কবিতার খাতা
- 22 mins
দক্ষিণা – জয় গোস্বামী।
তাঁর জন্য তোলা আছে একশত একখানি কবিতা।
এ তাঁর দক্ষিণা।
কিন্তু আমি এ-মুহূর্তে দিতে পারছি না।
দেব একদিন।
জানি তিনি নেবেন না কখনও।
আমি তাঁকে গিয়ে বলব: শোনো,
আমার ভিতর থেকে ভয় ক্রোধ ঘৃণা
তোমার ক্ষমার হাতে তুলে নিয়ে এক ভোরে ছড়িয়ে দিতেই
দেখলাম শিউলি ফুলে ভরেছে আঙিনা…
‘কথামৃত’ গ্রন্থখানি আমাকে ডুবিয়ে নেয়, আবার ভাসায়—
ডুবে, ভেসে উঠে, ডুবে, ভেসে উঠে বুঝি
অন্তত আমার কাছে তুমি সব কবিদের পিতা!
আস্তিক নাস্তিক কাকে বলে?
আমার চোখে তো দু’টি কলার মান্দাস
ঠিক পাশাপাশি ভেসে চলে
রামকৃষ্ণময় নদীজলে…
সে-নদীর ঘাটে ঘাটে ‘লীলা প্রসঙ্গ’-এর
সকল স্বর্ণাভ পৃষ্ঠা স্নান করে ভোরবেলা
আমি দেখেছি তা—
তোমার জন্যই তোলা আছে
একশত একখানি কবিতা!…
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। জয় গোস্বামী।
দক্ষিণা – জয় গোস্বামী | দক্ষিণা কবিতা | জয় গোস্বামীর কবিতা | বাংলা কবিতা
দক্ষিণা: জয় গোস্বামীর আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি ও কবিতার অসাধারণ কাব্যভাষা
জয় গোস্বামীর “দক্ষিণা” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি, রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কবিতার এক অসাধারণ সম্মিলন। “তাঁর জন্য তোলা আছে একশত একখানি কবিতা। এ তাঁর দক্ষিণা।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক গভীর আধ্যাত্মিক জগৎ, যেখানে কবি তাঁর গুরু বা আরাধ্য পুরুষের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন করেছেন। জয় গোস্বামী বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “দক্ষিণা” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
জয় গোস্বামী: আধ্যাত্মিক চেতনার কবি
জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমিয়েছিল ঘড়ি’ (১৯৭৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’, ‘জলের মধ্যে লেখাজোখা’, ‘মাঝখানে’, ‘সারা দুপুরের গান’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস ও শ্রীরামকৃষ্ণ আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত। “দক্ষিণা” কবিতায় সেই প্রভাব স্পষ্ট।
দক্ষিণা কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“দক্ষিণা” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণা সাধারণত গুরুদক্ষিণা বোঝায় — গুরুকে দেওয়া উপহার বা শ্রদ্ধাঞ্জলি। এখানে কবি তাঁর আরাধ্য পুরুষের জন্য একশত একখানি কবিতা দক্ষিণা হিসেবে রেখেছেন। কিন্তু তিনি তা এখন দিতে পারছেন না। জানেন তিনি নেবেন না কখনও। তবুও তিনি রাখবেন, একদিন দেবেন। এটি এক অদ্ভুত ভক্তি ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তাঁর জন্য তোলা আছে একশত একখানি কবিতা। / এ তাঁর দক্ষিণা। / কিন্তু আমি এ-মুহূর্তে দিতে পারছি না। / দেব একদিন। / জানি তিনি নেবেন না কখনও।” প্রথম স্তবকে কবি তাঁর গুরু বা আরাধ্য পুরুষের জন্য একশত একখানি কবিতা দক্ষিণা হিসেবে তোলার কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি এখন দিতে পারছেন না। দেবেন একদিন। কিন্তু জানেন তিনি নেবেন না কখনও। এটি এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। তিনি দিতে চান, কিন্তু গ্রহীতা নিতে চান না। তবুও তিনি দেবেন। এটি ভক্তির এক চূড়ান্ত প্রকাশ — প্রতিদানের আশা না করেও দেওয়া।
একশত একখানি কবিতার তাৎপর্য
একশত একখানি কবিতা — এটি একটি বিশেষ সংখ্যা। সাধারণত পূজা-অর্চনায় ১০৮ সংখ্যার গুরুত্ব রয়েছে। এখানে একশত একখানি অর্থাৎ ১০১টি কবিতা। এটি সম্ভবত একটি পূর্ণতার সংখ্যা। কবি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগুলোকে দক্ষিণা হিসেবে দিতে চান।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আমি তাঁকে গিয়ে বলব: শোনো, / আমার ভিতর থেকে ভয় ক্রোধ ঘৃণা / তোমার ক্ষমার হাতে তুলে নিয়ে এক ভোরে ছড়িয়ে দিতেই / দেখলাম শিউলি ফুলে ভরেছে আঙিনা…” দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর গুরুকে কী বলবেন তা কল্পনা করেছেন। তিনি বলবেন — আমার ভিতর থেকে ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা — এই সব নেতিবাচক অনুভূতি তোমার ক্ষমার হাতে তুলে নিয়ে এক ভোরে ছড়িয়ে দিতেই দেখলাম শিউলি ফুলে ভরে গেছে আঙিনা। অর্থাৎ গুরু যখন তাঁর ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা ক্ষমা করে দেন, তখনই তাঁর জীবন শিউলি ফুলের মতো সুগন্ধময় হয়ে ওঠে। শিউলি ফুল পূজার ফুল, পবিত্রতার প্রতীক।
ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা ও ক্ষমার তাৎপর্য
ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা — এগুলো মানুষের মনের নেতিবাচক অনুভূতি। এগুলো মানুষকে বেঁধে রাখে, পীড়িত করে। গুরু যখন ক্ষমার হাতে এগুলো তুলে নিয়ে ছড়িয়ে দেন, তখন মানুষ মুক্তি পায়। এই মুক্তিই প্রকৃত ভক্তি।
শিউলি ফুলের তাৎপর্য
শিউলি ফুল সাদা, সুগন্ধি ফুল, যা সাধারণত পূজায় ব্যবহৃত হয়। এটি পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও ভক্তির প্রতীক। আঙিনা শিউলি ফুলে ভরে যাওয়া মানে জীবন পবিত্র হয়ে ওঠা, সৌন্দর্যময় হয়ে ওঠা।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“‘কথামৃত’ গ্রন্থখানি আমাকে ডুবিয়ে নেয়, আবার ভাসায়— / ডুবে, ভেসে উঠে, ডুবে, ভেসে উঠে বুঝি / অন্তত আমার কাছে তুমি সব কবিদের পিতা!” তৃতীয় স্তবকে কবি ‘কথামৃত’ গ্রন্থের কথা বলেছেন। ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’ — রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাণী সংকলিত গ্রন্থ। এই গ্রন্থ তাঁকে ডুবিয়ে নেয়, আবার ভাসায়। ডুবে, ভেসে উঠে, ডুবে, ভেসে উঠে তিনি বুঝতে পারেন — তাঁর কাছে গুরুই সব কবিদের পিতা।
কথামৃত গ্রন্থের তাৎপর্য
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত — রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবন ও বাণী নিয়ে লেখা একটি অমর গ্রন্থ। এটি ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। কবি বলেছেন এই গ্রন্থ তাঁকে ডুবিয়ে নেয়, আবার ভাসায়। অর্থাৎ এটি তাঁকে গভীর ভক্তিতে নিমজ্জিত করে, আবার জাগিয়ে তোলে।
ডুবে, ভেসে ওঠার তাৎপর্য
ডুবে, ভেসে ওঠা — এটি আধ্যাত্মিক জীবনের একটি চিত্র। ভক্ত কখনও ভক্তির গভীরে ডুবে যান, কখনও জাগতিক জীবনে ভেসে ওঠেন। এই ডুব ও ভাসার মধ্য দিয়েই তিনি উপলব্ধি করেন গুরুকে।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“আস্তিক নাস্তিক কাকে বলে? / আমার চোখে তো দু’টি কলার মান্দাস / ঠিক পাশাপাশি ভেসে চলে / রামকৃষ্ণময় নদীজলে…” চতুর্থ স্তবকে কবি আস্তিক-নাস্তিকের দ্বন্দ্বের কথা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন — আস্তিক নাস্তিক কাকে বলে? তাঁর চোখে তো দুটি কলার মান্দাস ঠিক পাশাপাশি ভেসে চলে রামকৃষ্ণময় নদীজলে। কলার মান্দাস — কলার তৈরি এক ধরনের ভেলা বা নৌকা? অথবা কলা (শাস্ত্র) ও মান্দাস (মাদল)? এটি সম্ভবত আস্তিক ও নাস্তিকের প্রতীক। দুটি কলার মান্দাস পাশাপাশি ভেসে চলে রামকৃষ্ণময় নদীজলে — অর্থাৎ আস্তিক ও নাস্তিক উভয়েই রামকৃষ্ণের স্রোতে ভেসে চলে। ভেদ নেই, সব এক।
আস্তিক-নাস্তিকের তাৎপর্য
আস্তিক যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, নাস্তিক যিনি বিশ্বাস করেন না। সাধারণত এদের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়। কিন্তু কবি বলছেন — রামকৃষ্ণময় নদীজলে দুটোই পাশাপাশি ভেসে চলে। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক জগতে এই ভেদ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবাই এক স্রোতে ভেসে চলে।
রামকৃষ্ণময় নদীজলের তাৎপর্য
রামকৃষ্ণময় নদীজল — রামকৃষ্ণের আদর্শে প্লাবিত জীবন। এই নদীর জলে সব কিছু ধুয়ে যায়, সব ভেদ মিটে যায়। এটি আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক।
পঞ্চম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“সে-নদীর ঘাটে ঘাটে ‘লীলা প্রসঙ্গ’-এর / সকল স্বর্ণাভ পৃষ্ঠা স্নান করে ভোরবেলা / আমি দেখেছি তা—” পঞ্চম স্তবকে কবি ‘লীলা প্রসঙ্গ’ গ্রন্থের কথা বলেছেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসের লীলা নিয়ে লেখা গ্রন্থ। তিনি সে-নদীর ঘাটে ঘাটে ‘লীলা প্রসঙ্গ’-এর সকল স্বর্ণাভ পৃষ্ঠা স্নান করতে দেখেছেন ভোরবেলা। অর্থাৎ তিনি রামকৃষ্ণের লীলা ও বাণী গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।
লীলা প্রসঙ্গের তাৎপর্য
‘লীলা প্রসঙ্গ’ — রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবন ও লীলা নিয়ে লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এর পৃষ্ঠাগুলো স্বর্ণাভ — সোনালি। এই সোনালি পৃষ্ঠাগুলো ভোরবেলা রামকৃষ্ণময় নদীজলে স্নান করে। অর্থাৎ জ্ঞান ও ভক্তি একাকার হয়ে যায়।
ষষ্ঠ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“তোমার জন্যই তোলা আছে / একশত একখানি কবিতা!…” ষষ্ঠ স্তবকে কবি প্রথম স্তবকের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি আবার বলেছেন — তাঁর জন্যই তোলা আছে একশত একখানি কবিতা। এটি কবিতাকে একটি চক্রাকার রূপ দিয়েছে। শুরুতে যা বলেছিলেন, শেষেও তাই বলেছেন। কিন্তু এখন আমরা জানি — কেন এই কবিতা, কাদের উদ্দেশ্যে।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“দক্ষিণা” কবিতাটি আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি ও কবিতার এক অসাধারণ সম্মিলন। কবি তাঁর আরাধ্য পুরুষের জন্য একশত একখানি কবিতা দক্ষিণা হিসেবে রেখেছেন। তিনি জানেন তিনি নেবেন না, তবুও তিনি দেবেন। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন — তাঁর ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা গুরু ক্ষমা করলে জীবন শিউলি ফুলের মতো সুগন্ধময় হয়ে ওঠে। তিনি ‘কথামৃত’ গ্রন্থে ডুবে ভেসে বুঝেছেন — তাঁর কাছে গুরুই সব কবিদের পিতা। তিনি দেখেছেন আস্তিক-নাস্তিক দুটোই রামকৃষ্ণময় নদীজলে পাশাপাশি ভেসে চলে। তিনি দেখেছেন ‘লীলা প্রসঙ্গ’-এর পৃষ্ঠাগুলো ভোরবেলা সেই নদীজলে স্নান করছে। শেষে তিনি আবার বলেছেন — তাঁর জন্যই তোলা আছে একশত একখানি কবিতা। এটি ভক্তির এক চূড়ান্ত প্রকাশ।
দক্ষিণা কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: দক্ষিণা কবিতার লেখক কে?
দক্ষিণা কবিতার লেখক জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪)। তিনি বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমিয়েছিল ঘড়ি’ (১৯৭৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’, ‘জলের মধ্যে লেখাজোখা’, ‘মাঝখানে’, ‘সারা দুপুরের গান’ প্রভৃতি।
প্রশ্ন ২: দক্ষিণা কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
দক্ষিণা কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি ও গুরুদক্ষিণা। কবি তাঁর আরাধ্য পুরুষের জন্য একশত একখানি কবিতা দক্ষিণা হিসেবে রেখেছেন। তিনি জানেন তিনি নেবেন না, তবুও তিনি দেবেন। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসের আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত। ‘কথামৃত’ ও ‘লীলা প্রসঙ্গ’ গ্রন্থের উল্লেখের মাধ্যমে তিনি তাঁর ভক্তির গভীরতা প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন ৩: ‘একশত একখানি কবিতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘একশত একখানি কবিতা’ অর্থাৎ ১০১টি কবিতা। এটি একটি বিশেষ সংখ্যা। সাধারণত পূজা-অর্চনায় ১০৮ সংখ্যার গুরুত্ব রয়েছে। এখানে একশত একখানি কবিতা সম্ভবত একটি পূর্ণতার সংখ্যা। কবি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগুলোকে দক্ষিণা হিসেবে দিতে চান।
প্রশ্ন ৪: ‘শিউলি ফুলে ভরেছে আঙিনা’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘শিউলি ফুলে ভরেছে আঙিনা’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি তাঁর জীবনের পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের কথা বলেছেন। শিউলি ফুল সাদা, সুগন্ধি ফুল, যা সাধারণত পূজায় ব্যবহৃত হয়। এটি পবিত্রতা ও ভক্তির প্রতীক। গুরু যখন তাঁর ভয়, ক্রোধ, ঘৃণা ক্ষমা করে দেন, তখন তাঁর জীবন শিউলি ফুলের মতো সুগন্ধময় ও পবিত্র হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৫: ‘আস্তিক নাস্তিক কাকে বলে?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘আস্তিক নাস্তিক কাকে বলে?’ — এই প্রশ্নে কবি আস্তিক-নাস্তিকের দ্বন্দ্বকে অতিক্রম করেছেন। তিনি বলেছেন — তাঁর চোখে দুটি কলার মান্দাস ঠিক পাশাপাশি ভেসে চলে রামকৃষ্ণময় নদীজলে। অর্থাৎ আস্তিক ও নাস্তিক উভয়েই রামকৃষ্ণের স্রোতে ভেসে চলে। ভেদ নেই, সব এক। এটি একটি গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি।
প্রশ্ন ৬: জয় গোস্বামী সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
জয় গোস্বামী (জন্ম: ১৯৫৪) বাংলা কবিতার একজন শক্তিমান কবি। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘুমিয়েছিল ঘড়ি’ (১৯৭৬) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’, ‘জলের মধ্যে লেখাজোখা’, ‘মাঝখানে’, ‘সারা দুপুরের গান’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: দক্ষিণা, জয় গোস্বামী, জয় গোস্বামীর কবিতা, দক্ষিণা কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, আধ্যাত্মিক কবিতা, রামকৃষ্ণ পরমহংস, কথামৃত, লীলা প্রসঙ্গ





