কবির ছুটি – বীথি চট্টপাধ্যায়।

বর্ষা স্পর্শ এখনও আকাশ জুড়ে
শরতের আলো ফুটতে অনেক দেরি,
এবার শরৎ আসার আগেই বুঝি
অকূলসিন্ধু পারে চলে যাবে ফেরি।

গায়ে চাপা দেওয়া, খাটে আধশোয়া কবি
জোড়াসাঁকো যেন থমথমে নীরবতা
কে আমি?এলাম কোথা থেকে? কার ডাকে?
এখন কোথায় রওনা হবার কথা?

কে লিখল এত? কে গেল শিলাইদহ?
এত প্রেম ছিল হৃদয়ে অতল হয়ে?
বিক্ষোভ রাগ অভিমান অভিযোগ
পদ্মার জলে ঢেউ হয়ে যায় বয়ে ।

গঙ্গার তীরে সব দিয়ে দিতে হবে
কে কাকে পাঠায় ক-দিনের ছুটি দিয়ে?
শরতের আগে ফুরোবে কবির ছুটি
রোগশয্যায় ভগ্ন হৃদয় নিয়ে।

ছেলেবেলা সেই কুস্তি লড়ার ভোর
ছাদের ওপর আবছা কাদম্বরী;
পদ্মার তীরে বিন্দু বিন্দু গ্রাম
ঢেউ ভেঙে যেন এগোয় জীবন তরী৷

বালকের সেই প্রথমদিকের লেখা
বক্তৃতা দেওয়া চাবুকের মতো ভাষা,
আশ্রম খুলে কত ধার, কত দেনা
যাত্রী সবাই, শুধু যাওয়া শুধু আসা।

এবার শরতে অপূর্ব আলোছায়া
ফাঁকা পালঙ্ক, টেবিলে চশমা ঘড়ি,
ছবির ওপর চন্দন ফুলমালা,
ঢেউ ভেঙে যেন এগোয় জীবনতরী।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। বীথি চট্টপাধ্যায়।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x