একুশের গানের খাতা – আরণ্যক বসু।

কতদিন আগে চলে গেছে আমার মা।
তবু তাঁর গানের খাতায় কখনও-বাংলার মাটি, বাংলার জল,
আবার কখনও-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…
গোটা গোটা অক্ষরে আলো হয়ে ফুটে আছে।
সেই বাংলা ভাষা আজ কাঁটাতারের এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে
খেউড়ের ভাষা হয়ে? আশ্চর্য!

উইলিয়াম কেরী থেকে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির মুখে দুনিয়ার
মধুরতম ভাষা যে ভাবে মিস্টি হাসিতে ঝলমল করে উঠতো, আহা!
নোয়াখালির কোনও লাজুক বালিকা, ঢাকা শহরে এসে
যখন শুদ্ধ উচ্চারণে শামসুর রাহমানের কবিতা আবৃত্তি করে,
তখন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল একই সঙ্গে স্মিত হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।
কাঁটাতারের তীক্ষ্ণতাও ডবল রিডের হারমোনিয়ামে-বাঁশিতে
প্রথম আলো হয়ে গেয়ে ওঠে মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম…
ঠিক সেই মুহূর্তে মৌলবাদ আর সন্ত্রাসবাদ ফনা নামিয়ে গর্তে মুখ লুকোয়।
কতদিন আগে চলে গেছেন মহাসাগরের মতো হেমন্ত,
তবু আজও তো নীল আকাশের নিচে এই পৃথিবী…
আর, আব্বাসউদ্দিনের- আল্লা ম্যাঘ দে, পানি দে, ছায়া দে…
রয়ে গেছে বয়স্ক অর্জুন গাছ আর নবীন পলাশের আলিঙ্গনে।
মৌলবাদীরা জানে না, মায়ের হাতের ডাল ফোড়নের সুগন্ধে
যে বাংলা ভাষা, তাতে নোংরা শব্দের বিষ মেশানো যায় না।
একুশের রক্ত আজ শত সহস্র গুলবাগিচায় কৃষ্ণচূড়ার আবির হয়ে
নীল দিগন্ত রাঙিয়ে দিচ্ছে।

মায়ের গানের খাতা এত কিছু বুঝতে চায় না।
ফাল্গুন এলেই একা একাই গেয়ে ওঠে-
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি…

আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আরণ্যক বসু।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x