কবিতার খাতা
- 30 mins
অন্ধকারের কাছে ঋণী – আফসানা জেসমিন নিশু।
আমাকে হারালে তুমি কিছুই হারাবে না—
শুধু এই পৃথিবী থেকে নিভে যাবে
এক জোড়া চোখ,
যারা তোমার ভেতরের অন্ধকারকেও
নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিল।
শুধু নিস্তব্ধ হয়ে যাবে এক জোড়া ঠোঁট,
যারা অশ্রুগুলো শব্দ হতে দেয়নি কখনও—
ভেতরে ভেঙে-মোচড়ে,
বাইরে অচেনা, অচল মুখ।
শুধু আর উঠবে না এক জোড়া হাত আকাশের দিকে—
কারণ তারা জেনে যাবে,
সব প্রার্থনা পূরণ হওয়ার জন্য নয়,
কিছু প্রার্থনা আসে
মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে।
তুমি হয়তো বুঝবেও না—
দিনগুলো স্বাভাবিকই কেটে যাবে তোমার।
কিন্তু কোনো এক গভীর, নিঃশব্দ রাতে
হঠাৎ টের পাবে—
কেউ একজন ছিল,
যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে
নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই
চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আফসানা জেসমিন নিশু।
অন্ধকারের কাছে ঋণী – আফসানা জেসমিন নিশু | নতুন বাংলা কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | ভালোবাসার কবিতা
অন্ধকারের কাছে ঋণী: আফসানা জেসমিন নিশুর ভালোবাসা, বিসর্জন ও আত্মস্বীকৃতির অনন্য কাব্যভাষা
আফসানা জেসমিন নিশুর “অন্ধকারের কাছে ঋণী” কবিতাটি বাংলা কবিতার একজন নতুন ও সম্ভাবনাময় কবির অসাধারণ সৃষ্টি, যা ভালোবাসা, বিসর্জন, আত্মস্বীকৃতি ও অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যাওয়ার এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে। “আমাকে হারালে তুমি কিছুই হারাবে না” — এই স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক নিঃশব্দ প্রেমের গল্প, যে প্রেম নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছে কিন্তু প্রিয়জন তা টেরও পায়নি। আফসানা জেসমিন নিশু বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন কবি। তার কবিতায় আধুনিক নারীর অনুভূতি, ভালোবাসার গভীরতা, বিসর্জনের বেদনা ও আত্মপরিচয়ের সংকট ফুটে ওঠে। “অন্ধকারের কাছে ঋণী” তার একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। এই কবিতায় তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একজন মানুষ নিজের অস্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের অন্ধকার আলোকিত করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
আফসানা জেসমিন নিশু: নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় কবি
আফসানা জেসমিন নিশু বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন কবি। তিনি এখনও তেমন পরিচিত নাম নন, তবে তার কবিতা ধীরে ধীরে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করছে। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রেম, বিসর্জন, নারীর অনুভূতি, আত্মপরিচয় ও আধুনিক জীবনের জটিলতা। তিনি সহজ-সরল ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশে সিদ্ধহস্ত। “অন্ধকারের কাছে ঋণী” তার একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা যা একজন নারীর আত্মবিসর্জন ও তার পরিণতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে। আফসানা জেসমিন নিশুর কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে। তিনি বাংলা কবিতায় এক নতুন কণ্ঠস্বর হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠবেন — এই কবিতাই তার প্রমাণ।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার মূল সুর ও বিষয়বস্তু
“অন্ধকারের কাছে ঋণী” কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো নিঃশব্দ প্রেম, আত্মবিসর্জন এবং তার পরিণতি। কবিতাটি শুরু হয় এক তীক্ষ্ণ স্বীকারোক্তি দিয়ে — “আমাকে হারালে তুমি কিছুই হারাবে না” — অর্থাৎ কবি জানেন, তার অস্তিত্ব প্রিয়জনের কাছে মূল্যহীন। কিন্তু তারপর তিনি বলেন, শুধু এই পৃথিবী থেকে নিভে যাবে এক জোড়া চোখ, যারা প্রিয়জনের ভেতরের অন্ধকারকেও নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিল। অর্থাৎ প্রিয়জন যত অন্ধকারই হোক না কেন, সেই চোখ তাকে আলো ভেবেছিল। তারপর নিস্তব্ধ হয়ে যাবে এক জোড়া ঠোঁট, যারা অশ্রুগুলো শব্দ হতে দেয়নি কখনও — ভেতরে ভেঙে-মোচড়ে, বাইরে অচেনা, অচল মুখ। অর্থাৎ কবি সব কষ্ট ভেতরে চেপে রেখেছেন, বাইরে কিছু প্রকাশ করেননি। তারপর আর উঠবে না এক জোড়া হাত আকাশের দিকে — কারণ তারা জেনে যাবে, সব প্রার্থনা পূরণ হওয়ার জন্য নয়, কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে। অর্থাৎ প্রার্থনাও যে ভাঙতে পারে, এই শিক্ষা জীবন থেকে পেয়েছেন তিনি। শেষে তিনি বলেন — তুমি হয়তো বুঝবেও না, দিনগুলো স্বাভাবিকই কেটে যাবে তোমার। কিন্তু কোনো এক গভীর, নিঃশব্দ রাতে হঠাৎ টের পাবে — কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার শৈলীগত ও কাব্যিক বিশ্লেষণ
“অন্ধকারের কাছে ঋণী” কবিতাটির ভাষা সহজ-সরল অথচ গভীর তাৎপর্যময়। আফসানা জেসমিন নিশু চমৎকার চিত্রকল্প ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন। কবিতায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকল্প ও প্রতীকগুলো: ‘হারালে কিছুই হারাবে না’ — নিজের অস্তিত্বের অস্বীকৃতি, আত্মস্বীকৃতির শুরু; ‘নিভে যাওয়া চোখ’ — জীবনের শেষ, ভালোবাসার অবসান; ‘ভেতরের অন্ধকার’ — প্রিয়জনের নেতিবাচক দিক, অজানা রহস্য; ‘নিজের ভোর ভেবে আগলে রাখা’ — অন্ধারকেও আলো ভেবে ভালোবাসা; ‘নিস্তব্ধ ঠোঁট’ — কথা না বলা, বেদনা লুকানো; ‘অশ্রুগুলো শব্দ হতে দেওয়া হয়নি’ — কান্না চেপে রাখা, দুর্বলতা লুকানো; ‘ভেতরে ভেঙে-মোচড়ে’ — অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক যন্ত্রণা; ‘বাইরে অচেনা, অচল মুখ’ — বাইরের শান্ত ভাব, ভেতরের ঝড় লুকানো; ‘হাত আকাশের দিকে না ওঠা’ — প্রার্থনা ছেড়ে দেওয়া, নিরাশ হওয়া; ‘প্রার্থনা পূরণ হওয়ার জন্য নয়’ — প্রার্থনার নতুন অর্থ, ভাঙার জন্য প্রার্থনা; ‘নিঃশব্দে ভেঙে দেওয়া’ — ধীরে ধীরে ধ্বংস হওয়া; ‘স্বাভাবিক দিন কেটে যাওয়া’ — প্রিয়জনের উদাসীনতা; ‘গভীর নিঃশব্দ রাত’ — আত্মউপলব্ধির সময়; ‘টের পাওয়া’ — দেরিতে হলেও বুঝতে পারা; ‘অন্ধকারের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া’ — আত্মবিসর্জনের চূড়ান্ত পরিণতি।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতায় ‘অন্ধকার’ ও ‘আলো’র প্রতীকী তাৎপর্য
কবিতার শিরোনাম ‘অন্ধকারের কাছে ঋণী’ — এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্ধকার এখানে নেতিবাচক কিছু নয়, বরং এমন এক জায়গা যেখানে কবি শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন। কবিতায় অন্ধকার ও আলোর এক অসাধারণ দ্বন্দ্ব আছে। প্রিয়জনের ভেতরের অন্ধকারকে কবি নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিলেন — অর্থাৎ তিনি অন্ধকারকেও আলো ভেবেছিলেন, ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই অন্ধকারের ভেতরে হারিয়ে গেছেন। তিনি অন্ধকারের কাছে ঋণী — কারণ অন্ধারই তাকে আশ্রয় দিয়েছে, অন্ধকারই তাকে বুকে নিয়েছে যখন প্রিয়জন তাকে চিনতেও পারেনি। এই ‘অন্ধকার’ শুধু নেতিবাচক নয়, এটি এক ধরনের আশ্রয়ও বটে।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতায় ‘চোখ’, ‘ঠোঁট’ ও ‘হাত’ এর তাৎপর্য
কবিতায় তিনটি শারীরিক অঙ্গের বিশেষ উল্লেখ আছে — চোখ, ঠোঁট ও হাত। ‘এক জোড়া চোখ’ যারা প্রিয়জনের অন্ধকারকে নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিল — এই চোখ ভালোবাসার চোখ, যা অন্ধার মধ্যেও আলো দেখে। ‘এক জোড়া ঠোঁট’ যারা অশ্রুগুলো শব্দ হতে দেয়নি — এই ঠোঁট সংযমের ঠোঁট, যা বেদনা চেপে রাখে, কথা বলে না। ‘এক জোড়া হাত’ যারা আর আকাশের দিকে ওঠে না — এই হাত প্রার্থনার হাত, যা নিরাশ হয়ে গেছে। এই তিনটি অঙ্গের মাধ্যমে কবি মানবদেহের সেই অংশগুলোর কথা বলেছেন যা ভালোবাসার সাথে যুক্ত — দেখা, বলা, প্রার্থনা করা। কিন্তু প্রিয়জনকে ভালোবেসে তিনি এই তিনটি অঙ্গকেই নিঃশেষ করে দিয়েছেন — চোখ নিভে গেছে, ঠোঁট নিস্তব্ধ হয়েছে, হাত আর ওঠে না।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতায় প্রার্থনার নতুন অর্থ
“সব প্রার্থনা পূরণ হওয়ার জন্য নয়, কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে” — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে গভীর ও দার্শনিক অংশ। আমরা সাধারণত প্রার্থনা করি কিছু পাওয়ার জন্য, কোনো আশা পূরণের জন্য। কিন্তু কবি এখানে প্রার্থনার একটি নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন — কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে ভাঙতে। অর্থাৎ আমরা যখন কোনো কিছু পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি, তখন যদি তা না পাই, সেই ব্যর্থতা আমাদের ভেঙে দেয়। সেই ভাঙা থেকেই আমরা নতুন করে শিখি, নতুন করে বুঝি। প্রার্থনা পূরণ না হওয়াও এক ধরনের শিক্ষা। এই দার্শনিকতা কবিতাকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতায় শেষ অংশের তাৎপর্য
“তুমি হয়তো বুঝবেও না — দিনগুলো স্বাভাবিকই কেটে যাবে তোমার। কিন্তু কোনো এক গভীর, নিঃশব্দ রাতে হঠাৎ টের পাবে — কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল।” এই শেষ অংশটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। প্রিয়জন বুঝতেও পারেনি যে কেউ তাকে এত গভীরভাবে ভালোবেসেছিল। তার দিনগুলো স্বাভাবিক কেটে গেছে। কিন্তু কোনো এক রাতে, গভীর নিঃশব্দ রাতে, হঠাৎ তার মনে পড়বে — কেউ একজন ছিল। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। যে ছিল সে আর নেই, সে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। এই শেষ লাইনে কবি ভালোবাসার চিরন্তন বেদনা ধারণ করেছেন — অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না কে আমাদের কতটা ভালোবেসেছিল, যখন বুঝি তখন তারা আর থাকে না।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতায় নারীর আত্মবিসর্জনের চিত্র
কবিতাটি একজন নারীর আত্মবিসর্জনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র। কবি (বা কবিতার বক্তা) নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রিয়জনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি প্রিয়জনের অন্ধকারকেও আলো ভেবে আগলে রেখেছেন, তার কষ্টগুলো কাউকে জানতে দেননি, অশ্রুগুলো শব্দ হতে দেননি, ভেতরে ভেঙে-মোচড়েও বাইরে অচেনা-অচল থেকেছেন। তিনি প্রার্থনা করেছেন, কিন্তু সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি, বরং তাকে ভেঙে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অন্ধকারের ভেতরে হারিয়ে দিয়েছেন — প্রিয়জনকে ভালোবাসতে গিয়েই। এই নিঃশব্দ আত্মবিসর্জন আধুনিক নারীর এক বিশেষ চিত্র — যে ভালোবাসে নীরবে, যে কষ্ট পায় নীরবে, যে হারিয়ে যায় নীরবে।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার লেখক কে?
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার লেখক আফসানা জেসমিন নিশু। তিনি বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন কবি। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রেম, বিসর্জন, নারীর অনুভূতি, আত্মপরিচয় ও আধুনিক জীবনের জটিলতা। তিনি সহজ-সরল ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশে সিদ্ধহস্ত। “অন্ধকারের কাছে ঋণী” তার একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা যা একজন নারীর আত্মবিসর্জন ও তার পরিণতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে। আফসানা জেসমিন নিশু বাংলা কবিতায় এক নতুন কণ্ঠস্বর হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠবেন।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো নিঃশব্দ প্রেম, আত্মবিসর্জন এবং তার পরিণতি। কবি বলেছেন — প্রিয়জনকে ভালোবেসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছেন, কিন্তু প্রিয়জন তা টেরও পাননি। তিনি প্রিয়জনের অন্ধকারকে আলো ভেবে আগলে রেখেছেন, তার কষ্টগুলো কাউকে জানতে দেননি, প্রার্থনা করেছেন কিন্তু তা পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অন্ধকারের ভেতরে হারিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কোনো এক গভীর রাতে প্রিয়জন হয়তো টের পাবেন — কেউ একজন ছিল, যে তাকে ভালোবেসে নিজেকে হারিয়ে দিয়েছিল।
“আমাকে হারালে তুমি কিছুই হারাবে না” — বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
“আমাকে হারালে তুমি কিছুই হারাবে না” — এই পঙ্ক্তিতে কবি নিজের অস্তিত্বের অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে প্রিয়জনের কাছে তার কোনো মূল্য নেই। তিনি চলে গেলে প্রিয়জনের কিছুই হারবে না। এটি এক ধরনের আত্মস্বীকৃতি — নিজের অপ্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেওয়া। কিন্তু এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর বেদনা — যে মানুষটির জন্য তিনি সব কিছু উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষটির কাছে তিনি মূল্যহীন। এই লাইনটি কবিতার শুরুতে এসে পুরো কবিতার সুর নির্ধারণ করেছে।
“যারা তোমার ভেতরের অন্ধকারকেও নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিল” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“যারা তোমার ভেতরের অন্ধকারকেও নিজের ভোর ভেবে আগলে রেখেছিল” — এই পঙ্ক্তিতে কবি সেই চোখের কথা বলেছেন (সম্ভবত তার নিজের) যারা প্রিয়জনের সমস্ত খারাপ দিক, তার অন্ধকার দিকগুলোও ভালোবেসে আগলে রেখেছিল। সাধারণত আমরা মানুষের ভালো দিকগুলো দেখি, কিন্তু এই চোখ প্রিয়জনের খারাপ দিকগুলোকেও ভালো ভেবে মেনে নিয়েছিল। ‘নিজের ভোর ভেবে আগলে রাখা’ অর্থাৎ অন্ধকারকেও নিজের ভোর, নিজের আলো ভেবে আগলে রাখা — এটি নিঃশর্ত ভালোবাসার এক অসাধারণ চিত্র।
“কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে” — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রার্থনার একটি নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। আমরা সাধারণত প্রার্থনা করি কিছু পাওয়ার জন্য, কোনো আশা পূরণের জন্য। কিন্তু কবি এখানে বলেছেন, কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে ভাঙতে। অর্থাৎ আমরা যখন কোনো কিছু পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি, তখন যদি তা না পাই, সেই ব্যর্থতা আমাদের ভেঙে দেয়। সেই ভাঙা থেকেই আমরা নতুন করে শিখি, নতুন করে বুঝি। প্রার্থনা পূরণ না হওয়াও এক ধরনের শিক্ষা। এই দার্শনিকতা কবিতাকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
“কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল” — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অংশ। প্রিয়জন বুঝতেও পারেনি যে কেউ তাকে এত গভীরভাবে ভালোবেসেছিল। কিন্তু সেই ভালোবাসা এত গভীর ছিল যে ভালোবাসতে ভালোবাসতে সে নিজেকে অন্ধকারে হারিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ প্রিয়জনকে আলো দেওয়ার জন্য সে নিজে অন্ধকারে ডুবে গেছে। ‘চুপচাপ হারিয়ে দেওয়া’ — এটি নিঃশব্দ আত্মবিসর্জনের এক অসাধারণ চিত্র। ভালোবাসার এত বড় উদাহরণ হয়তো বিরল।
আফসানা জেসমিন নিশু সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
আফসানা জেসমিন নিশু বাংলা কবিতার নতুন প্রজন্মের একজন কবি। তিনি এখনও তেমন পরিচিত নাম নন, তবে তার কবিতা ধীরে ধীরে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করছে। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রেম, বিসর্জন, নারীর অনুভূতি, আত্মপরিচয় ও আধুনিক জীবনের জটিলতা। তিনি সহজ-সরল ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশে সিদ্ধহস্ত। “অন্ধকারের কাছে ঋণী” তার একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা যা একজন নারীর আত্মবিসর্জন ও তার পরিণতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র এঁকেছে। আফসানা জেসমিন নিশুর কবিতা পাঠককে ভাবায়, আন্দোলিত করে এবং নিজের ভেতরে তাকাতে বাধ্য করে।
অন্ধকারের কাছে ঋণী কবিতাটি আধুনিক পাঠকের জন্য কীভাবে প্রাসঙ্গিক?
“অন্ধকারের কাছে ঋণী” কবিতাটি আজকের আধুনিক পাঠকের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: প্রথমত, এটি নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা বলে যা আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে বিরল। দ্বিতীয়ত, এটি নারীর আত্মবিসর্জনের চিত্র তুলে ধরে যা এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। তৃতীয়ত, এটি প্রার্থনার নতুন অর্থ দেয় যা আধুনিক মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনাকে জাগ্রত করে। চতুর্থত, এটি সম্পর্কের গভীরতা ও মূল্যবোধ নিয়ে ভাবায়। পঞ্চমত, এটি আত্মস্বীকৃতি ও আত্মপরিচয়ের সংকট নিয়ে কাজ করে। ষষ্ঠত, এটি একজন নতুন কবি হিসেবে আফসানা জেসমিন নিশুর কণ্ঠস্বরকে পরিচিত করায়। সপ্তমত, এটি বাংলা কবিতার নতুন ধারা ও নতুন চিন্তার সাথে পরিচিত করায়।
এই কবিতার অন্যতম সেরা লাইন কোনটি এবং কেন?
এই কবিতার অন্যতম সেরা লাইন: “কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসতে বাসতে নিজেকে অন্ধকারের ভেতরেই চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল” অথবা “কিছু প্রার্থনা আসে মানুষকে নিঃশব্দে ভেঙে দিতে” — এই দুই লাইনের মধ্যে যেকোনো একটি সেরা বলা যায়। প্রথম লাইনটি সেরা হওয়ার কারণ: এটি সম্পূর্ণ কবিতার কেন্দ্রীয় বক্তব্য ও চেতনাকে ধারণ করে — ভালোবাসার জন্য আত্মবিসর্জনের এক অসাধারণ চিত্র। দ্বিতীয় লাইনটি সেরা হওয়ার কারণ: এটি প্রার্থনার একটি নতুন দর্শন দেয়, যা পাঠকের চিন্তাজগতে বিপ্লব ঘটায়। তবে প্রথম লাইনটির আবেদন বেশি গভীর — “চুপচাপ হারিয়ে দিয়েছিল” — এই শব্দগুচ্ছ পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ট্যাগস: অন্ধকারের কাছে ঋণী, আফসানা জেসমিন নিশু, নতুন বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, নারীর কবিতা, ভালোবাসার কবিতা, বিসর্জনের কবিতা, অন্ধকারের কবিতা, নতুন কবি, উদীয়মান কবি, প্রার্থনার কবিতা






