কবিতার খাতা
- 28 mins
নদীটি ভালো নেই – রুমানা শাওন।
আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে না
আমি কেমন আছি?
চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে না
এতো মেঘ কেন তোমার চোখে?
ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত
আমার সময়টা শুধু প্রয়েজনের।
চার পাশের মানুষ ভিষণ ভিষণ ভাবে
আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে
বুঝেও চুপ করে থাকি
কারণ আমি জানি পৃথিবীর সব সম্পর্ক
শুধুই প্রয়োজনের।
সেখানে আমার নদীটির ভালো থাকা না থাকায়
কারো কিছু এসে যায় না।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। রুমানা শাওন।
নদীটি ভালো নেই – রুমানা শাওন | নদীটি ভালো নেই কবিতা | রুমানা শাওনের কবিতা | বাংলা কবিতা
নদীটি ভালো নেই: রুমানা শাওনের আধুনিক সম্পর্ক, নিঃসঙ্গতা ও প্রয়োজনের কবিতা
রুমানা শাওনের “নদীটি ভালো নেই” কবিতাটি বাংলা কবিতার একটি অসাধারণ সৃষ্টি, যা আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা, প্রয়োজন ও আবেগের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে না আমি কেমন আছি?” — এই প্রশ্ন দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক বাস্তব সত্য — আধুনিক পৃথিবীতে সম্পর্কগুলো শুধু প্রয়োজনের। কবি রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কণ্ঠ। তার কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “নদীটি ভালো নেই” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। এই কবিতায় তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষ আজকাল নিজের ভেতরে ব্যস্ত, অন্যের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই, সম্পর্কগুলো শুধু প্রয়োজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আর সেই সব সম্পর্কের মাঝে কবির নিজের নদীটি — তার নিজের অস্তিত্ব, তার অনুভূতি — ভালো নেই, কিন্তু কারো কিছু যায় আসে না।
রুমানা শাওন: আধুনিক নারীর অনুভূতির কবি
রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তার কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “নদীটি ভালো নেই” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা ও নিঃসঙ্গতার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে। রুমানা শাওনের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছেন।
নদীটি ভালো নেই কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“নদীটি ভালো নেই” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘নদীটি’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? নদী সাধারণত প্রকৃতির অংশ, প্রবহমান জীবনের প্রতীক। কিন্তু এখানে নদীটি সম্ভবত কবির নিজের প্রতীক — তার নিজের অস্তিত্ব, তার মন, তার অনুভূতি। নদীটি ভালো নেই — অর্থাৎ কবি নিজেই ভালো নেই, তার মন ভালো নেই, তার অনুভূতি ভালো নেই। কিন্তু শিরোনামে তিনি নিজের নাম না বলে নদী বলেছেন — এটি একটি চমৎকার কাব্যিক কৌশল। নদী যেমন চিরন্তন, তেমনি তার অনুভূতিও চিরন্তন। নদী যেমন বহমান, তেমনি তার জীবনও বহমান। কিন্তু সেই বহমান জীবন, সেই নদী আজ ভালো নেই।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে না / আমি কেমন আছি? / চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে না / এতো মেঘ কেন তোমার চোখে?” প্রথম স্তবকে কবি আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন — আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে না আমি কেমন আছি। অর্থাৎ আগে হয়তো কেউ জিজ্ঞেস করত, খোঁজ নিত। কিন্তু এখন আর করে না। চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে না — এত মেঘ কেন তোমার চোখে? মেঘ এখানে অশ্রুর প্রতীক, দুঃখের প্রতীক। তার চোখে মেঘ জমেছে, অর্থাৎ তিনি দুঃখিত, তিনি কাঁদছেন। কিন্তু কেউ তা খেয়াল করে না, কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন এত মেঘ। এই উদাসীনতা আধুনিক সম্পর্কের এক শীতল চিত্র।
মেঘের প্রতীকী তাৎপর্য
মেঘ এখানে অশ্রুর প্রতীক। চোখে মেঘ মানে চোখে জল, চোখে দুঃখ। কিন্তু মেঘ আবার প্রকৃতির অংশ, যা বৃষ্টি নিয়ে আসে, যা শীতলতা আনে। কবির চোখে মেঘ মানে তার ভেতরে দুঃখের বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু কেউ তা দেখছে না।
কেউ না জিজ্ঞেস করার তাৎপর্য
“আজকাল কেউ আর জিজ্ঞেস করে না আমি কেমন আছি” — এই পঙ্ক্তিটি আধুনিক সম্পর্কের এক গভীর সত্য প্রকাশ করে। মানুষ আজকাল এত ব্যস্ত, এত নিজের ভেতরে ডুবে আছে যে অন্যের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই। সম্পর্কগুলো হয়ে গেছে যান্ত্রিক, শীতল, প্রয়োজননির্ভর।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও / নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত / আমার সময়টা শুধু প্রয়েজনের।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি সম্পর্কের আরও গভীরে যেয়েছেন। ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাস — এটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি চিত্র। কারো ঘাড়ের পাশে নিশ্বাস ফেলা মানে অত্যন্ত কাছে থাকা, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়া। কিন্তু সেই নিশ্বাসও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত — অর্থাৎ সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। অন্যের জন্য তাদের সময় নেই। কবির সময়টা শুধু প্রয়োজনের — অর্থাৎ তার সাথে মানুষের সম্পর্ক তখনই যখন তাদের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন শেষ হলে সম্পর্কও শেষ।
পড়ন্ত নিশ্বাসের তাৎপর্য
পড়ন্ত নিশ্বাস — ঘাড়ের পাশে নিশ্বাস ফেলা। এটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে, খুব কাছের মানুষের মধ্যে এই সম্পর্ক হয়। কিন্তু কবি বলছেন — সেই ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। অর্থাৎ সবচেয়ে কাছের মানুষটিও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কবির জন্য তার সময় নেই।
প্রয়েজনের তাৎপর্য
‘প্রয়েজন’ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রয়োজন — শুধু প্রয়োজন। সম্পর্কগুলো হয়ে গেছে শুধু প্রয়োজনীয়। প্রয়োজন শেষ হলেই সম্পর্ক শেষ। কবির সময়টা শুধু প্রয়োজনের — অর্থাৎ মানুষ তাকে তখনই সময় দেয় যখন তাদের প্রয়োজন হয়। নিঃস্বার্থ সম্পর্ক, আবেগের সম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক আর নেই।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“চার পাশের মানুষ ভিষণ ভিষণ ভাবে / আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে / বুঝেও চুপ করে থাকি” তৃতীয় স্তবকে কবি মানুষের আচরণ নিয়ে বলেছেন। চার পাশের মানুষ ভিষণ ভিষণ ভাবে — তারা অনেক চিন্তা করে, অনেক হিসাব করে। আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে — তারা আগ্রহ দেখায়, কিন্তু সেই আগ্রহের ভেতরেই আছে নিরাগ্রহ। অর্থাৎ তারা দেখাতে চায় যে তারা আগ্রহী, কিন্তু আসলে তারা উদাসীন। কবি বুঝেও চুপ করে থাকেন — তিনি সব বুঝতে পারেন, কিন্তু কিছু বলেন না।
আগ্রহ ও নিরাগ্রহের দ্বন্দ্ব
“আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে” — এই পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ দেখাতে চায় যে তারা আগ্রহী, কিন্তু আসলে তারা নিরাগ্রহ। এটি আধুনিক সম্পর্কের এক গভীর সত্য। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক দিই, কমেন্ট করি, কিন্তু আসলে আমরা উদাসীন। আমরা দেখাতে চাই আমরা খোঁজ নিচ্ছি, কিন্তু আসলে আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত।
চুপ করে থাকার তাৎপর্য
কবি বুঝেও চুপ করে থাকেন। কেন? কারণ তিনি জানেন — কথা বলে লাভ নেই। সম্পর্কগুলো প্রয়োজনের, আবেগের নয়। তাই তিনি চুপ করে থাকেন, সব মেনে নেন। এই নীরবতা এক ধরনের প্রতিবাদ, এক ধরনের আত্মরক্ষা।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“কারণ আমি জানি পৃথিবীর সব সম্পর্ক / শুধুই প্রয়োজনের।” চতুর্থ স্তবকে কবি তার উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানেন — পৃথিবীর সব সম্পর্ক শুধুই প্রয়োজনের। কোনো সম্পর্কই নিঃস্বার্থ নয়, কোনো সম্পর্কই আবেগনির্ভর নয়। সব সম্পর্কই প্রয়োজননির্ভর। প্রয়োজন শেষ হলেই সম্পর্ক শেষ। এটি এক কঠিন বাস্তব সত্য, যা কবি মেনে নিয়েছেন।
সব সম্পর্ক প্রয়োজনের — এই উপলব্ধির তাৎপর্য
এটি একটি গভীর ও কঠিন উপলব্ধি। কবি বিশ্বাস করেন — পৃথিবীর সব সম্পর্কই প্রয়োজনের। পরিবার, বন্ধু, প্রেমিক — সবাই প্রয়োজন হলে কাছে থাকে, প্রয়োজন না হলে দূরে সরে যায়। এই উপলব্ধি তাকে একাকী করে তুলেছে, নিঃসঙ্গ করে তুলেছে। কিন্তু এই উপলব্ধিই তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সাহায্য করেছে।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সেখানে আমার নদীটির ভালো থাকা না থাকায় / কারো কিছু এসে যায় না।” পঞ্চম স্তবকে কবি তার নিজের অবস্থার কথা বলেছেন। সেখানে — এই প্রয়োজননির্ভর সম্পর্কের জগতে — তার নদীটির ভালো থাকা না থাকায় কারো কিছু এসে যায় না। তার নিজের ভালো থাকা, তার নিজের অনুভূতি — কারো কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি ভালো থাকুন বা মন্দ থাকুন, কারো কিছু যায় আসে না। এটি নিঃসঙ্গতার এক চরম রূপ।
নদীটির প্রতীকী তাৎপর্য
নদীটি কবির নিজের প্রতীক। তার অস্তিত্ব, তার মন, তার অনুভূতি। নদীটি ভালো নেই — কবি নিজেই ভালো নেই। কিন্তু কারো কিছু যায় আসে না। নদী যেমন চিরন্তন, তেমনি তার অনুভূতিও চিরন্তন। কিন্তু সেই চিরন্তন অনুভূতি কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“নদীটি ভালো নেই” কবিতাটি আধুনিক সম্পর্কের এক মর্মস্পর্শী চিত্র। কবি দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষ আজকাল নিজের ভেতরে ব্যস্ত, অন্যের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই। কেউ জিজ্ঞেস করে না — আমি কেমন আছি? কেউ দেখে না — চোখে মেঘ জমেছে। সবচেয়ে কাছের মানুষটিও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ আগ্রহ দেখায়, কিন্তু সেই আগ্রহের ভেতরে আছে নিরাগ্রহ। সম্পর্কগুলো শুধু প্রয়োজনের। প্রয়োজন শেষ হলেই সম্পর্ক শেষ। আর এই প্রয়োজননির্ভর সম্পর্কের জগতে কবির নিজের ভালো থাকা না থাকায় কারো কিছু যায় আসে না। এটি আধুনিক জীবনের এক করুণ সত্য।
কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ও চিত্রকল্প
নদীর প্রতীক
নদী কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক। নদী সাধারণত প্রবহমান জীবনের প্রতীক। নদী যেমন বয়ে চলে, তেমনি জীবনও বয়ে চলে। কিন্তু এখানে নদীটি ভালো নেই — অর্থাৎ জীবনের প্রবাহ থমকে গেছে, জীবন স্থবির হয়ে গেছে। নদী আবার প্রকৃতির অংশ, যা চিরন্তন। কবির অনুভূতিও তেমনি চিরন্তন — কিন্তু সেই চিরন্তন অনুভূতি কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
মেঘের প্রতীক
মেঘ এখানে অশ্রুর প্রতীক। চোখে মেঘ মানে চোখে জল, চোখে দুঃখ। মেঘ আবার বৃষ্টি নিয়ে আসে, যা শীতলতা আনে। কবির চোখে মেঘ মানে তার ভেতরে দুঃখের বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কেউ তা দেখছে না, কেউ জিজ্ঞেস করছে না কেন এত মেঘ।
পড়ন্ত নিশ্বাসের প্রতীক
পড়ন্ত নিশ্বাস — ঘাড়ের পাশে নিশ্বাস ফেলা। এটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। এই প্রতীকটির মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন — সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠই হোক, মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, অন্যের জন্য তার সময় নেই।
প্রয়োজনের প্রতীক
‘প্রয়োজন’ শব্দটি কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক। সম্পর্কগুলো হয়ে গেছে শুধু প্রয়োজনীয়। প্রয়োজন শেষ হলেই সম্পর্ক শেষ। এই প্রতীকটির মাধ্যমে কবি আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা ও যান্ত্রিকতা তুলে ধরেছেন।
আধুনিক জীবনের সাথে কবিতার সম্পর্ক
“নদীটি ভালো নেই” কবিতাটি আধুনিক জীবনের একটি মর্মস্পর্শী চিত্র। আজকের পৃথিবীতে মানুষ এত ব্যস্ত, এত নিজের ভেতরে ডুবে আছে যে অন্যের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা লাইক দিই, কমেন্ট করি, কিন্তু আসলে আমরা উদাসীন। সম্পর্কগুলো হয়ে গেছে যান্ত্রিক, শীতল, প্রয়োজননির্ভর। এই কবিতায় রুমানা শাওন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কেউ জিজ্ঞেস করে না আমরা কেমন আছি, কেউ দেখে না আমাদের চোখে মেঘ জমেছে, সবচেয়ে কাছের মানুষটিও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, সম্পর্কগুলো শুধু প্রয়োজনের। আর এই প্রয়োজননির্ভর সম্পর্কের জগতে আমাদের নিজের ভালো থাকা না থাকায় কারো কিছু যায় আসে না।
নদীটি ভালো নেই কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: নদীটি ভালো নেই কবিতার লেখক কে?
নদীটি ভালো নেই কবিতার লেখক রুমানা শাওন। তিনি বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তার কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। “নদীটি ভালো নেই” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা ও নিঃসঙ্গতার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে।
প্রশ্ন ২: নদীটি ভালো নেই কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
নদীটি ভালো নেই কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা, নিঃসঙ্গতা ও প্রয়োজননির্ভরতা। কবি দেখিয়েছেন — আজকাল কেউ জিজ্ঞেস করে না তিনি কেমন আছেন, কেউ দেখে না তার চোখে মেঘ জমেছে। সবচেয়ে কাছের মানুষটিও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ আগ্রহ দেখায়, কিন্তু সেই আগ্রহের ভেতরে আছে নিরাগ্রহ। সম্পর্কগুলো শুধু প্রয়োজনের। আর এই প্রয়োজননির্ভর সম্পর্কের জগতে কবির নিজের ভালো থাকা না থাকায় কারো কিছু যায় আসে না।
প্রশ্ন ৩: ‘চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে না / এতো মেঘ কেন তোমার চোখে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ বলে না / এতো মেঘ কেন তোমার চোখে?’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তার দুঃখের প্রতি মানুষের উদাসীনতা তুলে ধরেছেন। মেঘ এখানে অশ্রুর প্রতীক, দুঃখের প্রতীক। তার চোখে মেঘ জমেছে, অর্থাৎ তিনি দুঃখিত, তিনি কাঁদছেন। কিন্তু কেউ তা খেয়াল করে না, কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন এত মেঘ। এটি আধুনিক সম্পর্কের এক শীতল চিত্র।
প্রশ্ন ৪: ‘ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও / নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও / নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও মানুষের স্বার্থপরতা তুলে ধরেছেন। ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাস অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। কিন্তু সেই ঘাড়ের পাশে পড়ন্ত নিশ্বাসও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত — অর্থাৎ সবচেয়ে কাছের মানুষটিও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কবির জন্য তার সময় নেই।
প্রশ্ন ৫: ‘আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আগ্রহ দেখায় নিরাগ্রহ নিয়ে’ — এই পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ দেখাতে চায় যে তারা আগ্রহী, কিন্তু আসলে তারা নিরাগ্রহ। এটি আধুনিক সম্পর্কের এক গভীর সত্য। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক দিই, কমেন্ট করি, কিন্তু আসলে আমরা উদাসীন। আমরা দেখাতে চাই আমরা খোঁজ নিচ্ছি, কিন্তু আসলে আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত।
প্রশ্ন ৬: ‘কারণ আমি জানি পৃথিবীর সব সম্পর্ক / শুধুই প্রয়োজনের’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘কারণ আমি জানি পৃথিবীর সব সম্পর্ক / শুধুই প্রয়োজনের’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তার গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন — পৃথিবীর সব সম্পর্কই শুধু প্রয়োজনের। পরিবার, বন্ধু, প্রেমিক — সবাই প্রয়োজন হলে কাছে থাকে, প্রয়োজন না হলে দূরে সরে যায়। এটি এক কঠিন বাস্তব সত্য, যা কবি মেনে নিয়েছেন।
প্রশ্ন ৭: ‘সেখানে আমার নদীটির ভালো থাকা না থাকায় / কারো কিছু এসে যায় না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সেখানে আমার নদীটির ভালো থাকা না থাকায় / কারো কিছু এসে যায় না’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীটি কবির নিজের প্রতীক — তার অস্তিত্ব, তার মন, তার অনুভূতি। নদীটি ভালো নেই — কবি নিজেই ভালো নেই। কিন্তু কারো কিছু যায় আসে না। এই প্রয়োজননির্ভর সম্পর্কের জগতে তার নিজের ভালো থাকা না থাকায় কারো কিছু যায় আসে না। এটি নিঃসঙ্গতার এক চরম রূপ।
প্রশ্ন ৮: রুমানা শাওন সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
রুমানা শাওন বাংলা কবিতার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তার কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, সম্পর্কের জটিলতা, নিঃসঙ্গতা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও নারীর অন্তর্জগতের গভীরতা ফুটিয়ে তোলেন। “নদীটি ভালো নেই” তার একটি বহুপঠিত কবিতা যা আধুনিক সম্পর্কের শীতলতা ও নিঃসঙ্গতার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছে।
ট্যাগস: নদীটি ভালো নেই, রুমানা শাওন, রুমানা শাওনের কবিতা, নদীটি ভালো নেই কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, নিঃসঙ্গতার কবিতা, সম্পর্কের কবিতা, প্রয়োজনের কবিতা





