বজ্রকণ্ঠ – রবিশঙ্কর মৈত্রী।

যে সন্তান পিতাকে সনাক্ত করতে ভয় পায়
সে সন্তান অনাহুত অনাকাঙিক্ষত, জাতির শত্রু নিশ্চয়
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করবে বলে
আজও তারা বসে থাকে অমাবস্যার অপেক্ষায় থাকে
তাদের ঠোঁটে মিথ্যার বিষ,
তাদের চোখে বিকৃত ইতিহাসের অন্ধকার।
তারা আকাশ মাপতে আসে ছেঁড়া মানচিত্র নিয়ে,
তারা বলে—এই মাটিতে কোনো বজ্র পড়েনি
কোনো কণ্ঠ নাকি জনতার মহাসমুদ্র জাগায়নি।
তারা ভুলে যেতে বলে একটি দিন—
যেদিন বাতাসও দাঁড়িয়ে শুনেছিল
বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত মুক্তির ঘোষণা।

ওরা ভুলে যেতে বলে রক্তের গন্ধ
শহিদের ঘুমহীন কবর
বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকের বুক।
কিন্তু ইতিহাস কি মুখস্থ পাঠ্যবই?
ইতিহাস হল আগ্নেয়গিরি
শতবার অপমানের পরেও যে
হঠাৎ জ্বলে ওঠে।
ইতিহাস হল বজ্রপাতের মতো অমোঘ উচ্চারণ
যা একবার জন্ম নিলে
লক্ষ শকুনও মুছে ফেলতে পারে না।
তবু তারা আসে—মিথ্যার ফেরিওয়ালা হয়ে
তারা স্বাধীনতার পাশে মোনাফেকদের নাম লেখে
তারা পরভৃত হয়ে
দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে।
তারা বলে—রক্ত নাকি কেবল গল্প
স্বাধীনতা নাকি গন্ডগোল, ভুল বোঝাবুঝি
একাত্তর নাকি রাজনীতির নাটক।

এই মাটির গাছে গাছে বজ্র লুকিয়ে আছে,
প্রতিটি নদীর ঢেউয়ে বিদ্রোহ দুলে দুলে ওঠে।
এই দেশের বাতাসে আজও ভাসে
মায়ের কান্না বোনের লজ্জা।
তারা যখন ইতিহাসকে কবর দিতে চায়
মাটি তখন কেঁপে ওঠে।
তারা জানে না কবরের নিচেৎ শুধু হাড় থাকে না
থাকে ঘুমন্ত আগুন
আর সেই আগুন ধীরে ধীরে
মানুষের শিরায় শিরায় রক্ত হয়ে উঠে আসে।

তারা যতবার সাতই মার্চকে অস্বীকার করে
ততবার আকাশ গর্জে ওঠে জয়বাংলা বলে।
তারা যতই মিথ্যা বলো
বাতাস ততবার ঝড় হয়ে ওঠে।
ইতিহাস কোনো প্রতারক মোনাফেকের ঘর নয়
ইতিহাস হল ঝড়ের সন্তান।
স্বাধীনতা কোনো ফুলের নাম নয়
স্বাধীনতা মানে রক্ত
স্বাধীনতা মানে আগুন।
মনে রেখো—আগুনকে যারা অস্বীকার করে
তারা সারা জীবন জ্বলে পুড়ে মরে।
ইতিহাসকে যারা অপমান করে
তাদের নামই মুছে যায় চিরতরে।

মানুষ আবার জাগবে
মুজিব নগরে
স্বাধীনতার উদ্যানে
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
মানুষ সাতই মার্চের বজ্রকণ্ঠ
শুনে বারবার জ্বলে উঠবেই প্রকাশ্যে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রবিশঙ্কর মৈত্রী।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x