কবিতার খাতা
- 22 mins
কী হবে তারপরে – আরণ্যক বসু।
( ও পলাশ, ও শিমুল, কেন এ মন মোর রাঙালে, জানিনা জানিনা
আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে… চিরদিনের বাংলা গান )
দুয়েক মুঠো অভাব থাকুক,
ভাবের ঘরে চুরি,
প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে,
বেলাগাম সুড়সুড়ি !
তারপরে কী হবে ?
শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়,
ফাগুন চিঠির ভাঁজে,
কচি শিমুলের দুষ্টু পাতায়,
কৃষ্ণচূড়ার সাজে!
তারপরে কী হবে ?
বাংলা ভাষার আকাশ জুড়ে ,
কবিতার হাতছানি,
বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি ?
ঈশ, কী কানাকানি!
তারপরে কী হবে ?
আমের মুকুল ডাকলে বলবি
তোর কোকিলা জানে,
ঠোঁট ছোঁয়া সেই ভীষণ গোপন,
নষ্ট চাঁদের মানে।
তারপরে কী হবে ?
ঝগড়া হলে ভাবও হবেই
নেশা ধরানো ভাতে,
শরীর ভরা কুসুম ডাকবে
বিছানার মৌতাতে…
তারপরে কী হবে ?
পলাশ বনে রাধার ফাগুন,
আগুন ধিকি ধিকি,
লজ্জা লজ্জা , পাগল পাগল,
বিবাহবার্ষিকী।
তারপরে কী হলো ?
কী হবে তারপরে ?
চাঁদ নামবে মাঠাবুরুতে
পলাশের উৎসবে!
অভাব থাকুক, তবুও আসুক
হুল ফোটানো সুখ,
রাধার আঁচল লুঠ করে নিক
কৃষ্ণচূড়ার মুখ।
কী হবে তারপরে ?
কী হবে তারপরে ?
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আরণ্যক বসু।
কী হবে তারপরে – আরণ্যক বসু | কী হবে তারপরে কবিতা | আরণ্যক বসুর কবিতা | বাংলা কবিতা
কী হবে তারপরে: আরণ্যক বসুর বসন্ত, প্রেম ও চিরন্তন প্রশ্নের অসাধারণ কাব্যভাষা
আরণ্যক বসুর “কী হবে তারপরে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা বসন্ত, প্রেম, প্রকৃতি ও চিরন্তন প্রশ্নের এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। কবিতার শুরুতে একটি টীকা আছে — “( ও পলাশ, ও শিমুল, / কেন এ মন মোর রাঙালে, / জানিনা জানিনা আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে… / চিরদিনের বাংলা গান )” — যা ইঙ্গিত করে এই কবিতা বাংলার চিরন্তন বসন্তের গানের সুরে লেখা। আরণ্যক বসু বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, বসন্ত ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “কী হবে তারপরে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা বসন্তের আগমনে মনের অবস্থা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
আরণ্যক বসু: প্রকৃতি ও বসন্তের কবি
আরণ্যক বসু বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, বসন্ত, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল অনুভূতি ও প্রকৃতির সাথে মনের সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একুশ ডাকছে মাকে’, ‘একুশের গানের খাতা’, ‘কী হবে তারপরে’ প্রভৃতি। আরণ্যক বসুর কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যায়। তিনি বাংলা কবিতায় এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।
কী হবে তারপরে কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“কী হবে তারপরে” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি প্রশ্ন, একটি অনিশ্চয়তা, একটি কৌতূহল। বসন্ত এসেছে, পলাশ ফুটেছে, প্রেম জেগেছে — কিন্তু তারপরে কী হবে? এই প্রশ্ন কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, প্রেমের পরিণতি ও জীবনের চিরন্তন প্রশ্ন নিয়ে।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“দুয়েক মুঠো অভাব থাকুক, / ভাবের ঘরে চুরি, / প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে, / বেলাগাম সুড়সুড়ি ! / তারপরে কী হবে ?” প্রথম স্তবকে কবি বসন্তের আগমনের চিত্র এঁকেছেন। তিনি বলেছেন — দুয়েক মুঠো অভাব থাকুক, ভাবের ঘরে চুরি। প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে, বেলাগাম সুড়সুড়ি! তারপরে কী হবে?
‘দুয়েক মুঠো অভাব থাকুক’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অভাব থাকুক — অর্থাৎ দারিদ্র্য থাকুক, সমস্যা থাকুক। কবি এগুলোকে অস্বীকার করছেন না। বসন্ত এলে এসবও সহ্য হয়।
‘ভাবের ঘরে চুরি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ভাবের ঘরে চুরি — অর্থাৎ মনের ভিতর নতুন ভাবনা আসছে, নতুন অনুভূতি আসছে, যেন চুরি করে ঢুকছে।
‘প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে, / বেলাগাম সুড়সুড়ি !’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
পলাশের প্রথম কুঁড়ি ফুটছে। সেই কুঁড়ি যেন বেলাগাম (অনিয়ন্ত্রিত) সুড়সুড়ি দিচ্ছে — অর্থাৎ মনে আনন্দের শিহরণ জাগাচ্ছে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়, / ফাগুন চিঠির ভাঁজে, / কচি শিমুলের দুষ্টু পাতায়, / কৃষ্ণচূড়ার সাজে! / তারপরে কী হবে ?” দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রকৃতির শ্যামলিমার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়, ফাগুন চিঠির ভাঁজে, কচি শিমুলের দুষ্টু পাতায়, কৃষ্ণচূড়ার সাজে! তারপরে কী হবে?
‘শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শ্যাম — কৃষ্ণ, প্রেমের দেবতা। তিনি আছেন শ্যামলিমায় — অর্থাৎ প্রকৃতির সবুজে, বসন্তের রঙে। তিনি সব জায়গায় বিরাজমান।
‘ফাগুন চিঠির ভাঁজে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ফাগুন মাসের চিঠি — বসন্তের বার্তা। সেই চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে আছে প্রেমের কথা।
‘কচি শিমুলের দুষ্টু পাতায়, / কৃষ্ণচূড়ার সাজে!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কচি শিমুলের দুষ্টু পাতায়, কৃষ্ণচূড়ার সাজে — প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে বসন্ত বিরাজ করছে।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“বাংলা ভাষার আকাশ জুড়ে , / কবিতার হাতছানি, / বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি ? / ঈশ, কী কানাকানি! / তারপরে কী হবে ?” তৃতীয় স্তবকে কবি বাংলা ভাষা ও কবিতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — বাংলা ভাষার আকাশ জুড়ে, কবিতার হাতছানি। বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি? ঈশ, কী কানাকানি! তারপরে কী হবে?
‘বাংলা ভাষার আকাশ জুড়ে , / কবিতার হাতছানি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বাংলা ভাষার বিশাল আকাশ জুড়ে কবিতার ডাক শোনা যাচ্ছে। বসন্তে কবিতার প্রভাব বাড়ে।
‘বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি ? / ঈশ, কী কানাকানি!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি আছে? কি যে কানাকানি চলছে! প্রেমের গোপন কথাবার্তা।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমের মুকুল ডাকলে বলবি / তোর কোকিলা জানে, / ঠোঁট ছোঁয়া সেই ভীষণ গোপন, / নষ্ট চাঁদের মানে। / তারপরে কী হবে ?” চতুর্থ স্তবকে কবি আমের মুকুল ও কোকিলের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — আমের মুকুল ডাকলে বলবি তোর কোকিলা জানে। ঠোঁট ছোঁয়া সেই ভীষণ গোপন, নষ্ট চাঁদের মানে। তারপরে কী হবে?
‘আমের মুকুল ডাকলে বলবি / তোর কোকিলা জানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আমের মুকুল ফুটলে কোকিল ডাকে। এই ডাক প্রেমের আহ্বান। কোকিল জানে সেই ডাকের ভাষা।
‘ঠোঁট ছোঁয়া সেই ভীষণ গোপন, / নষ্ট চাঁদের মানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ঠোঁট ছোঁয়ার গোপন কথা, নষ্ট চাঁদের মানে — অর্থাৎ প্রেমের গোপনীয়তা, চাঁদের আলোয় প্রেমের মিলন।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ঝগড়া হলে ভাবও হবেই / নেশা ধরানো ভাতে, / শরীর ভরা কুসুম ডাকবে / বিছানার মৌতাতে… / তারپরে কী হবে ?” পঞ্চম স্তবকে কবি প্রেমের দ্বন্দ্বের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — ঝগড়া হলে ভাবও হবেই নেশা ধরানো ভাতে। শরীর ভরা কুসুম ডাকবে বিছানার মৌতাতে… তারপরে কী হবে?
‘ঝগড়া হলে ভাবও হবেই / নেশা ধরানো ভাতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ঝগড়া হলেও আবার ভাব হবে। ‘নেশা ধরানো ভাত’ — সম্ভবত প্রেমের নেশা, যা সব কিছু ভুলিয়ে দেয়।
‘শরীর ভরা কুসুম ডাকবে / বিছানার মৌতাতে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শরীর ভরা কুসুম (ফুল) ডাকবে বিছানার মৌতাতে — অর্থাৎ শারীরিক মিলনের আহ্বান।
ষষ্ঠ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“পলাশ বনে রাধার ফাগুন, / আগুন ধিকি ধিকি, / লজ্জা লজ্জা , পাগল পাগল, / বিবাহবার্ষিকী। / তারপরে কী হলো ? / কী হবে তারপরে ? / চাঁদ নামবে মাঠাবুরুতে / পলাশের উৎসবে!” ষষ্ঠ স্তবকে কবি রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিবাহবার্ষিকীর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — পলাশ বনে রাধার ফাগুন, আগুন ধিকি ধিকি। লজ্জা লজ্জা, পাগল পাগল, বিবাহবার্ষিকী। তারپরে কী হলো? কী হবে তারپরে? চাঁদ নামবে মাঠাবুরুতে পলাশের উৎসবে!
‘পলাশ বনে রাধার ফাগুন, / আগুন ধিকি ধিকি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
পলাশ বনে রাধার বসন্ত, আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে — প্রেমের আগুন।
‘লজ্জা লজ্জা , পাগল পাগল, / বিবাহবার্ষিকী’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বিবাহবার্ষিকীতে লজ্জা আর পাগলামি মেশানো অনুভূতি।
‘চাঁদ নামবে মাঠাবুরুতে / পলাশের উৎসবে!’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মাঠাবুরুতে চাঁদ নামবে — সম্ভবত মাঠের উপর চাঁদ উঠবে। পলাশের উৎসবে সব কিছু মেতে উঠবে।
সপ্তম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“অভাব থাকুক, তবুও আসুক / হুল ফোটানো সুখ, / রাধার আঁচল লুঠ করে নিক / কৃষ্ণচূড়ার মুখ। / কী হবে তারپরে ? / কী হবে তারپরে ?” সপ্তম স্তবকে কবি শেষ বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন — অভাব থাকুক, তবুও আসুক হুল ফোটানো সুখ। রাধার আঁচল লুঠ করে নিক কৃষ্ণচূড়ার মুখ। কী হবে তারপরে? কী হবে তারপরে?
‘অভাব থাকুক, তবুও আসুক / হুল ফোটানো সুখ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অভাব থাকলেও তাতে কিছু যায় আসে না। হুল ফোটানো সুখ — যে সুখে কিছু কষ্টও আছে, তবু তা সুখ।
‘রাধার আঁচল লুঠ করে নিক / কৃষ্ণচূড়ার মুখ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কৃষ্ণচূড়ার মুখ (ফুল) রাধার আঁচল লুঠ করুক — অর্থাৎ প্রকৃতি রাধার (প্রেমের) আঁচল কেড়ে নিক। প্রেম ও প্রকৃতির মিলন।
‘কী হবে তারپরে ?’ — শেষ পঙ্ক্তির পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য
শেষে দুবার ‘কী হবে তারپরে’ প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এটি চিরন্তন প্রশ্ন — বসন্তের পর কী হবে? প্রেমের পর কী হবে? জীবনের পর কী হবে?
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“কী হবে তারپরে” কবিতাটি বসন্ত, প্রেম ও চিরন্তন প্রশ্নের এক অসাধারণ চিত্র। কবি বারবার প্রশ্ন করেছেন — তারপরে কী হবে? বসন্ত এসেছে, পলাশ ফুটেছে, অভাব থাকলেও প্রেম আছে। শ্যাম শ্যামলিমায় আছেন, ফাগুন চিঠির ভাঁজে, শিমুলের পাতায়, কৃষ্ণচূড়ার সাজে। বাংলা ভাষার আকাশ জুড়ে কবিতার হাতছানি, বুকের খাঁজে প্রেমের চিঠি। আমের মুকুল ডাকে, কোকিল জানে তার ভাষা। ঝগড়া হলেও আবার ভাব হবে, শরীর ভরা কুসুম ডাকবে বিছানার মৌতাতে। পলাশ বনে রাধার ফাগুন, আগুন ধিকি ধিকি জ্বলে। বিবাহবার্ষিকীতে লজ্জা আর পাগলামি। তারپরে কী হলো? কী হবে তারپরে? চাঁদ নামবে মাঠাবুরুতে পলাশের উৎসবে। অভাব থাকুক, তবু আসুক হুল ফোটানো সুখ। রাধার আঁচল লুঠ করুক কৃষ্ণচূড়ার মুখ। শেষে আবার প্রশ্ন — কী হবে তারپরে? কী হবে তারپরে?
কী হবে তারপরে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: কী হবে তারপরে কবিতার লেখক কে?
কী হবে তারপরে কবিতার লেখক আরণ্যক বসু। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, বসন্ত, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। ‘একুশ ডাকছে মাকে’, ‘একুশের গানের খাতা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
প্রশ্ন ২: কী হবে তারপরে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
কী হবে তারپরে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো বসন্তের আগমন, প্রেমের উন্মাদনা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। কবি বারবার প্রশ্ন করেছেন — তারپরে কী হবে? বসন্ত এসেছে, পলাশ ফুটেছে, প্রেম জেগেছে — কিন্তু তারপরে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নেই, তা চিরন্তন।
প্রশ্ন ৩: ‘প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে, / বেলাগাম সুড়সুড়ি !’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘প্রথম পলাশ কুঁড়ি দিচ্ছে, / বেলাগাম সুড়সুড়ি !’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি বসন্তের আগমনের আনন্দের কথা বলেছেন। পলাশের প্রথম কুঁড়ি ফুটছে। সেই কুঁড়ি যেন বেলাগাম (অনিয়ন্ত্রিত) সুড়সুড়ি দিচ্ছে — অর্থাৎ মনে আনন্দের শিহরণ জাগাচ্ছে۔
প্রশ্ন ৪: ‘শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়, / ফাগুন চিঠির ভাঁজে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শ্যাম তো আছেই শ্যামলিমায়, / ফাগুন চিঠির ভাঁজে’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রকৃতিতে শ্যামের (কৃষ্ণের) উপস্থিতির কথা বলেছেন। তিনি আছেন শ্যামলিমায় (সবুজে), ফাগুন চিঠির ভাঁজে (বসন্তের বার্তায়)। অর্থাৎ বসন্তে সব জায়গায় প্রেম বিরাজ করে।
প্রশ্ন ৫: ‘কী হবে তারپরে ?’ — বারবার প্রশ্ন করার তাৎপর্য কী?
‘কী হবে তারپরে ?’ বারবার প্রশ্ন করার মাধ্যমে কবি জীবনের অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের কৌতূহলকে ধরে রেখেছেন। এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই — এটি চিরন্তন প্রশ্ন। বসন্তের পর কী হবে? প্রেমের পর কী হবে? জীবনের পর কী হবে?
প্রশ্ন ৬: ‘অভাব থাকুক, তবুও আসুক / হুল ফোটানো সুখ’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘অভাব থাকুক, তবুও আসুক / হুল ফোটানো সুখ’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি সুখের প্রতি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। অভাব থাকলেও তাতে কিছু যায় আসে না। হুল ফোটানো সুখ — যে সুখে কিছু কষ্টও আছে, তবু তা সুখ।
প্রশ্ন ৭: আরণ্যক বসু সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন۔
আরণ্যক বসু বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, বসন্ত, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি সহজ-সরল ভাষায় জটিল অনুভূতি ফুটিয়ে তোলেন। ‘একুশ ডাকছে মাকে’, ‘একুশের গানের খাতা’, ‘কী হবে তারپরে’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা۔
ট্যাগস: কী হবে তারপরে, আরণ্যক বসু, আরণ্যক বসুর কবিতা, কী হবে তারپরে কবিতা, বাংলা কবিতা, বসন্তের কবিতা, পলাশের কবিতা, প্রেমের কবিতা





