কবিতার খাতা
খোকনের সানগ্লাস – হুমায়ুন আজাদ।
খোকনের সানগ্লাস – হুমায়ুন আজাদ | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
কবিতা বিশ্লেষণ: খোকনের সানগ্লাস – হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ুন আজাদের “খোকনের সানগ্লাস” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনবদ্য সৃষ্টি যা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। কবিতাটির প্রথম লাইন “সানগ্লাসে বড়ো বেশি মানাতো খোকাকে” পাঠককে সঙ্গে সঙ্গেই কবিতার মূল চরিত্র খোকনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই কবিতায় কবি হুমায়ুন আজাদ একটি সানগ্লাসের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলেছেন, যেখানে খোকন নামের এক তরুণের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও দেশপ্রেমের দ্বন্দ্ব মূর্ত হয়ে উঠেছে।
কবি পরিচিতি: হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪) বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিদ, সমালোচক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মোহাম্মদ হুমায়ুন আজাদ। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও প্রগতিশীল চিন্তার জন্য পরিচিত। “খোকনের সানগ্লাস” সহ তাঁর বহু কবিতা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
কবিতার পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
“খোকনের সানগ্লাস” কবিতাটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। কবিতায় ২৯ মার্চ ১৯৭১ তারিখের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় নির্দেশ করে। কবি এই কবিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেম, ত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্র অঙ্কন করেছেন।
কবিতার রূপক ও প্রতীক বিশ্লেষণ
এই কবিতায় সানগ্লাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রথমে এটি খোকনের ব্যক্তিগত জগৎকে সুন্দর করে দেখার মাধ্যম ছিল – “রাস্তার জঘন্য দৃশ্যাবলি মনে হয় যামিনী রায়ের ছবি”। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় খোকন সানগ্লাসটি রেখে যায়, কারণ সে এখন দেশকে “খালি চোখে সুশ্রী” দেখতে চায়। এই পরিবর্তন ব্যক্তিগত স্বপ্ন থেকে দেশপ্রেমের দিকে যাত্রার প্রতীক।
কবিতার কাঠামো ও শৈলী
হুমায়ুন আজাদ এই কবিতায় গদ্যছন্দ ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর কবিতার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কবিতার ভাষা সহজ-সরল কিন্তু গভীর অর্থবহ। কবি ব্যক্তিগত স্মৃতি ও জাতীয় ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন অপূর্ব শিল্পনৈপুণ্যে। কবিতাটি পড়তে গিয়ে পাঠক খোকার ব্যক্তিগত গল্প থেকে ক্রমশ জাতীয় ইতিহাসের দিকে এগিয়ে যায়।
মুক্তিযুদ্ধের চিত্রায়ন
কবিতার দ্বিতীয়ার্ধে কবি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র অঙ্কন করেছেন: “সারা বাঙলা রক্তে গেছে ভিজে”, “সেখানে ভাসছে শুধু নিরীহ বাঙালির লাশ”। এখানে কবি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু কবিতার শেষাংশে স্বাধীন বাংলাদেশের সুন্দর চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে “সবার চোখে এমনিই নীল”।
কবিতার সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
“খোকনের সানগ্লাস” কবিতাটি কেবল একটি কবিতা নয়, এটি একটি সামাজিক দলিলও বটে। কবি এই কবিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। খোকন চরিত্রটি সমগ্র তরুণ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে। কবিতাটি পাঠককে মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন নয়, এর জন্য তরুণদের জীবনদান করতে হয়েছে।
শিক্ষামূলক মূল্য
এই কবিতাটি বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কবিতাটি শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে, দেশপ্রেমের মর্ম বুঝতে এবং সাহিত্যের মাধ্যমে ইতিহাস চর্চা করতে সহায়তা করে। কবি হুমায়ুন আজাদের লেখনীশৈলী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করে।
কবিতার সম্পূর্ণ পাঠ্য
সানগ্লাসে বড়ো বেশি মানাতো খোকাকে । বেলবটম ট্রাউজার রঙিন হাওয়াই শার্ট গো গো নীল সানগ্লাসে ভীষণ মানাতো খোকাকে । অনার্স ভর্তি হয়েই খোকা বাসা ছেড়ে উঠে গিয়েছিলো সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে, যেখানে যার দেয়ালে দেয়ালে আমার চারটি বছর কাঁথার সুতোর মতো গাঁথা হয়ে আছে । খোকন, আমার খোকন । বিকেলে অনেক দিন, প্রায় প্রতিদিন ঊর্মিকে আদর করার জন্যে, আম্মুর কাছে আব্দার করার জন্যে আমার কোন লেখাটি ওর ভিশশন লেগেছে ভালো বলার জন্যে আসতো বাসায় । খোকন টিপছে কলিংবেল, তাই ওই পুরোনো আধবিকল যান্ত্রিক ঘন্টা গিটারের মতো ওঠে বেজে । খোকন, আমার খোকন । ওর মাকে ঊর্মিকে কাজের ছেলেটাকে পিছে ফেলে আমি নিজেই খুলতাম দরোজা আমার ফ্ল্যাটের দরোজায় খোকনকে মনে হতো তরুণ দেবদূত । খোকন তো বেড়ে উঠতো বিদ্রোহী বৃক্ষের মতোই । ওর বাহু বৃক্ষরাজের বলিষ্ঠ শাখার মতো নভোমুখি, নানা তরুবর মৌলিল, আকাশে লাগতো তার ডাল । কখনো খোকনকে মনে হতো মেঘলোকে যুবরাজ আলবাট্রস, সমুদ্রের গাঢ় নীল আকাশের স্বাদ পান ক’রে অজর, অমর হ’তে পারতো খোকন, আমার খোকন । খোকন মেলতো ডানা স্বপ্নের ভেতরে, ডানার পল্লবে পল্লবে মালার মতোন গেঁথে সমুদ্র অরণ্য রাত্রি আর দিবসগুলোকে । উড়তো সে, উড়তো সে, উড়তো খোকন … খোকনকে মনে হ’লেই ওর সানগ্লাসটিকে মনে পড়ে । বীথি উপহার দিয়েছিলো কোনো উপলক্ষ ছাড়াই, বিথী খোকার সহপাঠিনী, এ-কাহিনী শুনেছি খোকার মায়েরই মুখে । খোকন, আমার ভালোবাসা আর ভালোবাসার প্রথম সন্তান । খোকন বলতো সানগ্লাস বড্ডো উপকারী, চোখে রোদ লাগে পরিমিত, রাস্তার জঘন্য দৃশ্যাবলি মনে হয় যামিনী রায়ের ছবি, দেশটাকে সুশ্রী আর প্রিয় মনে হয় । বুঝতাম তার সমস্ত ব্যাখ্যার পিছে কম্পমান ভীরু ভালোবাসা । গাছ চায় মাটি থেকে রস । কুড়িটি বসন্ত মাত্র খোকনের তখন বয়স । ২৯ মার্চ ১৯৭১, খোকন এলো ঘরে সারা গায়ে বিদ্রোহী বাতাস, দাউদাউ জ্বলছে চোখ খোকনের, অগ্নিকুন্ডে পরিপূর্ণ ঢাকার আকাশ, বললো, ‘তোমাকে দিলাম এই সানগ্লাস, আমি যাচ্ছি রক্ত আর অগ্নিময় সেই দিকে সারা বাঙলা যেই দিকে আজ । সানগ্লাসে আর নয় খালি চোখে সুশ্রী আমি দেখবো বাঙলাকে ।’ খোকন তো চ’লে গেলো, খোকন, আমার খোকন । তারপর দেখেছি আমি নিজে জলে বা শিশিরে নয় সারা বাঙলা রক্তে গেছে ভিজে । যে-নদীতে ভাসতো রাজহাঁস সেখানে ভাসছে শুধু নিরীহ বাঙালির লাশ । সূর্য আর নক্ষত্রের সারাবেলা মানুষের, সেখানে প্রাগৈতিহাসিক জন্তুরা সে-মানুষ নিয়ে করে বর্বরতা খেলা । তারপর এলো নতুন বন্যা…সূর্যসংকাশ ভেসে গেলো জন্তুরা, জন্তুদের সকল আবাস । যার বছরে ছ-বার কাচ বদলাতে হয়, সেই আমি কাচহীন দেখছি বাঙলাকে ছায়া সুনিবিড় । মায়ের খোঁপার মতো একেকটি ঘর । সবুজ গোলাপ হাতে পথেপ্রান্তে হাঁটছে হল্লা করছে লক্ষ মুজিবর । খোকনের সানগ্লাস প’ড়ে আছে শুধু খোকা নেই । খোকন, তুমি কি দেখছো বাঙলাদেশ আজকাল এমনি সুন্দর । তাই এ-নিসর্গলোকে কারো সানগ্লাস পরতে হয় না । এখানে সবার চোখে এমনিই নীল । তোমার সানগ্লাস কেমন নীল হয়ে লেগে আছে সকলের চোখের মণিতে । তোমার সানগ্লাস সকলের চোখের মণিতে…
কবিতার ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
হুমায়ুন আজাদ এই কবিতায় আঞ্চলিক ও প্রমিত বাংলার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। কবিতায় ব্যবহৃত “বেলবটম ট্রাউজার”, “হাওয়াই শার্ট”, “সলিমুল্লাহ মুসলিম হল” ইত্যাদি শব্দগুলো সমসাময়িক বাংলার ভাষাপ্রকৃতি প্রতিফলিত করে। কবির ভাষাশৈলীতে একটি অনন্য গীতিধর্মিতা রয়েছে যা কবিতাটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া
সাহিত্য সমালোচকদের মতে, “খোকনের সানগ্লাস” হুমায়ুন আজাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। এই কবিতায় ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে অসাধারণ দক্ষতায়। কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতাসমূহের মধ্যে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস
এই কবিতা বুঝতে হলে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। কবিতার প্রতিটি স্তবক ধীরে ধীরে পড়ে বুঝতে হবে। সানগ্লাসের প্রতীকী অর্থ, খোকনের চরিত্র এবং কবিতার historical context বুঝতে হবে। কবিতার শেষাংশের optimism আগের অংশের tragic elements-এর সাথে কনট্রাস্ট তৈরি করে।
আরও পড়ুন
হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য কবিতা: “আমি বেঁচে ছিলাম অশুচি দেশে”, “যতোই গড়াই মাথা খুঁড়ি”, “পেরোনোর কিছু নেই”। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য কবিতা: “স্বাধীনতা তুমি” – রফিক আজাদ, “কেয়ারি না” – শামসুর রাহমান, “বাংলাদেশ” – আল মাহমুদ।
কবি হুমায়ুন আজাদের জীবনী
হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ সালে মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর রচনাসম্ভারের মধ্যে কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ রয়েছে। ২০০৪ সালে জার্মানিতে মৃত্যুবরণ করেন।
© কবিতার খাতা ডট কম – কবিতা বিশ্লেষণ ও সাহিত্য চর্চার জন্য প্রিমিয়াম প্লাটফর্ম
সানগ্লাসে বড়ো বেশি মানাতো খোকাকে ।
বেলবটম ট্রাউজার রঙিন হাওয়াই শার্ট গো গো নীল সানগ্লাসে
ভীষণ মানাতো খোকাকে । অনার্স ভর্তি হয়েই খোকা বাসা ছেড়ে উঠে
গিয়েছিলো সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে, যেখানে যার দেয়ালে দেয়ালে
আমার চারটি বছর কাঁথার সুতোর মতো গাঁথা হয়ে আছে ।
খোকন, আমার খোকন । বিকেলে অনেক দিন, প্রায় প্রতিদিন
ঊর্মিকে আদর করার জন্যে, আম্মুর কাছে আব্দার করার জন্যে
আমার কোন লেখাটি ওর ভিশশন লেগেছে ভালো বলার জন্যে আসতো বাসায় ।
খোকন টিপছে কলিংবেল, তাই ওই পুরোনো আধবিকল যান্ত্রিক ঘন্টা
গিটারের মতো ওঠে বেজে । খোকন, আমার খোকন ।
ওর মাকে ঊর্মিকে কাজের ছেলেটাকে পিছে ফেলে আমি নিজেই খুলতাম দরোজা
আমার ফ্ল্যাটের দরোজায় খোকনকে মনে হতো তরুণ দেবদূত ।
খোকন তো বেড়ে উঠতো বিদ্রোহী বৃক্ষের মতোই ।
ওর বাহু বৃক্ষরাজের বলিষ্ঠ শাখার মতো নভোমুখি, নানা তরুবর মৌলিল,
আকাশে লাগতো তার ডাল । কখনো খোকনকে মনে হতো
মেঘলোকে যুবরাজ আলবাট্রস, সমুদ্রের গাঢ় নীল আকাশের স্বাদ পান ক’রে
অজর, অমর হ’তে পারতো খোকন, আমার খোকন ।
খোকন মেলতো ডানা স্বপ্নের ভেতরে, ডানার পল্লবে
পল্লবে মালার মতোন গেঁথে সমুদ্র অরণ্য রাত্রি আর দিবসগুলোকে ।
উড়তো সে, উড়তো সে, উড়তো খোকন …
খোকনকে মনে হ’লেই ওর সানগ্লাসটিকে মনে পড়ে ।
বীথি উপহার দিয়েছিলো কোনো উপলক্ষ ছাড়াই, বিথী খোকার সহপাঠিনী,
এ-কাহিনী শুনেছি খোকার মায়েরই মুখে । খোকন, আমার
ভালোবাসা আর ভালোবাসার প্রথম সন্তান । খোকন বলতো সানগ্লাস
বড্ডো উপকারী, চোখে রোদ লাগে পরিমিত, রাস্তার জঘন্য দৃশ্যাবলি মনে হয়
যামিনী রায়ের ছবি, দেশটাকে সুশ্রী আর প্রিয় মনে হয় ।
বুঝতাম তার সমস্ত ব্যাখ্যার পিছে কম্পমান ভীরু ভালোবাসা ।
গাছ চায় মাটি থেকে রস । কুড়িটি বসন্ত মাত্র খোকনের তখন বয়স ।
২৯ মার্চ ১৯৭১, খোকন এলো ঘরে সারা গায়ে বিদ্রোহী বাতাস,
দাউদাউ জ্বলছে চোখ খোকনের, অগ্নিকুন্ডে পরিপূর্ণ ঢাকার আকাশ,
বললো, ‘তোমাকে দিলাম এই সানগ্লাস, আমি যাচ্ছি রক্ত আর অগ্নিময়
সেই দিকে সারা বাঙলা যেই দিকে আজ । সানগ্লাসে আর নয়
খালি চোখে সুশ্রী আমি দেখবো বাঙলাকে ।’ খোকন তো চ’লে গেলো,
খোকন, আমার খোকন । তারপর দেখেছি আমি নিজে
জলে বা শিশিরে নয় সারা বাঙলা রক্তে গেছে ভিজে । যে-নদীতে ভাসতো রাজহাঁস
সেখানে ভাসছে শুধু নিরীহ বাঙালির লাশ । সূর্য আর নক্ষত্রের সারাবেলা
মানুষের, সেখানে প্রাগৈতিহাসিক জন্তুরা সে-মানুষ নিয়ে
করে বর্বরতা খেলা । তারপর এলো নতুন বন্যা…সূর্যসংকাশ
ভেসে গেলো জন্তুরা, জন্তুদের সকল আবাস ।
যার বছরে ছ-বার কাচ বদলাতে হয়, সেই আমি কাচহীন দেখছি বাঙলাকে
ছায়া সুনিবিড় । মায়ের খোঁপার মতো একেকটি ঘর ।
সবুজ গোলাপ হাতে পথেপ্রান্তে হাঁটছে হল্লা করছে লক্ষ মুজিবর ।
খোকনের সানগ্লাস প’ড়ে আছে শুধু খোকা নেই । খোকন,
তুমি কি দেখছো বাঙলাদেশ আজকাল এমনি সুন্দর । তাই এ-নিসর্গলোকে
কারো সানগ্লাস পরতে হয় না । এখানে সবার চোখে এমনিই নীল ।
তোমার সানগ্লাস কেমন নীল হয়ে লেগে আছে সকলের চোখের মণিতে ।
তোমার সানগ্লাস সকলের চোখের মণিতে…
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। হুমায়ুন আজাদ।






