কবিতার খাতা
- 22 mins
তার চেয়ে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই।
তার চেয়ে বরং
আজন্ম যেমন জ্বলছ ধিকিধিকি, একা,
দিনরাত্রি,
তেমনি করে জ্বলতে থাকো,
জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো,
দিনরাত্রি,
অর্থাৎ মুখের
কশ বেয়ে যতদিন রক্ত না গড়ায়।
একদিন মুখের কশ বেয়ে
রক্ত ঠিক গড়িয়ে পড়বে।
ততদিন তুমি কী করবে?
পালিয়ে-পালিয়ে ফিরবে নাকি?
পালিয়ে-পালিয়ে কোনো লাভ নেই।
তার চেয়ে বরং
আজন্ম যেমন আছ,একা,
পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে
দিনরাত্রি
তেমনি করে জ্বলতে থাকো,
জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো,
দিনরাত্রি,
অর্থাৎ নিয়তি
যতদিন ঘোমটা না সরায়।
নিয়তির ঘোমটা একদিন
হঠাৎ সরবে।
সরে গেলে তুমি কী করবে?
মুখে রক্ত,চোখে অন্ধকার
নিয়ে তাকে বলবে নাকি “আর যেন না জ্বলি”?
না না, তা বেলো না।
তার চেয়ে বরং
বলো,”আমি দ্বিতীয় কাউকে
না জ্বালিয়ে একা-একা জ্বলতে যে পেরেছি,
সে-ই ভাল;
আগুনে হাত রেখে তবু বলতে যে চেয়েছি,
‘সবকিছু সুন্দর’-
সে-ই ভাল।”
বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
তার চেয়ে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী | তার চেয়ে কবিতা | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা | বাংলা কবিতা
তার চেয়ে: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর আগুন, নিয়তি ও আত্মস্বীকৃতির অসাধারণ কাব্যভাষা
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর “তার চেয়ে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা আগুন, নিয়তি, আত্মস্বীকৃতি ও জীবনের গভীর দার্শনিক চিন্তার এক অসাধারণ কাব্যিক অন্বেষণ। “সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। / তার চেয়ে বরং / আজন্ম যেমন জ্বলছ ধিকিধিকি, একা” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর জীবনদর্শন, যেখানে অন্যদের জ্বালানোর চেয়ে নিজে জ্বলতে থাকাই শ্রেয়। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪-২০১৮) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তাঁর কবিতায় জীবনদর্শন, প্রকৃতি, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “তার চেয়ে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আত্মত্যাগ, আত্মস্বীকৃতি ও জীবনের চিরন্তন সত্যের এক অসাধারণ উচ্চারণ।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: জীবনদর্শনের কবি
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪-২০১৮) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তিনি ১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ফরিদপুরে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ (১৯৫৪) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উলঙ্গ রাজা’, ‘নীল নির্জন’, ‘আমার প্রতিদিনের শব্দ’, ‘কালো হরিণের পালক’, ‘এই নদীর নাম স্মৃতি’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় জীবনদর্শন, প্রকৃতি, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “তার চেয়ে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা আত্মত্যাগ, আত্মস্বীকৃতি ও জীবনের চিরন্তন সত্যের এক অসাধারণ উচ্চারণ।
তার চেয়ে কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“তার চেয়ে” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘তার চেয়ে’ — এর চেয়ে বরং, তার চেয়ে ভালো। শিরোনামেই কবি একটি তুলনা ও পছন্দের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি কীসের চেয়ে কী ভালো বলতে চান? তা বুঝতে হলে কবিতাটি পড়তে হবে। শিরোনাম পাঠকের মনে কৌতূহল তৈরি করে।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। / তার চেয়ে বরং / আজন্ম যেমন জ্বলছ ধিকিধিকি, একা, / দিনরাত্রি, / তেমনি করে জ্বলতে থাকো, / জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো, / দিনরাত্রি, / অর্থাৎ মুখের / কশ বেয়ে যতদিন রক্ত না গড়ায়।” প্রথম স্তবকে কবি একটি গভীর জীবনদর্শন উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন — সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। অর্থাৎ অন্যদের কষ্ট দিয়ে, অন্যদের জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং আজন্ম যেমন ধিকিধিকি করে জ্বলছ একা, তেমনি করে জ্বলতে থাকো। জ্বলতে জ্বলতে ক্ষয় যেতে থাকো। অর্থাৎ মুখের কোণ দিয়ে যতদিন রক্ত না গড়ায়, ততদিন জ্বলতে থাকো।
‘সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
সকলকে জ্বালানো — অন্যদের কষ্ট দেওয়া, অন্যদের জ্বালানো। কবি বলেছেন — এতে কোনো লাভ নেই। কারণ জ্বালিয়ে অন্যের কিছু হয় না, নিজেরও কিছু হয় না। এটি এক ধরণের অহংকার, এক ধরণের প্রতিহিংসা, যা অর্থহীন।
‘আজন্ম যেমন জ্বলছ ধিকিধিকি, একা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আজন্ম’ — জন্ম থেকে, সারাজীবন। ‘ধিকিধিকি’ — মৃদুভাবে জ্বলা, ক্রমাগত জ্বলা। কবি বলেছেন — তিনি জন্ম থেকেই একা, মৃদুভাবে জ্বলছেন। এটি আত্মস্বীকারোক্তি — তিনি সবসময় একা ছিলেন, সবসময় জ্বলেছেন।
‘জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জ্বলতে জ্বলতে ক্ষয় যাওয়া — নিজেকে নিঃশেষ করা, নিজের শক্তি খরচ করা। কবি বলেছেন — তেমনি করে জ্বলতে থাকো, ক্ষয় যেতে থাকো। অর্থাৎ নিজেকে উৎসর্গ করো, নিজেকে বিলিয়ে দাও।
‘মুখের কশ বেয়ে যতদিন রক্ত না গড়ায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘মুখের কশ’ — মুখের কোণ। রক্ত গড়ানো — মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ। অর্থাৎ মৃত্যু না আসা পর্যন্ত জ্বলতে থাকো। এটি আত্মত্যাগের চরম রূপ।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“একদিন মুখের কশ বেয়ে / রক্ত ঠিক গড়িয়ে পড়বে। / ততদিন তুমি কী করবে? / পালিয়ে-পালিয়ে ফিরবে নাকি?” দ্বিতীয় স্তবকে কবি ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। তিনি বলেন — একদিন মুখের কোণ দিয়ে রক্ত ঠিক গড়িয়ে পড়বে, অর্থাৎ মৃত্যু আসবে। ততদিন তুমি কী করবে? পালিয়ে পালিয়ে ফিরবে নাকি?
‘একদিন মুখের কশ বেয়ে রক্ত ঠিক গড়িয়ে পড়বে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি মৃত্যুর পূর্বাভাস। একদিন মৃত্যু আসবেই — এই চিরন্তন সত্য। কেউ তা এড়াতে পারে না।
‘পালিয়ে-পালিয়ে ফিরবে নাকি?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তুমি কী করবে? পালিয়ে পালিয়ে বেড়াবে? অর্থাৎ দায়িত্ব এড়িয়ে, আত্মত্যাগ এড়িয়ে, শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে? এটি একটি প্রশ্ন, একটি চ্যালেঞ্জ।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“পালিয়ে-পালিয়ে কোনো লাভ নেই। / তার চেয়ে বরং / আজন্ম যেমন আছ,একা, / পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে / দিনরাত্রি / তেমনি করে জ্বলতে থাকো, / জ্বলতে-জ্বলতে ক্ষয়ে যেতে থাকো, / দিনরাত্রি, / অর্থাৎ নিয়তি / যতদিন ঘোমটা না সরায়।” তৃতীয় স্তবকে কবি আবারও সেই একই উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন — পালিয়ে পালিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং আজন্ম যেমন একা আছ, পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে, তেমনি করে জ্বলতে থাকো, ক্ষয় যেতে থাকো। অর্থাৎ নিয়তি যতদিন ঘোমটা না সরায়, ততদিন জ্বলতে থাকো।
‘পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা — জীবনের কেন্দ্রে থাকা, জীবনের সমস্ত কিছু প্রত্যক্ষ করা। এটি সক্রিয় জীবনের প্রতীক।
‘নিয়তি যতদিন ঘোমটা না সরায়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নিয়তি — ভাগ্য, পরিণতি। ঘোমটা সরানো — গোপনীয়তা উন্মোচন করা। নিয়তি যতদিন তার গোপনীয়তা না সরায়, অর্থাৎ মৃত্যু না আসে, ততদিন জ্বলতে থাকো।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“নিয়তির ঘোমটা একদিন / হঠাৎ সরবে। / সরে গেলে তুমি কী করবে? / মুখে রক্ত,চোখে অন্ধকার / নিয়ে তাকে বলবে নাকি “আর যেন না জ্বলি”?” চতুর্থ স্তবকে কবি নিয়তির ঘোমটা সরে যাওয়ার পরের কথা বলেছেন। তিনি বলেন — নিয়তির ঘোমটা একদিন হঠাৎ সরবে। সরে গেলে তুমি কী করবে? মুখে রক্ত, চোখে অন্ধকার নিয়ে তাকে বলবে নাকি “আর যেন না জ্বলি”? অর্থাৎ মৃত্যুর পর কি আক্ষেপ করবে?
‘মুখে রক্ত,চোখে অন্ধকার’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মুখে রক্ত — মৃত্যুর চিহ্ন। চোখে অন্ধকার — চির অন্ধকার। এটি মৃত্যুর পরের অবস্থা।
‘আর যেন না জ্বলি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আর যেন না জ্বলি’ — আমি আর যেন জ্বলতে না হয়। এটি আক্ষেপ, অনুশোচনার উক্তি। মৃত্যুর পর কি তিনি আক্ষেপ করবেন? কি তিনি বলবেন — আমি যদি আর না জ্বলতাম?
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“না না, তা বেলো না। / তার চেয়ে বরং / বলো,”আমি দ্বিতীয় কাউকে / না জ্বালিয়ে একা-একা জ্বলতে যে পেরেছি, / সে-ই ভাল; / আগুনে হাত রেখে তবু বলতে যে চেয়েছি, / ‘সবকিছু সুন্দর’- / সে-ই ভাল।” / বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না।” পঞ্চম স্তবকে কবি চূড়ান্ত উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন — না না, তা বলো না। তার চেয়ে বরং বলো — আমি দ্বিতীয় কাউকে না জ্বালিয়ে একা একা জ্বলতে পেরেছি, সেটাই ভাল। আগুনে হাত রেখে তবু বলতে চেয়েছি ‘সবকিছু সুন্দর’ — সেটাই ভাল। বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না।
‘আমি দ্বিতীয় কাউকে না জ্বালিয়ে একা-একা জ্বলতে যে পেরেছি’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটি আত্মস্বীকৃতি ও গর্বের উক্তি। কবি বলেছেন — আমি অন্যদের জ্বালাইনি, আমি একা জ্বলতে পেরেছি। এটি আত্মত্যাগের চরম রূপ — অন্যদের কষ্ট না দিয়ে নিজে কষ্ট স্বীকার করা।
‘আগুনে হাত রেখে তবু বলতে যে চেয়েছি, ‘সবকিছু সুন্দর” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আগুনে হাত রেখে — চরম কষ্টের মাঝেও। ‘সবকিছু সুন্দর’ বলা — জীবনের প্রতি আস্থা, আশাবাদ। এটি এক অসাধারণ দর্শন — কষ্টের মাঝেও সুন্দর দেখতে পাওয়া, জীবনের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
‘বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
এটাই শেষ কথা। এর বেশি বলার কিছু নেই। এটি চূড়ান্ত সত্যের প্রকাশ।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“তার চেয়ে” কবিতাটি আত্মত্যাগ, আত্মস্বীকৃতি ও জীবনের চিরন্তন সত্যের এক অসাধারণ দার্শনিক অন্বেষণ। কবি বলেছেন — সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং আজন্ম যেমন জ্বলছ একা, তেমনি জ্বলতে থাকো। একদিন মৃত্যু আসবে। তখন পালিয়ে পালিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং পৃথিবীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে জ্বলতে থাকো। নিয়তির ঘোমটা একদিন সরবে। তখন আর যেন না জ্বলি — এমন আক্ষেপ করো না। বরং বলো — আমি দ্বিতীয় কাউকে না জ্বালিয়ে একা জ্বলতে পেরেছি, সেটাই ভাল। আগুনে হাত রেখে তবু সবকিছু সুন্দর বলতে চেয়েছি, সেটাই ভাল। এটাই শেষ কথা।
তার চেয়ে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: তার চেয়ে কবিতার লেখক কে?
তার চেয়ে কবিতার লেখক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪-২০১৮)। তিনি বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ (১৯৫৪) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উলঙ্গ রাজা’, ‘নীল নির্জন’, ‘আমার প্রতিদিনের শব্দ’, ‘কালো হরিণের পালক’, ‘এই নদীর নাম স্মৃতি’ প্রভৃতি।
প্রশ্ন ২: তার চেয়ে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
তার চেয়ে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো আত্মত্যাগ, আত্মস্বীকৃতি ও জীবনের চিরন্তন সত্য। কবি বলেছেন — সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে বরং নিজে জ্বলতে থাকো। একদিন মৃত্যু আসবে। তখন আক্ষেপ না করে বরং বলো — আমি অন্যদের না জ্বালিয়ে একা জ্বলতে পেরেছি, আগুনে হাত রেখে তবু সবকিছু সুন্দর বলতে চেয়েছি — সেটাই ভাল।
প্রশ্ন ৩: ‘সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সকলকে জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই’ — অন্যদের কষ্ট দিয়ে, অন্যদের জ্বালিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ জ্বালিয়ে অন্যের কিছু হয় না, নিজেরও কিছু হয় না। এটি এক ধরণের অহংকার, এক ধরণের প্রতিহিংসা, যা অর্থহীন।
প্রশ্ন ৪: ‘আগুনে হাত রেখে তবু বলতে যে চেয়েছি, ‘সবকিছু সুন্দর” — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আগুনে হাত রেখে তবু বলতে যে চেয়েছি, ‘সবকিছু সুন্দর” — আগুনে হাত রেখে মানে চরম কষ্টের মাঝেও। ‘সবকিছু সুন্দর’ বলা — জীবনের প্রতি আস্থা, আশাবাদ। এটি এক অসাধারণ দর্শন — কষ্টের মাঝেও সুন্দর দেখতে পাওয়া, জীবনের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
প্রশ্ন ৫: ‘বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘বলো যে, এ ছাড়া কিছু বলবার ছিল না’ — এটাই শেষ কথা। এর বেশি বলার কিছু নেই। এটি চূড়ান্ত সত্যের প্রকাশ। কবি বলতে চান — জীবনের এই দর্শনের বেশি কিছু নেই।
প্রশ্ন ৬: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪-২০১৮) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তিনি ১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ফরিদপুরে (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ (১৯৫৪) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় জীবনদর্শন, প্রকৃতি, প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ট্যাগস: তার চেয়ে, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা, তার চেয়ে কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, জীবনদর্শনের কবিতা, আত্মত্যাগের কবিতা




