খড়ের বাছুরের মতো নারীত্ব – অবশেষ দাস।

সে দাঁড়িয়ে আছে ‌লাল পলাশের নিচে।
পুরানো বটের ছায়ায়।
নদীর ঘাটে।

টালিগঞ্জ থেকে এসপ্লানেড
মেট্রোরেলের চলমান কামড়ায় সে বসে আছে।

কৃষ্ণচূড়ার শামিয়ানা ছুঁয়ে গেছে দোতলার ছাদ ,
ঠিক সেখানেই সে শ্যাম্পু দেওয়া খোলা চুলে দাঁড়িয়ে আছে।

গোলাপ ফুলের পাপড়ির ভেজা ঘাসের ওপর আড়মোড়া সে শুয়ে আছে।
আকাশের দখিন দাওয়ায় উড়ে যায় একঝাঁক টিয়া
সে টিয়া রঙের শাড়ি পরে
উড়ে গেছে বহুদূরে,
নীলনদ পেরিয়ে মিশরের ওপারে।
সে দাঁড়িয়ে আছে সর্বত্র, ঝকঝকে পায়রার ডানা হয়ে সে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে।

শুধু মাটির ওপর সে দাঁড়াতে পারেনি।
মনের জানালা খুলে কখনও পড়তে পারেনি
কোজাগর ভাষা, মাটির উঠোন,ভালোবাসা
মানুষের চোখের জল…
বন্ধুর দুর্লভ আঘাত ও রক্তাক্ত হতাশার কাছে এসে
সে কখনও ব্যাকুলতায় বসতে পারেনি।

সে প্রজাপতি রঙের শাড়ি পরে
গান গেয়ে যায়
চাঁপা ফুলের তোড়ার মতো হেসে ওঠে
যখন তখন…

কৃষ্ণ কাজল ধোয়া চোখ তার মাটিতেই নামে না।
আয়নার দিকে তাকিয়ে তার দশক চলে যায়।
সে বর্ণে গন্ধে উত্তাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
জলাশয়ে,রাসমেলার মাঠে

শুধু কবির উজানী বুকের ভেতরে
সে কখনও সে দাঁড়াতে পারেনি।

খড়ের বাছুরের মতো নারীত্ব তার দখলে।
অনন্ত ঋতু ধরে কবি তাকে বুকের থেকে নামিয়ে রেখেছে।

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। অবশেষ দাসের কবিতা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x