কবিতার খাতা
- 30 mins
আমাকে ছেড়ে যাবার পর – হুমায়ুন আজাদ।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা – হুমায়ুন আজাদ | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বাংলা আধুনিক কবিতার একটি সাহসী, বিদ্রূপাত্মক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গভীর রচনা। হুমায়ুন আজাদ রচিত এই কবিতাটি প্রেম, বিচ্ছেদ, ঈর্ষা, প্রতিশোধ ও যৌন রাজনীতির জটিল সম্পর্ককে এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ দিয়েছে। “আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো” – এই সরাসরি কিন্তু বহুমাত্রিক উক্তি দিয়ে শুরু হওয়া আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পাঠককে আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, বিদ্রূপাত্মক আত্মপ্রতিষ্ঠা ও যৌন প্রতিযোগিতার এক অসাধারণ কাব্যিক অভিজ্ঞতায় নিয়ে যায়। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়লে মনে হয় যেন কবি শুধু কবিতা লিখেননি, বিচ্ছেদের ট্র্যাজেডিকে বিদ্রূপের অস্ত্রে রূপান্তরিত করেছেন এবং হতাশাকে আত্মপ্রতিষ্ঠার উৎসে পরিণত করেছেন। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বাংলা সাহিত্যে আধুনিক প্রেমের কবিতা, বিদ্রূপাত্মক কবিতা ও মনস্তাত্ত্বিক কবিতার ধারায় একটি সাহসী ও অনন্য সংযোজন হিসেবে স্বীকৃত।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার কাব্যিক বৈশিষ্ট্য
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা একটি বিদ্রূপাত্মক, আত্মপ্রতিষ্ঠামূলক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাধ্যমে রচিত আধুনিক কবিতা। হুমায়ুন আজাদ এই কবিতায় প্রেমিকের অবস্থান থেকে নয়, পরিত্যক্ত প্রেমিকের অবস্থান থেকে কথা বলেছেন যিনি বিদ্রূপ, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের ক্ষতকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। “যে-গাধাটার হাত ধরে তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে সে নাকি এখনো তোমার একটি ভয়ংকর তিলেরই খবর পায় নি” – আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাতে এই পংক্তির মাধ্যমে কবি প্রেমিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে “গাধা” বলে অবজ্ঞা করেছেন এবং যৌন অভিজ্ঞতার বিশেষ জ্ঞানকে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাতে ভাষা অত্যন্ত সরাসরি, বিদ্রূপাত্মক, যৌন-প্রতীকময় ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে সূক্ষ্ম। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়ার সময় প্রতিটি স্তবকে আঘাত, প্রতিশোধ, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও যৌন রাজনীতির নতুন মাত্রার উন্মোচন দেখা যায়। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বাংলা কবিতার বিদ্রূপাত্মক শক্তি, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা ও সাহসী যৌন প্রকাশের অনন্য উদাহরণ।
হুমায়ুন আজাদের কবিতার বৈশিষ্ট্য
হুমায়ুন আজাদ বাংলা সাহিত্যের একজন সাহসী, বিদ্রোহী ও প্রথাভাঙা কবি, লেখক ও চিন্তাবিদ যিনি তাঁর সাহসী যৌন প্রকাশ, বিদ্রূপাত্মক ভাষারীতি, প্রথাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ-সমালোচনামূলক অবস্থানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত সামাজিক ও সাহিত্যিক রীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, যৌনতার সাহসী ও সূক্ষ্ম প্রকাশ, বিদ্রূপাত্মক ভাষার ব্যবহার এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানবিক সম্পর্কের জটিলতা উদ্ঘাটন। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা এই সকল গুণের পূর্ণ ও পরিপূর্ণ প্রকাশ। হুমায়ুন আজাদের কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামাজিক সমালোচনায় রূপান্তরিত হয়, প্রেমের কবিতা যৌন রাজনীতির দলিলে পরিণত হয়। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাতে বিচ্ছেদের এই কাব্যিক রূপায়ণ অসাধারণ সাহস, বিদ্রূপাত্মক শক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতায় অঙ্কিত হয়েছে। হুমায়ুন আজাদের কবিতা বাংলা সাহিত্যকে নতুন সাহসী দিকনির্দেশনা দান করেছে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার লেখক কে?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার লেখক প্রথাবিরোধী বাংলা কবি, লেখক ও চিন্তাবিদ হুমায়ুন আজাদ।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার মূল বিষয় কী?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার মূল বিষয় বিচ্ছেদ পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান, বিদ্রূপাত্মক আত্মপ্রতিষ্ঠা, যৌন অভিজ্ঞতাকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার, প্রেম প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি অবজ্ঞা ও ঘৃণা, এবং আধুনিক সম্পর্কের জটিল যৌন রাজনীতি।
হুমায়ুন আজাদ কে?
হুমায়ুন আজাদ একজন প্রথাবিরোধী বাংলা কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক ও চিন্তাবিদ যিনি তাঁর সাহসী যৌন প্রকাশ, বিদ্রূপাত্মক রচনাশৈলী, প্রথাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ-সমালোচনামূলক লেখনের জন্য বাংলা সাহিত্যে সাড়া জাগানো লেখক হিসেবে পরিচিত।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা কেন বিশেষ?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বিশেষ কারণ এটি বাংলা কবিতায় বিচ্ছেদকে প্রচলিত করুণ বা বেদনাময় রূপ না দিয়ে বিদ্রূপাত্মক, আত্মপ্রতিষ্ঠামূলক ও যৌন রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং প্রেমিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে “গাধা” বলে অবজ্ঞা করার সাহস দেখিয়েছে।
হুমায়ুন আজাদের কবিতার বৈশিষ্ট্য কী?
হুমায়ুন আজাদের কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো প্রথাবিরোধিতা, সাহসী যৌন প্রকাশ, বিদ্রূপাত্মক ভাষারীতি, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, সমাজ-সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাহিত্যিক রীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা হুমায়ুন আজাদের “যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল” বা তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের অংশ, যা তাঁর সাহসী ও প্রথাবিরোধী কবিতাগুলি সংকলিত করেছে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা থেকে বিচ্ছেদের বিকল্প মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া, আত্মপ্রতিষ্ঠার রণকৌশল, যৌন অভিজ্ঞতার শক্তি, সম্পর্কের যৌন রাজনীতি এবং বিদ্রূপাত্মক আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে শিক্ষা ও উপলব্ধি পাওয়া যায়।
হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতা কী কী?
হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার মধ্যে রয়েছে “সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে”, “একটি খুনের স্বপ্ন”, “কবি অথবা দণ্ডিত অহংকার”, “যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল” প্রভৃতি সাহসী ও প্রথাবিরোধী কবিতা।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়ার সেরা সময় কখন?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়ার সেরা সময় হলো যখন বিচ্ছেদ, প্রতিশোধ, আত্মপ্রতিষ্ঠা, যৌন রাজনীতি এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্ব নিয়ে সাহসী, বিদ্রূপাত্মক ও গভীর চিন্তা করার ইচ্ছা থাকে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা আধুনিক প্রেক্ষাপটে কতটা প্রাসঙ্গিক?
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়, কারণ আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, যৌন রাজনীতি, বিচ্ছেদের মনস্তত্ত্ব এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার কৌশলগুলি বর্তমান যুগে আরও বেশি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার গুরুত্বপূর্ণ লাইন বিশ্লেষণ
“আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো” – কবিতার শুরুতে বিদ্রূপাত্মক সমবেদনা বা আনন্দের ইঙ্গিত যা সমগ্র কবিতার টোন নির্ধারণ করে।
“তোমার খবরের জন্য যে আমি খুব ব্যাকুল, তা নয়” – কবির আত্মপ্রতিষ্ঠা ও উদাসীনতার ভান যা আসলে গভীর আঘাতের প্রতিরক্ষা।
“পড়বেই তো, পৃথিবীতে সেই ঘটনা তুমি-আমি মিলেই তো প্রথম সৃষ্টি করেছিলাম” – যৌন অভিজ্ঞতাকে একমাত্রিক ও অনন্য হিসেবে উপস্থাপন করে আত্মশ্লাঘা প্রকাশ।
“যে-গাধাটার হাত ধরে তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে” – প্রেম প্রতিদ্বন্দ্বীকে “গাধা” বলে অবজ্ঞা যা কবিতার কেন্দ্রীয় বিদ্রূপাত্মক উপাদান।
“ওই ভিসুভিয়াস থেকে কতটা লাভা ওঠে তা তো আমিই প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম” – যৌন উত্তেজনা ও оргазмকে “ভিসুভিয়াস লাভা” রূপকে বর্ণনা করে কবির শ্রেষ্ঠত্ব দাবি।
“তোমার কানের লতিতে কতটা বিদ্যুৎ আছে, তা কি তুমি জানতে?” – যৌন সংবেদনশীলতাকে “বিদ্যুৎ” রূপকে উপস্থাপন।
“আমিই তো প্রথম জানিয়েছিলাম ওই বিদ্যুতে দপ ক’রে জ্বলে উঠতে পারে মধ্যরাত” – যৌন উত্তেজনা ও তার সময় সম্পর্কে কবির বিশেষ জ্ঞানের দাবি।
“সে নাকি ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাকক্ষে কোনো শারীরিক তাপের দরকার পড়ে না” – যৌন উত্তাপের প্রয়োজনীয়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অজ্ঞতার বিদ্রূপ।
“আমিই তো খুঁজে বের করেছিলাম তোমার দুই বাহুমূলে লুকিয়ে আছে দু’টি ভয়ংকর ত্রিভুজ” – দেহের গোপন সংবেদনশীল অঞ্চল আবিষ্কারের দাবি যা যৌন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
“গাধারা চিরকালই শারীরিক ও সব রকম জ্যামিতিতে খুবই মূর্খ হয়ে থাকে” – যৌন জ্যামিতি বা দেহ-জ্ঞানের ধারণা প্রবর্তন।
“চাষ আর গীতবিতানের মধ্যে দুস্তর পার্থক্য!” – যৌন কর্ম ও প্রেমের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা।
“ভেবেছিলে গাড়ি, আর পাঁচতলা ভবন থাকলেই ওষ্ঠ থাকে, আলিঙ্গনের জন্য বাহু থাকে” – বস্তুবাদী সম্পদ ও যৌন সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ।
“আমি কিন্তু কষ্টে নেই; শুধু তোমার মুখের ছায়া কেঁপে উঠলে বুক জুড়ে রাতটা জেগেই কাটাই” – কবির আত্মপ্রতিষ্ঠার ভান সত্ত্বেও গভীর আবেগ ও স্মৃতির স্বীকারোক্তি।
“সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই” – নেশা বা অভ্যাসের মাধ্যমে বেদনা লুকানোর প্রচেষ্টা যা কবিতার বাস্তবতা ও ভান্বিতার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ করে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতার মনস্তাত্ত্বিক, যৌন-রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক তাৎপর্য
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা শুধু একটি কবিতা নয়, এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, যৌন-রাজনৈতিক বিবৃতি ও সাহিত্যিক বিদ্রোহের দলিল। হুমায়ুন আজাদ এই কবিতায় চারটি মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করেছেন: ১) বিচ্ছেদের ট্র্যাজেডিকে বিদ্রূপাত্মক আত্মপ্রতিষ্ঠায় রূপান্তর, ২) যৌন অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ৩) প্রেম প্রতিদ্বন্দ্বীকে “গাধা” বলে অবজ্ঞার মাধ্যমে সামাজিক শ্রেণীবিভাজনের কবিতায় প্রয়োগ, ৪) প্রচলিত বিচ্ছেদ-কবিতার ভাবাবেগকে চূর্ণ করে নতুন সাহিত্যিক রীতি প্রবর্তন। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়লে বোঝা যায় যে হুমায়ুন আজাদের দৃষ্টিতে বিচ্ছেদ শুধু বেদনার বিষয় নয়, এটি আত্মপ্রতিষ্ঠা, বিদ্রূপাত্মক প্রতিশোধ ও যৌন আধিপত্য পুনর্দাবির সুযোগ। কবিতায় “গাধা” শব্দটি বারবার ব্যবহার করে কবি শুধু ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বীকে নয়, একটি সামাজিক শ্রেণীকে (যারা যৌন ও সংবেদনশীলতায় অজ্ঞ) লক্ষ্য করেছেন। “ভিসুভিয়াস লাভা”, “বিদ্যুৎ”, “শারীরিক তাপ”, “ত্রিভুজ”, “জ্যামিতি” – এই সকল রূপক ব্যবহার করে কবি যৌনতাকে এক ধরনের বৈজ্ঞানিক, আবিষ্কারযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য জ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কবি নিজেকে এই জ্ঞানের “আবিষ্কারক” হিসেবে দাবি করেছেন, যা যৌন সম্পর্কে তাঁর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। কবিতার শেষের দিকে “আমি কিন্তু কষ্টে নেই” এই দাবির পরই “বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই” এই স্বীকারোক্তি কবির ভান্বিতা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক নির্দেশ করে। এটি দেখায় যে বিদ্রূপ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার আড়ালে আসলে গভীর বেদনা ও ক্ষত রয়েছে। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাতে বিচ্ছেদ, যৌনতা, শ্রেণী ও সাহিত্যিক রীতির এই জটিল সম্মিলন অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতায় প্রতীক, রূপক ও বিদ্রূপাত্মক উপাদানের ব্যবহার
হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাতে বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতীক, গভীর রূপক ও তীক্ষ্ণ বিদ্রূপাত্মক উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। “গাধা” শুধু ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, যৌন অজ্ঞতা, সংবেদনশীলতার অভাব ও বস্তুবাদী চিন্তার প্রতীক। “ভিসুভিয়াস” শুধু আগ্নেয়গিরি নয়, যৌন উত্তেজনা, оргазм ও অগ্নিময় আবেগের প্রতীক। “লাভা” যৌন তরল, উত্তাপ ও প্রবাহের প্রতীক। “বিদ্যুৎ” যৌন সংবেদন, উত্তেজনা ও শক-অনুভূতির প্রতীক। “মধ্যরাত” গভীর যৌন মুহূর্ত, রহস্য ও গোপনীয়তার প্রতীক। “শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাকক্ষ” যান্ত্রিক, ঠান্ডা ও আবেগহীন যৌনতার প্রতীক। “শারীরিক তাপ” মানবিক উত্তাপ, আবেগী উষ্ণতা ও যৌন উত্তেজনার প্রতীক। “ত্রিভুজ” দেহের সংবেদনশীল অঞ্চল, যৌন জ্যামিতি ও গোপন স্থানের প্রতীক। “জ্যামিতি” যৌন জ্ঞান, দেহ-বিজ্ঞান ও সংবেদনশীলতার পরিমাপের প্রতীক। “চাষ” যৌন কর্ম, শ্রম ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের প্রতীক। “গীতবিতান” প্রেম, সঙ্গীত ও উচ্চ শিল্পের প্রতীক। “গাড়ি” ও “পাঁচতলা ভবন” বস্তুবাদী সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা ও বাহ্যিক সাফল্যের প্রতীক। “ওষ্ঠ” ও “বাহু” শারীরিক অঙ্গ কিন্তু যৌন ক্ষমতার প্রতীক নয়। “অর্গান” যৌন অঙ্গ কিন্তু আবেগী সঙ্গীতের প্রতীক। “সিগারেট” নেশা, অভ্যাস, সময় কাটানো ও বেদনা লুকানোর প্রতীক। এই সকল প্রতীক, রূপক ও বিদ্রূপাত্মক উপাদান আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাকে একটি সরল বিচ্ছেদ-কবিতার স্তর অতিক্রম করে গভীর মনস্তাত্ত্বিক, যৌন-রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক অর্থময়তা দান করেছে।
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়ার সঠিক পদ্ধতি ও গভীর বিশ্লেষণ
- আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা প্রথমে সম্পূর্ণভাবে, ধীরে ধীরে ও গভীর মনোযোগ সহকারে একবার পড়ুন
- কবিতার বিদ্রূপাত্মক টোন, আত্মপ্রতিষ্ঠামূলক ভঙ্গি ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মধ্যে সম্পর্ক বুঝুন
- কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র “গাধা” এর বহুমাত্রিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন
- প্রতিটি যৌন রূপক ও প্রতীকের গভীর অর্থ ও সাহিত্যিক উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করুন
- কবিতার ভাষারীতি, সরাসরি উক্তি ও সাহসী প্রকাশের সাহিত্যিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করুন
- বিচ্ছেদের প্রচলিত কবিতার সাথে এই কবিতার পার্থক্য ও বিদ্রোহী চরিত্র বিশ্লেষণ করুন
- যৌন রাজনীতি, শ্রেণীচেতনা ও আধিপত্যের ধারণাগুলি কবিতায় কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা অনুসন্ধান করুন
- কবির আত্মপ্রতিষ্ঠার ভান ও বাস্তব আবেগের মধ্যে দ্বন্দ্বের মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য চিন্তা করুন
- হুমায়ুন আজাদের সামগ্রিক সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারার সাথে এই কবিতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করুন
- কবিতাটি নিয়ে অন্যদের সাথে গভীর, উন্মুক্ত ও সাহসী আলোচনা, বিতর্ক ও চিন্তা বিনিময় করুন
হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা, উপন্যাস ও রচনা
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে (উপন্যাস)
- যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল (কাব্যগ্রন্থ)
- একটি খুনের স্বপ্ন (উপন্যাস)
- কবি অথবা দণ্ডিত অহংকার (প্রবন্ধ)
- নারী (প্রবন্ধগ্রন্থ)
- পাক সার জমিন সাদ বাদ (উপন্যাস)
- লাল নীল দীপাবলি (বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস)
- ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল (উপন্যাস)
- আমার অবিশ্বাস (প্রবন্ধ)
- শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা (উপন্যাস)
- ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ (কাব্যগ্রন্থ)
- অন্য এক জীবন (উপন্যাস)
- কতো নদী সরোবর (বাংলা ভাষার জীবনী)
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা নিয়ে শেষ কথা ও সারসংক্ষেপ
আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বাংলা সাহিত্যের একটি সাহসী, প্রথাবিরোধী ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রচনা। হুমায়ুন আজাদ রচিত এই কবিতাটি আধুনিক কবিতা, বিচ্ছেদের কবিতা, যৌন-রাজনৈতিক কবিতা ও বিদ্রূপাত্মক কবিতার ইতিহাসে একটি বিশেষ, সাহসী ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা পড়লে পাঠক বুঝতে পারেন কিভাবে কবিতা শুধু শিল্প, সৌন্দর্য বা আবেগ নয়, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যৌন আধিপত্যের রাজনীতি, সামাজিক বিদ্রূপ ও সাহিত্যিক বিদ্রোহের হাতিয়ারও হতে পারে। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বিশেষভাবে আধুনিক যুগের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, যৌন রাজনীতি, বিচ্ছেদের মনস্তত্ত্ব এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার কৌশলগুলি বর্তমান যুগে ক্রমবর্ধমানভাবে আলোচিত, বিশ্লেষিত ও চর্চিত বিষয়। এই কবিতার মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ প্রচলিত বিচ্ছেদ-কবিতার ভাবাবেগকে চূর্ণ করেছেন, যৌনতাকে সাহসী ও বৈজ্ঞানিক রূপকে উপস্থাপন করেছেন এবং “গাধা” বলে অবজ্ঞার মাধ্যমে সামাজিক শ্রেণীচেতনা কবিতায় প্রবর্তন করেছেন। আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা সকলের পড়া, বুঝা, চিন্তা করা ও আলোচনা করা উচিত যারা কবিতার মাধ্যমে আধুনিক সম্পর্ক, যৌন রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং সাহিত্যিক বিদ্রোহের গভীর, সাহসী, জটিল ও সমৃদ্ধ দিকগুলি অন্বেষণ করতে চান। হুমায়ুন আজাদের আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা timeless, সাহসী, প্রাসঙ্গিক, এর আবেদন, বার্তা ও মূল্য চিরস্থায়ী।
ট্যাগস: আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা, আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতা বিশ্লেষণ, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন আজাদের কবিতা, বাংলা আধুনিক কবিতা, বিদ্রূপাত্মক কবিতা, যৌন কবিতা, বিচ্ছেদের কবিতা, মনস্তাত্ত্বিক কবিতা, প্রথাবিরোধী কবিতা, বাংলা সাহিত্য, সমাজ সমালোচনামূলক কবিতা, সাহসী কবিতা
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো।
তোমার খবরের জন্য যে আমি খুব ব্যাকুল, তা নয়।
তবে ঢাকা খুবই ছোট্ট শহর।
কারো কষ্টের কথা এখানে চাপা থাকে না।
শুনেছি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর তুমি খুবই কষ্টে আছো।
প্রত্যেক রাতে সেই ঘটনার পর নাকি আমাকে মনে পড়ে তোমার।
পড়বেই তো, পৃথিবীতে সেই ঘটনা তুমি-আমি মিলেই তো প্রথম
সৃষ্টি করেছিলাম।
যে-গাধাটার হাত ধরে তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে সে নাকি এখনো
তোমার একটি ভয়ংকর তিলেরই খবর পায় নি।
ওই ভিসুভিয়াস থেকে কতটা লাভা ওঠে তা তো আমিই প্রথম
আবিষ্কার করেছিলাম।
তুমি কি জানো না গাধারা কখনো অগ্নিগিরিতে চড়ে না?
তোমার কানের লতিতে কতটা বিদ্যুৎ আছে,
তা কি তুমি জানতে?
আমিই তো প্রথম জানিয়েছিলাম ওই বিদ্যুতে দপ ক’রে জ্বলে উঠতে পারে মধ্যরাত।
তুমি কি জানো না গাধারা বিদ্যুৎ সম্পর্কে কোনো
খবরই রাখে না?
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো।
যে-গাধাটার সাথে তুমি আমাকে ছেড়ে চ’লে গেলে
সে নাকি ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাকক্ষে কোনো শারীরিক তাপের
দরকার পড়ে না।
আমি জানি তোমার কতোটা দরকার শারীরিক তাপ।
গাধারা জানে না।
আমিই তো খুঁজে বের করেছিলাম তোমার দুই বাহুমূলে
লুকিয়ে আছে দু’টি ভয়ংকর ত্রিভুজ।
সে- খবর পায় নি গাধাটা।
গাধারা চিরকালই শারীরিক ও সব রকম জ্যামিতিতে খুবই মূর্খ হয়ে থাকে।
তোমার গাধাটা আবার একটু রাবীন্দ্রিক।
তুমি যেখানে নিজের জমিতে চাষার অক্লান্ত নিড়ানো, চাষ, মই পছন্দ করো,
সে নাকি আধ মিনিটের বেশি চষতে পারে না।
গাধাটা জানে না
চাষ আর গীতবিতানের মধ্যে দুস্তর পার্থক্য!
তুমি কেনো আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে?
ভেবেছিলে গাড়ি, আর পাঁচতলা ভবন থাকলেই ওষ্ঠ থাকে,
আলিঙ্গনের জন্য বাহু থাকে,
আর রাত্রিকে মুখর করার জন্য থাকে সেই
অনবদ্য অর্গান?
শুনেছি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর তুমি খুবই কষ্টে আছো।
আমি কিন্তু কষ্টে নেই; শুধু তোমার মুখের ছায়া
কেঁপে উঠলে বুক জুড়ে রাতটা জেগেই কাটাই, বেশ লাগে,
সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। হুমায়ুন আজাদ।





