কবিতার খাতা
- 25 mins
পরমা – মল্লিকা সেনগুপ্ত।
সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম
বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম
নিজেই বলব, সেটা কেমন খেলো লাগবে ভেবে
অপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমিই ডেকে নেবে
রতির ডাকে শীত বিছানা ঝড় তুলবে বলে
রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে
তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা
বোঝোনি আমি এখনও কেন তোমার দিকে ঝোঁকা!
শরীর যদি ঘুমিয়ে থাকে শরীর যদি জাগে
ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে
অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে
তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। মল্লিকা সেনগুপ্ত।
পরমা – মল্লিকা সেনগুপ্ত | পরমা কবিতা | মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা | অপেক্ষার কবিতা
পরমা: মল্লিকা সেনগুপ্তের অপেক্ষা, প্রেম ও নীরব আকাঙ্ক্ষার অসাধারণ কাব্যভাষা
মল্লিকা সেনগুপ্তের “পরমা” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা অপেক্ষা, প্রেম, নীরব আকাঙ্ক্ষা ও না-বলা কথার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। আধুনিক বাংলা কবিতার এই শক্তিমান কবি তাঁর কবিতায় নারীচেতনা, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটান। “পরমা” কবিতাটি একটি নারীর অন্তর্জগতের অসাধারণ চিত্র, যে সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েও বলেনি — শুধু ভয়ে, শুধু বদনামের ভয়ে, শুধু খেলো লাগার ভয়ে। সে অপেক্ষা করে গেছে — কবে প্রিয়জন তাঁকে ডেকে নেবে। রাতের পর রাত জেগেছে উষ্ণ কম্বলে, প্রেমের ঝড় উঠবে বলে। কিন্তু প্রিয়জনের ঘুম ভাঙেনি। সে বোঝেনি কেন কবি এখনও তাঁর দিকে ঝুঁকে আছে। ইচ্ছেপাখি রাগে ফুঁসতে থাকে। অন্য লোক ডাক পাঠালেও সে ফিরিয়ে দেয়। সে শুধু প্রিয়জনের জন্যই অপেক্ষা করে। কিন্তু প্রিয়জন আজও তেমন করে ডাকেনি পরমাকে। এই অপেক্ষা, এই না-বলা প্রেম, এই নীরব আকাঙ্ক্ষা — সব মিলিয়ে এক অসাধারণ কাব্যিক সৃষ্টি।
মল্লিকা সেনগুপ্ত: নারীচেতনার কবি
মল্লিকা সেনগুপ্ত বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও একবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বাংলা কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর কবিতায় নারীচেতনা, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর কবিতার ভাষা এতটাই স্বাভাবিক যে তা সরাসরি পাঠকের হৃদয়ে প্রবেশ করে। “পরমা”, “সূর্যস্পর্শ”, “প্রকৃত মেধাবী” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা। মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
পরমা কবিতার পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
“পরমা” কবিতাটি সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে রচিত। এই সময়ে নারীর অবস্থান, তাঁর প্রকাশের স্বাধীনতা, তাঁর প্রেমের অধিকার — সব নিয়েই নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে নিজের প্রেম প্রকাশ করতে ভয় পান। সমাজের ভয়, বদনামের ভয়, খেলো লাগার ভয় — এগুলো এখনও নারীকে থামিয়ে রাখে। এই প্রেক্ষাপটে কবি ‘পরমা’ চরিত্রের মাধ্যমে নারীর সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব, সেই অপেক্ষা, সেই না-বলা প্রেমকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
পরমা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“পরমা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘পরমা’ — একটি নাম। সম্ভবত কবিতার নায়িকার নাম। কিন্তু ‘পরমা’ শব্দের অর্থও আছে — পরম, সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত। নামটির মধ্যে এক ধরনের মহিমা, এক ধরনের গভীরতা আছে। ‘পরমা’ শব্দটি ‘পরম’ স্ত্রীবাচক — যা সর্বোচ্চ, যা চূড়ান্ত। এই নামটি সম্ভবত প্রতীকী — যে নারী প্রেমে পরম, যে নারী অপেক্ষায় পরম। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা একটি বিশেষ নারীকে কেন্দ্র করে, যে অপেক্ষায় আছে, যে ডাকের অপেক্ষায় আছে, যে নিজের প্রেম প্রকাশ করতে পারেনি।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম / বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম / নিজেই বলব, সেটা কেমন খেলো লাগবে ভেবে / অপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমিই ডেকে নেবে” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর না-বলা কথার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম। বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম হয়। নিজেই বলব, সেটা কেমন খেলো লাগবে ভেবে অপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমিই ডেকে নেবে।
‘সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এই ‘একটি কথা’ সম্ভবত ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ — এই কথাটি। কবি সারাজীবন এই কথাটি বলতে চেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। এই একটি কথা — এত ছোট, অথচ বলা এত কঠিন। সারাজীবন ধরে এই কথাটি তাঁর মনে গেঁথে আছে, কিন্তু মুখ ফুটে বেরোয়নি।
‘বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি বলতে পারেননি, কারণ তিনি ভয় পেয়েছেন। ‘বদনাম’ — সমাজের বিচার, লোকের মুখ, অপবাদ। নারী হয়ে তিনি যদি প্রথমে প্রেম নিবেদন করেন, তাহলে সমাজ তাঁকে কী বলবে? এই ভয় তাঁকে থামিয়ে রেখেছে। এটি নারীর এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব — নিজের অনুভূতি প্রকাশ করবে, না সমাজের ভয়ে চুপ থাকবে।
‘নিজেই বলব, সেটা কেমন খেলো লাগবে ভেবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি নিজে যদি প্রেম নিবেদন করেন, তাহলে সেটা খেলো (হাস্যকর) লাগবে কি? এই ভয়ও তাঁকে থামিয়ে রেখেছে। তিনি ভাবেন — হয়তো প্রিয়জন ভাববেন, এ মেয়ে কেমন! হয়তো তিনি হেসে উড়িয়ে দেবেন। এই লজ্জা, এই সংকোচ তাঁকে থামিয়ে রেখেছে।
‘অপেক্ষায় ছিলাম কবে তুমিই ডেকে নেবে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি অপেক্ষা করে গেছেন — কবে প্রিয়জন তাঁকে ডেকে নেবে। কবে প্রিয়জন নিজে থেকে তাঁকে চাইবে। এই অপেক্ষায় তাঁর সারাজীবন কেটে গেছে। তিনি চেয়েছেন প্রিয়জনই প্রথম ডাক দিক, প্রথম এগিয়ে আসুক। কিন্তু সেই ডাক আসেনি।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“রতির ডাকে শীত বিছানা ঝড় তুলবে বলে / রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে / তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা / বোঝোনি আমি এখনও কেন তোমার দিকে ঝোঁকা!” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর রাত জাগার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — রতির ডাকে শীত বিছানা ঝড় তুলবে বলে রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে। তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা। বোঝোনি আমি এখনও কেন তোমার দিকে ঝোঁকা!
‘রতির ডাকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
রতি — কামদেবের পত্নী, কামদেবতা। রতির ডাক — কামনার ডাক, প্রেমের ডাক, আবেগের ডাক। হিন্দু পুরাণে কামদেব ও রতি প্রেম-কামনার দেবতা। রতির ডাক মানে প্রেমের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, শরীরী টান।
‘রতির ডাকে শীত বিছানা ঝড় তুলবে বলে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি ভেবেছিলেন — রতির ডাকে শীত বিছানায় প্রেমের ঝড় উঠবে। অর্থাৎ তাঁর প্রেমের ডাকে প্রিয়জনের মনে আবেগ জাগবে, সম্পর্ক গভীর হবে। এই আশায় তিনি রাত জেগেছেন।
‘রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি রাতের পর রাত জেগেছেন — প্রিয়জনের জন্য, তাঁর ডাকের জন্য। উষ্ণ কম্বলে জেগে থাকা — একাকীত্বের প্রতীক, অপেক্ষার প্রতীক। কম্বল উষ্ণ, কিন্তু তিনি একা। এই বৈপরীত্য তাঁর বেদনা বাড়ায়।
‘তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জন ঘুমকাতুরে বোকা — তিনি বুঝতে পারেন না কবি জেগে আছেন। তিনি ডাকেন না, কবিকে কাছে টানেন না। তাঁর উদাসীনতা কবির কষ্ট বাড়ায়।
‘বোঝোনি আমি এখনও কেন তোমার দিকে ঝোঁকা!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রিয়জন বোঝেন না — কেন কবি এখনও তাঁর দিকে ঝুঁকে আছেন। কেন কবি এখনও তাঁকে ভালোবাসেন। এত উদাসীনতা, এত অবহেলা সত্ত্বেও কেন কবির প্রেম ফুরায় না? এই প্রশ্নের উত্তর প্রিয়জনের জানা নেই।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“শরীর যদি ঘুমিয়ে থাকে শরীর যদি জাগে / ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে / অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে / তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে।” তৃতীয় স্তবকে কবি তাঁর একাগ্রতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — শরীর যদি ঘুমিয়ে থাকে, শরীর যদি জাগে — ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে। অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে। তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে।
‘শরীর যদি ঘুমিয়ে থাকে শরীর যদি جাগে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শরীরের দুই অবস্থা — ঘুম আর জাগরণ। দুই অবস্থাতেই তাঁর ইচ্ছে, তাঁর কামনা জেগে থাকে। তিনি সব সময়ই প্রিয়জনের কথা ভাবেন।
‘ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ইচ্ছেপাখি — ইচ্ছার পাখি, কামনার পাখি। এলোপাথার — বিশৃঙ্খলভাবে। ফুঁসতে থাকে রাগে — অর্থাৎ ইচ্ছা এত তীব্র যে তা রাগের মতো প্রকাশ পায়। তাঁর ইচ্ছে রূপ নেয় রাগের, কিন্তু তা প্রকাশের পথ নেই।
‘অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অন্যেরা কবিকে ডাকে, প্রেম চায়। কিন্তু তিনি সবাইকে ফিরিয়ে দেন। তিনি শুধু তাঁর প্রিয়জনের জন্যই অপেক্ষা করেন। এই একাগ্রতা প্রেমের গভীরতা নির্দেশ করে।
‘তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার চূড়ান্ত বার্তা। প্রিয়জন আজও তেমন করে ডাকেননি পরমাকে। ‘তেমন করে’ — যে ভাবে তিনি চান, যে ভাবে তিনি অপেক্ষা করছেন, যে ভাবে তিনি প্রাপ্য। প্রিয়জনের ডাক আসেনি আজও। এই অপূর্ণতা, এই অপেক্ষা, এই না-পাওয়া — সব মিলিয়ে এক গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।
কবিতার ছন্দ ও গঠন
“পরমা” কবিতাটি তিনটি স্তবকে বিভক্ত। প্রথম স্তবকে না-বলা কথার কথা, দ্বিতীয় স্তবকে রাত জাগার কথা, তৃতীয় স্তবকে একাগ্রতার কথা। প্রতিটি স্তবক প্রেমের একটি করে মাত্রা উন্মোচিত করে। কবিতার ভাষা অত্যন্ত সরল, কিন্তু প্রতিটি শব্দ গভীর অর্থ বহন করে। ছন্দের দিক থেকেও কবিতাটি অত্যন্ত সুরেলা।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“পরমা” কবিতাটি অপেক্ষা, না-বলা প্রেম ও নীরব আকাঙ্ক্ষার এক অসাধারণ চিত্র। কবি সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছেন — ভালোবাসার কথা। কিন্তু বলেননি, ভয়ে, বদনামের ভয়ে, খেলো লাগার ভয়ে। তিনি অপেক্ষা করে গেছেন — কবে প্রিয়জন নিজে থেকে তাঁকে ডেকে নেবে। রাতের পর রাত তিনি জেগেছেন, প্রেমের ঝড় উঠবে বলে। কিন্তু প্রিয়জনের ঘুম ভাঙেনি। তিনি বোঝেননি কেন কবি এখনও তাঁর দিকে ঝুঁকে আছেন। ইচ্ছেপাখি রাগে ফুঁসতে থাকে। অন্য লোক ডাক পাঠালেও তিনি ফিরিয়ে দেন। তিনি শুধু প্রিয়জনের জন্যই অপেক্ষা করেন। কিন্তু প্রিয়জন আজও তেমন করে ডাকেননি পরমাকে। এই অপেক্ষা, এই না-বলা প্রেম, এই নীরব আকাঙ্ক্ষা — সব মিলিয়ে এক অসাধারণ কাব্যিক সৃষ্টি।
পরমা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পরমা কবিতার লেখক কে?
পরমা কবিতার লেখক মল্লিকা সেনগুপ্ত। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় নারীচেতনা, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন।
প্রশ্ন ২: পরমা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
পরমা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো অপেক্ষা, না-বলা প্রেম ও নীরব আকাঙ্ক্ষা। কবি সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছেন — ভালোবাসার কথা। কিন্তু বলেননি, ভয়ে। তিনি অপেক্ষা করে গেছেন — কবে প্রিয়জন তাঁকে ডেকে নেবে। রাতের পর রাত জেগেছেন, কিন্তু প্রিয়জনের ঘুম ভাঙেনি। অন্য লোক ডাক পাঠালেও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রিয়জন আজও তেমন করে ডাকেননি পরমাকে।
প্রশ্ন ৩: ‘সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম / বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সারাজীবন একটি কথা বলতে চেয়েছিলাম / বলা হয়নি, ভয় পেয়েছি, যদি বা বদনাম’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর না-বলা প্রেমের কথা বলেছেন। তিনি সারাজীবন ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। ভয় পেয়েছেন — বদনাম হবে, সমাজ কী বলবে, লোকে কী ভাববে — এই ভয় তাঁকে থামিয়ে রেখেছে। নারী হয়ে প্রেম নিবেদন করা সমাজের চোখে অপরাধ — এই ভয়।
প্রশ্ন ৪: ‘রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে / তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘রাতের পর রাত জেগেছি উষ্ণ কম্বলে / তবু তোমার ঘুম ভাঙেনি ঘুমকাতুরে বোকা’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর একাকী রাত জাগার কথা বলেছেন। তিনি প্রিয়জনের জন্য জেগে থেকেছেন, কিন্তু প্রিয়জন ঘুমিয়ে ছিলেন। ‘ঘুমকাতুরে বোকা’ বলে তিনি প্রিয়জনকে সম্বোধন করেছেন — যিনি বুঝতে পারেননি কবি তাঁর জন্য জেগে আছেন।
প্রশ্ন ৫: ‘ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘ইচ্ছেপাখি এলোপাথার ফুঁসতে থাকে রাগে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর ইচ্ছার তীব্রতা প্রকাশ করেছেন। ইচ্ছেপাখি — ইচ্ছার পাখি, কামনার পাখি। এলোপাথার — বিশৃঙ্খলভাবে। ফুঁসতে থাকে রাগে — অর্থাৎ ইচ্ছা এত তীব্র যে তা রাগের মতো প্রকাশ পায়। তাঁর ইচ্ছে রূপ নেয় রাগের, কিন্তু তা প্রকাশের পথ নেই।
প্রশ্ন ৬: ‘অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে / তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘অন্য লোক ডাক পাঠায়, ফিরিয়ে দিই তাকে / তুমি তো আজও তেমন করে ডাকোনি পরমাকে’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার চূড়ান্ত বার্তা। অন্যেরা কবিকে ডাকে, প্রেম চায়। কিন্তু তিনি সবাইকে ফিরিয়ে দেন। তিনি শুধু তাঁর প্রিয়জনের জন্যই অপেক্ষা করেন। কিন্তু প্রিয়জন আজও তেমন করে ডাকেননি তাঁকে। ‘তেমন করে’ — যে ভাবে তিনি চান, যে ভাবে তিনি অপেক্ষা করছেন।
প্রশ্ন ৭: মল্লিকা সেনগুপ্ত সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
মল্লিকা সেনগুপ্ত বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় নারীচেতনা, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “পরমা”, “সূর্যস্পর্শ”, “প্রকৃত মেধাবী” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
ট্যাগস: পরমা, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মল্লিকা সেনগুপ্তের কবিতা, পরমা কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, অপেক্ষার কবিতা, না-বলা প্রেমের কবিতা, নারীচেতনার কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা






