার্থনা, যা বারবার উচ্চারিত হয় কবির হৃদয় থেকে। দ্বিতীয় স্তবকে ‘শেখাবে’ শব্দটি দুবার এসেছে—অভিমান শেখাবে, বৃষ্টি শেখাবে। শেখার বিষয় দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। অভিমান হলো তিক্ততা, বৃষ্টি হলো পবিত্রতা। কবি চান প্রেমিকা তাকে তিক্ততা ও পবিত্রতা—উভয়ই শেখাবে। তৃতীয় স্তবকে ‘বাঁধবে’ শব্দটি একবারই এসেছে, কিন্তু তার আগে ‘শিকল ছাড়াই’ ও ‘হাতের বাঁধনে’—এই দুটি বিশেষণের মাধ্যমে বাঁধনের স্বরূপ পরিষ্কার করে দিয়েছেন কবি।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বাংলা সাহিত্যে প্রেমের কবিতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, জয় গোস্বামী—প্রত্যেকেই প্রেমের কবিতা লিখেছেন। কিন্তু রুদ্র গোস্বামীর ‘এমন একটি তোমাকে চাই’ কবিতাটি এই ধারায় সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। জীবনানন্দ দাশের প্রেম প্রকৃতি ও নৈসর্গিকতায় মিশে থাকে, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রেম নাগরিক ও জটিল, জয় গোস্বামীর প্রেম রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক। রুদ্র গোস্বামীর প্রেম এসব থেকে আলাদা। তার প্রেম আত্মশুদ্ধির পথ, আত্মসমর্পণের ভাষা। তিনি প্রেমিকাকে দেবী করেন না, প্রেমিকাকে তার জীবনসঙ্গী করেন না, প্রেমিকাকে তার প্রেয়সীও করেন না। তিনি প্রেমিকাকে চান তার মিথ্যে পোড়ানোর আগুন, তার কঠিনতা ভাঙার হাতুড়ি, তার অহংকার ধ্বংসের অস্ত্র। এই প্রেম ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অপূর্ব সমন্বয়।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার লেখক কে?
“এমন একটি তোমাকে চাই” কবিতার লেখক পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট আধুনিক কবি রুদ্র গোস্বামী। তিনি কলকাতায় বসবাসরত একজন জীবিত ও সক্রিয় কবি। তার কবিতায় প্রেম, সম্পর্ক, নারীমুক্তি ও সামাজিক বাস্তবতা গভীরভাবে ধরা দেয়। উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে “যদি কেউ বলত”, “পবিত্র হত্যা”, “গাঙচিল”, “প্রেমিক হতে গেলে”, “ঘর”, “মেয়েটা শিকল ভেঙে বেশ করেছে” প্রভৃতি।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: কবি রুদ্র গোস্বামী সম্পূর্ণ পৃথক ব্যক্তিত্ব; তিনি বাংলাদেশের প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ নন। রুদ্র গোস্বামী পশ্চিমবঙ্গের কবি ও জীবিত আছেন।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু এক পরিণত, গভীর ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রেমের প্রত্যাশা। কবি এমন একজন প্রেমিকার সন্ধান করছেন, যিনি তার কঠিন মন পাহাড় ভেঙে প্রেমের ঝরনা বার করে আনবেন, তার সব মিথ্যে পুড়িয়ে তাকে অভিমান ও বৃষ্টি শেখাবেন, শিকল ছাড়াই তাকে বাঁধবেন, তাকে জানাবেন যে তিনি ভালোবাসার যোগ্য, এবং তাকে আকাশ বানিয়ে রাখবেন নিজের বুকের কাছে।
“বুকের ভিতরের পাহাড়টিকে পিটিয়ে বার করে আনবে ঝরনার জল”—এই লাইনটির তাৎপর্য কী?
এই লাইনটিতে কবির কঠিন, অভেদ্য ও রুক্ষ মনকে পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তিনি চান এমন একজন প্রেমিকা, যে এই কঠিন পাহাড় ভেঙে ফেলবে, পিটিয়ে বার করবে প্রেমের ঝরনাধারা। ‘পিটিয়ে’ শব্দটি বারবার আঘাত করা, মথিত করে ফেলার অর্থ বহন করে।
“শিকল ছাড়াই শুধু হাতের বাঁধনে বাঁধবে আমাকে”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শিকল হলো জোরপূর্বক বন্ধনের প্রতীক, আর হাতের বাঁধন হলো স্বেচ্ছায়, ভালোবাসার টানে বাঁধা পড়ার প্রতীক। কবি চান না প্রেমিকা তাকে শিকলে বাঁধুক; তিনি চান প্রেমিকার হাতের পরশে, ভালোবাসার টানে তিনি বাঁধা পড়ুন। এটি প্রেমের এক পরিণত, মুক্ত ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
“আমাকে আকাশ বানিয়ে রাখবে তোমার বুকের কাছে”—এই লাইনের তাৎপর্য কী?
এটি কবিতার শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে আবেগঘন লাইন। কবি চান প্রেমিকা তাকে তার বুকের কাছে আকাশ বানিয়ে রাখুক। আকাশ যেমন অসীম, অনন্ত, নীল ও প্রশান্ত—তেমনি কবির ভালোবাসাও অসীম, অনন্ত, গভীর ও প্রশান্ত। প্রেমিকার বুকের কাছে থাকাটাই তার কাছে পরম প্রশান্তির স্থান।
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতাটি কতটি স্তবকে বিভক্ত?
এমন একটি তোমাকে চাই কবিতাটি পাঁচটি স্তবকে বিভক্ত। প্রতিটি স্তবক শুরু হয়েছে ‘আমি এমন একটি তোমাকে চাই’ দিয়ে। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে এক আচারিক মর্যাদা দিয়েছে।
রুদ্র গোস্বামীর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা কী কী?
রুদ্র গোস্বামীর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে: ‘যদি কেউ বলত’, ‘পবিত্র হত্যা’, ‘গাঙচিল’, ‘প্রেমিক হতে গেলে’, ‘ঘর’, ‘মেয়েটা শিকল ভেঙে বেশ করেছে’, ‘ব্যথা’, ‘প্রত্যাখ্যান’, ‘পরিযায়ী পাখি’, ‘প্রশ্ন’, ‘তখন আমার প্রেম ছিল’, ‘ছোঁয়াচ’, ‘ফুলকি’, ‘সময়’ প্রভৃতি।
ট্যাগস: এমন একটি তোমাকে চাই, রুদ্র গোস্বামী, রুদ্র গোস্বামীর কবিতা, পশ্চিমবঙ্গের কবি, কলকাতার কবি, বাংলা প্রেমের কবিতা, নব্বই দশকের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, ভারতীয় বাংলা কবিতা, রুদ্র গোস্বামীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, এমন একটি তোমাকে চাই কবিতা বিশ্লেষণ, বাংলা প্রেমের কবিতা বিশ্লেষণ






