কবিতার খাতা
- 19 mins
জন্মান্তর – অবশেষ দাস।
তোমাকে ভালোবেসেছিলাম…
একথা বলতে কী পারি ?
তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা
যেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহর
তোমাকে আগের মতো আজও ভালোবাসি
বলবো না উচ্চস্বরে…
সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশী
তোমাকে ভালোবেসেছিলাম,
বলবো না নিজেকেও আজ
বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি
বাতাসে চাউর করে দেবে!
এ জীবন তোমাকেই চায়
এ জীবন তোমাকেই চায়…
ঘাসের ডগায় যেন ফিসফিস ধ্বনি
শিশির জড়ানো সেই জারুল পাতার মতো
তোমাকেও ছুঁয়ে আছে জ্যোৎস্নার কবি
তোমাকেই আজও ভালোবাসি,
এ জীবন, সে জীবন
শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে…
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। অবশেষ দাস।
জন্মান্তর – অবশেষ দাস | জন্মান্তর কবিতা | অবশেষ দাসের কবিতা | বাংলা প্রেমের কবিতা
জন্মান্তর: অবশেষ দাসের চিরন্তন প্রেম, জন্ম-জন্মান্তরের টান ও নীরব ভালোবাসার অসাধারণ কাব্যভাষা
অবশেষ দাসের “জন্মান্তর” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা চিরন্তন প্রেম, জন্ম-জন্মান্তরের টান, নীরব ভালোবাসা ও আত্মার সম্পর্কের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “তোমাকে ভালোবেসেছিলাম… / একথা বলতে কী পারি ? / তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা / যেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহর” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর প্রেমের গল্প, যা উচ্চস্বরে বলার নয়, যা সংসার জানে না, যা শুধু আত্মার টানে টিকে থাকে জন্মান্তর জুড়ে। অবশেষ দাস আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, আত্মসম্মান ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “জন্মান্তর” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা চিরন্তন প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র।
অবশেষ দাস: আধুনিক বাংলা কবিতার শক্তিমান কণ্ঠ
অবশেষ দাস আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, আত্মসম্মান ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলেন। “যাব না কখনও” ও “জন্মান্তর” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা। অবশেষ দাসের কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
জন্মান্তর কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“জন্মান্তর” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জন্মান্তর — জন্মের পর জন্ম, পুনর্জন্ম, চিরন্তনতা। কবি এখানে ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই ভালোবাসা শুধু এই জীবনের নয়, জন্ম-জন্মান্তরের। এটি চিরন্তন প্রেমের কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমাকে ভালোবেসেছিলাম… / একথা বলতে কী পারি ? / তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা / যেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহর” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর প্রেমের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমাকে ভালোবেসেছিলাম… একথা বলতে কী পারি? তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই — ঋতু, নদী, শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা, যেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহর।
‘তোমাকে ভালোবেসেছিলাম… / একথা বলতে কী পারি ?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি বলতে চান — তাঁকে ভালোবাসার কথা বলা কি খুব সহজ? এই কথাটি বলতে তিনি দ্বিধা বোধ করেন। এটি একটি গভীর, অন্তরঙ্গ অনুভূতি যা প্রকাশ করা কঠিন।
‘তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি আজও প্রিয়তমার হাত ধরে পার হন — ঋতু, নদী, শোক, ব্যর্থতা। অর্থাৎ তিনি তাঁর প্রেমকে সঙ্গে নিয়েই জীবনের সব কিছু পার করেন। প্রিয়তমা তাঁর সঙ্গে আছেন প্রতিটি মুহূর্তে।
‘যেভাবে সাঁকোর ওপারে যায় অষ্টপ্রহর’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অষ্টপ্রহর — ২৪ ঘণ্টা, সারাদিন। সাঁকোর ওপারে যেমন দিন চলে যায়, তেমনি তাঁরাও সময় পার করেন। এটি জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতীক।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমাকে আগের মতো আজও ভালোবাসি / বলবো না উচ্চস্বরে… / সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশী / তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, / বলবো না নিজেকেও আজ / বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি / বাতাসে চাউর করে দেবে!” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর নীরব প্রেমের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — তোমাকে আগের মতো আজও ভালোবাসি। বলবো না উচ্চস্বরে। সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশী। তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, বলবো না নিজেকেও আজ। বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি বাতাসে চাউর করে দেবে!
‘বলবো না উচ্চস্বরে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি তাঁর প্রেম উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে চান না। এটি একটি নীরব, গোপন প্রেম। তিনি চান না সংসার, পাড়া-প্রতিবেশী জানুক।
‘সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশী / তোমাকে ভালোবেসেছিলাম’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যদিও তিনি বলবেন না, তবু সংসার জেনে যাবে। পাড়া-প্রতিবেশী জানতে পারবে। ভালোবাসা চেপে রাখা যায় না, তা প্রকাশ পায়ই।
‘বলবো না নিজেকেও আজ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কবি নিজেকেও বলবেন না যে তিনি ভালোবাসেন। তিনি নিজের কাছেও স্বীকার করবেন না? নাকি নিজেকে বোঝাবেন যে ভালোবাসেন না? এটি এক ধরনের আত্মপ্রতারণা।
‘বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি / বাতাসে চাউর করে দেবে!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি — গোপন, নীরব সত্তা। কিন্তু বাতাসে সে চাউর করে দেবে — অর্থাৎ গোপন প্রেম প্রকাশ পেয়ে যাবে। টিকটিকির মতো নীরব প্রাণীও বাতাসে সংবাদ ছড়িয়ে দেবে।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এ জীবন তোমাকেই চায় / এ জীবন তোমাকেই চায়… / ঘাসের ডগায় যেন ফিসফিস ধ্বনি / শিশির জড়ানো সেই জারুল পাতার মতো / তোমাকেও ছুঁয়ে আছে জ্যোৎস্নার কবি / তোমাকেই আজও ভালোবাসি, / এ জীবন, সে জীবন / শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে…” তৃতীয় স্তবকে কবি প্রেমের চিরন্তনতা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন — এ জীবন তোমাকেই চায়, এ জীবন তোমাকেই চায়… ঘাসের ডগায় যেন ফিসফিস ধ্বনি, শিশির জড়ানো সেই জারুল পাতার মতো। তোমাকেও ছুঁয়ে আছে জ্যোৎস্নার কবি। তোমাকেই আজও ভালোবাসি, এ জীবন, সে জীবন, শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে।
‘এ জীবন তোমাকেই চায়’ — পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য
দুবার বলা ‘এ জীবন তোমাকেই চায়’ — প্রেমের তীব্রতা ও একাগ্রতা প্রকাশ করে। এই জীবন শুধু প্রিয়তমাকেই চায়, আর কাউকে নয়।
‘ঘাসের ডগায় যেন ফিসফিস ধ্বনি / শিশির জড়ানো সেই জারুল পাতার মতো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রকৃতির নানা উপাদানের সাথে প্রেমের তুলনা। ঘাসের ডগায় ফিসফিস ধ্বনি, শিশির জড়ানো জারুল পাতা — এগুলো প্রকৃতির সৌন্দর্য। তেমনি প্রিয়তমাও সৌন্দর্যময়, স্পর্শময়।
‘জ্যোৎস্নার কবি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জ্যোৎস্নার কবি — চাঁদের আলোর কবি। সম্ভবত কবি নিজেই? নাকি অন্য কেউ? জ্যোৎস্না প্রেমের প্রতীক। সেই কবি প্রিয়তমাকে ছুঁয়ে আছেন।
‘এ জীবন, সে জীবন / শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তার সাথে যুক্ত। তিনি প্রিয়তমাকে ভালোবাসেন এ জীবনেও, সে জীবনেও, শত জীবনের ওপারেও। অর্থাৎ তাঁর প্রেম জন্মান্তরব্যাপী, চিরন্তন।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“জন্মান্তর” কবিতাটি চিরন্তন প্রেমের এক অসাধারণ চিত্র। কবি প্রথমে বলেছেন — তাঁকে ভালোবাসার কথা বলা কঠিন। তিনি তাঁর হাত ধরে পার হন ঋতু, নদী, শোক, ব্যর্থতা। তিনি তাঁকে আগের মতোই ভালোবাসেন, কিন্তু বলেন না উচ্চস্বরে। সংসার জেনে যাবে, পাড়া-প্রতিবেশী জানবে। তিনি নিজেকেও বলবেন না। কিন্তু বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি বাতাসে চাউর করে দেবে। এই জীবন তাঁকেই চায়। তিনি প্রকৃতির সাথে মিশে আছেন — ঘাসের ফিসফিস ধ্বনি, শিশির জড়ানো জারুল পাতা। জ্যোৎস্নার কবি তাঁকে ছুঁয়ে আছে। তিনি তাঁকে ভালোবাসেন এ জীবনেও, সে জীবনেও, শত জীবনের ওপারেও।
জন্মান্তর কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: জন্মান্তর কবিতার লেখক কে?
জন্মান্তর কবিতার লেখক অবশেষ দাস। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, আত্মসম্মান ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। “জন্মান্তর” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা।
প্রশ্ন ২: জন্মান্তর কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
জন্মান্তর কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো চিরন্তন প্রেম ও জন্ম-জন্মান্তরের টান। কবি তাঁর প্রিয়তমাকে ভালোবাসেন, কিন্তু উচ্চস্বরে বলেন না। তিনি তাঁর হাত ধরে পার হন জীবনের নানা প্রতিকূলতা। তিনি তাঁকে ভালোবাসেন এ জীবনেও, সে জীবনেও, শত জীবনের ওপারেও।
প্রশ্ন ৩: ‘তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘তোমার দুহাত ধরে আজও পার হই – ঋতু,নদী,শোক আর গুচ্ছ ব্যর্থতা’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর প্রিয়তমাকে সঙ্গে নিয়েই জীবনের সব কিছু পার করার কথা বলেছেন। ঋতু পরিবর্তন, নদীর স্রোত, শোক, ব্যর্থতা — সব কিছু তিনি প্রিয়তমার হাত ধরে পেরিয়ে যান।
প্রশ্ন ৪: ‘বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি / বাতাসে চাউর করে দেবে!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি / বাতাসে চাউর করে দেবে!’ — এটি একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। বুকের দেওয়ালে থাকা ঘুমন্ত টিকটিকি — গোপন, নীরব সত্তা। কিন্তু বাতাসে সে চাউর করে দেবে — অর্থাৎ গোপন প্রেম প্রকাশ পেয়ে যাবে। টিকটিকির মতো নীরব প্রাণীও বাতাসে সংবাদ ছড়িয়ে দেবে।
প্রশ্ন ৫: ‘এ জীবন, সে জীবন / শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘এ জীবন, সে জীবন / শত জীবনের ওপারে দাঁড়িয়ে’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তার সাথে যুক্ত। তিনি প্রিয়তমাকে ভালোবাসেন এ জীবনেও, সে জীবনেও, শত জীবনের ওপারেও। অর্থাৎ তাঁর প্রেম জন্মান্তরব্যাপী, চিরন্তন।
প্রশ্ন ৬: অবশেষ দাস সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
অবশেষ দাস আধুনিক বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিরহ, আত্মসম্মান ও মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলেন। “যাব না কখনও” ও “জন্মান্তর” তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
ট্যাগস: জন্মান্তর, অবশেষ দাস, অবশেষ দাসের কবিতা, জন্মান্তর কবিতা, বাংলা প্রেমের কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, চিরন্তন প্রেমের কবিতা





